Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ঈদের দিনে সেমাইও জোটেনি!

ঈদের দিনে সেমাইও জোটেনি!
ঈদের দিনে রিকশা চালিয়েছেন মো. ইসমাইল | ছবি: সুমন শেখ
মনি আচার্য্য
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের আনন্দ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে রাজধানী ছেড়ে ঘরমুখো হয় নগরবাসী। কেউ হয়তো যান ঈদের বেশ কয়েক দিন আগে আবার কেউ যান একদিন আগে। উদ্দেশ্য একটাই ঈদের ছুটির দিনগুলো আপনজনদের সঙ্গেই কাটানো।


তবে ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ সবাই পান না। এমন কি ঈদের দিনে এক বাটি সেমাইও জোটে না অনেকের। এসব মানুষের কাছে ঈদের দিন কোনো বিশেষ দিন নয়! বছরের আর দশটি দিনের মতোই পরিশ্রম করে কাটে তাদের।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কর্মজীবী মানুষদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ঈদ উদযাপনের অভিজ্ঞতা জানা যায়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কর্মজীবী এসব মানুষদের মধ্যে অধিকাংশই রিকশা, ভ্যানচালক কিংবা বাসচালক অথবা বাসা-বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী। রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে যখন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরছেন সবাই তখন শ্রমজীবী এসব মানুষ দারিদ্র্যের গ্লানি টেনে ঈদের দিনেও শ্রম বেচে চলেছেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/06/1559835189186.jpg
এছাড়া এসব শ্রমজীবী মানুষের উপায়ও নেই। তারা একদিন বসে থাকলে পরদিন পরিবারের সদস্যদের মুখে আহার জোটাতে পারবেন না। তাই পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করাই তাদের সব থেকে বেশি প্রয়োজন।

এসব কর্মজীবী মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রতি মাসে বা প্রতিদিন যে অর্থ উপার্জন করেন তা দিয়ে কোনোমতে তাদের সংসার চলে। এর মধ্যে কোনোভাবেই কাজ বাদ দিয়ে বাড়ি যাওয়া তাদের জন্য সম্ভব নয়। ফলে ঈদের মধ্যেও তাদের উপার্জন করতে হয়।

রাজধানীর পুলিশ প্লাজায় যাত্রী নিয়ে উত্তর বাড্ডায় নামালেন রিকশাচালক মো. ইসমাইল। ঈদ কেমন কাটিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আর ঈদ! সারাজীবন তো কাজ কইরাই মরি। বাড়ি যাইতে পারি নাই, হের লাগি ঈদের দিন সকালে কপালে সেমাইও জোটেনি!

তিনি বলনে, ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীর জন্য নতুন জামা কিনেছি দিছি। অনেক টাকা খরচ হইছে। তাই এহন ঈদের মৌসুমে রিকশা চালায়া বাড়তি কিছু আয় করতাছি। নইলে ঈদের পরে চলতে পারব না।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/06/1559835226709.jpg
ঈদ আনন্দের ছোঁয়া লাগেনি রাজধানীর কালাচাঁদপুরের একটি বাসার নিরাপত্তা কর্মী মো. জব্বারের মনে। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, সবাই তো বাড়ি চলে গেল, আমরা চলে গেলে বাড়ি পাহারা দিবে কে? বাড়িতে মা-বাবা, স্ত্রী ও পুত্র থাকলেও দায়িত্বের কারণে যেতে পারেননি বলে জানান তিনি।

অনাবিল সুপার পরিবহনের একটি বাসের হেলপার মো. রুবেল বলেন, অভাবের সংসারে আনন্দ করা যায় না। ঈদের দিন ও এরপরের কয়েক দিন ইনকাম ভালো থাকে। তাই টানাটানির সংসার চালাইতে ঈদের দিনও কাজ করা লাগে আমাগো।

ঈদের দিন ও এর পরের কয়েক দিন সাধারণ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন। কিন্তু ঠিক তখনই ইসমাইল, জব্বার ও রুবেলদের মতো কর্মজীবীদের জীবনের তাগিদে কাজ করে যেতে হয়। পরিবারের লোকজনের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের কাছে প্রকৃত ঈদ।

আপনার মতামত লিখুন :

বৃষ্টি কমেছে, বেড়েছে তাপমাত্রা

বৃষ্টি কমেছে, বেড়েছে তাপমাত্রা
ছবি: শাদরুল আবেদীন

বাংলাদেশের উপর মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অনেকটাই কমেছে। এটি এখন উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সারাদেশে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে উন্নতি ঘটছে।

মাঝে মাঝে অবশ্য আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। তবে দেশের দু-এক জায়গা ছাড়া তেমন কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

গরমে জনজীবন কিছুটা অতিষ্ঠ হলেও বন্যায় কবলিত পানিবন্দিদের মাঝে স্বস্তি ফিরবে। তারা নিজ ভিটায় ফিরে যেতে পারবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা নিজেদের আবারও গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো মানুষদের আর্তনাদ থেকেই যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563389450967.jpg

আবহাওয়া অফিস বলছে, 'মৌসুমী বায়ু অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। এতে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা কমে গেছে। ক্রমান্বয়ে বাড়বে তাপমাত্রা। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩২ থেকে ৩৩ ডিগ্রি ছিল তবে এখন তা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বিরাজ করতে পারে।'

বুধবার ১৭ জুলাই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মংলায় ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় কুমারখালীতে ২২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার সকালে রাজধানীতে আকাশ মেঘলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের প্রখরতাও বাড়তে থাকে। এতে গরমের তীব্রতাও বাড়ে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563389436185.jpg

রোদ থেকে বাঁচতে অনেকেই ছাতা ব্যবহার করেছেন। আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'গতকাল থেকেই বৃষ্টির প্রভাব কমেছে। তাপমাত্রা বেড়েছে তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন বর্ষা মৌসুম হওয়ায় তিন থেকে চারদিন পর আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। আরও এক থেকে দেড় মাস এভাবেই চলবে।'

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বাকি বিভাগগুলোতে দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, রাজশাহী সাতক্ষীরা চুয়াডাঙ্গা ও যশোরের উপর দিয়ে বেড়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

জালিয়াতি চক্রকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিপ্লব বড়ুয়া

জালিয়াতি চক্রকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিপ্লব বড়ুয়া
ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও তার নামে ভুয়া চিঠিপত্র।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার ভুয়া সিল-প্যাড ব্যবহার করে জা‌লিয়া‌তি কর‌েছে এক‌টি প্রতারক চক্র।

এ ভুয়া চক্র থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বুধবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। জিডি নং: ৯৮১।

জিডিতে তিনি জানান, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমার সিল-প্যাড ব্যবহার করে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বরাবর কোন ধরনের পত্র, সুপারিশ বা নির্দেশনা প্রদান করি নাই। অথচ একটি জালিয়াতচক্র আমার নামে ভুয়া চিঠিপত্র বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করেছে মর্মে অভিযোগ পেয়েছি। রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য  জালিয়াতচক্র কর্তৃক এ ধরনের মারাত্মক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563387562162.jpg

আওয়ামী লীগ উপ-দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। এই জালিয়াতচক্র সম্পর্কে সকলকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্যাডে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষর নকল করে গফরগাঁও পৌরসভার মেয়র বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করা হয়। যেটি একটি জাল চিঠি ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র