Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

জালিয়াতিতে প্রাণ গ্রুপ, বন্দরে আটকা ৩০ কন্টেইনার

জালিয়াতিতে প্রাণ গ্রুপ, বন্দরে আটকা ৩০ কন্টেইনার
ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বিড়ম্বনা পিছু ছাড়ছে না, না কি হাজারো শাস্তির পরও সংশোধন হচ্ছে না প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ? প্রতিদিন নানা অনিয়মের কারণে খবরের শিরোনাম হওয়া প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ সম্পর্কে এমন খেদোক্তি প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।

রাজস্ব জালিয়াতি, ভেজাল পণ্য বিপণনের কারণে এতোদিন পত্রিকার শিরোনাম হওয়া দেশীয় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে এবার আমদানিতেও জালিয়াতির খবর পাওয়া গেছে। প্লাস্টিক দানা ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের সিমেন্ট আমদানির চেষ্টা করেছিল এই কোম্পানিটি।

প্লাস্টিক দানার শুল্ককর ৩২ শতাংশ, আর সিমেন্টের হার ৯১ শতাংশ। আমদানিকৃত প্লাস্টিকের দানার বিপরীতে প্রাণ শুল্ক দিয়েছিল ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সিমেন্টের হিসেবে আমদানি করতে শুল্ক পড়তো প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা ফাঁকি দিতেই এই জালিয়াতির চেষ্টা করা হয়।

আরও পড়ুন: প্রাণ-ড্যানিশের হলুদ গুঁড়াসহ ১৮ পণ্যের লাইসেন্স বাতিল

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র জানায়, দুবাই থেকে প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের নামে ৩০টি কন্টেইনারের চালান আসে ২৬ মে। আমদানিকারক ওইদিনই চালান খালাসের জন্য নথিপত্র জমা দেয়। চালানে পাঁচ লাখ ৬৬ হাজার ডলার মূল্যের ৫১০ মেট্রিক টন প্লাস্টিক দানা আনার ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঈদের ছুটির কারণে বন্ধ থাকায় ৬ জুন রাতে তারা কন্টেইনার খালাসের চেষ্টা করে। এ সময় দু’টি কন্টেইনার খুলে সিমেন্টের বস্তা দেখা যায়। পরে কন্টেইনারগুলো লক করে খালাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে সোমবার ও মঙ্গলবার দুইদিনে কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, চালানটিতে সৌদি-আরবের জেবেল আলী ব্র্যান্ডের সিমেন্টের বস্তা। প্রতিটি বস্তায় আছে ৫০ কেজি করে সিমেন্ট। একেকটি কন্টেইনারে এসেছে ৩৪০টি করে বস্তা। ৩০টি কন্টেইনারে ১০ হাজার ২৫০টি বস্তায় মোট সিমেন্ট এসেছে ৫১০ মেট্রিক টন। প্লাস্টিক দানার শুল্ককর ৩২ শতাংশ। আর সিমেন্টের শুল্ককর ৯১ শতাংশ।

চালানটির খালাস স্থগিত করা হয়েছে। আমদানিকারকের বিরুদ্ধে মামলা হবে। আর সিমেন্টের রাসায়নিক পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস।

আরও পড়ুন: প্রাণের ঘি, রাঁধুনী ধনিয়া-জিরা গুঁড়াসহ ১১ পণ্যের লাইসেন্স স্থগিত

কন্টেইনার জব্দ করার কথা স্বীকার করেছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ম্যানেজার (কমিউনিকেশন) তৌহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, সৌদি কোম্পানি আমাদের সঙ্গে জালিয়াতি করেছে। আমরা রেজিন (প্লাস্টিক দানা) আমদানির জন্য কোম্পানিকে অর্ডার করেছিলাম। কিন্তু তারা জালিয়াতি করে সিমেন্ট পাঠিয়েছে। এতে আমাদের কোনো দোষ নেই।

এ বিষয়ে প্রাণ আরএফএল গ্রুপের জনসংযোগ বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউল হক বার্তা২৪.কমকে লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের জিপিজি মিডল ইস্ট জেনারেল ট্রেডিং কোম্পনিকে ৫১০ মেট্রিক টন প্লাস্টিক রেজিন কিনে পাঠানোর জন্য বলেছি। সে অনুযায়ী এভারবেস্ট লজিস্টিকস লিমিটেডের মাধ্যমে ৩০ কন্টেইনার পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, ১ জুন পণ্যগুলোর শুল্কায়ন পরবর্তী খালাসের সময় কন্টেইনারের ভেতরে প্লাস্টিক রেজিনের পরিবর্তে সিমেন্টের ব্যাগ পাওয়া যায় বলে আমরা জানতে পারি। সাথে সাথে আমরা সরবরাহকারী, শিপিং লাইন, চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে এলসি’র পেমেন্ট বাতিলের জন্য আমরা ৩ জুন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংককে অনুরোধ করি। এলসিটি ১৮০ দিনের ডেফার্ড পেমেন্ট বিধায় এখনো কোনো লেনদেন শেষ হয়নি।

জিয়াউল হক আরো বলেন, এই পণ্য সরবরাহ করতে আমাদের সাথে কোনো এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠান জালিয়াতি করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আরও পড়ুন: প্রাণ-আরএফএলের তিন প্রতিষ্ঠানকে শোকজের সিদ্ধান্ত

কাস্টমস আইন ভঙ্গ করে ৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বন্ডেড পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করায় প্রাণ আরএফএলের ৩টি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে গত ৭ মে। অল প্লাস্ট বিডি লিমিটেডের বন্ডেড ওয়্যারহাউজে বন্ড রেজিস্ট্রার অনুযায়ী, ৪ হাজার ১১ দশমিক ৩৭ মেট্রিক টন পণ্য (পিপি, এলডিপিই, এলএলডিপিই, এইচডিপিই, মুদ্রণ কালি ইত্যাদি) মজুদ থাকার কথা থাকলেও সরেজমিন ২ হাজার ৮৭৩ দশমিক ২৪ মেট্রিক টন পণ্য কম পাওয়া যায়। শুল্কসহ ফাঁকি দেওয়া পণ্যের মূল্য ৪৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ফাঁকি দেওয়া শুল্কের পরিমাণ ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন: টালমাটাল প্রাণ আরএফএল

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ময়মনসিংহ এগ্রো লিমিটেডের বন্ডেড ওয়্যারহাউজে বন্ড রেজিস্ট্রার অনুযায়ী, ১৫০ দশমিক ১১ মেট্রিক টন পণ্য মজুদ থাকার কথা থাকলেও অভিযানে ৩০ দশমিক ৭৮ মেট্রিক টন পণ্য কম পাওয়া যায়। ফাঁকি দেওয়া পণ্যের শুল্কসহ মূল্য ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ফাঁকি দেওয়া শুল্কের পরিমাণ ৬৫ লাখ টাকা।

ময়মনসিংহ এগ্রো লিমিটেডের ইউনিট তিন নামীয় প্রতিষ্ঠানে বন্ডেড ওয়্যারহাউজে বন্ড রেজিস্ট্রার অনুযায়ী, ১ হাজার ৭৯২ দশমিক ৩২ মেট্রিক টন পণ্য (ফিল্ম এলডিপিই ইত্যাদি) মজুদ থাকার কথা থাকলেও সরেজমিন ১ হাজার ১১৩ দশমিক ৯৮ মেট্রিক টন পণ্য কম পাওয়া যায়। ফাঁকি দেওয়া পণ্যের শুল্কসহ মূল্য ১৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ফাঁকি দেওয়া শুল্কের পরিমাণ ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের নিরীক্ষায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রায় ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য বেরিয়ে আসে। কাঁচামাল আমদানির তথ্য গোপন, অনুমোদন ছাড়া রফতানি ও অবৈধভাবে রেয়াত নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ওই কর ফাঁকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে ২০১৮ অক্টোবর কোম্পানিটির হিসাব তলব করে এনবিআর।

ভেজালের কারণে পুরো রমজান জুড়ে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেছে। কোম্পানিটির দু’টি পণ্যের লাইসেন্স বাতিল (প্রাণ গুঁড়া হলুদ ও প্রাণ লাচ্ছা সেমাই) করেছে বিএসটিআই। একই সঙ্গে প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের ঘির মান যথাযথ না হওয়ায় লাইসেন্স স্থগিত ঘোষণা করেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

রাজধানীতে গড়ে উঠা সীসা বার উচ্ছেদের দাবি

রাজধানীতে গড়ে উঠা সীসা বার উচ্ছেদের দাবি
বিশ্ব মাদকবিরোধী দিবসে প্রেসক্লাবে মানববন্ধনে স্কুলছাত্ররা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস বা বিশ্ব মাদকবিরোধী দিবসে রাজধানী ঢাকায় গড়ে উঠা অবৈধ সীসা বার উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে মাদকবিরোধী সংগঠন ‘প্রত্যাশা’।

বুধবার ( ২৬ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘মাদক কে না বলুন’ শীর্ষক মানববন্ধন এ দাবি জানায় সংগঠনটি। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব মাদকবিরোধী দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।

‘প্রত্যাশা’র সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য বিরোধী ফেডারেশনের মহাসচিব আশরাফুল আলম কাজল, সংগঠনটির নির্বাহী সদস্য গোলাম কাদের, আব্দুল রাজ্জাক, মনিরউদ্দিন প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561565422611.jpg

মানববন্ধনে ফেডারেশনের মহাসচিব আশরাফুল আলম কাজল বলেন, ‘দেশে মাদকের ব্যবহার যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। এখনই এর লাগাম টেনে ধরতে না পারলে ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দরভাবে গড়ে তোলা অসম্ভব হবে।’

হেলাল আহমেদ বলেন, ‘সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর নতুন করে প্রাইভেট ক্লাব, অভিজাত শপিংমলসহ বিভিন্ন স্থাপনায় বারের লাইসেন্স প্রদান করছে। এটি বর্তমান সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হবে।’

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির মূল পাঠ্যবই ছাপানোর অভিযোগে গ্রেফতার ২

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির মূল পাঠ্যবই ছাপানোর অভিযোগে গ্রেফতার ২
র‍্যাবের অভিযানে বইসহ আটক ২, ছবি: সংগৃহীত

এনসিটিবি’র অনুমোদন বিহীন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির মূল পাঠ্যবই ছাপানোর অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। এঘটনায় বিপুল পরিমাণ নিন্মমানের নকল পাঠ্যবই উদ্ধার করেছে সংস্থাটি।

বুধবার (২৬ জুন) বার্তা২৪.কমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাব সদরদফতরের সিনিয়র এএসপি মিজানুর রহমান।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিবাগত রাতে র‌্যাব-১১ ঢাকার সূত্রাপুরে ১৫নং রূপচাঁদ লেন বাড়ির নিচ তলার ভাড়াটিয়া প্রতিষ্ঠান ‘ভাই ভাই বুক বাইন্ডিং’ এবং ঢাকা জেলার ডেমরা থানাধীন মাতুয়াইল হাজী বাদশা মিয়া রোডস্থ ‘ফাইভ স্টার প্রিটিং প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স’ এ অভিযান চালায়।

অভিযানে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা মূল পাঠ্য বইয়ের নকল প্রিন্টেড কপির ৪ হাজার ৫০০টি বইয়ের সমপরিমাণ ৪৭টি বান্ডিল ও বাংলা সাহিত্য ও সহপাঠ মূল বইয়ের এনসিটিবি এর নকল লোগোসহ ২ বান্ডেল বই উদ্ধার করা হয়।

এসময় মূল পাঠ্যবই ছাপানোর অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ভাই ভাই বুক বাইন্ডিং এর মালিক মোঃ নবী খাঁন (৩৫), ফাইভ স্টার প্রিটিং প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স এর ম্যানেজার মোঃ আইয়ুব হোসেন (৫৩)।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই অসাধু ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় কলেজ ও মাদরাসার মূল পাঠ্য বইয়ের নকল প্রিন্টেড কপির প্রিন্ট, বাইন্ডিং, সংরক্ষণ ও বিক্রয় করে প্রতারণামূলক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। নকল এই পুস্তকগুলোতে অনেক মুদ্রনজনিত ত্রুটি ও তথ্যের বিভ্রাট রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র