Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

খুলনায় ধান সংগ্রহে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা

খুলনায় ধান সংগ্রহে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা
সোনালি ধান নিয়ে কৃষকের স্বপ্ন থাকলেও সেই স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
খুলনা


  • Font increase
  • Font Decrease

কৃষি বান্ধব সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী কৃষকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে খুলনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। তবে খুলনায় সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত কৃষকরা।

মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুরে শুরু হওয়া এ ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। খুলনা মহানগরীসহ জেলার ৯টি উপজেলায় এক হাজার ৯১৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। একই সাথে মিলারদের কাছে থেকে সাড়ে ১৭ হাজার মেট্রিক টন চালও সংগ্রহ করা হবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ‘কৃষকদের ক্ষতি লাঘবে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে তাদের ব্যাংক একাউন্টে অর্থ পরিশোধ করা হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/21/1558448587821.jpg
ধান সংগ্রহ চলছে, ছবি: বার্তা২৪

 

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের তথ্য মতে, খুলনা মহানগরীসহ ৮টি উপজেলায় এক হাজার ৯১৩ মেট্রিক টন ধান, ১৬ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ১ হাজার ৪২৭ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে এ কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়বে।

সবচেয়ে বেশি ধান সংগ্রহ করা হবে জেলার কৃষি রাজধানীখ্যাত ডুমুরিয়া উপজেলায়। ডুমুরিয়ায় ধান সংগ্রহ করা হবে ৬৯ মেট্রিক টন। এছাড়া ২ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ ও ৩০৪ মেট্রিক টন আতপ চালও সংগ্রহ করা হবে উপজেলাটি থেকে।

দাকোপ উপজেলা থেকে ৬০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৪ মেট্রিক টন ধান, পাইকগাছায় ১৪৪ মেট্রিক টন ধান, ৪২ মেট্রিক টন সিদ্ধ ও ১৩২ মেট্রিক টন আতপ, তেরখাদায় ২৬০ মেট্রিক টন ধান ও ৫৮১ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, বটিয়াঘাটায় ১৪৫ মেট্রিক টন ধান, ১ হাজার ২৪২ মেট্রিক টন সিদ্ধ ও ১৮৪ মেট্রিক টন আতপ, ফুলতলায় ১৩ মেট্রিক টন ধান, ৪ হাজার ৬৪০ মেট্রিক টন সিদ্ধ ও ৭৩ মেট্রিক টন আতপ, কয়রায় ১৪৭ মেট্রিক টন ধান, ৩২৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ ও ১১৪ মেট্রিক টন আতপ, রূপসায় ২০১ মেট্রিক টন ধান, ২ হাজার ৫০১ মেট্রিক সিদ্ধ ও ৫৩৪ মেট্রিক টন আতপ এবং দিঘলিয়া উপজেলায় ১৬০ মেট্রিক টন ধান ও ৩৬৪ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হবে। মহানগরীতে সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৪ হাজার ১৫ মেট্রিক টন, আতপ ৮৬ মেট্রিক টন। এখানে ধান সংগ্রহ করা হবে ২৯ মেট্রিক টন।

তবে অভিযোগ করে কৃষকরা বলেন, ‘বেশি দামে ধান বিক্রির কথা শুনে ধান দিতে চাইলে শুরু হয় নানা ধরনের ছলচাতুরী। প্রতি এলাকায় স্থানীয় দালাল চক্র সিন্ডিকেট করে কৃষকদের কাছ থেকে ভর্তুকি কার্ড ও তালিকা হাতিয়ে নিয়ে নিজেরাই সরকারের গুদামে ধান দিচ্ছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার সাধারণ কৃষকরা।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/21/1558448629517.jpg
কৃষকের থেকে ধান কেনা হচ্ছে, ছবি: বার্তা২৪

ডুমুরিয়ার ধানচাষি আলম ঢালী বলেন, ‘কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্তে কৃষক লাভবান হবে। কিন্তু এক শ্রেণির কর্মকর্তারা অনেক সময় ভুয়া তালিকার মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে, এ বিষয়গুলোতে নজর দিতে হবে।’

রূপসা উপজেলার ধানচাষি কৃষ্ঞপদ বাছাড় বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এলাকার দালালরা আগে থেকে হাত করছে। ভর্তুকি কার্ড ও তালিকা বানিয়ে গুদামে ধান দেবে। আমরা কিছু পাবো না।’

অভিযোগের বিষয়ে খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ তানভীর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রতি কেজি ২৬ টাকা করে দাম নির্ধারণ করে খুলনায় সর্বমোট ১৯শ ১৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকৃত কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এ কারণে এবার সরাসরি তাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য প্রতিটি উপজেলায় কৃষি বিভাগ প্রকৃত কৃষকের তালিকা করেছে। কৃষকরা সরাসরি গোডাউনে গিয়ে ধান বিক্রি করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাদের পরিচয় পত্র, ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের ধান বিক্রিতে সিন্ডিকেট বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো সুযোগ থাকবে না। এজন্য আমরা সরাসরি তাদের ব্যাংক একাউন্টে ধানের মূল্য পরিশোধ করব। পাশাপাশি তালিকাভূক্ত মিলারদের কাছ থেকেও চাল সংগ্রহ চলবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর দিবস উদযাপন

জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর দিবস উদযাপন
প্রতীকী স্বাক্ষর করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রানসিস্কোতে ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন স্বাক্ষরিত হয় জাতিসংঘ সনদ। দিনটি স্মরণে এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের পঁচাত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে বুধবার (২৬ জুন) এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।

সনদ স্বাক্ষরের দিনটির প্রতি সম্মান জানিয়ে অনুষ্ঠানে প্রতীকী স্বাক্ষর করেন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের পক্ষে প্রতীকী স্বাক্ষর
করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

প্রতীকী স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে জাতিসংঘের ছয়টি দাফতরিক ভাষায় জাতিসংঘ সনদের মুখবন্ধ সম্বলিত একটি পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানটিতে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সনদ স্বাক্ষরের সেই ঐতিহাসিক দিনের (১৯৪৫ সালের ২৬ জুন) তথ্য সম্বলিত একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানটিতে বক্তব্য দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতি মিস মারিয়া ফার্নান্দে এসপিনোসা গার্সেজ এবং জাতিসংঘের পঁচাত্তর বছর পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপনের বিশেষ উপদেষ্টা ফ্যাবরিজিও হচ্চাইল্ড ড্রামমন্ড।

a
বক্তব্য রাখছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতি মিস মারিয়া ফার্নান্দে এসপিনোসা গার্সেজ, ছবি: সংগৃহীত

 

জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরের দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে সাধারণ পরিষদ সভাপতি বলেন, ‘‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজও আমরা সান ফ্রানসিস্কোর সেই দিনটির শক্তিকে অনুভব করতে পারি। আজ আমরা এখানে প্রতীকী স্বাক্ষর করলাম। এজেন্ডা ২০৩০ এবং প্যারিস চুক্তিসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করা অন্যান্য চুক্তি ও কনভেনশন যেমন অভিবাসন, সমুদ্র সম্পদ ও আইন, খাদ্য নিরাপত্তা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, স্বাস্থ্য অথবা নারীর ক্ষমতায়ন
ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের প্রতিজ্ঞাগুলো অটুট রাখতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের সপ্তাহেও আমরা দূরদর্শী ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেব।”

বহুপক্ষবাদ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী বছর জাতিসংঘের পঁচাত্তর বছর পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপনে এগিয়ে আসতে সদস্য দেশেগুলোর প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

 

যে কারণে খুন করা হয় রিফাতকে

যে কারণে খুন করা হয় রিফাতকে
বাঁয়ে রিফাত শরীফ, ডানে ঘাতক নয়ন, ছবি: সংগৃহীত

বরগুনায় দিনদুপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি বুধবার (২৬ জুন) দেশব্যাপী আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়েছে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও চিত্র। ভিডিওতে দেখা যায় যায়, সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজি নামে দুই যুবক ধারালো দা দিয়ে শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফ (২৫) নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছেন। আর রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। বার বার চেষ্টা করেও সন্ত্রাসীদের ঠেকাতে পারেননি মিন্নি।

আরও পড়ুন: ঘাতক নয়নকে আটকাতে বরগুনার মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট

নিহত রিফাত বরগুনার সদর উপজেলার ৬ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের দুলাল শরীফের ছেলে।

নিহতের স্বজনরা জানান, দুই মাস আগে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে হয়। পরে মিন্নিকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন বরগুনা পৌরসভার ধানসিঁড়ি এলাকার আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে নয়ন। এ নিয়ে রিফাত ও নয়নের মধ্যে একাধিকবার ঝগড়া হয়। পরে মিন্নির ফেসবুক আইডি হ্যাক করে বেশ কিছু ছবি দিয়ে অপত্তিকর পোস্ট দেন নয়ন। এনিয়ে রিফাতের সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয় নয়নের। বুধবার দুপুরে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে মিন্নি ও রিফাতকে পেয়ে নয়ন ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা রিফাতকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রিফাত।

আরও পড়ুন: আপ্রাণ চেষ্টা করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মাদ হোসেন জানান, নয়ন ও তার সহযোগীদের ধরতে সদর থানা পুলিশ, গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা মাঠে রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র