Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

চরে উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়ার তেতো দাম

চরে উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়ার তেতো দাম
রংপুরের তিস্তা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল। ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রংপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

দুর্গম চরাঞ্চল। যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেই স্বস্তিবোধ। তাই চাষিদের সঙ্গে পাইকারদের নেই ব্যবসায়িক সংযোগ। এ কারণে ভালো ফলনের পরও মিষ্টি কুমড়ার প্রকৃত দাম পাচ্ছে না তারা। বর্তমানে প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মিষ্টি কুমড়া সংরক্ষণ করতে হিমাগার না থাকায় কম দামেই হাত বদল হচ্ছে। ধু-ধু বালুচরের বুকে আশা জাগানিয়া মিষ্টি কুমড়ার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত চাষিদের রয়েছে অনেক অভিযোগ। মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়ারা পানির দরে কিনে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি করে চাষিদের চেয়ে লাভবান হচ্ছেন।

সম্প্রতি রংপুরের তিস্তা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার বেশ কিছু চর ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তায় প্রতি বর্ষা মৌসুম শেষে চর জাগে। এরপর ৬ মাস শুষ্ক থাকে নদী। পড়ে থাকা বালুচরকে চাষ উপযোগী করতে কঠোর পরিশ্রম করে নদী ভাঙনের শিকার বাঁধে আশ্রিত ভূমিহীন মানুষ। বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে ধু-ধু বালুচরে তারা ফলান মিষ্টি কুমড়া।

গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মনতাজ, গোলজার ও কাশেম বার্তা২৪.কমকে জানান, বীজ সংকট ও নিম্নমানের বীজের কারণে অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা কুমড়ার আবাদ ছাড়েননি। এ চাষের ফলে চরে এখন তামাকের আবাদ কমেছে। কিন্তু হাড়ভাঙা খাটুনির পরও তারা মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করে প্রকৃত মুনাফা পাচ্ছেন না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/10/1560163342963.jpg

কাউনিয়ার ভূতছড়া গ্রামের চাষি নুরু মিয়া ও হাফিজার রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, দেশীয় পদ্ধতিতে তারা বাড়িতে মাচা করে বেশিদিন কুমড়া সংরক্ষণ করতে পারছেন না। এ কারণে উৎপাদন মৌসুমে একসঙ্গে সব কুমড়া বাজারে ওঠায় ফড়িয়ারা কম দামে কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। সংরক্ষণাগার থাকলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে দাবি করেন তারা।

কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়ার চাষিরা দাবি করেন, সম্মিলিতভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের আওতায় তাদের উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া সরাসরি বাজারজাত করতে সরকার যেন ভূমিকা রাখে। সরকারের সুদৃষ্টি থাকলে এই মিষ্টি কুমড়া হতে পারত তাদের জন্য আশীর্বাদ। এই জেলা থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ মিষ্টি কুমড়া বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সরোয়ারুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'চাষিরা যাতে ভালো বীজের মাধ্যমে বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে পারে, আমরা সেজন্য সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। তবে দিন দিন চরাঞ্চলসহ এ জেলায় মিষ্টি কুমড়ার উৎপাদন বেশি হওয়াতে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী দাম পাচ্ছেন না। সামনে দাম আরও কমবে। '

আপনার মতামত লিখুন :

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক খাদে, চালক-হেলপারের মৃত্যু

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক খাদে, চালক-হেলপারের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে খাদে পড়ে চালক-হেলপারের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৬ জুন) সকালে উপজেলার লেংরা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী মাহমুদ বার্তা২৪.কমকে জানান, ট্রাকটি সম্ভবত উত্তরাঞ্চল থেকে আসছিলো। লেংরা বাজার এলাকায় আসার পর ময়মনসিংহ শহরগামী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে চালক ও হেলপার ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

ওসি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

ভারতে গ্রেফতার গোদাগাড়ীর জঙ্গি শাহীন

ভারতে গ্রেফতার গোদাগাড়ীর জঙ্গি শাহীন
জঙ্গি শাহীন। ছবি: সংগৃহীত

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদ বাংলাদেশের (জেএমবি) চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ একটি দল। মঙ্গলবার (২৫ জুন) তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছে- তারা স্লিপার সেলের সদস্য হিসেবে কাজ করত। কলকাতায় তারা বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে দুই বাংলার প্রশাসন এখন তৎপর।

কলকাতায় গ্রেফতার চার জঙ্গির মধ্যে তিনজনই বাংলাদেশি। এর মধ্যে আল-আমিন ওরফে শাহীন (২৩) রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ছেলে। শাহীনের বাবা পৌর এলাকার বুজরুক রাজারামপুর গ্রামের রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম।

শাহীন ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের কারও সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগও নেই বলে জানিয়েছেন তার মা।

শাহীনের মা সাহের বানু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গতবছরের (২০১৮ সাল) জুন মাসের দিকে শাহীনকে ধরতে বাড়িতে পুলিশ আসে। কিন্তু আমার ছেলে ওই সময় বাড়িতে ছিল না। পরে তারা শাহীনের মোবাইল নম্বর ও ছবি নিয়ে যায়।’

সাহের বানু বলেন, ‘পুলিশ বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর আমরা তাকে মোবাইলে যোগাযোগ করেও কোনো খোঁজ পাইনি। পরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার বন্ধু-বান্ধব বা যাদের সঙ্গে সে মিশত, তারাও কেউ শাহীনের খোঁজ দিতে পারেনি।’

শাহীনের মা জানান, তার ছেলে গোদাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও গোদাগাড়ী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে। পরে সে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হয়। নিখোঁজের সময় শাহীন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল।

শাহীনের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৭ সালে রাজারামপুর গ্রামের আমিজুল ইসলাম রনিকে ক্রসফায়ারে দেয় পুলিশ। রনির সঙ্গে আমার ছেলে মিশত। তবে রনি এবং আমার ছেলে কোনো খারাপ কাজে জড়িত ছিল কিনা তা জানি না। রনি মারা যাওয়ার পর শাহীনও এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এক বছর হল শাহীনের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শাহীনকে গ্রেফতার করতে আমরা তার বাড়ি এবং ওই এলাকায় কয়েক দফা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছি। তবে সে খুব চতুর। বড় কোনো পর্যায়ে তার যোগাযোগ ছিল। আগে থেকে সে সরে পড়ত।’

ওসি আরও বলেন, ‘গত এক বছর ধরে তার আর কোনো সন্ধান মিলছিল না। মূলত সে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ জুন) সে কলকাতায় গ্রেফতার হয় বলে শুনেছি।’

প্রসঙ্গত, ভারতের শিয়ালদহ স্টেশনের পার্কিং এলাকা থেকে মঙ্গলবার জিয়াউর রহমান ওরফে মহসিন এবং মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে আল-আমিন ওরফে শাহীন এবং রবিউল আলমকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য দুই বাংলাদেশি জঙ্গি জিয়াউর রহমানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং মামুনুর রশিদের বাড়ি রংপুরে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র