Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

বরিশালে বাস শ্রমিকদের কাছে জিম্মি যাত্রীরা

বরিশালে বাস শ্রমিকদের কাছে জিম্মি যাত্রীরা
বরিশাল রুটের একটি বাস, ছবি: বার্তা২৪.কম
আব্দুস সালাম আরিফ
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
পটুয়াখালী


  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালে বাস শ্রমিকদের কাছে জিম্মি সাধারণ যাত্রীরা। অভিযোগ আছে, শেষ গন্তব্যের আগেই যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বাস শ্রমিকরা।

গত ২০ মে দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল থেকে একটি অটোরিকশায় করে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে রাইজিং পরিবহনের শ্রমিকরা পটুয়াখালী-পটুয়াখালী বলে ডেকে যাত্রী তুলছে। গাড়ি কখন ছাড়বে- জানতে চাইলে পাশের কাউন্টার থেকে এক যুবক জানান ১টা ৫৫ মিনিটে। ভালো সিট আছে। তাড়াতাড়ি টিকিট নেন। সাথে সাথে আমি তিনটি টিকিট নিলাম।

বরিশাল থেকে ১টা ৫৮ মিনিটে পরিবহনটি পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। গাড়িতে ওঠার আগে ব্যাগগুলো বাসের বাঙ্কারে রাখলাম। তবে বাসের একটি সিট থেকে অরেকটি সিটের দূরত্ব খুবই কম। ফলে হাঁটু সোজা করে বসার উপায় নেই। বরিশাল থেকে রাইজিং পরিবহনের ঢাকা মেট্রো জ ১৪-২৭০৬ গাড়িটি ২টা ৪৭ মিনিটে লেবুখালী ফেরিঘাটের কাছাকাছি জায়গায় থামায়।

একটু পর লক্ষ্য করলাম বাসের হেলপার যাত্রীদের নামতে তাগাদা দিচ্ছেন। হেলপার জানালো, বাস আর যাবে না। পরে পটুয়াখালী কেন যাবে না- জানতে চেয়ে কয়েকজন যাত্রী প্রতিবাদ করলে বাস শ্রমিকরা জানান, বাস আর যাবে না। আপনারা অন্য বাসে চলে যান।

পরে বাস থেকে বাধ্য হয়ে নেমে ব্যাগগুলো নিয়ে হেলপারের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু করে দিলেন কয়েকজন যাত্রী। এক পর্যায়ে তিনজন যাত্রীকে ২০ টাকা করে ফেরত দিল। পরে তারা ফেরি পার হয়ে অন্য একটি বাসে উঠে গন্তব্যে পৌঁছাল।

এদিকে, পটুয়াখালী ফিরতে ফিরতে বাসের ছবি দিয়ে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিলাম। পোস্টের কমেন্টে অনেকে জানালেন, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে এই ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। এই সড়কের পথে পথে যাত্রী হাত বদল হয়। বিশেষ করে বরিশালের যাত্রীদের পটুয়াখালীর লেবুখালী ও কুয়াকাটায় নেওয়ার কথা বলে চৌরাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় কুয়াকাটার পরিবর্তে আমতলি কিংবা কলাপাড়া ব্রিজেও নামিয়ে দেয়া হয়। যদিও বরিশাল থেকে ছেড়ে আশা সব পরিবহনে বরিশাল- কুয়াকাটা লেখা থাকে। ফলে যাত্রীরা না বুঝেই পরিবহন শ্রমিকদের হাতে প্রতারিত ও লাঞ্ছিত হন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দিন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘যাত্রীদের সাথে এমন প্রতারণার বিষয়ে আমরা প্রায়ই অভিযোগ পাই। তাই এ বিষয়ে একটি সুষ্ঠু সমাধান বের করা প্রয়োজন।’

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কেউ কথা বলতে রাজি হন নি।

আপনার মতামত লিখুন :

জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর দিবস উদযাপন

জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর দিবস উদযাপন
প্রতীকী স্বাক্ষর করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রানসিস্কোতে ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন স্বাক্ষরিত হয় জাতিসংঘ সনদ। দিনটি স্মরণে এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের পঁচাত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে বুধবার (২৬ জুন) এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।

সনদ স্বাক্ষরের দিনটির প্রতি সম্মান জানিয়ে অনুষ্ঠানে প্রতীকী স্বাক্ষর করেন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের পক্ষে প্রতীকী স্বাক্ষর
করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

প্রতীকী স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে জাতিসংঘের ছয়টি দাফতরিক ভাষায় জাতিসংঘ সনদের মুখবন্ধ সম্বলিত একটি পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানটিতে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সনদ স্বাক্ষরের সেই ঐতিহাসিক দিনের (১৯৪৫ সালের ২৬ জুন) তথ্য সম্বলিত একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানটিতে বক্তব্য দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতি মিস মারিয়া ফার্নান্দে এসপিনোসা গার্সেজ এবং জাতিসংঘের পঁচাত্তর বছর পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপনের বিশেষ উপদেষ্টা ফ্যাবরিজিও হচ্চাইল্ড ড্রামমন্ড।

a
বক্তব্য রাখছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতি মিস মারিয়া ফার্নান্দে এসপিনোসা গার্সেজ, ছবি: সংগৃহীত

 

জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরের দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে সাধারণ পরিষদ সভাপতি বলেন, ‘‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজও আমরা সান ফ্রানসিস্কোর সেই দিনটির শক্তিকে অনুভব করতে পারি। আজ আমরা এখানে প্রতীকী স্বাক্ষর করলাম। এজেন্ডা ২০৩০ এবং প্যারিস চুক্তিসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করা অন্যান্য চুক্তি ও কনভেনশন যেমন অভিবাসন, সমুদ্র সম্পদ ও আইন, খাদ্য নিরাপত্তা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, স্বাস্থ্য অথবা নারীর ক্ষমতায়ন
ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের প্রতিজ্ঞাগুলো অটুট রাখতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের সপ্তাহেও আমরা দূরদর্শী ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেব।”

বহুপক্ষবাদ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী বছর জাতিসংঘের পঁচাত্তর বছর পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপনে এগিয়ে আসতে সদস্য দেশেগুলোর প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

 

যে কারণে খুন করা হয় রিফাতকে

যে কারণে খুন করা হয় রিফাতকে
বাঁয়ে রিফাত শরীফ, ডানে ঘাতক নয়ন, ছবি: সংগৃহীত

বরগুনায় দিনদুপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি বুধবার (২৬ জুন) দেশব্যাপী আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়েছে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও চিত্র। ভিডিওতে দেখা যায় যায়, সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজি নামে দুই যুবক ধারালো দা দিয়ে শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফ (২৫) নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছেন। আর রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। বার বার চেষ্টা করেও সন্ত্রাসীদের ঠেকাতে পারেননি মিন্নি।

আরও পড়ুন: ঘাতক নয়নকে আটকাতে বরগুনার মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট

নিহত রিফাত বরগুনার সদর উপজেলার ৬ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের দুলাল শরীফের ছেলে।

নিহতের স্বজনরা জানান, দুই মাস আগে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে হয়। পরে মিন্নিকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন বরগুনা পৌরসভার ধানসিঁড়ি এলাকার আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে নয়ন। এ নিয়ে রিফাত ও নয়নের মধ্যে একাধিকবার ঝগড়া হয়। পরে মিন্নির ফেসবুক আইডি হ্যাক করে বেশ কিছু ছবি দিয়ে অপত্তিকর পোস্ট দেন নয়ন। এনিয়ে রিফাতের সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয় নয়নের। বুধবার দুপুরে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে মিন্নি ও রিফাতকে পেয়ে নয়ন ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা রিফাতকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রিফাত।

আরও পড়ুন: আপ্রাণ চেষ্টা করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মাদ হোসেন জানান, নয়ন ও তার সহযোগীদের ধরতে সদর থানা পুলিশ, গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা মাঠে রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র