Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ওভারটেকিংই ঈদযাত্রার কাল, মানতে নারাজ চালকরা

ওভারটেকিংই ঈদযাত্রার কাল, মানতে নারাজ চালকরা
ওভারটেকিংয়ের অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে চালকদের মাঝে, ছবি: বার্তা২৪
শাহরিয়ার হাসান ও মনি আচার্য্য
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

শেরপুর (বগুড়া) থেকে: ঈদযাত্রায় রাজধানী থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলে যেতে সব থেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা শেরপুরের অংশ। এর প্রধান কারণ হলো এই রোডের চালকদের বেপরোয়া মনোভাব। চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের পাশাপাশি ওভারটেকিং সড়ক দুর্ঘটনার আরও একটি কারণ। অবশ্য ওভারটেকিংয়ের বিষয়টি মানতে নারাজ চালকরা।

বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই মহাসড়কে চালকদের ওভারটেকিং করার মনোভাবের কারণে ঈদযাত্রায় সব থেকে বেশি দুর্ঘটনা হয়। ফলে যাত্রা পথে যেমন ভোগান্তি হয়, তেমনি অনেক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। এছাড়া ওভারটেকিংয়ে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

শুক্রবার (৩১ মে) সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা ও শেরপুর অংশে যাত্রী, চালক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। সরেজমিনেও ওভারটেকিংয়ের এ চিত্র দেখা যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559318070343.jpg
ওভারটেকিংয়ের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন ট্রাক চালকরা, ছবি: সুমন শেখ

 

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট ছাড়ার প্রথম দিনেই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছেন দূরপাল্লার বিভিন্ন পরিবহনে চালকরা। কার আগে কে যাবেন, এ নিয়ে অসুস্থ এক প্রতিযোগিতায় রাস্তায় মরণ খেলার নেশায় মেতে উঠেছেন চালকরা। ফলে বড় বড় এসব গাড়ির রেষারেষিতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন: চালকদের জন্য মরণ ফাঁদ ঘোগা ব্রিজ

আরও দেখা যায়, মহাসড়কের চান্দাইকোনা থেকে শেরপুরের ১০ কিলোমিটার জায়গার মধ্যে অত্যন্ত ১০ স্পটের অধিক জায়গায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাস ও ট্রাক ওভারটেক করছে।

এ বিষয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অল্প ব্যবধানে দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও ওভারটেকিং এই মহাসড়কে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559318303017.jpg
মহাসড়কে ওভারটেকিংয়ের একটি দৃশ্য বার্তা২৪. কমের ক্যামেরায় ধরা পড়ে, ছবি: সুমন শেখ

 

হানিফ পরিবহনের যাত্রী মোতালেব হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সাধারণত রাস্তায় ধীর গতির গাড়ি চলতে থাকলে ওভারটেকিংয়ের প্রয়োজন পড়ে। এ সময় হর্ন বাজিয়ে সামনের গাড়িকে সংকেত দিতে হবে কিন্তু অনেক সময় সংকেত না দিয়ে একজন আরেক জনকে ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতা শুরু করে। যার ফলে সামনের দিক হতে আসা গাড়ি বের হতে না পেরে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।’

আরও পড়ুন: ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই মহাসড়কে চরম ভোগান্তি

তবে চালকরা এসব অভিযোগ মানতে নারাজ। তারা বলছেন, মহাসড়কে এমন একটু ওভারটেকিং সমস্যা না। যারা দক্ষ না তারাই ওভারটেকিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়।’

 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559318387967.jpg
ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের চেষ্টা এক দিনমজুরের, ছবি: সুমন শেখ

 

এদিকে, স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলছেন, ওভারটেকিংয়ের কারণে বগুড়া শহরতলির শেরপুর সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা হিসেবে পরিচিত সবার কাছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে)  রাতেও ওভারটেকিংয়ের কারণে শেরপুরে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে একটি প্রাইভেট কার।

আরও পড়ুন: যানজট আর মৃত্যুঝুঁকি সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কে!

ওভারটেকিং ও দুর্ঘটনা নিয়ে শেরপুরের ইজিবাইক চালক ইউনুস আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এখানের রাস্তা সরু। ওভারটেকিং করার জন্য পাশাপাশি কয়েকটি লাইন হয়। এই সময় অপরদিক থেকে একটা গাড়ি আসলেই ঘটে যেতে পারে মহাবিপদ। সেটা আমাদের মতো ছোট চালকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক। আমি নিজেও গতকাল একটি দুর্ঘটনার শিকার হতে নিয়েছিলাম।’

আপনার মতামত লিখুন :

৭ নারী ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাকে পুরস্কৃত করল কালারস

৭ নারী ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাকে পুরস্কৃত করল কালারস
পুরস্কৃত ৭ নারী ব্যবসায়ী উদ্যোক্তার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী পলক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাত নারী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাকে পুরস্কৃত করেছে ঢাকা ও নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন কালারস। সাতটি ক্যাটাগরিতে নারী উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দিতে দেশে প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নেয় কালারস।

শনিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক জাকজমজ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ‘সিটি ব্যাংক কালারস প্ল্যাটিনাম বিজনেস ওমেন আওয়ার্ড-২০১৯’ শিরোনামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার জন্য উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সাতটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পাওয়া নারীরা হলেন-প্ল্যাটিনাম বিজনেস ওমেন অফ দ্যা ইয়ার ক্যাটাগরিতে রুমানা চৌধুরী, বিজনেস এন্টারপ্রাইজ ক্যাটাগরিতে সুজান খান মঈন, এসএমই এন্টারপ্রাইজ ক্যাটাগরিতে তানিয়া ওয়াহাব, ইনোভেটিভ প্রজেক্ট অব দ্যা ইয়ার ক্যাটাগরিতে আমিনা খাতুন, স্টার্টআপ অফ দ্যা ইয়ার ক্যাটাগরিতে তৃণা ফাল্গুনী, ইনোভেটিভ সল্যুশন অফ দ্যা ইয়ার ক্যাটাগরিতে ফাহমিদা ইসলাম এবং রাইজিং স্টার ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে নাবিলা নওরীন ও নাহিদ শারমিন।

1
এক নারী উদ্যোক্তার হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী পলক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

এর আগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রিভা গাঙ্গুলী বিজয়ী নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের শুভ কামনা জানান। একই সঙ্গে দেশে আরও নেতৃত্ব উঠে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘পৃথিবীর ৫০০ ফরচুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাত্র ২৪টিতে নারী নেতৃত্ব আছে। আমাদের দেশেও এমন দারুণ নারী নেতৃবৃন্দ আছেন। তবে আমাদের আরও এমন নেতৃত্ব দরকার, বিশেষ করে আইসিটি খাতে।’

নারী নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ‘নারীরা এখন সব ক্ষেত্রে সফলভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার মাকে দেখেছি বাড়ির সব সিদ্ধান্ত নিতে। এখন আমার পরিবারের সব সিদ্ধান্ত আমার সহধর্মিণী নেন। তেমনিভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একজন নারী। তিনি শুধু আমাদের দেশের না বরং বিশ্বের সেরা একজন নেতা। রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক সব ক্ষেত্রে নারীরা ভালো করছেন। এ ধরনের পুরস্কারের আয়োজন ভবিষ্যৎ নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কালারস ম্যাগাজিনের প্রকাশক ও সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ ও সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মারুফ।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার

রোহিঙ্গা ইস্যুতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সেমিনারে আলোচকরা/ ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখতে শিক্ষাবিদ, গবেষক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের ‘অ্যাশ সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ননেন্স এন্ড ইনোভেশন’ সেন্টারে অনুষ্ঠিত সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

‘ইন্টারন্যাশনাল রোহিঙ্গা অ্যাওয়ারনেস কনফারেন্স’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করেন বোস্টনস্থ অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুল্লাহ শিবলী, ড. ডেভিড ড্যাপাইচ ও সমাজকর্মী নাসরিন শিবলী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563639147560.gif

রোহিঙ্গা ইস্যু কিভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলছে সেমিনারে তা উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্য বিড়ম্বিত, অমানবিক সহিংসতার শিকার এই মানুষগুলোকে আশ্রয় না দিলে তাদের আর যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না।’

মন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার এই সংকট সমাধানে এগিয়ে আসেনি। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ থেকে শুরু করে কোনো পদক্ষেপই তারা বাস্তবায়ন করেনি। রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার আস্থা ও নিরাপত্তা সৃষ্টিকারী কোনো অনুকূল পরিবেশই তারা সৃষ্টি করতে পারেনি। পরিবর্তে মিয়ানমার বিষয়টি নিয়ে ব্লেইম গেম খেলছে।’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যা সম্ভব তার সব সবকিছুই বাংলাদেশ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পদক্ষেপের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিশ্বের খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563639181228.gif

সেমিনারে অন্য আলোচকদের মধ্যে ছিলেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের নিউইয়র্কস্থ কার্যালয়ের পরিচালক নিনেথ কেলি ও হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার কর্মসূচির সিনিয়র ইকোনমিস্ট ও প্রফেসর ইমেরিটাস ডেভিড ড্যাপাইচ।

অনুষ্ঠানটির মডারেটর ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও হার্ভার্ডের অ্যাশ সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নন্যান্স এর পরিচালক এন্থনি সাইচ।

নিনেথ কেলি রোহিঙ্গা সঙ্কটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জনগণের উদারতা, সহানভূতি ও মানবিকতার প্রশংসা করেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি একটি ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন দৃশ্যপট তুলে ধরেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র