Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

সিলেট যেন মৌসুমি ভিক্ষুকদের হাট!

সিলেট যেন মৌসুমি ভিক্ষুকদের হাট!
সিলেটে ভিক্ষুকের ছড়াছড়ি, ছবি: বার্তা২৪.কম
নূর আহমদ
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
সিলেট


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট নগরী এখন যেন মৌসুমি ভিক্ষুকদের হাট। নগরীর সব পয়েন্টে ২-৪ জন করে ভিক্ষুকের দেখা মেলে। ফলে ভিক্ষুকদের নিয়ে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ক্রেতারা। তবে ভিক্ষুক নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে না প্রশাসন।

নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, কুদরত উল্লাহ মার্কেট, আম্বরখানা, সুবদিবাজার, পাঁচ ভাই, পানসি রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন মার্কেটের সামনে ভিক্ষুকদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। শুকরিয়া মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা রাজু আহমেদ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘ভিক্ষুকের উৎপাত এতটাই বেড়েছে যে ভিক্ষা না দিলে কাপড় ধরে টানাটানি করে। ফলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।’

সিলেট যেন মৌসুমি ভিক্ষুকদের হাট!

ব্যবসায়ী রোটারিয়ান আব্দুল মুহিত দিদার বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘সিলেট শহরে এখন অনেক মৌসুমি ভিক্ষুকের দেখা মেলে। বিভিন্ন পয়েন্টে ঝাঁকে ঝাঁকে ভিক্ষুকরা বসে থাকে। বিশেষ করে নামাজের সময় হলে তারা মসজিদের সামনে ভিড় করে। মুসল্লিরা বেরিয়ে গেলে আবার বিভিন্ন মার্কেটের সামনে চলে যায়। আর রাত হলেই হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারসহ বিভিন্ন কলোনিতে চলে যায়। সকাল হলে আবার ভিক্ষায় নেমে পড়ে।’

মধুবন সুপার মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ভিক্ষুক সালেহা বেগম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমার বাড়ি কুমিল্লায়। থাকি মেজরটিলার একটি কলোনিতে। সামনে ঈদ, টাকা পয়সা দরকার। এ জন্য ভিক্ষা করছি। তবে আমি নিয়মিত ভিক্ষা করি না। মাঝে মাঝে ভিক্ষায় বের হই।’

সিলেট যেন মৌসুমি ভিক্ষুকদের হাট!

পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন মদরিছ আলী। তার বেশভূষা দেখলে মনে হবে তিনি একজন দরবেশ। এসেছেন উত্তরবঙ্গ থেকে। তবে জেলার নাম বলতে রাজি হননি। কয়জন একসঙ্গে এসেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিব্রত হয়ে বলেন, ‘বাবা, সবার কাছে চাই না, দু-একজনের কাছে ১০/২০ টাকা চাই।’

হুইল চেয়ারে বসে টাকার হিসাব করছিলেন কলমদর আলী। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সঙ্গে ছিলেন আরও চার জন নারী। মোবাইল বের করে ছবি তুলতেই অনেকটা বেকায়দায় পড়েন তারা। পরে কলমদর আলী নামে এক ভিক্ষুক বলেন, ‘মহিলারা হিসেব জানে না। তাই আমি টাকা গুনে দিচ্ছিলাম।’

সিলেট যেন মৌসুমি ভিক্ষুকদের হাট!

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর বন্দরবাজারের পরিত্যক্ত ফুট ওভারব্রিজ মৌসুমি ভিক্ষুকদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ব্রিজটি কেউ ব্যবহার না করায় কয়েক ঘণ্টা পর পর ভিক্ষুকরা একত্রিত হয়ে ভাগ বাটোয়ারা করে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার ভিক্ষায় নেমে পড়েন।

দরগাহমহল্লা রাজারগলির বাসিন্দা স্কুল শিক্ষিকা সায়েরা বেগম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আজকাল ভিক্ষুকরা বাড়িতে হানা দেয়। কাউকে না পেলে সুযোগ বুঝে কাপড় নিয়ে পালায়। তবে ঈদের আগে ভিক্ষুকদের উৎপাত বেড়ে যায়।’

ভিক্ষুকদের নিয়ে কাজ করে পরিবর্তন নামের একটি সংগঠন। সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারি শাহানা চৌধুরী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘উৎসব এলে নগরীতে ভিক্ষুক বেড়ে যায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের নির্দেশনায় সিলেটে স্থায়ী এবং ভাসমান ভিক্ষুকের জরিপ করা হচ্ছে। শিগগিরই ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের প্রস্তাবনা দেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

ভারতে গ্রেফতার গোদাগাড়ীর জঙ্গি শাহীন

ভারতে গ্রেফতার গোদাগাড়ীর জঙ্গি শাহীন
জঙ্গি শাহীন। ছবি: সংগৃহীত

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদ বাংলাদেশের (জেএমবি) চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ একটি দল। মঙ্গলবার (২৫ জুন) তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছে- তারা স্লিপার সেলের সদস্য হিসেবে কাজ করত। কলকাতায় তারা বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে দুই বাংলার প্রশাসন এখন তৎপর।

কলকাতায় গ্রেফতার চার জঙ্গির মধ্যে তিনজনই বাংলাদেশি। এর মধ্যে আল-আমিন ওরফে শাহীন (২৩) রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ছেলে। শাহীনের বাবা পৌর এলাকার বুজরুক রাজারামপুর গ্রামের রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম।

শাহীন ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের কারও সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগও নেই বলে জানিয়েছেন তার মা।

শাহীনের মা সাহের বানু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গতবছরের (২০১৮ সাল) জুন মাসের দিকে শাহীনকে ধরতে বাড়িতে পুলিশ আসে। কিন্তু আমার ছেলে ওই সময় বাড়িতে ছিল না। পরে তারা শাহীনের মোবাইল নম্বর ও ছবি নিয়ে যায়।’

সাহের বানু বলেন, ‘পুলিশ বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর আমরা তাকে মোবাইলে যোগাযোগ করেও কোনো খোঁজ পাইনি। পরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার বন্ধু-বান্ধব বা যাদের সঙ্গে সে মিশত, তারাও কেউ শাহীনের খোঁজ দিতে পারেনি।’

শাহীনের মা জানান, তার ছেলে গোদাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও গোদাগাড়ী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে। পরে সে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হয়। নিখোঁজের সময় শাহীন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল।

শাহীনের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৭ সালে রাজারামপুর গ্রামের আমিজুল ইসলাম রনিকে ক্রসফায়ারে দেয় পুলিশ। রনির সঙ্গে আমার ছেলে মিশত। তবে রনি এবং আমার ছেলে কোনো খারাপ কাজে জড়িত ছিল কিনা তা জানি না। রনি মারা যাওয়ার পর শাহীনও এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এক বছর হল শাহীনের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শাহীনকে গ্রেফতার করতে আমরা তার বাড়ি এবং ওই এলাকায় কয়েক দফা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছি। তবে সে খুব চতুর। বড় কোনো পর্যায়ে তার যোগাযোগ ছিল। আগে থেকে সে সরে পড়ত।’

ওসি আরও বলেন, ‘গত এক বছর ধরে তার আর কোনো সন্ধান মিলছিল না। মূলত সে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ জুন) সে কলকাতায় গ্রেফতার হয় বলে শুনেছি।’

প্রসঙ্গত, ভারতের শিয়ালদহ স্টেশনের পার্কিং এলাকা থেকে মঙ্গলবার জিয়াউর রহমান ওরফে মহসিন এবং মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে আল-আমিন ওরফে শাহীন এবং রবিউল আলমকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য দুই বাংলাদেশি জঙ্গি জিয়াউর রহমানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং মামুনুর রশিদের বাড়ি রংপুরে।

বার্তা২৪.কমে খবর প্রকাশ: সরকারি গাছ কাটা বন্ধ করলেন ইউএনও

বার্তা২৪.কমে খবর প্রকাশ: সরকারি গাছ কাটা বন্ধ করলেন ইউএনও
গাছ পরিদর্শনে ফারহানা করিম, ছবি: বার্তা২৪.কম

মাল্টিমিডিয়া অনলাইন নিউজপোর্টাল বার্তা২৪.কম সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার জেলখানা মোড় এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারকে উক্ত এলাকার সরকারি গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারহানা করিম।

সোমবার (২৪ জুন) বার্তা২৪.কমে ‘সরকারি গাছ কাটছে এমডি ফরিদ উদ্দিন কনস্ট্রাকশন’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকায় গাছ কাটার ঘটনা তদন্ত করতে যান। খবর পেয়ে  গাছ কাটার শ্রমিকরা ও করাতকলের মালিক ইজ্জত আলী পালিয়ে যান।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকারি গাছ কাটার অনুমতিপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান এমডি ফরিদ উদ্দিন কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার বাপ্পীদের ছোট ভাই কোনো ধরনের কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাছকাটা বন্ধের নির্দেশ দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অনুমতি না থাকায় গাছকাটা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র