Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

চট্টগ্রামে দীর্ঘ যানজটের কবলে যাত্রীরা

চট্টগ্রামে দীর্ঘ যানজটের কবলে যাত্রীরা
চট্টগ্রাম নগরীর দুই নম্বর গেইটের তীব্র যানজট। ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
চট্টগ্রাম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদ ঘনিয়ে আসতেই চট্টগ্রামের প্রধান প্রধান সড়কে পথচারী ও যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে অসহনীয় দুর্ভোগ। প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার যানজটের রেশ ছড়িয়ে পড়ে উপসড়কগুলোতে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে রাস্তায় এবং পরিবহনে ইফতার সারতে হচ্ছে রোজাদারদের। তবে সংকট কমিয়ে আনতে যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সহায়তা চেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রোববার (১৯ মে) বিকেলে নগরীর অক্সিজেন, মুরাদপুর, ষোলশহর, দুই নম্বর গেইট, কোতোয়ালিসহ বেশ কয়েকটি সড়ক ঘুরে যানজটের এমন চিত্র চোখে পড়ে। দীর্ঘ যানজট সামলাতে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশকে বেগ পোহাতে হচ্ছে।

নুরুল হক নামে এক ব্যবসায়ী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ইফতার করার জন্য দোকানপাট বন্ধ করে বাসায় রওনা দিয়েছি। কিন্তু রাস্তায় প্রচণ্ড যানজট রয়েছে। আর এই যানজটের কারণে পরিবহন চালকরাও যেতে চায় না। অনেক সময় যেটা পাই, তাও আবার বাড়তি ভাড়ায় চলে।’

মূলত ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করতে নগরীর অভিজাত শপিং মল, নিউ মার্কেট, জহুর হকার্স মার্কেট, রিয়াজ উদ্দিন, তামাকমুণ্ডি লেইনে বাড়তি মানুষের সমাগম ঘটে। তাই ওই রুটে মার্কেটকে ঘিরে আশপাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজট লেগে থাকে। যানজট এড়াতে উপায় না পেয়ে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে হয় পথচারীদের। এছাড়া এই যানজটে পরিবার নিয়ে শপিং করতে আসা ক্রেতাদেরও দুর্ভোগের সীমা থাকে না।

তমালিকা খন্দকার নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কী আর শপিং করব? আগ্রাবাদ থেকে নিউ মার্কেট মোড়ে আসতে দুই ঘণ্টা গাড়িতে বসে থাকতে হয়েছে। যে যেভাবে পারছে রাস্তা, ফুটপাত দখল করে গাড়ি পার্কিং করে রেখেছে। এ বিষয়ে পুলিশের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।’

তবে যানজট নিরসনে পথচারী, পরিবহন চালক ও যাত্রীদের সহায়তা চেয়েছেন নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হারুনুর রশিদ হাজারী। তিনি বার্তা২৪.কমকে জানান, সবাই এক সঙ্গে কর্মস্থল শেষে বের হওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয়। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করতে মানুষজন বিভিন্ন মার্কেটে যায়। এতেও যানজটের সৃষ্টি হয়।

যানজট কমিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক ট্রাফিকের বিষয়টি মনিটরিং করছি। যেসব এলাকায় বেশি যানজট হয়, সেখানে আরও পুলিশ সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা করব। পুলিশের একার পক্ষে এটি সমাধান করা সম্ভব নয়, সবাইকে আরও সচেতন হয়ে এগিয়ে আসলে যানজটের মাত্রা কমে আসবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

ধানের বীজ কেনাবেচা নিয়ে দ্বন্দ্ব, কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

ধানের বীজ কেনাবেচা নিয়ে দ্বন্দ্ব, কৃষককে কুপিয়ে হত্যা
ছবি: প্রতীকী

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ধানের বীজ কেনাবেচা নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে সোহেল রানা (৩০) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের জামিরা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সোহেল জামিরা গ্রামের আনসার আলীর ছেলে। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত ওই কৃষকের বাবা আনাসার আলী বাদী হয়ে সোমবার (১৯ আগস্ট) সকালে বেলপুকুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রাজশাহীর বেলপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, রোববার সন্ধ্যায় ধানের বীজ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাইফুল ইসলামের সঙ্গে সোহেল রানার কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরেই ওইদিন রাতে বাড়ি ফেরার পথে সোহেল রানাকে একা পেয়ে সাইফুল ইসলাম ও তার লোকজন মিলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।

পরে সোহেল রানার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের ফারুক হোসেন ও রাজিউল ইসলাম নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদেরকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

থাই পেয়ারার সঙ্গে মিশ্র ফল চাষে লাভবান আব্দুল লতিফ

থাই পেয়ারার সঙ্গে মিশ্র ফল চাষে লাভবান আব্দুল লতিফ
নিজের তৈরি পেয়ারার বাগানে আব্দুল লতিফ/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের শিবরাম গ্রাম। সেই গ্রামের হতদরিদ্র আব্দুল লতিফ চাষাবাদের মাধ্যমে ভাগ্যকে জয় করে নিয়েছেন। প্রথমে থাই পেয়ারা দিয়ে শুরু করলেও এখন রয়েছে তার মাল্টা, কমলা, থাই কুল, লিচুসহ বিভিন্ন ফলের বাগান। আব্দুল লতিফকে দেখে তার গ্রামের অনেকেই গড়ে তুলছেন থাই পেয়ারার সাথে মিশ্র ফলের বাগান।

সোমবার (১৯ আগস্ট) বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে সঙ্গে কথা হয় তার জীবন পাল্টে ফেলার গল্প নিয়ে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566201147908.jpg

লতিফ জানান, তিন বছর আগে ৪০০ থাই পেয়ারার চারা রংপুরের হর্টিকালচার নার্সারি থেকে ১২ হাজার টাকা দিয়ে কিনে এনে তার নিজের বসতভিটার ৬০ শতক জমিতে বাগান করেন। প্রথম বছরে গাছ বড় হতে সময় লাগায় পেয়ারা ধরেনি। পরের বছর ২০১৮ সালে গাছে পেয়ারা ধরে। সে বছর ১১০ মণ পেয়ারা এক লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। চলতি বছর ২০১৯ সালে ২২০ মণ পেয়ারা ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

লতিফ এখন পেয়ারা বাগানের পাশাপাশি গড়ে তুলছেন মাল্টা, কমলা, থাই কুল, লিচুসহ বিভিন্ন ফলের মিশ্র বাগান। তাকে অনুসরণ করে ঐ এলাকার অনেকেই এগিয়ে আসছেন ফল চাষে।

পেয়ারা চাষি আব্দুল লতিফ আরও জানান, তার বাগানে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে নিজের তৈরি ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করেন। তাই ফলন যেমন ভালো হয় তেমনি সুস্বাদু হওয়ায় তার বাগানে উৎপাদিত পেয়ারার বেশ চাহিদা বাজারে রয়েছে বলে তিনি জানান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566201169008.jpg

তিনি আরও জানান, আমি পেয়ারা চাষে সফলতা পেয়েছি। যদি কোনও কৃষক পেয়ারা চাষে উৎসাহিত হয়ে আমার কাছে আসে তাহলে আমি তাকে সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করব।

আব্দুল লতিফকে অনুসরণকারী কে এম রমজান আলী ও রফিকুল ইসলাম জানান, সবজি জাতীয় ফসলের চেয়ে কম খরচে থাই পেয়ারা চাষ করা যায়। এতে বেশি লাভ হওয়ায় পেয়ারার বাগান আমরাও তৈরি করছি।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, কুড়িগ্রামের মাটি থাই পেয়ারাসহ মিশ্র ফল চাষের উপযোগী হওয়ায় কৃষি বিভাগ থাই পেয়ারার পাশাপাশি মিশ্র ফল বাগান তৈরি করতে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র