Alexa

প্রচারণার অভাবে টিকিট প্রাপ্তির স্থান জানা নেই যাত্রীদের

প্রচারণার অভাবে টিকিট প্রাপ্তির স্থান জানা নেই যাত্রীদের

ট্রেনের টিকিটের জন্য কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড়, ছবি: সুমন শেখ

ঈদ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো রাজধানীর পাঁচটি স্থান থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট দেওয়া হচ্ছে। টিকিট পেতে স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, রাতভর অপেক্ষা ও মানুষের ভোগান্তি কমাতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়। তবে রেল মন্ত্রণালয়ের এই মহৎ উদ্যোগ কোন কাজেই আসেনি। উল্টো আরও ভোগান্তির শিকার হয়েছে অধিকাংশ টিকিট প্রত্যাশী যাত্রীরা।

বুধবার (২২ মে) সকাল থেকে কমলাপুর রেলওয়ে ঘুরে দেখা যায়, টিকিট প্রাপ্তির সঠিক স্টেশন জানা না থাকায় ভোগান্তির স্বীকার হয়েছেন যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটের জন্য রাতভর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন অপেক্ষা করেন টিকিট প্রত্যাশী যাত্রীরা। কিন্তু সকালবেলা শুনতে পান এখানে এই রুটের টিকিট দেওয়া হবে না। এতে হতাশ হয়ে ফিরে যান অনেকে। ঠিক তেমনি বনানীতে পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনের টিকিট না পেয়ে ১০টার সময় কমলাপুর এসে লম্বা লাইনের পেছনে দাঁড়িয়েছেন দু-চারজন।

প্রচারণার অভাবে টিকিট প্রাপ্তির স্থান জানা নেই যাত্রীদের

এমন ভোগান্তির শিকার মিতু বেগম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'সকাল ৫ টার দিকে বনানী গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছি। যখন টিকিট দেওয়া শুরু হয়েছে তখন জানতে পেরেছি, এই জায়গা থেকে ময়মনসিংহ-জামালপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। এটার জন্য অন্য স্টেশনে যেতে হবে। ভাবলাম এটা কমলাপুর পাওয়া যাবে। এখানে এসে শুনি, তেজগাঁও স্টেশন থেকেই পাওয়া যাবে। তাছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না।'

একই ভোগান্তির স্বীকার আতিকুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'বনানী থেকে ঘুরে এলাম। ভুল করে ওখানে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। কোথাও কোনো প্রচারণা নেই। কিভাবে বুঝবো কোথায় থেকে টিকিট পাওয়া যাবে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/22/1558541045666.jpg

টিকিট প্রত্যাশী আব্দুল জাব্বার বলেন, 'সরকারের উদ্যোগ ভালোই, কিন্তু এই ভালো করতে গিয়ে আরও খারাপ হয়ে গেল। যদি শুধু সঠিক প্রচারণা কিংবা স্টেশনগুলোতে লেখা থাকতো। তাহলেই এই সমস্যায় আমরা পড়তাম না।'

এদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা স্টেশনগুলো হলো- কমলাপুর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর স্টেশন, বনানী স্টেশন, তেজগাঁও স্টেশন ও ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেলভবন) স্টেশন।

প্রচারণার অভাবে টিকিট প্রাপ্তির স্থান জানা নেই যাত্রীদের

যার মধ্যে কমলাপুর স্টেশন থেকে দেওয়া হচ্ছে সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনের টিকিট। এসব ট্রেন যমুনা সেতুর উপর দিয়ে যাবে। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে দেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম-নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট। তেজগাঁও স্টেশন থেকে দেওয়া হচ্ছে ময়মনসিংহ-জামালপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট। বনানী স্টেশন থেকে দেওয়া হচ্ছে নেত্রকোনাগামী মোহনগঞ্জ ও হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট। ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেলভবন) থেকে দেওয়া হচ্ছে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট।

অন্যদিকে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন রেলের অগ্রিম টিকিট পরিদর্শনকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে এসে, অ্যাপে টিকিট দিতে না পারা ব্যর্থতা স্বীকার করলেও প্রচারণার অভাবে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

আপনার মতামত লিখুন :