Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

বিনোদন কেন্দ্রের অভাবে খুলনাবাসীর ঈদ আনন্দে ভাটা

বিনোদন কেন্দ্রের অভাবে খুলনাবাসীর ঈদ আনন্দে ভাটা
খুলনাবাসীর প্রধান বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে রূপসা ব্রিজ | ছবি: বার্তা২৪
মানজারুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদ মানেই আনন্দ-আয়োজনে সময় কাটানো। খুশির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিটি মানুষই সাধ্য অনুযায়ী ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন, বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ঢুকে আনন্দ উৎসবে শামিল হন। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় খুলনাবাসীর ঈদ আনন্দে কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খুলনাবাসী ও দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষেরা। নগরীতে হাতেগোনা কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্র থাকলেও তাতে নেই বিনোদন পাওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা।

ঈদের ৩য় দিন শুক্রবার (৭ জুন) সরেজমিনে খুলনা মহানগর ঘুরে দেখা যায়, খুলনার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল। শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের নর-নারী ও যুগলদের উপস্থিতিতে বিনোদন কেন্দ্রগুলো মুখরিত হয়ে ওঠে। ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টির কারণে অনেকেই ভ্রমণে বের হতে পারেননি। যে কারণে ঈদ আনন্দ উদযাপনে ঈদের তৃতীয় দিনেরটিকে বেছে নিতে কেউ ভুল করেননি।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/07/1559925347036.jpg
ঈদে বিনোদন কেন্দ্রের ভেতরে সবচেয়ে বেশি মুখর ছিলো, রূপসা নদীর ওপর খানজাহান আলী (র.) সেতু, রূপসা সিটি বাইপাস, ৭নং ঘাট রুজভেল্ট জেটি, খালিশপুরের ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশুপার্ক, মুজগুন্নি ঈদ মেলা, গিলাতলা ক্যান্টনমেন্ট চিড়িয়াখানা, জাতিসংঘ শিশুপার্ক, হাদিস পার্ক, শেখ রাসেল ইকো পার্ক, ভূতের আড্ডা ও ফরেস্ট ঘাটে।

তবে এসব পার্কের ভেতরে শুধুমাত্র নগরের খালিশপুরের ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে শিশুদের চিত্তবিনোদনের জন্য নানা উপকরণ (রাইড) রয়েছে। অন্য কোনো বিনোদন কেন্দ্রেই নেই শিশুদের উপযোগী উপকরণ। নগরের মুজগুন্নির শিশুপার্কে শিশুদের জন্য নানা উপকরণ (রাইড) থাকলেও কিছুদিন আগে পার্কটি সরকারিভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

পরিবারের সঙ্গে খানজাহান আলী (র.) সেতুতে ঘুরতে আসা মেহজাবিন মুবিনা বার্তা২৪. কমকে বলেন, রূপসা ব্রিজ কোনো বিনোদন কেন্দ্র না। খুলনায় তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। ঈদের ছুটিতে একটু নির্মল বাতাস আর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে মানুষ মূলত ব্রিজের এখানে আসে। ব্যাপারটা এমন যে, দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছি। বিনোদন কেন্দ্র নেই বলে আমরা রূপসা ব্রিজকে বিনোদন কেন্দ্র বানিয়ে ফেলেছি।

পরিবার পরিজন নিয়ে শেখ রাসেল ইকো পার্কে ঘুরতে আসা জাবি ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, খুলনা নগরীর আশপাশে ভালো কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। নগরীতে যে কয়টা পার্ক আছে তাতে শিশুদের জন্য কিছু নেই। শেখ রাসেল পার্ক নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলাম আমরা। কিন্তু প্রায় ২ বছরেও পার্কের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই বললেই চলে। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গভাবে পার্কটি চালু করার দাবি জানান তিনি।

৭নং ঘাট রুজভেল্ট জেটিতে ঘুরতে আসা সাজ্জাদ আহমেদ বলেন, খুলনা বেশ ছোট শহর। তার উপরে কোনো বিনোদনের জায়গা নেই। গতকাল সিনেমা হলে গিয়েছিলাম। তাতে যা পরিবেশ, সেখানে বসার উপায় নেই। বিনোদন কেন্দ্র বলতে নদীর পাড়কেই বেছে নিচ্ছে সবাই।

ঢাকা থেকে খুলনায় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে আসা চাকরিজীবী মামুন রহমান বলেন, ঈদ করতে খুলনায় এসেছি। বৃষ্টির কারণে প্রথম দু’দিন বের হতে পারিনি। আজ জাতিসংঘ পার্কের মেলায় গিয়ে দেখলাম সেখানে কয়েকটা দোলনা, স্লিপার আর কয়েকটা চটপটির দোকান। এই হচ্ছে বিনোদনের ব্যবস্থা। এর থেকে ঢাকার ফুটপাতে অনেক বেশি বিনোদনের ব্যবস্থা আছে!
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/07/1559925383737.jpg
নামমাত্র বিনোদন কেন্দ্রের কারণে বিনোদনপ্রেমীরা বিনোদনকেন্দ্র বিমুখ হচ্ছে খুলনায়। ঈদকে কেন্দ্র করে কাছে-দূরের যেকোন দর্শনীয় স্থানে প্রিয় মানুষদের নিয়ে ভ্রমণযাত্রা করা ও সেখানে স্বপ্নের মতো কিছু সময় কাটানো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খুলনাবাসী।

নাগরিক আন্দোলনের সংগঠন জনউদ্যোগ খুলনার আহ্বায়ক কুদরত-ই-খুদা বার্তা২৪.কমকে বলেন, শুধু উৎসবই না সারাবছরই নগরবাসীর চিত্তবিনোদনের প্রয়োজন। ১৬ লাখ মানুষের আবাসস্থলে চাহিদা অনুসারে খুলনায় পর্যাপ্ত বিনোদন কেন্দ্র নেই। বিশেষত উৎসবের সময়টায় বিনোদন থেকে বেশি বঞ্চিত হন খুলনাবাসী। তবুও আমরা আশাবাদী, কারণ বর্তমান সরকার এদিকে খেয়াল রাখছেন।

খুলনা জেলা প্রশাসক হেলাল হোসেন বলেন, খুলনায় প্রায় দেড়শ’ বিঘা জায়গার উপর শেখ রাসেল ইকোপার্কটি স্থাপন করা হচ্ছে। কাজটি শেষ হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চিত্তবিনোদনের জন্য এটি হবে একটি মডেল পার্ক। খুলনার মানুষের বিনোদনের জন্য আমাদের আরো অনেক পরিকল্পনা আছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো বাস্তবায়ন হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ মারা গেছেন, প্রধানমন্ত্রীর শোক

অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ মারা গেছেন, প্রধানমন্ত্রীর শোক
অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, ছবি: সংগৃহীত

প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ন্যাপ (মোজাফফর) এর সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) এক শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রগতিশীল রাজনীতিতে অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।’

শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মরহুমের পরিবারের শোকাহত সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান ও বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, উপমহাদেশে বাম রাজনীতির অন্যতম পুরোধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাম প্রগতিশীল আন্দোলনের পথিকৃৎ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫০মিনিটে এ মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর হয়েছিল ৯৭ বছর। দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের ছয়জন উপদেষ্টার মধ্যে একজন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর ভূমিকা অবিস্মরণীয়।

আগস্টের নৃশংসতার কথা শুনলেন বিদেশি কূটনীতিকরা

আগস্টের নৃশংসতার কথা শুনলেন বিদেশি কূটনীতিকরা
'বাংলাদেশের ওপর ১৫ আগস্টের প্রভাব' শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা/ ছবি: সংগৃহীত

দেশের ইতিহাসে কলঙ্ক হয়ে থাকা ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের নৃশংসতার কথা ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরেছে আওয়ামী লীগ। এ সময় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিয়েও খোলামেলা আলোচনা হয়।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয় উপ-কমিটি আয়োজিত 'বাংলাদেশের ওপর ১৫ আগস্টের প্রভাব' শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।

সেমিনারে কূটনীতিকদের সামনে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দেন সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহমান শেখ (রমা)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566570939144.jpg

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানো বাংলাদেশে কতটা প্রভাব ফেলেছে তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘কৃষি নির্ভর এই দেশে কৃষকদের স্বার্থে কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২ সালে দেশে ফেরার পর থেকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন কৃষি ও শিক্ষা খাতে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন হবার পর তার সংবিধান তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ১১ বছর। ভারতে সংবিধান তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় তিন বছর। পাকিস্তানেরও প্রথম সংবিধান তৈরি করতে সময় লেগেছিল ৯ বছর। সেখানে মাত্র ৯ মাসে আমরা সংবিধান তৈরি করতে পেরেছি শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারণে।’

আলোচনা শেষে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সাথে কথা বলছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে বঙ্গবন্ধুর একজন খুনিকে হস্তান্তর করেছে। আশা করছি বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীর আগে যুক্তরাষ্ট্র আত্মস্বীকৃত খুনিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566570957140.jpg

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘পঁচাত্তর সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি ঘাতকরা। তারা পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতাদের একে এক হত্যা করেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলে আরেকটি পাকিস্তান রাষ্ট্র তৈরি, কিন্তু তারা সফল হয়নি।’

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমদ, আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
ব্যারিস্টার শাহ আলী ফারহাদ ও উপ-কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন, স্পেন, সুইজারল্যান্ড ও জাপানসহ ৩০টি দেশের কূটনীতিকরা। আলোচনা শেষে কূটনীতিকরা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্মারকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র