Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ
চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজে বিনামূল্যে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ালেখা করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ এ সুযোগ করে দিয়েছে।  

২০১৯ সালে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে যেসব শিক্ষার্থী ১ হাজার ১০০ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের প্রত্যেকে এই সুযোগ পাবেন।

বিনামূল্যে অধ্যয়নের পাশাপাশি এই শিক্ষার্থীরা কলেজের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করতে পারবেন। গ্রাম অথবা শহরের যেসব শিক্ষার্থী গরিব অথচ মেধাবী তাদের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষা বৃত্তিসহ নানা উদ্যোগ নিয়ে আসছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়। গত বছর ১ হাজার ৫০ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হওয়া অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পড়াশোনা করছেন।

বিনামূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন ইমন তালুকদার। বাংলাদেশ নৌ বাহিনী স্কুল থেকে গত বছর জিপিএ-৪ দশমিক ৭৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থী জিয়াউল হক ইমন বলেন, ‘আমি এসএসসিতে ১ হাজার ১২২ নম্বর পেয়ে এখানে বিনা মূল্যে পড়াশোনা করছি। এখানে শ্রেণি কার্যক্রমে প্রতিদিন অংশ নেওয়ায় ক্ষেত্রে যেমন বাধ্যবাধকতা রয়েছে তেমনি পঠনপাঠনেও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কলেজের শিক্ষকেরা অত্যন্ত বন্ধু বৎসল এবং শিক্ষার্থী বান্ধব।’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমি চিকিৎসক হতে চাই। আমার এই উচ্চাশা তৈরি হয়েছে এ কলেজে ভর্তি হওয়ার পর।’

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ জাহেদ খান বলেন, ‘১৯৯৮ সাল থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করি। অর্থের জন্য কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে পারবে না সেটি আমি মানতে পারি না। আমি বিশ্বাস করি মেধাবী শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে দিতে প্রতিটি শিক্ষকের কাজ করা দরকার। আমি দায়বোধ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। তাই প্রতি বছর ব্যক্তিগত সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করি।’ 

ড. মোহাম্মদ জাহেদ খান বলেন, ‘আমাদের কলেজে পড়াশোনার আধুনিক পদ্ধতি রয়েছে। কলেজ থেকেই বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয়ে হ্যান্ড নোট দেওয়া হয়। এসব হ্যান্ডনোট অত্যন্ত সহজ এবং সাবলীল ভাষায় তৈরি করা হয় বলে শিক্ষার্থীরা খুব সহজে আয়ত্ত করতে পারে। এর ফলে ভালো ফলাফলও করতে পারে তারা।’

আপনার মতামত লিখুন :

যেভাবে নির্ধারিত হয় ওষুধের মেয়াদ

যেভাবে নির্ধারিত হয় ওষুধের মেয়াদ
ফার্মেসি দোকানে ওষুধ, ছবি: বার্তা২৪.কম

হঠাৎ করেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফার্মেসিগুলো থেকে সংরক্ষিত মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেরত নিয়ে আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে সঠিক নিয়মে ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ঢাকার ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয় বলে তথ্য উঠে এসেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের এক রিপোর্টে। গত ছয়মাস নিয়মিত বাজার তদারকি করে তারা এ রিপোর্ট তৈরি করে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১০০টি ফার্মেসির মধ্যে ৯৩টি ফার্মেসিতেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের এমন বক্তব্যে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। ভোক্তারাও ভাবছেন, আসলে রোগ নিরাময়ের জন্য যে ওষুধ সেবন করছেন, সেটা উল্টা ক্ষতি করছে নাতো?

আলোচনায় রয়েছে, ওষুধের মেয়াদ নির্ণয়ের প্রক্রিয়াও। কীভাবে নির্ধারিত হয় ওষুধের মেয়াদ? বার্তা২৪.কম-এর পাঠকদের জন্য ওষুধের মেয়াদ নির্ণয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে যা বলছেন ঢাবির ‍দুই শিক্ষক

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের (ঢাবি) ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি এন্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রফেসর মনিরুদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কম-কে জানান, ১৯৭৯ সালের আমেরিকার খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের একটি আইন অনুযায়ী, এই তারিখ দেওয়ার সিস্টেম চালু হয়। অর্থাৎ ওষুধ কোম্পানিগুলো, ল্যাবে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কিছু জটিল পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। যেখানে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায়-জলীয়বাষ্পে ও আলোর ভেতরে রাখাসহ অনেক পরিস্থিতিতে ওষুধগুলোকে পরীক্ষা করতে হয়। সেক্ষেত্রে আবার ওই তাপমাত্রা বা পরিস্থিতির ওষুধের অবস্থানের ডাটা সংগ্রহ করার প্রয়োজন পড়ে।

তিনি বলেন, 'এমন পরিস্থিতিতে, সময়ে সময়ে ওষুধের কার্যকারিতা দেখতে হয়। মানব শরীরে কেমন কাজ করছে ওষুধটি। তিনদিন, পাঁচদিন, একমাস, সাতমাস, একবছর, তিনবছর এইভাবে দেখতে হয়। একটা সময় এসে দেখা যায়, ওই ওষুধের গুণগত মান কমে গেছে। কমে যখন ৫০ শতাংশের পর্যায়ে আসবে তখন মার্ক করে রাখতে হয়। তবে গভীরভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে, কতদিন পর একই পরিস্থিতিতে ওষুধের কার্যকারিতা শূন্য শতাংশে নেমে আসে। যেদিন নেমে আসবে সেদিন হবে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ।'

মনিরুদ্দিন বলেন, 'মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের অর্থ হলো, এই সময়ের মধ্যে ওষুধটি সেবন করলে কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা শতভাগ থাকবে। এর পরে যদি কেউ ওই ওষুধ সেবন করেন তার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা শতভাগ পাওয়া যাবে না।'

ওষুধ নিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর পড়াশোনা করা এই প্রফেসর বলেন, 'তবে এটা ভাবার কোন দরকার নেই যে, কয়েকটি সংবেদনশীল ওষুধ ছাড়া, অন্য কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সেবন করলে কেউ মারা যাবে। তবে ওষুধের কার্যকারিতা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ অসুখ ভাল হবে না। আবার তরল জাতীয় এমন অনেক ওষুধই আছে, যা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কার্যকারিতা হারাতে পারে।'

অন্যদিকে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের দেশের বেশকিছু ওষুধ কোম্পানি আন্তর্জাতিক মানের ওই পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে পারে না। যার ফলে ওষুধের কার্যকারিতা শুরু থেকেই শতভাগ থাকে না।'

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে যা বলছেন ঢাবির ‍দুই শিক্ষক

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে যা বলছেন ঢাবির ‍দুই শিক্ষক
রাজধানীর বেশিরভাগ ফার্মেসিতেই রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, পুরনো ছবি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত অভিযানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ফার্মেসি থেকে জব্দ করা হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। আর এসব ওষুধ বিক্রির দায়ে ফার্মেসি মালিকদেরও অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এতে নড়েচড়ে বসেছে ওষুধ প্রশাসন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি এবং ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক আ.ব.ম.ফারুক বার্তা২৪.কম-কে জানিয়েছেন, ওষুধের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নিয়েও অনেক প্রশ্ন আছে। তবে এসব ওষুধ ধ্বংসের পক্ষে তারা।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়ে অধ্যাপক ড. মনিরুদ্দিন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আমরা গবেষণায় দেখেছি, ওষুধের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন আছে। অনেক ওষুধের ক্ষেত্রে মেয়াদ কোনো অর্থই বহন করে না। সম্প্রতি আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কিছু ওষুধের কার্যকারিতা মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ বছর পর্যন্ত থাকে।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রতিটি ওষুধের রাসায়নিক ধর্ম ও কার্যকারিতা সমান নয়। প্রত্যেকটি ওষুধের সক্রিয়তা ও নিজস্ব ধর্ম আছে। প্রত্যেক ওষুধ কিভাবে কাজ করবে এবং ধ্বংস হবে সেটার প্রক্রিয়া আলাদা। যেসব ওষুধের কার্যকারিতা ১৫-৩০ বছর পর্যন্ত থাকে সেসব ওষুধের ক্ষেত্রে মেয়াদ গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে সংবেদনশীল কিছু ওষুধ আছে যেগুলো নির্দিষ্ট সময়ের আগেই গ্রহণ করতে হয়। কারণ এসব ওষুধের কার্যকারিতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু দেশে আইন আছে, তাই এসব ওষুধ অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে।'

দেশে ওষুধ কোম্পানিগুলোর ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, 'অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, যদি কিছু ওষুধের কার্যকারিতা অনেক বছর পর্যন্ত থাকে তাহলে গায়ে মাত্র ৩-৪ বছর মেয়াদ লেখা থাকে কেন? হতে পারে, ওষুধের পরিপূর্ণ কার্যকারিতা লাভের নিশ্চয়তা দিতে অথবা ওষুধের কাটতি ও চাহিদা বাড়াতে এমনটা করা হতে পারে।'

ঢাবির একই বিভাগের আরেক অধ্যাপক আ.ব.ম. ফারুক বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ অনেকটা বিষাক্ত। কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খেলে যকৃত ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ওষুধ বানানোর সময় অণু তৈরি করা হয় যেগুলো যকৃত ও কিডনির জন্য ক্ষতিকর নয়। যেহেতু কোনো কিছু চিরস্থায়ী নয়। তাই মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এসব অণু শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতি করে। তবে সব ওষুধ এক নয়। কিছু ওষুধের মেয়াদ শেষে কার্যকারিতা কমে গেলও শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়।'

তিনি আরও বলেন, 'মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করতে হবে। এসব ওষুধ যাতে কেউ না খায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ কিছু ওষুধের মেয়াদ শেষ হলে সেটা যে বিষে পরিণত হয় তা অনেকে জানেন না।'

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি 'বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে প্রশাসন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র