Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

মাত্রাতিরিক্ত দাম রাখায় শপিং কমপ্লেক্সকে লাখ টাকা জরিমানা

মাত্রাতিরিক্ত দাম রাখায় শপিং কমপ্লেক্সকে লাখ টাকা জরিমানা
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পণ্যের গায়ে ও দোকানে মূল্য তালিকা না সাঁটিয়ে মাত্রাতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির দায়ে চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্সের দোকান মালিক সমিতির সভাপতিকে লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (২৫ মে) বিকেলে শপিং কমপ্লেক্সে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কাট্টলী সার্কেলের সহকারী ভূমি কমিশনার (এসিল্যান্ড) তৌহিদুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হাসান।

তৌহিদুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, অভিযানের আগে বাজার মনিটরিংয়ের সদস্যরা ছদ্মবেশে বাজার পর্যবেক্ষণ করেন। পর্যবেক্ষণের সময় মার্কেটের অধিকাংশ দোকান ও পণ্যে মূল্য তালিকা না থাকার বিষয়টি দেখতে পান। মার্কেটের ক্রেতাদের অভিযোগ ও সদস্যদের তথ্যের ভিত্তিতে পরে বাজার মনিটরিংয়ে যাই।

তিনি আরও জানান, মার্কেটের অভিজাত দোকানগুলোতে ভারত থেকে আমদানি করা শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি পিছ, বাচ্চাদের ড্রেসের কাগজপত্রের মূল্যের সঙ্গে মালিকরা কোড আকারে অযৌক্তিক ও মাত্রাতিরিক্ত দাম রাখছে। বেশিরভাগ পোশাকের দাম আমদানি চেয়ে বেশি।

পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে দোকান মালিক সভাপতিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে সর্তক করে দেওয়া হয়।

শপিং কমপ্লেক্স ছাড়াও চট্টগ্রামের বৃহত্তম মার্কেট টেরিবাজার, আফমী প্লাজা, মিমি সুপার মার্কেট, সেন্ট্রাল প্লাজা, সানমার ওশান সিটি, আখতারুজ্জামান সেন্টার, ভি আই পি প্লাজা,লাকী প্লাজা, সিঙ্গাপুর মার্কেট, সেন্ট্রাল প্লাজায় অনিয়মের চিত্র পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অনেকক্ষেত্রে দোকান মালিক সমিতির সভাপতির নির্দেশ উপেক্ষা করে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়তি দাম রাখছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

রাজশাহীতে কমেছে ডেঙ্গু রোগী

রাজশাহীতে কমেছে ডেঙ্গু রোগী
রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীরা। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

রাজশাহীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করেছে। ঈদের আগে ও পরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হলেও নগরী ও উপজেলাগুলোর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা অনেক কম।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৭ জন।https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566458179753.jpg

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, গত ১৫ জুলাই থেকে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৫০২ জন রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৪৮৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৭ জন রোগী। আর মারা গেছেন একজন।

তিনি আরও জানান, ঈদে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা করা হলেও সেভাবে বাড়েনি। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয়ের সব রকম ব্যবস্থা রামেক হাসপাতালে ঠিকঠাক আছে। ফলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566458199468.jpg

এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মশা নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে মহানগরীতে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ স্প্রে করে মশা নিধনের কার্যক্রম জোরদার করা হলেও উপজেলাগুলোতে তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।

রাজশাহীতে দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

রাজশাহীতে দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
রাজশাহীতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ৪ অক্টোবর থেকে এই পূজা শুরু হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসেবে পূজা শুরু হতে এখনও দেড় মাস বাকি। অথচ প্রতিমা তৈরির কারিগররা এখন থেকেই দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রাজশাহী নগরীর মন্দির ও পাল বাড়িগুলো ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। আসন্ন দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে নগরীর মিয়াপাড়ার ধর্মসভা, গণকপাড়ার বৈষ্ণবসভা, ঘোড়ামারা, শেখেরচক, কুমারপাড়া ও মিয়াপাড়া এলাকায় পুরোদমে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে।

কারিগররা বলছেন- অধিকাংশ কারিগরই ৫ থেকে ২০টি প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন। দলবদ্ধভাবে এসব কাজ সম্পন্ন করবেন তারা। ফলে দেড় মাস আগে থেকেই ব্যস্ততার ছোঁয়া লেগেছে রাজশাহীর পাল বাড়িতেও।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566458066546.jpg

তারা জানান, ঐতিহ্যগতভাবে রাজশাহীর নগরীর ও আশেপাশের উপজেলার বেশ কয়েক’টি বাড়ির লোকজন বাবা-দাদাদের আমল থেকে এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। যার সংখ্যা ক্রমেই কমছে। ফলে যারা এখনও এই পেশায় টিকে আছেন, তাদের ওপর প্রতিমা তৈরির জন্য চাপ বাড়ছে। ফলে কারিগররা আগেভাগেই নেমে পড়েন কাজে। সঙ্গে রাখেন পরিবারের সদস্যদের। স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ সবাই মিলে এ কাজ সম্পন্ন করেন।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকালে নগরীর বেশ কয়েকটি মন্দিরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কাঠ-বাঁশ দিয়ে ফ্রেম তৈরি করে খড় (ধানের আউড়) দিয়ে সাজিয়ে কাঁদা-মাটি লাগানো হচ্ছে। কারও কারও প্রতিমা রূপ এসেছে। কারওটার আবার শুধুই কাঠামো দেখা যাচ্ছে। বাকি পড়ে আছে পোশাক ও গয়না পরানো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566458082597.jpg

২৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন নগরীর কুমারপাড়ার সুধীর পাল। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, হাতে এখনও এক মাসেরও বেশি সময় আছে। তবে প্রতিমা তৈরির প্রক্রিয়াটাই এমন যে, আপনাকে সময় নিয়ে কাজ করতে হবে। একদিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করে আপনার কোনো লাভ হবে না। বরং টানা ১৫ থেকে ২০ দিনে প্রত্যেক দিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা কাজ করলে প্রতিমার রূপ সুন্দর হবে।

তিনি বলেন, ‘ভাদ্র মাস শুরু হয়েছে, অথচ এখন রাজশাহীতে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। হঠাৎ আকাশে মেঘ করে বৃষ্টি আসলে বাইরে থেকে প্রতিমা ঘরে তুলতে হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম দুটো যাচ্ছে।’

নগরীর আলুপট্টির কুমারপাড়া এলাকার প্রতিমা কারিগর গণেষ চন্দ্র পাল বলেন, ‘আমি আরও এক মাস আগেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছি। এবছর এখনও পর্যন্ত ২০টি প্রতিমা তৈরির অর্ডার পেয়েছি। সবগুলোর কাঠামো তৈরি করে মাটি লাগিয়ে রূপ আনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ফিনিশিং শুরু করবো। আশা করি- পূজা শুরুর এক সপ্তাহ আগে ডেলিভারি করতে পারবো।’

এদিকে, বিগত বছরের তুলনায় এবার সবাই পারিশ্রমিক একটু বেশি নিচ্ছেন বলে জানান কারিগর এবং বিভিন্ন মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা। প্রতিমা ভেদে ২৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা মজুরিতে অর্ডার নিচ্ছেন কারিগররা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566458206187.jpg

নগরীর গণকপাড়া মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অরবিন্দ রায় বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, প্রতিমা তৈরির অর্ডার যত দেরিতে দেওয়া হয়, মজুরি ততই চড়া হয়। তাই এবার আগেভাগে প্রতিমা অর্ডার করেছি। তবে অন্যবার একই মাপের প্রতিমা তৈরিতে ৫৫ হাজার টাকা লাগলেও এবার কারিগররা চেয়েছিল ৭০ হাজার। আমরা কথাবার্তা বলে ৬২ হাজারে অর্ডার করেছি।

রাজশাহী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, রাজশাহীর জেলায় প্রায় ৫০০ মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। আর রাজশাহী মহানগরীর এলাকায় পূজা উদযাপন করা হয় প্রায় ৮০টি মন্দিরে। তবে এবার এখনও সঠিক হিসাব আমাদের হাতে আসেনি।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে- তারা যেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কারণ অনেক সময় প্রতিমা তৈরিকালে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী প্রতিমা ভেঙে ফেলার ঘটনাও ঘটিয়ে থাকে। যাতে ধর্মীয় সম্প্রতি নষ্ট হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র