Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

খুলনায় প্রস্তুত ঈদগাহ, প্রধান জামাত সকাল ৮টায়

খুলনায় প্রস্তুত ঈদগাহ, প্রধান জামাত সকাল ৮টায়
প্রস্তুত খুলনার ঈদগাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
খুলনা


  • Font increase
  • Font Decrease

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে খুলনায় পবিত্র ঈদু ফিতর উদযাপনের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

সোমবার (৩ জুন) জানা যায়, খুলনায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শহরের সার্কিট হাউজ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রথম ও প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়। দ্বিতীয় ও শেষ জামাত খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।

আবহাওয়া প্রতিকূল হলে টাউন জামে মসজিদে প্রথম ও প্রধান জামাত সকাল ৮টায়, দ্বিতীয় জামাত ৯টায় এবং তৃতীয় ও শেষ জামাত ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে কোর্ট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া বসুপাড়া ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দানে, খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসা জামে মসজিদ, নিউমার্কেটস্থ বায়তুন-নূর মসজিদ কমপ্ল‌েক্স, খালিশপুর ঈদগাহ ময়দান, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা (২য় ফেজ), বায়তুল্লাহ জামে মসজিদ, নিরালা আবাসিক এলাকা ঈদগাহ, খানজাহান নগর খালাসী মাদরাসা ঈদগাহ, দৌলতপুর ঈদগাহসহ অন্যান্য মসজিদ ও ঈদগাহসমূহে সংশ্লিষ্ট কমিটিদ্বারা সময় নির্ধারণ সাপেক্ষে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে সিটি করপোরেশনের সহায়তায় ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণের তত্ত্বাবধানে পৃথকভাবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ঈদের দিন সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবনে যথাযথভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা এবং সূর্যাস্তের পূর্বে নামানো হবে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কসমূহ ও গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, সড়কদ্বীপ ও সার্কিট হাউস ময়দান জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক (বাংলা ও আরবি) খচিত ব্যানার দিয়ে সজ্জিত করা হবে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, খুলনা বিশেষ অনুষ্ঠানমালা এবং স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে। বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে এ উপলক্ষে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। ঈদের পরে সুবিধাজনক দিন ও সময়ে শহীদ হাদিস পার্কে খুলনা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় নীতি ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব সম্পর্কে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং ইমাম পরিষদের উদ্যোগে সুবিধামত সময়ে সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। ঈদের দিন বিকেলে শিশু পার্কসমূহে দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে। সুবিধাজনক সময়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে প্রীতি ফুটবল, জেলা শিল্পকলা একাডেমী সুবিধাজনক সময়ে অফিসার্স ক্লাবে ঈদ পুনর্মিলনী এবং জেলা শিশু একাডেমী সুবিধাজনক সময় ও স্থানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিশু আনন্দমেলার আয়োজন করবে।

ঈদে আইনশৃংঙ্খলা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মহানগর ও মহানগরের বাইরের বিভিন্ন স্পটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঈদুল ফিতরের সময় আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল তৈরি, উচ্চস্বরে মাইক, ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়াভাবে মটর সাইকেল চালান যাবে না।

ঈদ উপলক্ষে রাস্তায় যত্রতত্র গেট নির্মাণ, প্যানা বা ব্যানার টাঙালে রাস্তা সংকুচিত হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে এবং শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। এজন্য গেট নির্মাণ, প্যানা বা ব্যানার টাঙানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। ঈদের সময় অজ্ঞান ও মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের তৎপরতা বন্ধে টার্মিনাল সংযোগ সড়ক, রেলস্টেশন, বাস ও নৌযান টার্মিনালসমূহে সাদা পোশাকধারী পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এছাড়া জাল টাকা বিস্তাররোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ঈদের সময় ইভটিজিং বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের সময় মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিং এর জন্য খুলনা সার্কিট হাউজের হ্যালিপ্যাড, খুলনা অফিসার্স ক্লাব এবং জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়াম সংরক্ষিত থাকবে। মুসল্লিদের অজুর জন্য পানির ব্যবস্থাও রাখা হবে। বাস, লঞ্চ, স্টিমারে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী উঠতে না পারে এবং বেপরোয়াভাবে যান চলাচল করতে না পারে তার জন্য আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। জেলার শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নের কোন সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাবের কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বর ০১৭৭৭৭১০৬৯৯-এ জানানো যাবে। যাকাতের একটি অংশ অর্থ সোনালী ব্যাংক, খুলনা করপোরেট শাখা, চলতি হিসাব নম্বর-৩৩০০০৮৩৫; ইসলামী ব্যাংক, খুলনা শাখা, চলতি হিসাব নম্বর-২১৫ এবং জনতা ব্যাংক খুলনা করপোরেট শাখা, চলতি হিসাব নম্বর-৩৩০০৭৫৭ অথবা উপপরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বয়রা, খুলনা-এর নিকট সরাসরি প্রদান করা যাবে। উপজেলা সমূহেও স্থানীয়ভাবে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

রাজশাহী চিড়িয়াখানায় বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে শিশু খেলনা!

রাজশাহী চিড়িয়াখানায় বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে শিশু খেলনা!
ভেঙেচুরে বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে রাজশাহী চিড়িয়াখানার শিশু খেলনাগুলো, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহী নগরীর কাজীহাটা এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম দু’দিন আগে পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে তানিয়া আক্তার রিক্তাকে নিয়ে ঘুরতে যান নগরীর প্রধান বিনোদন কেন্দ্র শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান উদ্যান ও চিড়িয়াখানায়। সেখানে শিশুদের জন্য থাকা স্লাইডারে ওঠার বায়না ধরেন শিশু রিক্তা। স্লাইডারে উঠে স্লাইড করতেই উরু কেটে রক্ত ঝরতে শুরু করে শিশুটির। দেখা যায়- স্লাইডারের ভেতরে ভেঙে ধারালো হয়ে ওঠা অংশে লেগে কেটে রক্তাক্ত হয়েছে ওই শিশু।

মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) সকালে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে এমন দুর্ঘটনার কথা জানান ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আশরাফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, 'আমার বাচ্চাকে নিয়ে একজন চিকিৎসকের কাছে যাই। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওই চিকিৎসক জানান- স্লাইডারের ভাঙা অংশে মরিচা ধরে যাওয়ায় এতে কারো হাত-পা বা শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে ইনফেকশন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।'

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের উন্মুক্ত বিনোদন এবং মানসিক শক্তি বাড়ানোর তাগিদ নিয়ে নির্মাণ করা উদ্যানের খেলনাগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। রাইডগুলো তার সক্ষমতা হারিয়েছে এবং নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে খেলনা তৈরির জন্য তা ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনটির কাঠামোও নেই।

রাজশাহী চিড়িয়াখানায় বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে শিশু খেলনা!

অনেক খেলনা ভেঙে যাওয়ার কারণে আলাদা জায়গায় সরিয়ে রাখা হয়েছে। ভেঙেচুরে একাকার অবস্থা হাইড্রোলিক গাড়িটিও। জাম্পিং রোলারটিও পুরোটাই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ভেঙে গেছে সকল স্লাইড। কোনোটির স্লাইডারে চড়ার রাস্তার নেই প্ল্যানসিট। এমনকি সিঁড়িও ভাঙা।

জানা যায়, শিশুদের বিনোদনের জন্য ২০১৩ সালে কেনা হয় এক কোটি পাঁচ লাখ টাকার পাঁচ সেট রাইড। এগুলোতে ফ্রি খেলার সুযোগ পেত শিশুরা। পাঁচ বছর ব্যবধানে অযত্ন-অবহেলায় সবগুলো খেলনা নষ্ট হয়ে গেছে। বিনামূল্যে বিনোদনের কোনো সুযোগ না থাকায় সেই সব ভাঙা খেলনাগুলোতেই খেলে বেড়াচ্ছে শিশুরা। শিশুদের ফ্রি রাইডগুলোগুলো ভেঙে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনাও।

অভিভাবকদের দাবি- দীর্ঘদিন থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব খেলনাগুলো পড়ে আছে। ফলে এখানে খেলতে গেলে শিশুদের শরীর কেটে গেলে মারাত্মক জখম হয়।

রাজশাহী বেতারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান তার নাতিকে নিয়ে এসেছেন। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'খেলতে গিয়ে সে রাইড থেকে পড়ে গিয়েছিল। ব্যথা পেয়েছে। এখানে স্লিপারসহ বেশিরভাগ রাইডই নষ্ট। আমি মনে করি- এটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার'।

রাজশাহী চিড়িয়াখানায় বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে শিশু খেলনা!

রাজশাহীর মোহনপুর থেকে ছেলে ও মেয়ে নিয়ে ঘুরতে আসা রুনা লায়লা বলেন, 'এখানে তো খেলার কিছুই নেই। সব ভাঙা। খেলনাগুলো ভালো থাকলে আরও ভালোভাবে বাচ্চারা খেলতে পারত। মজাও পেত। এখন খেলনা ভাঙার কারণে বাচ্চারা খেলতেও পারছে না মজাও পাচ্ছেন না।'

চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি আমি লক্ষ করছি। বিষয়টি প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারপরও অতিদ্রুত এটি সংস্কার করার জন্য আবারও তাদেরকে জানানো হবে।' তারা এটি সংস্কার করবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তবে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরহাদ হোসেন বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, 'এসব রাইড ফাঁকাস্থানে রাখার জন্যই নষ্ট হয়েছে। অনেকটা ব্যবহারের জন্যও নষ্ট হয়েছে।' তবে এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে অব্যহতি করেছেন বলেও জানান।

রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, 'খুব শিগগিরই এগুলো মেরামত করা হবে। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নতুন রাইড বসানো হবে।'

প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে জেন্ডার সংবেদনশীল শিক্ষা

প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে জেন্ডার সংবেদনশীল শিক্ষা
শিক্ষক প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৈশোর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার শীর্ষক অলোচনা

শিক্ষার্থীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চত করার জন্য জেন্ডার সংবেদনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলেছেন, পাঠ্যপুস্তকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অধ্যায় থাকলেও তা পাড়ানো হয় না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাব ও শিক্ষার্থীদের সচেনতার অভাব রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘শিক্ষক প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৈশোর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল অলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ইউনিটি ফর বডি রাইটস (ইউবিআর) বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ও আরএইচআরএন প্ল্যাটফরম আয়োজিত এ আলোচনায় মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন ইউবিআর অ্যালায়েন্সের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শারমীন ফাহাত উবায়েদ।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের (বিএনপিএস) নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মাহমুদুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদফতরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদফতরের পরিচালক আবদুল মান্নান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান, বাংলাদেশ মাদ্রাসা টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ড. গোলাম আযম আজাদ, আরএইচস্টেপ’র নির্বাহী পরিচালক কাজী সুরাইয়া সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দা তাহমিনা আকতার, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কানিজ সৈয়দা বিনতে সাবাহ, ইউএনএফপি’র ড. মোহাম্মদ মনির হোসেন, বিএনপিএস’র নাসরিন বেগম প্রমুখ।

সভায় সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে অতিরিক্ত সচিব ড. মাহমুদুল হক বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখার জন্য প্রত্যেকটি স্কুলে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলোতে ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা ওয়াশরুম তৈরি করা হচ্ছে। স্কুলের নতুন ভবনে এটা থাকা বাধ্যতামূলক।

তিনি আরও বলেন, স্কুলে ওয়াশরুম থাকলেও সেটা পরিষ্কার থাকে না। এ জন্য প্রত্যেক বৃহস্পতিবার স্কুলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সচেনতামূলক নানান কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জেন্ডার দৃষ্টিকোন থেকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যকে না দেখলে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব। এ জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেকটি স্কুলে কাউন্সিলর নিয়োগ দিতে হবে। ইতোমধ্যে সরকার এসংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

এছাড়া পাঠ্যপুস্তকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ইস্যুকে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়াও বিতর্ক, খেলাধুলা এবং সাংস্কুতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সচেতনতার কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজের কুসংস্কারের কথা তুলে ধরে ড. গোলাম আযম আজাদ বলেন, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত অধ্যায়গুলো শিক্ষকরা পড়ান না। আবারো কোন কোন প্রতিষ্ঠানে এই অধ্যায়গুলো স্টাপলার করে রাখা হয়। যাতে শিক্ষার্থীরা পড়তে না পারে। এই জড়তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

সভায় নারীনেত্রী রোকেয়া কবীর বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ধর্ম নিরপেক্ষতা মূল্যবোধ ও জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে সকল নাগরিকের জন্য জেন্ডার সংবেদনশীল জীবন দক্ষতা ও বিজ্ঞানমুখী কারিগরি শিক্ষা বাস্তবায়ন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বর্তমার সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।

সভায় মূল প্রবন্ধে বলা হয়, মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পাঠ্যসূচিতে প্রজনন স্বাস্থ্য ও জীবন দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা বিএড কোর্সসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য ও জ্ঞান লাভ করেন। যার ভিত্তিতে তারা এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ পরিবর্তনে সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারেন। এ অবস্থায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র