Alexa

নিয়মিত ইয়াবার চালান আসত এস এ পরিবহনে!

নিয়মিত ইয়াবার চালান আসত এস এ পরিবহনে!

এস এ পরিবহন, ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরাস্থ এসএ পরিবহনের অফিস থেকে এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৩। এ সময় ওই অফিসে পার্সেল রিসিভ করতে গিয়ে গ্রেফতার হন মীর কাশেম (৩১) ও মোরশেদ আলী (৩৩) নামের দুইজন।

গ্রেফতারের পর র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, এসএ পরিবহনের মাধ্যমে নিয়মিত ইয়াবা আসার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে এসএ পরিবহনের কর্মীদের মধ্যে অসাধু কেউ কেউ ইয়াবা কারবারে যুক্ত আছে বলে ধারণা করছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা।

র‌্যাবের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতার মীর কাশেম কক্সবাজার থেকে বিমানে উড়ে আসলেও প্রতি সপ্তাহেই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ইয়াবার চালান ঢাকায় আনতো সে। আর বাহন হিসেবে ব্যবহার করতো এসএ পরিবহনসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস।

এদিকে, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এসএ পরিবহনের নির্বাহী পরিচালক, উত্তরা শাখার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রোববার (১৯ মে) রাতে র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার (২০ মে) বিকালে তাদের ছেড়ে দেয় র‌্যাব।

র‍্যাব থেকে জানা যায়, এই বিপুল সংখ্যক ইয়াবা পাচারের চেষ্টায় এসএ পরিবহনের দায়িত্ব অবহেলা ও গাফেলতি রয়েছে। এসএ পরিবহনের পণ্য স্ক্যানিংয়ের কোন যন্ত্রপাতি নেই। যার ফলে অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ যে কোন ধরনের পণ্য অনায়াসে আনা-নেওয়ার মতো ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

তবে র‍্যাব এসএ পরিবহনের তিনজনের বিষয়ে সরাসরি মুখ খুলছে না।

এ বিষয়ে র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছুই বলা যাবে না। তবে তদন্তে শেষেই জানা যাবে এ ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত আছে।

এর আগে শনিবার (১৯ মে) এসএ পরিবহন থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল এমরানুল হাসান।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার (১৭ মে) এই বিপুল সংখ্যক ইয়াবা ট্যাবলেট চট্টগ্রামের একটি এসএ পরিবহনের অফিস থেকে ঢাকায় পাঠানোর জন্য পার্সেল বুকিং হয়। পরে শনিবার এগুলো ঢাকার উত্তরার এসএ পরিবহনের অফিসে পৌঁছায়। তবে এ ঘটনায় এসএ পরিবহনের যে গাফেলতি রয়েছে তা স্পষ্ট।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে র‌্যাব-৩ এর সিও বলেন, ‘মোরশেদ ও কাশেম বাংলাদেশ আনসারের খণ্ডকালীন সদস্য। তারা বছরের ৬ মাস আনসার সদস্য হিসেবে কাজ করে আর বাকি ৬ মাস বাধ্যতামূলক অবসরে থাকে। তারা চাকরির আড়ালে সারা বছরই ইয়াবা পাচারের ব্যবসা করে আসছিল। কাশেম ও মোরশেদ শুক্রবার চট্টগ্রামের একটি এসএ পরিবহনের অফিস থেকে ঢাকার উদ্দেশে ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো নিজেদের নামে পার্সেল করে। শনিবার এই চালানটি ঢাকায় পৌঁছাবে। তাই কাশেম ও মোরশেদ ওইদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে উড়োজাহাজে করে ঢাকায় আসে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাশেম ও মোরশেদকে হাতেনাতে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়।’

আপনার মতামত লিখুন :