Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

সিভিল সার্জনকে খুশি করলেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স!

সিভিল সার্জনকে খুশি করলেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স!
ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার পরিচিতি ক্লিনিকপাড়া হিসেবে। সিপাইপাড়া থেকে ঝাউতলা পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৫০টি প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক। যার বেশির ভাগই গড়ে উঠেছে নিয়ম-নীতি ও আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে।

মালিক সমিতির অভিযোগ, আইন-কানুনেরই বালাই নেই। সিভিল সার্জনকে ‘খুশি’ করলেই ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক পরিচালনার লাইসেন্সের গ্যারান্টি শতভাগ। এ জন্যই পাড়া-মহল্লা থেকে হাট-বাজারেও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক গড়ে উঠছে।

তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এগুলো মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/23/1558627377849.jpg

বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী শাখার সভাপতি ডা. এএসএম মান্নান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘১৯৮২ সালের আইন দিয়ে চলছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলো। কিন্তু এ আইনটি বাস্তবতার সঙ্গে মিল না রেখেই করা হয়েছিল। যার কারণে মানা সম্ভব হয় না। আইন অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজন রোগীর জন্য একজন করে নার্স থাকতে হবে। প্রতি দশজন রোগীর বিপরীতে থাকবেন একজন চিকিৎসক। কিন্তু এই শর্ত আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মানা হয় না। সম্ভবও নয়।’

১৯৭৮ সাল থেকে ক্লিনিক ব্যবসায় জড়িত ডা. মান্নান বলছেন, পাড়া-মহল্লা থেকে হাট-বাজারে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার দায় সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন অফিসেরই। কারণ তারা লাইসেন্স দেয়। আর লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে তারা পরিদর্শনে আসেন। এসময় কেউ শর্ত বা আইন মানলো কি না তা মূখ্য বিষয় থাকে না। সিভিল সার্জনকে ‘খুশি’ করতে পারলেই লাইসেন্সের গ্যারান্টি শতভাগ।

অভিযোগ নিয়ে বুধবার (২২ মে) ও বৃহস্পতিবার (২৩ মে) কয়েক দফা কার্যালয়ে গেলেও রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমানের দেখা মেলেনি। তার কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. বার্নাবাস হাসদাক জানান, সিভিল সার্জন মিটিংয়ের জন্য বাইরে আছেন।

রাজশাহী নগরীতে বৈধ ও অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিভিল সার্জন ছাড়া এসব তথ্য দেওয়া যাবে না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/23/1558627410343.jpg

এদিকে, এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক নিয়মিত তদারিক জন্য নেই কোনো ব্যবস্থা। গত মঙ্গলবার (২১ মে) ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়ছে নানা অনিয়মও।

অভিযান পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রনী খাতুন জানান, লাইসেন্স না থাকায় এইড প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও সাদ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের ৫৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।

অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে তিনি।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে থাকা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আলম ইফতেখার বেলায়েত বলেছেন, ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলো মনিটরিংয়ে গঠন করা হয়েছে কমিটি। এই কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখবে কারা আইন মানছে বা মানছে না। এরপরই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর দিবস উদযাপন

জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর দিবস উদযাপন
প্রতীকী স্বাক্ষর করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রানসিস্কোতে ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন স্বাক্ষরিত হয় জাতিসংঘ সনদ। দিনটি স্মরণে এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের পঁচাত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে বুধবার (২৬ জুন) এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।

সনদ স্বাক্ষরের দিনটির প্রতি সম্মান জানিয়ে অনুষ্ঠানে প্রতীকী স্বাক্ষর করেন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের পক্ষে প্রতীকী স্বাক্ষর
করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

প্রতীকী স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে জাতিসংঘের ছয়টি দাফতরিক ভাষায় জাতিসংঘ সনদের মুখবন্ধ সম্বলিত একটি পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানটিতে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সনদ স্বাক্ষরের সেই ঐতিহাসিক দিনের (১৯৪৫ সালের ২৬ জুন) তথ্য সম্বলিত একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানটিতে বক্তব্য দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতি মিস মারিয়া ফার্নান্দে এসপিনোসা গার্সেজ এবং জাতিসংঘের পঁচাত্তর বছর পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপনের বিশেষ উপদেষ্টা ফ্যাবরিজিও হচ্চাইল্ড ড্রামমন্ড।

a
বক্তব্য রাখছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতি মিস মারিয়া ফার্নান্দে এসপিনোসা গার্সেজ, ছবি: সংগৃহীত

 

জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরের দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে সাধারণ পরিষদ সভাপতি বলেন, ‘‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজও আমরা সান ফ্রানসিস্কোর সেই দিনটির শক্তিকে অনুভব করতে পারি। আজ আমরা এখানে প্রতীকী স্বাক্ষর করলাম। এজেন্ডা ২০৩০ এবং প্যারিস চুক্তিসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করা অন্যান্য চুক্তি ও কনভেনশন যেমন অভিবাসন, সমুদ্র সম্পদ ও আইন, খাদ্য নিরাপত্তা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, স্বাস্থ্য অথবা নারীর ক্ষমতায়ন
ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের প্রতিজ্ঞাগুলো অটুট রাখতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের সপ্তাহেও আমরা দূরদর্শী ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেব।”

বহুপক্ষবাদ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী বছর জাতিসংঘের পঁচাত্তর বছর পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপনে এগিয়ে আসতে সদস্য দেশেগুলোর প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

 

যে কারণে খুন করা হয় রিফাতকে

যে কারণে খুন করা হয় রিফাতকে
বাঁয়ে রিফাত শরীফ, ডানে ঘাতক নয়ন, ছবি: সংগৃহীত

বরগুনায় দিনদুপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি বুধবার (২৬ জুন) দেশব্যাপী আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়েছে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও চিত্র। ভিডিওতে দেখা যায় যায়, সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজি নামে দুই যুবক ধারালো দা দিয়ে শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফ (২৫) নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছেন। আর রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। বার বার চেষ্টা করেও সন্ত্রাসীদের ঠেকাতে পারেননি মিন্নি।

আরও পড়ুন: ঘাতক নয়নকে আটকাতে বরগুনার মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট

নিহত রিফাত বরগুনার সদর উপজেলার ৬ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের দুলাল শরীফের ছেলে।

নিহতের স্বজনরা জানান, দুই মাস আগে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে হয়। পরে মিন্নিকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন বরগুনা পৌরসভার ধানসিঁড়ি এলাকার আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে নয়ন। এ নিয়ে রিফাত ও নয়নের মধ্যে একাধিকবার ঝগড়া হয়। পরে মিন্নির ফেসবুক আইডি হ্যাক করে বেশ কিছু ছবি দিয়ে অপত্তিকর পোস্ট দেন নয়ন। এনিয়ে রিফাতের সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয় নয়নের। বুধবার দুপুরে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে মিন্নি ও রিফাতকে পেয়ে নয়ন ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা রিফাতকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রিফাত।

আরও পড়ুন: আপ্রাণ চেষ্টা করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মাদ হোসেন জানান, নয়ন ও তার সহযোগীদের ধরতে সদর থানা পুলিশ, গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা মাঠে রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র