Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

শহরে প্রবেশেই মণপ্রতি আমে হাজার টাকা ব্যবধান!

শহরে প্রবেশেই মণপ্রতি আমে হাজার টাকা ব্যবধান!
আড়তে আম বিক্রির অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা / ছবি: বার্তা২৪
হাসান আদিব
স্টাফ করেসপন্ডেট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে। মহানগরী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। ভালো জাতের আম পাড়া শুরু হওয়ায় বৃহৎ আমের বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে। চোখে পড়ছে ব্যবসায়ী-আড়তদারদের ব্যাপক আনাগোনাও।

ভালো জাতের আম বলতে বানেশ্বরসহ রাজশাহীর বাজারে এখন বিক্রি হচ্ছে শুধুই গোপালভোগ। বানেশ্বর বাজারে গোপালভোগ আম মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। তবে এই একই আম রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, স্টেশন ও রেলগেট এলাকায় ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে! যা বানেশ্বর বাজারের চেয়ে মণপ্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বেশি। অর্থাৎ মাত্র ২০ কিলোমিটারের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা বেশি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/24/1558666127347.jpg

ফলে এ নিয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছেন ক্রেতারা। নগরীতে বসবাস করা অনেকেই মৌসুমী ফল আম কিনতে এসেও ফিরে যাচ্ছেন। তারা বলছেন, আড়তদার-মজুতদারদের জন্য রাজশাহীতে বাস করেও ঢাকার দরে আম কিনে খেতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ মে) দুপুরে সরেজমিন বানেশ্বর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভ্যানের চারদিকে বাঁশ দিয়ে উঁচু খাঁচা তৈরি করে তাতে আমভর্তি করে চাষিরা আম নিয়ে এসেছেন। সেখানে আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমচাষিদের দর কষাকষি চলছে। শুধু রাজশাহীর আড়তদার নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তদারদের দেখা মিললো বানেশ্বর বাজারে। এখানে মূলত পাইকারি দরে আম বিক্রি করা হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/24/1558666149874.jpg

পুঠিয়ার আমচাষি সিদ্দিকুর রহমান ও তার ছেলে আমিরুল দুই ভ্যানে করে আম নিয়ে এসেছেন। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি দেশি জাতের গুঁটি আম কাঁচা বিক্রি করে দিয়েছি। এখন গুঁটি গোপালভোগ আম নামিয়েছি। সেগুলো বাজারে নিয়ে এসেছি। ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা বিক্রি করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে অরজিনাল গোপালভোগ এখনো বাজারে সেভাবে আসেনি। যারা এনেছে, তারা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা মণ বিক্রি করছে।

তবে আরেক আম চাষি সিরাজুল ইসলাম তার গোপালভোগ আমকে আসল দাবি করে বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় গোপালভোগ বেশ বড় হয়েছে। কেজিতে ৪টা থেকে ৫টা আসছে। পরিপক্কও ভালে হয়েছে। পাড়ার একদিনেই পেকে যাচ্ছে। আমি এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে তিন মণ বিক্রি করেছি। এখন যা আছে, সেগুলো একটু ছোট। দাম কিছুটা কম হবে। ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় ছেড়ে দেব।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/24/1558666199624.jpg

এদিকে, একই দিনে দুপুরে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার ও লক্ষ্মীপুর মোড়ে ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে সর্বনিম্ন ৮০ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অর্থাৎ মণপ্রতি দাম হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ টাকা। বানেশ্বর বাজারের থেকে যা প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা বেশি।

সাহেববাজার থেকে আম কিনতে আসা রাফসানি বার্তা২৪.কমকে জানান, পেশায় তিনি একজন চাকরিজীবী। সারাদিন অফিস করে দূরে গিয়ে আম কিনে এনে খাওয়া সম্ভব নয়। তাই দ্বিগুণ দাম হলেও অফিস থেকে ফেরার পথে দুই/তিন কেজি করে কিনে নিয়ে যান তিনি।

তবে মধ্যস্বত্বভোগীদের অধিক মুনাফা লাভের আশায় ক্রেতাদের পকেট কাটার বিষয়টির দিকে প্রশাসনের সুদৃষ্টি দেওয়ার দাবি জানান ক্রেতা রাফসানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/24/1558666232519.jpg

আসলাম হোসেন, নাজনীন বেগম, তোহুরা খাতুন, সবুজসহ আর অনেক ক্রেতা তার মতোই ক্ষোভ জানিয়ে প্রশাসনের নজরদারি করার আহ্বান জানান।

দামে এত ফারাকের বিষয়ে জানতে চাইলে সাহেব বাজারের আম ব্যবসায়ী সাদেকুল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘হাটে (বানেশ্বর) পাইকারি দরে আম বিক্রি হয়। আমি কিনে আনতে পথে পথে আড়তদার, হাট ইজারাদারসহ নানা হোমড়া-চোমড়াদের টাকা দিতে হয়। যদি খুচরা বাজারে এসে তার দ্বিগুণ দামে আম না বিক্রি করি, তবে বউ-বাচ্চার আর পেটে ভাত যাবে না। পথে বসতে হবে।’

রেলগেট এলাকার আম বিক্রেতা আকতার হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বানেশ্বরে আমরা আম পাইকারি দরে কিনি, এখানে খুচরা দরে সারাদিন বসে বিক্রি করি। তাও তো হিসেবে কম দামে আমরা বিক্রি করছি। এতে আহামরি কোনো লাভ হচ্ছে না।‘

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/24/1558666409962.jpg

জানা যায়, গত ১২ মে চলতি মৌসুমের আমপাড়ার সময়সীমা বেধে দেয় জেলা প্রশাসন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- গত ১৫ মে থেকে দেশি জাতের গুঁটি আম পাড়া শুরু হয়। ২০ মে থেকে গোপালভোগ আম গাছ থেকে পাড়া শুরু করেছে চাষিরা।

আগামী ২৮ মে হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাত, ৬ জুন ল্যাংড়া, ১৬ জুন আম্রপালি, ফজলি ও সুরমা ফজলি এবং ১ জুলাই আশ্বিনা আম পাড়া যাবে। তবে রমজানে দাম ভালো না পাওয়ার শঙ্কায় অনেক চাষি এখনো আম পাড়া শুরু করেনি। ঈদের পর থেকে পুরোদামে তারা আম নামাতে শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি বছর রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হয়েছে। দুই লাখ ১৩ হাজার ৪২৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বাঘা উপজেলাতে আট হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে আমচাষ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

‘উগ্রবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় জঙ্গিরা’

‘উগ্রবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় জঙ্গিরা’
র‌্যাবের ব্রিফিং

রোববার রাতে ‘আল্লাহর দল’ নামে জঙ্গি সংগঠনের গ্রেফতার হওয়া চার সদস্যের প্রসঙ্গে র‌্যাবের মুখপাত্র এমরানুল হাসান বলেছেন, এই জঙ্গিরা সশস্ত্র সংঘাত ও নাশকতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে উৎখাত করে উগ্রবাদী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সোমবার (১৯ আগস্ট) র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ওই জঙ্গি সংগঠনের ব্যাপারে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

‘আল্লাহর দল’ নামের জঙ্গি সংগঠনটি প্রসঙ্গে এমরানুল হাসান বলেন, সংগঠনটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। জঙ্গি মতিন মেহেদী মমিনুল ইসলাম ওরফে মতিন মাহবুবের নেতৃত্বে এ সংগঠন গড়ে ওঠে। ২০০৪ সালের শেষের দিকে তিনি সংগঠনটিকে জেএমবির সঙ্গে যুক্ত করেন। পরে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার ওই সংগঠনও অংশ নেয়।

পরে জেএমবি নেতৃত্বশূন্য হয়ে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে জঙ্গি মেহেদী তার মূল সংগঠনটি নিয়ে জেএমবি ত্যাগ করেন। পরে নিজের সংগঠনকে পুনঃজাগরণের চেষ্টা করেন। মতিন মেহেদী ২০০৭ সালে গ্রেফতার হলে তাকেই আমির মান্য করে ওই সংগঠন নতুন করে পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে জঙ্গি সংগঠনের ৪ সদস্য আটক

র‌্যাব মুখপাত্র আরও জানান, বর্তমানে এই জঙ্গি সংগঠনটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইব্রাহিম আহমেদ হিরো (৪৬)। তিনি ছাড়াও রোববারের অভিযানে আটক হয়েছেন সংগঠনের আরও ৩ জঙ্গি। তারা হলেন—আব্দুল আজিজ (৫০), শফিকুল ইসলাম সুরুজ (৩৮), রশিদুল ইসলাম (২৮)।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566198890494.jpg

এমরানুল হাসান আরও জানান, স্বাভাবিক জঙ্গি সংগঠনের তুলনায় এদের অবকাঠামো বিন্যাস কিছুটা ভিন্ন। গ্রাম পর্যায়ে নায়ক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পদ ‘তারকা’ হিসেবে তারা চিহ্নিত করেছে। এদের অধিনায়ক, উপ-অধিনায়ক, অতিরিক্ত অধিনায়ক পদ রয়েছে। সংগঠনটি সশস্ত্র প্রশিক্ষণের ঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত চাকরিচ্যুত সদস্যদের যুক্ত করার চেষ্টা করে।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা বিজিবির চাকরিচ্যুত সদস্যদের দলের টানতে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা করেছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির ফলে তাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

২০০৪ সালে ৮ জন, সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা থেকে ৩ জন, ঢাকা থেকে ৪ জন, রংপুর থেকে ৩ জনসহ এ জঙ্গি সংগঠনের মোট ১৮ জন সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

অপারেশন থিয়েটারে গারো তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা!

অপারেশন থিয়েটারে গারো তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা!
আটককৃত হাসপাতাল মালিক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ময়মনসিংহ নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকায় পদ্মা জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অপরেশন থিয়েটারে গারো সম্প্রদায়ের এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) রাতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই তরুণী বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। হাসপাতালের ম্যানেজার সোহেল রানা আলম ও মালিক মজিবর রহমান বাবুলের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালটির মালিককে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সকালে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নার্স পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে রোববার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ গারো তরুণীকে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে এক তরুণীকে অপারেশন থিয়েটার দেখানোর কথা বলে দু’তলার একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ম্যানেজার সোহেল রানা আলম।

টের পেয়ে ওই সময় বাকি চার তরুণী সেখানে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরে বিষয়টি আপসে মীমাংসার চেষ্টা চালায় হাসপাতাল মালিক মজিবুর রহমান বাবুল। এরই মধ্যে পালিয়ে যায় ধর্ষণ চেষ্টাকারী সোহেল রানা আলম। অভিযোগ পাওয়ার পর রাতে ওই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে মালিক মজিবুর রহমান বাবুলকে আটক করে পুলিশ।

ওসি বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মূল আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করায় হাসপাতালের মালিককে আটক করা হয়েছে। মূল আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র