Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

খুলনায় গরিবের মার্কেটে ধনীদের কেনাকাটা

খুলনায় গরিবের মার্কেটে ধনীদের কেনাকাটা
ছবি: বার্তা২৪
মানজারুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
খুলনা


  • Font increase
  • Font Decrease

সাধ আর সাধ্যের সমন্বয়হীনতার মাঝেও স্বল্প আয়ের মানুষ ঈদ বাজারে সীমিত বাজেটে পুরো পরিবারের কেনাকাটা করেন। দর কষাকষিতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা বেশ এগিয়ে থাকলেও এবার তাদের পথে বাধা হচ্ছেন বিত্তবানরা। খুলনার দরিদ্রদের অধিকাংশ মার্কেটে ধনীরা হানা দিচ্ছেন।

সোমবার (২৭ মে) খুলনার মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো ঘুরে দেখা যায়, মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের মানুষের মার্কেট হিসেবে পরিচিত নিক্সন মার্কেট, রেলওয়ে মার্কেট, বড় বাজার, হ্যানিম্যান মার্কেট, মশিউর রহমান মার্কেট, এস এম এ রব মার্কেট, কাজী নজরুল ইসলাম মার্কেট, হকার্স মার্কেট, এমনকি ফুটপাতের দোকানগুলোতেও বিত্তবানদের আনাগোনা। এতে অনেকটা বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষেরা। এসব মার্কেটে দর কষাকষি না করে উচ্চবিত্তরা জিনিস কিনে নিচ্ছেন। এতে বিক্রেতারা সহজে পণ্যের দাম কমাচ্ছেন না। এ নিয়ে বিপদে পড়েছেন নিম্নবিত্তরা।

খুলনার বড় বাজারে পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে আসা দিনমজুর রহমত আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘পোলাপানগো জন্যি কিছু কিনতে আইছি, কিন্তু বাজারে কিছু কেনার উপায় নাই। যেইটা ধরি সেইটাতেই দাম! তার উপরে বড়লোকরা এহন গরিবগো বাজারে কেনাকাটা করে। মার্কেটের বাইরে গাড়ি রাইখা কেনাকাটা করে। দোকানদার আমার কাছে একটা শার্টের দাম চাইছে ১২০০ টাকা, আমি ৫০০ কইছি। পাশে এক বড়লোক ১১০০ দিয়া শার্টটা কিনে নিয়া গেছে। এমন হইলে আমরা চলমু কেমনে!’

Khulna Eid Market

ইজিবাইক চালক আব্দুল হান্নান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সাধ্য নেই যার, তার মনে হয় সাধও থাকতে নেই। এবার কেনাকাটা করতে এসে তাই মনে হচ্ছে। সব কিছুর যে দাম, তাতে গরিব কিনতে পারবে না। ঈদ তো এখন বড়লোকদের।’

নিক্সন মার্কেটের ফ্যাশন হাউজের মালিক আসাদ শেখ বার্তা২৪.কমকে বলেন, আগে এখানকার বিপণিবিতানে শুধু মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তরা কেনাকাটা করতো। এ বছর দেখছি সব ধরনের ক্রেতারা আসছেন। আমাদের মার্কেটে অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে কেনাকাটা করা যায়। আমরা যা দাম চাইছি, এবার অনেকেই দর কষাকষি ছাড়াই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মনে হচ্ছে কিছুটা টাকা-পয়সাওয়ালা মানুষেরা এ মার্কেটে আসছেন। কারণ, এর আগে দর কষাকষি ছাড়া বিক্রি করতে পারতাম না।

Khulna Eid Market

প্রাইভেটকারে ঈদবাজার করতে আসা চাকরিজীবী ইমরান আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, আগে নিউ মার্কেট, সোনাডাঙ্গা আবার শিববাড়ীর শোরুম থেকে কেনাকাটা করা হতো। এবার সব মার্কেটেই প্রচণ্ড দাম। আগে সেসব পোশাক দুই হাজারে পেতাম সেসব এবার দাম চাচ্ছে পাঁচ হাজারের মতো। তাই নিক্সন মার্কেটের দিকেও একটু আসলাম। একটু ঘুরে-ফিরে কিনলে এখানেও ভালো জিনিস পাওয়া যায়।

নিম্ন আয়ের মানুষদের ঈদ উদযাপনের গল্পতে বিত্তবানরা বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণে অনেকেই মার্কেট করতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। নামীদামি শপিং মল আর রঙিন বিপণিবিতান এড়িয়ে তারা কোনো রকমে নতুন পোশাক কিনতে পারলেই খুশি হতো।

আপনার মতামত লিখুন :

১৫ বছরে ২০০টি অফিসে চুরি করে চক্রটি

১৫ বছরে ২০০টি অফিসে চুরি করে চক্রটি
চুরি চক্রের আটককৃত সদস্যরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চক্রের দুই মূলহোতা মো. মফিজুর রহমান ও মমিনুল ইসলাম রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোর বিভিন্ন করপোরেট অফিসে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ করত। পরে চক্রের বাকি সদস্যরা একত্রিত হয়ে সুকৌশলে অফিসের লক খুলে দুর্ধর্ষ চুরি করত। এভাবে চক্রটি দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০০টি চুরি করে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (২১ জুলাই) রাজধানীর বংশাল থেকে এই চক্রের মূলহোতা মো. মফিজুর রহমান ও মমিনুল ইসলামসহ এ চক্রের পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার বাকি তিনজন হলেন- মো. বদরুল হক, মো. জামাল উদ্দিন ও মো. রাহাদ সরকার। এছাড়া গ্রেফতাকৃতদের কাছ থেকে পাঁচটি ল্যাপটপ, দুটি প্রাইভেট কার, তালা ভাঙার একটি সেলাইরেঞ্জ, দুটি স্ক্রু ড্রাইভার, একটি হেক্স ব্লেড, একটি প্লাস ও নগদ এক লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

১৫ বছরে ২০০টি অফিসে চুরি করে চক্রটি

সোমবার (২২ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম।

মো. মাহবুব আলম বলেন, 'গত ২/৩ বছর ধরে এই চক্রের দুই মূলহোতার মধ্যে মো. মফিজুর রহমান একজন উবার চালক ও মো. মমিনুল ইসলাম আন্তঃনগর সোনার বাংলা ট্রেনের এটেনডেন্স। এই দুইজন রাজধানীর উত্তরা, ধানমন্ডি, কলাবাগান ও রমনা এলাকার বড় বড় করপোরেট অফিসের খোঁজ নিত। পরে নানা কৌশলে তারা এসব করপোরেট অফিসের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করত। তথ্য সংগ্রহ শেষ হয়ে গেলে চক্রের বাকি তিন সদস্যদের একত্রিত করে চুরির পরিকল্পনা করত।'

১৫ বছরে ২০০টি অফিসে চুরি করে চক্রটি

তিনি বলেন, 'প্রথমে মফিজুরের উবারের গাড়ি করে চক্রটির সদস্যরা রাতের বেলায় চুরি করার জন্য নির্দিষ্ট অফিসের নিচে যেত। গাড়ি থেকে চার জন নেমে অফিসের ভেতর প্রবেশ করত আর উবার চালক মফিজুর নিচে অপেক্ষা করত। অফিসের গেইটে মো. মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রথমে নানা কৌশলে ডিজিটাল লক খোলা হত। পরে অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে প্রথমে সার্ভার বক্স ভেঙে হার্ডডিসক নষ্ট করে ফেলত তারা। যাতে করে সিসিটিভি ফুটেজ অফিস মালিকরা না পান। পরে ভেতরে নানা কৌশলে অবলম্বন করে মোটা অংকের টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে আসত। চুরির শেষ পর্যায়ে সকল মালামাল উবারের গাড়িতে উঠিয়ে নিজেদের গোপন জায়গায় নিয়ে আসত।'

তিনি আরও বলেন, 'এ চক্রটি ১৫ বছর যাবৎ দেশের বিভিন্ন এলাকার করপোরেট অফিসসহ নানা অফিসে প্রায় ২০০টির মতো চুরি সংঘটিত করেছে। এভাবে তারা কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন করপোরেট অফিস থেকে চুরি করেছে এখন পর্যন্ত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আমাদের কাছে এসব তথ্য স্বীকার করেছে। তাদের আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরই সঙ্গে তদের বিরুদ্ধে অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।'

দাবি আদায়ে অনঢ় ঢাবি শিক্ষার্থীরা

দাবি আদায়ে অনঢ় ঢাবি শিক্ষার্থীরা
অধিভুক্ত সাত কলেজ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

অধিভুক্ত সাত কলেজ বাতিলের দাবিতে অনঢ় অবস্থানে রয়েছে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২২ জুলাই) ভোর ছয়টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। যাতে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরণের কার্যক্রম।

এদিকে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন দীর্ঘদিনের এবং যৌক্তিক ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথা বলেছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563781070953.jpg

এ সময় তিনি বলেন, সাত কলেজ বাতিলের দাবিতে  শিক্ষার্থীরা অনেক দিন যাবৎ আন্দোলন করে আসছে। এই আন্দোলন শুধু গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর আন্দোলন নয়, এটা তেতাল্লিশ হাজার শিক্ষার্থীর আন্দোলন। ঢাবি প্রশাসনের সক্ষমতা নেই সাত কলেজের ভার বহন করার। তাই দ্রুত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আন্দোলনের সঙ্গে তার সম্পূর্ণ সমর্থন রয়েছেন বলেও জানান আকতার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563781085759.jpg

আন্দোলনের মুখপাত্র শাকিল মিয়া বলেন, যদিও আমাদের আন্দোলনে সবাই নেই। কিন্তু আমাদের সঙ্গে এক আকতার রয়েছে। যৌক্তিক আন্দোলনে আমরা তেতাল্লিশ হাজারের প্রতিনিধিত্ব করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

এদিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, কর্মকর্তারা হলের গেট থেকে শিক্ষার্থীদের বাধায় ফিরে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ভিসি চত্বরে জড়ো হয়ে বিভিন্ন ধরণের স্লোগান দিচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র