Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

পুরাতন কাপড়েই ঈদ করবেন পত্রিকাপ্রেমী মোসলেম

পুরাতন কাপড়েই ঈদ করবেন পত্রিকাপ্রেমী মোসলেম
লন্ড্রিতে শার্ট আয়রন করতে নিয়ে গেছেন মোসলেম
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সব জায়গায় ঈদের আনন্দ। ঘরে ঘরে নতুন কাপড়ের ঘ্রাণ। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় আনন্দে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তারপরও খুশি সবাই। কিন্তু গৌরীপুরের বেকারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা পত্রিকাপ্রেমী ও প্রতিবন্ধী মোসলেহ উদ্দিন ওরফে মোসলেমের ঘরে নতুন কাপড়ের ঘ্রাণ পৌঁছায়নি। ঈদে নতুন কাপড় তার কাছে আকাশের চাঁদ পাওয়ার মতোই। এবার ঈদে সেই চাঁদ ধরা দেয়নি। তাই ঘরে থাকা পুরাতন কাপড়েই ঈদ উদযাপন করতে হবে তাকে। তবে এসব নিয়ে মনে কোনো দুঃখ নেই তার।

জানা গেছে, বেকারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম। থাকেন একটি কুঁড়েঘরে। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। একজন সৎ শিক্ষক ও পত্রিকাপ্রেমী হিসাবে এলাকায় তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। কিন্তু সহজ সরল হওয়ায় তিনি যেখানেই শিক্ষকতা করতে গেছেন সেখানেই ঠকেছেন। তারপরও টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন বয়সের কারণে কোনো কাজ করতে পারেন না। তাই প্রতিবন্ধী ভাতার টাকাটাই তার একমাত্র সম্বল।

মঙ্গলবার (৪ জুন) সকালে গৌরীপুর পৌর শহরের ধান মহাল এলাকার সোনার বাংলা লন্ড্রির সামনে এই প্রতিবেদকের সাথে দেখা হয় মোসলেমের। এ সময় তার হাতে ছিল ধূসর রঙের পুরাতন একটি শার্ট। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘ঈদের আগে প্রতিবন্ধী ভাতার কিছু টাকা পেয়ে ভেবেছিলাম নতুন কাপড় কিনবো। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টিতে আমার কুঁড়েঘরটা খুব নড়বড়ে হয়ে গেছে। ধসে পরলেই ৬০ বছরের সংগ্রহে থাকা পত্রিকাগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ভাতার টাকাটা জমিয়ে রেখেছি ঘর সংস্কারের জন্য। এজন্য ঈদে নতুন কাপড় কেনা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদ আসলে বিভিন্নজনের কাছ থেকে নতুন কাপড় উপহার পাই। কিন্তু এবার কেউ দেয়নি। তবে এসব নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নেই। কারণ নতুন কাপড়ে ঈদ করার অভিজ্ঞতা অনেকবার হয়েছে। এবার না হয় পুরনো কাপড়ের অভিজ্ঞতাটাও হবে।’

মোসলেম বলেন, ‘বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারি না। বৃদ্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও এখন আমার কাছে পড়তে আসে না। আগে ঈদ আসলে অনেকেই উপহার দিতো। এখন সেটাও পাই না। গরিব মানুষ তো তাই আমার খবর এখন আর কেউ নিতে চায় না।’

মোসলেমের সাথে কথা বলতেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে আসে। কাপড় ইস্ত্রি করতে করতে লন্ড্রিওয়ালা বলেন, ‘মোসলেম ভাই, শার্টটা তো এক্কেবারে কুচুরি-ভুচুরি হইয়্যা গেছে। এইডা ইস্ত্রি কইরা কী করবেন?’

মোসলেম উত্তর দেন, ‘ভালো করে ইস্ত্রি করো, ‘এই শার্ট পড়েই ঈদের নামাজ পড়তে যাবো।’

গত ১০ জানুয়ারি মোসলেহ উদ্দিনকে নিয়ে বার্তা২৪.কমে ‘প্রতিদিন তিন মাইল পথ হেঁটে শহরে যান পত্রিকা পড়তে’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক খাদে, চালক-হেলপারের মৃত্যু

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক খাদে, চালক-হেলপারের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে খাদে পড়ে চালক-হেলপারের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৬ জুন) সকালে উপজেলার লেংরা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী মাহমুদ বার্তা২৪.কমকে জানান, ট্রাকটি সম্ভবত উত্তরাঞ্চল থেকে আসছিলো। লেংরা বাজার এলাকায় আসার পর ময়মনসিংহ শহরগামী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে চালক ও হেলপার ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

ওসি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

ভারতে গ্রেফতার গোদাগাড়ীর জঙ্গি শাহীন

ভারতে গ্রেফতার গোদাগাড়ীর জঙ্গি শাহীন
জঙ্গি শাহীন। ছবি: সংগৃহীত

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদ বাংলাদেশের (জেএমবি) চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ একটি দল। মঙ্গলবার (২৫ জুন) তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছে- তারা স্লিপার সেলের সদস্য হিসেবে কাজ করত। কলকাতায় তারা বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে দুই বাংলার প্রশাসন এখন তৎপর।

কলকাতায় গ্রেফতার চার জঙ্গির মধ্যে তিনজনই বাংলাদেশি। এর মধ্যে আল-আমিন ওরফে শাহীন (২৩) রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ছেলে। শাহীনের বাবা পৌর এলাকার বুজরুক রাজারামপুর গ্রামের রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম।

শাহীন ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের কারও সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগও নেই বলে জানিয়েছেন তার মা।

শাহীনের মা সাহের বানু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গতবছরের (২০১৮ সাল) জুন মাসের দিকে শাহীনকে ধরতে বাড়িতে পুলিশ আসে। কিন্তু আমার ছেলে ওই সময় বাড়িতে ছিল না। পরে তারা শাহীনের মোবাইল নম্বর ও ছবি নিয়ে যায়।’

সাহের বানু বলেন, ‘পুলিশ বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর আমরা তাকে মোবাইলে যোগাযোগ করেও কোনো খোঁজ পাইনি। পরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার বন্ধু-বান্ধব বা যাদের সঙ্গে সে মিশত, তারাও কেউ শাহীনের খোঁজ দিতে পারেনি।’

শাহীনের মা জানান, তার ছেলে গোদাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও গোদাগাড়ী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে। পরে সে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হয়। নিখোঁজের সময় শাহীন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল।

শাহীনের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৭ সালে রাজারামপুর গ্রামের আমিজুল ইসলাম রনিকে ক্রসফায়ারে দেয় পুলিশ। রনির সঙ্গে আমার ছেলে মিশত। তবে রনি এবং আমার ছেলে কোনো খারাপ কাজে জড়িত ছিল কিনা তা জানি না। রনি মারা যাওয়ার পর শাহীনও এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এক বছর হল শাহীনের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শাহীনকে গ্রেফতার করতে আমরা তার বাড়ি এবং ওই এলাকায় কয়েক দফা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছি। তবে সে খুব চতুর। বড় কোনো পর্যায়ে তার যোগাযোগ ছিল। আগে থেকে সে সরে পড়ত।’

ওসি আরও বলেন, ‘গত এক বছর ধরে তার আর কোনো সন্ধান মিলছিল না। মূলত সে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ জুন) সে কলকাতায় গ্রেফতার হয় বলে শুনেছি।’

প্রসঙ্গত, ভারতের শিয়ালদহ স্টেশনের পার্কিং এলাকা থেকে মঙ্গলবার জিয়াউর রহমান ওরফে মহসিন এবং মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে আল-আমিন ওরফে শাহীন এবং রবিউল আলমকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য দুই বাংলাদেশি জঙ্গি জিয়াউর রহমানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং মামুনুর রশিদের বাড়ি রংপুরে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র