Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

সিলেট যেন মৌসুমি ভিক্ষুকদের হাট!

সিলেট যেন মৌসুমি ভিক্ষুকদের হাট!
সিলেটে ভিক্ষুকের ছড়াছড়ি, ছবি: বার্তা২৪.কম
নূর আহমদ
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
সিলেট


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট নগরী এখন যেন মৌসুমি ভিক্ষুকদের হাট। নগরীর সব পয়েন্টে ২-৪ জন করে ভিক্ষুকের দেখা মেলে। ফলে ভিক্ষুকদের নিয়ে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ক্রেতারা। তবে ভিক্ষুক নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে না প্রশাসন।

নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, কুদরত উল্লাহ মার্কেট, আম্বরখানা, সুবদিবাজার, পাঁচ ভাই, পানসি রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন মার্কেটের সামনে ভিক্ষুকদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। শুকরিয়া মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা রাজু আহমেদ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘ভিক্ষুকের উৎপাত এতটাই বেড়েছে যে ভিক্ষা না দিলে কাপড় ধরে টানাটানি করে। ফলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।’

সিলেট যেন মৌসুমি ভিক্ষুকদের হাট!

ব্যবসায়ী রোটারিয়ান আব্দুল মুহিত দিদার বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘সিলেট শহরে এখন অনেক মৌসুমি ভিক্ষুকের দেখা মেলে। বিভিন্ন পয়েন্টে ঝাঁকে ঝাঁকে ভিক্ষুকরা বসে থাকে। বিশেষ করে নামাজের সময় হলে তারা মসজিদের সামনে ভিড় করে। মুসল্লিরা বেরিয়ে গেলে আবার বিভিন্ন মার্কেটের সামনে চলে যায়। আর রাত হলেই হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারসহ বিভিন্ন কলোনিতে চলে যায়। সকাল হলে আবার ভিক্ষায় নেমে পড়ে।’

মধুবন সুপার মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ভিক্ষুক সালেহা বেগম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমার বাড়ি কুমিল্লায়। থাকি মেজরটিলার একটি কলোনিতে। সামনে ঈদ, টাকা পয়সা দরকার। এ জন্য ভিক্ষা করছি। তবে আমি নিয়মিত ভিক্ষা করি না। মাঝে মাঝে ভিক্ষায় বের হই।’

সিলেট যেন মৌসুমি ভিক্ষুকদের হাট!

পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন মদরিছ আলী। তার বেশভূষা দেখলে মনে হবে তিনি একজন দরবেশ। এসেছেন উত্তরবঙ্গ থেকে। তবে জেলার নাম বলতে রাজি হননি। কয়জন একসঙ্গে এসেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিব্রত হয়ে বলেন, ‘বাবা, সবার কাছে চাই না, দু-একজনের কাছে ১০/২০ টাকা চাই।’

হুইল চেয়ারে বসে টাকার হিসাব করছিলেন কলমদর আলী। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সঙ্গে ছিলেন আরও চার জন নারী। মোবাইল বের করে ছবি তুলতেই অনেকটা বেকায়দায় পড়েন তারা। পরে কলমদর আলী নামে এক ভিক্ষুক বলেন, ‘মহিলারা হিসেব জানে না। তাই আমি টাকা গুনে দিচ্ছিলাম।’

সিলেট যেন মৌসুমি ভিক্ষুকদের হাট!

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর বন্দরবাজারের পরিত্যক্ত ফুট ওভারব্রিজ মৌসুমি ভিক্ষুকদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ব্রিজটি কেউ ব্যবহার না করায় কয়েক ঘণ্টা পর পর ভিক্ষুকরা একত্রিত হয়ে ভাগ বাটোয়ারা করে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার ভিক্ষায় নেমে পড়েন।

দরগাহমহল্লা রাজারগলির বাসিন্দা স্কুল শিক্ষিকা সায়েরা বেগম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আজকাল ভিক্ষুকরা বাড়িতে হানা দেয়। কাউকে না পেলে সুযোগ বুঝে কাপড় নিয়ে পালায়। তবে ঈদের আগে ভিক্ষুকদের উৎপাত বেড়ে যায়।’

ভিক্ষুকদের নিয়ে কাজ করে পরিবর্তন নামের একটি সংগঠন। সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারি শাহানা চৌধুরী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘উৎসব এলে নগরীতে ভিক্ষুক বেড়ে যায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের নির্দেশনায় সিলেটে স্থায়ী এবং ভাসমান ভিক্ষুকের জরিপ করা হচ্ছে। শিগগিরই ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের প্রস্তাবনা দেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

রোহিঙ্গাদের ফেরত না যাওয়ার উস্কানি দিচ্ছে এনজিও: তথ্যমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের ফেরত না যাওয়ার উস্কানি দিচ্ছে এনজিও: তথ্যমন্ত্রী
চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ/ ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনারত কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত না যাওয়ার উস্কানি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, 'দেশি-বিদেশি কিছু এনজিও ও তাদের কর্মকর্তারা রোহিঙ্গারা যাতে তাদের দেশে ফেরত না যায়, সেজন্য উস্কানি দিচ্ছেন এবং প্ররোচিত করছেন। কারণ রোহিঙ্গারা এখানে থাকলে তাদের ফান্ড আসে। সেই ফান্ড পেয়ে এনজিওগুলো হৃষ্টপুষ্ট হয়।'

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাত ৮টায় চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ জেএমসেন হলে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত ধর্ম মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, '২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত ঘোষণার কিছু আগে এনজিওদের একটি অ্যালায়েন্স বিবৃতি দিয়েছে, মিয়ানমারে নাকি সেই পরিবেশ নেই। তারা এক্ষেত্রে আগেও রোহিঙ্গাদের প্ররোচনা দিয়েছে, এখনও দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থার সংকট আছে, এটা সঠিক। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি রোহিঙ্গাদের অনেকে উস্কানি দিচ্ছেন, যাতে তারা ফেরত না যান।'

তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। ১১ লাখ রোহিঙ্গা তখন বাংলাদেশে আসলেও এখন তা বেড়ে ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সেখানকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ধ্বংস হয়েছে। উখিয়া টেকনাফের স্থানীয় জনগণ এখন সংখ্যালঘু।’

‘স্থানীয়রা প্রথমে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে নানাভাবে সহায়তা করেছিল। কিন্তু এখন রোহিঙ্গারা নানা অপরাধের সাথে যুক্ত হয়েছে। ইয়াবাসহ নানা ধরণের পাচারের সাথে যুক্ত হয়েছে। সেখানকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এজন্য স্থানীয় বাসিন্দারাও নানাভাবে বিরক্ত।'

চীন ও ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। তাদের সহায়তা ও উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টার কারণেই কিন্তু রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছিল। কিছু এনজিও তাদের উস্কানি দিচ্ছে, যাতে তারা ফিরে না যায়।'

সহসাই আবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'রোহিঙ্গারা যাতে ফিরে যায়, সরকারের পক্ষ থেকে কুটনৈতিক তৎপরতা সহ নানা উদ্যোগ চলমান আছে। একই সাথে যারা উস্কানি দিচ্ছেন তাদের চিহ্নিত করতে সরকার কাজ করছে।'

জাতীয় জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি বাবুন ঘোষ বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাউজান পৌরসভার মেয়র শ্রী দেবাশীষ পালিত, জন্মাষ্টমী পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. চন্দন তালুকদার প্রমুখ।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ মারা গেছেন, প্রধানমন্ত্রীর শোক

অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ মারা গেছেন, প্রধানমন্ত্রীর শোক
অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, ছবি: সংগৃহীত

প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ন্যাপ (মোজাফফর) এর সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) এক শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রগতিশীল রাজনীতিতে অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।’

শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মরহুমের পরিবারের শোকাহত সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান ও বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, উপমহাদেশে বাম রাজনীতির অন্যতম পুরোধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাম প্রগতিশীল আন্দোলনের পথিকৃৎ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫০মিনিটে এ মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর হয়েছিল ৯৭ বছর। দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের ছয়জন উপদেষ্টার মধ্যে একজন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর ভূমিকা অবিস্মরণীয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র