Alexa

‘ধর্ম ব্যবসায়ীদের মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন কাজী নজরুল’

‘ধর্ম ব্যবসায়ীদের মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন কাজী নজরুল’

নজরুল জয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি / ছবি: বার্তা২৪

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেছেন, ‘নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস করেননি। শোষণের বিরুদ্ধে লিখে তিনি ব্রিটিশদের রোষানলে পড়ে কারাবরণ করেছেন। ধর্ম ব্যবসায়ীদের মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন। এতে কাফের নামেও অভিহিত হয়েছিলেন। তার চিন্তা ও কর্মে ছিল মানবতার মুক্তি ও শোষণের বিরুদ্ধে আহ্বান।’

শনিবার (২৫ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে নজরুল একাডেমি মাঠের নজরুল মঞ্চে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী নজরুল জয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

জাতীয় কবির কাছ থেকে বাঙালি জাতি অর্জন করেছে প্রতিবাদের ভাষা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার কারণে কবি নজরুল ইসলামকে ইংরেজ সরকারের জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। তবুও তিনি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লিখেছেন। লিখেছেন মানবতার পক্ষে। তাই নজরুল ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর বিরাগভাজন হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন। কিন্তু কোনো কিছুই জাতীয় কবিকে ভীত করে দমাতে পারেনি। আমরা তাঁর কাছ থেকে লাভ করেছি সাহস ও শৌর্য অর্জন করেছি প্রতিবাদের ভাষা। আর তাই ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং আজও আমাদের যেকোনো প্রতিবাদে নজরুল আমাদের নিত্যসঙ্গী।’

নজরুলের সঙ্গীত ও সাহিত্যকে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দীপু মনি বলেন, ‘নজরুল ইন্সটিটিউট অনেক গবেষণা করছে। নজরুল সাহিত্যকে বিশ্ববাসীর সামনে পরিচিত ও আদৃত করতে বাংলার সৃজনশীল সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে বিদেশি ভাষায় আমাদের সাহিত্যকে আরও অনুবাদ করা জরুরি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558797814098.jpg

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কাজী নজরুলের চিন্তার দারুণ মিল ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নজরুলের লেখনি থেকেই বঙ্গবন্ধু নিয়েছিলেন আমাদের মুক্তির সেই অমর স্লোগান- জয় বাংলা। তার লেখা থেকেই বঙ্গবন্ধু নিয়েছিলেন এই দেশটির নাম- বাংলাদেশ।’

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কাজী খালিদ বাবু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ মো. হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবিপৌত্রী ও কবি নজরুল ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য খিলখিল কাজী। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ নজরুল স্মারক বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

এদিকে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলেক্ষে নজরুল একাডেমি স্কুল মাঠে বসেছে গ্রামীণ মেলা। নানা স্থান থেকে মেলায় এসেছে কারুপণ্যের শত শত স্টল। এছাড়া রয়েছে বাঁশের বাঁশি, নিত্য প্রয়োজনীয় গৃহস্থালী সামগ্রী ও হরেক রকমের খাবার। রোববার (২৬ মে) ও সোমবার (২৭ মে) একই মঞ্চে নজরুলের জীবনী নিয়ে আলোচনা, গান, নৃত্য ও নাট্যানুষ্ঠান হবে।

আপনার মতামত লিখুন :