Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ১ ভাদ্র ১৪২৬

English

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ দু'জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ দু'জনের মৃত্যু
ময়মনসিংহ জেলার মানচিত্র, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ময়মনসিংহ


  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহে মাহিন্দ্রা ও সিমেন্ট বোঝাই ভ্যানগাড়ির সংঘর্ষে জিসান নামে ছয় মাসের এক শিশুসহ অজ্ঞাত (৩৫) এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাতে সদর উপজেলার চর বড়বিলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যাত্রী নিয়ে একটি মাহিন্দ্রা ময়মনসিংহ থেকে তারাকান্দার দিকে যাচ্ছিল। ওই এলাকায় গিয়ে মাহিন্দ্রাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিমেন্ট বোঝাই ভ্যানকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে মাহিন্দ্রার যাত্রী শিশু জিসান নিহত হয়।

এ ঘটনায় আহত আরও তিনজনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে অজ্ঞাত ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

২ ছেলেকে জড়িয়ে ধরে, পেছনে ফিরতেই সব পুড়ে শেষ!

২ ছেলেকে জড়িয়ে ধরে, পেছনে ফিরতেই সব পুড়ে শেষ!
শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর চেষ্টা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

'আমার ঘর থেকে অনেক দূরে আগুন লাগে। প্রথমে ভেবেছি আমার ঘর পর্যন্ত আসবে না। কিন্ত না, মুহুর্তেই আমার ঘরে আগুন ধরে যায়। দুই ছেলেকে বুকে ধরে, শখের টিভিটা নিয়ে বের হই। পিছনে ফিরতেই সব পুড়ে শেষ।'

এভাবেই বলছিলেন ঘন্টাখানেক আগে সবকিছু হারিয়ে ফেলা মুসলেমা খাতুন (৩০)।

মিরপুর ৭ নাম্বারের চলনতিকা মোড়ের পাশের একটি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩ ঘণ্টায় প্রায় ৩ হাজার ঘর পুড়ে শেষ হয়ে যায়। সেসব ঘরের মধ্যে ছোট্ট একটি কুটিরে ২ সন্তান নিয়ে বাস করতেন মুসলেমা।

আরও পড়ুন: ঘর নয়, স্বপ্ন পুড়ে গেছে মালতীর

দুই বছর আগে তার স্বামী ছেড়ে গেছে। দুইটা ছেলে আর স্বপ্ন নিয়ে জীবন যুদ্ধ করে যাচ্ছিলেন মুসলেমা।

এতদিনের জমানো টাকা পয়সা আর শেষ সম্বলগুলো মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: তিন ঘণ্টায় আগুনে পুড়ে ছাই বস্তিটি

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুসলেমা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'ছেলেদের বুকে জড়িয়ে শখের একটা টিভি নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছি। একটু সামনে গিয়ে পেছনে তাকাতেই সব পুড়ে ছাই। প্রথমে ভেবেছিলাম অনেক দূরে আগুন লেগেছে। সে আগুন আমার ঘর পর্যন্ত আসবে না। তবে শেষরক্ষা আমার হলো না।'

শুধু মুসলেমা না। এ বস্তির প্রতিটি ঘরে একজন করে মুসলেমা কাঁদছে!

সন্তান কোলে নিয়ে অনাগত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা ইয়াসমিনের

সন্তান কোলে নিয়ে অনাগত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা ইয়াসমিনের
সন্তানদের নিয়ে পথে বসে গেছেন ইয়াসমিন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কোলে তিন বছরের কন্যা সন্তান লামিয়া, পাশে বসেছে ১০ বছরের আরেক কন্যা সন্তান ফাতেমা। দাঁড়িয়ে আছেন চোখের সামনে পুড়ে যাওয়া ধ্বংস স্তূপের সামনে। ধ্বংস স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে অনাগত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বারবার শিউরে উঠছেন গার্মেন্টস কর্মী ইয়াসমিন।

আর কেনইবা হবেন না। নিজে গার্মেন্টসে চাকরি ও স্বামীর রিকশা চালানোর আয় দিয়ে তিলে তিলে যে স্বপ্নের সংসার গড়েছিলেন তা নিমেষেই আগুনে পুড়ে ছাই। এখন মাথার ওপর ছাদ হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে পথে বসতে হয়েছে ইয়াসমিনকে।

আরও পড়ুন: ঘর নয়, স্বপ্ন পুড়ে গেছে মালতীর

সর্বস্ব হারানোর বেদনা ও অনাগত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বারবার বিলাপ করে ইয়াসমিন বলছেন, এখন কই যামু। আমার দুই মাইয়ার কী হইব। চোখের সামনে সব পুড়ে শেষ হয়ল। আমাগো এহন কে বাঁচাইব।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুরের-৭ নাম্বার সেকশনের চলন্তিকা বস্তির অগ্নিকাণ্ডে নিজের ঘর পুড়ে যাওয়ার বেদনায় কথাগুলো বলছিলেন।

আরও পড়ুন: ঘর পুড়েছে, বিশ্বাস করেন না আখি

ইয়াসমিন জানান, সাত বছর আগে বিয়ে করে স্বামীকে নিয়ে এই বস্তিতে এক রুমের একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। স্বামী কালো মিয়া রিকশা চালায় আর সে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে। দুই জনের স্বল্প আয়ের টাকা দিয়ে স্বপ্নের সংসার গড়েন বস্তিতে। কিন্তু এখন আগুনে পুড়ে সব শেষ হয়ে যাওয়ায় নিজের দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত সে।

ইয়াসমিন বলেন, 'যদি জামাই বৌ হয়তাম তাহলে তেমন চিন্তা ছিল না। এহন দুই মাইয়ারে নিয়ে কই দাঁড়ামু, যামু। আমার নতুন কইরা কিভাবে সংসার পাতুম। বড় মেয়াটা স্কুলে যায় হেরেই বা কেমনে পড়ামু। দুই চোখে সামনে শুধু অন্ধকার দেখছি। আমার ঘর যখন পুড়ে যায় তহন খালি দাঁড়ায়া চিলাইছি, কিন্তু কিছু করতে পারে নাই।'

আরও পড়ুন: 'স্বাধীনতার পর এমন আগুন আর দেখিনি'

ইয়াসমিনের স্বামী কালো মিয়া বলেন, 'দুই জন মিলা অল্প টেহা আয় করি। হেন তো সব শেষ। এহন যদি সরকার আমাগো সাহায্য না করে তাইলে রাস্তায় বইসা না খায়া দুই মাইয়া লইয়া মরতে হইব।'

ইয়াসমিন ও কালোর মতো সর্বস্ব হারিয়ে ধ্বংস স্তূপের দাঁড়িয়ে এমনইভাবে আহাজারি করছেন হাজারো মানুষ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র