Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণ কাজ ৩৬ শতাংশ সম্পন্ন

কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণ কাজ ৩৬ শতাংশ সম্পন্ন
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু টানেল/ ছবি: বার্তা২৪.কম
আবদুস সাত্তার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
চট্টগ্রাম


  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে পতেঙ্গা ও আনোয়ারাকে সংযুক্ত করতে যাওয়া ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ৩৬ শতাংশ এগিয়েছে। নদীর তলদেশে বোরিংয়ে কাজ হয়েছে ১৫০ মিটার। মূলত চট্টগ্রামের পতেঙ্গা অংশে মাটির নিচে দৃশ্যমান হচ্ছে সুরঙ্গপথ।

এর আগে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করা হয়েছে। পতেঙ্গা ও আনোয়ারায় ভূমির মালিকদের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানলের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রাম শহর থেকে চাপ কমাতে 'ওয়ান সিটি টু টাউন' করার প্রত্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এ টানেল। ফলে চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিণাঞ্চল আনোয়ারা উপজেলায় শহর গড়ে তোলা হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/18/1558174076533.jpg

জানা গেছে, তিন দশমিক চার কিলোমিটার দীর্ঘ ও চার লেনের টানেল নির্মাণে বর্তমানে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে চীন। বাকি টাকা বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করছে।

টানেল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দ্রুত গতিতে চলছে বোরিং মেশিন (টিবিএম) স্থাপনের কাজ। পতেঙ্গা অংশে মাটির নিচে ১৫০ মিটার দেখা যাচ্ছে সুরঙ্গ। কাজের সুবিধার্থে পতেঙ্গা প্রান্তে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে নির্মাণ কাজ করছে চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি)। বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/18/1558174099401.jpg

প্রকল্প কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে কর্ণফুলী টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'প্রকল্পের কাজ ৩৬ শতাংশ শেষ হয়েছে, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সাল পর্যন্ত। চার বছর মেয়াদের কাজ দ্রুত এগুনো যাচ্ছে না। ধীরে ধীরে কাজ করতে হচ্ছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে।'

২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে ঋণ চুক্তি সই হয়। ঐ সময় শি জিনপিং ও শেখ হাসিনা যৌথভাবে কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/18/1558174121161.jpg

প্রথমদিকে এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় আট হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ধরা হলেও দেরিতে কাজ শুরু হওয়ায় ব্যয় এক হাজার ৪৩৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বেড়েছে। নির্মাণ ব্যয়ের বাইরে টানেলের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন বাবদ দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। টানেল নির্মাণকালীন চার বছরে সুদ বাবদ আরও ৪২৯ কোটি টাকা লাগবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের চিত্র বদলে যাবে। গড়ে উঠবে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের নিরবিচ্ছিন্ন ও যুগোপযোগী সড়ক যোগাযোগ। সংযোগ স্থাপন হবে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে। যুক্ত করা হবে কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীর ঘেঁষে গড়ে উঠা শহরের সঙ্গে ডাউন টাউনকে। দুই টিউব সম্বলিত টানেলটির মোট দৈর্ঘ্য পতেঙ্গা ও কর্ণফুলী প্রান্তের পাঁচ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ও ৭২৭ মিটার ওভার ব্রিজসহ ৯ দশমিক ২৭ কিলোমিটার।

আপনার মতামত লিখুন :

‘উগ্রবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় জঙ্গিরা’

‘উগ্রবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় জঙ্গিরা’
র‌্যাবের ব্রিফিং

রোববার রাতে ‘আল্লাহর দল’ নামে জঙ্গি সংগঠনের গ্রেফতার হওয়া চার সদস্যের প্রসঙ্গে র‌্যাবের মুখপাত্র এমরানুল হাসান বলেছেন, এই জঙ্গিরা সশস্ত্র সংঘাত ও নাশকতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে উৎখাত করে উগ্রবাদী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সোমবার (১৯ আগস্ট) র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ওই জঙ্গি সংগঠনের ব্যাপারে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

‘আল্লাহর দল’ নামের জঙ্গি সংগঠনটি প্রসঙ্গে এমরানুল হাসান বলেন, সংগঠনটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। জঙ্গি মতিন মেহেদী মমিনুল ইসলাম ওরফে মতিন মাহবুবের নেতৃত্বে এ সংগঠন গড়ে ওঠে। ২০০৪ সালের শেষের দিকে তিনি সংগঠনটিকে জেএমবির সঙ্গে যুক্ত করেন। পরে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার ওই সংগঠনও অংশ নেয়।

পরে জেএমবি নেতৃত্বশূন্য হয়ে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে জঙ্গি মেহেদী তার মূল সংগঠনটি নিয়ে জেএমবি ত্যাগ করেন। পরে নিজের সংগঠনকে পুনঃজাগরণের চেষ্টা করেন। মতিন মেহেদী ২০০৭ সালে গ্রেফতার হলে তাকেই আমির মান্য করে ওই সংগঠন নতুন করে পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে জঙ্গি সংগঠনের ৪ সদস্য আটক

র‌্যাব মুখপাত্র আরও জানান, বর্তমানে এই জঙ্গি সংগঠনটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইব্রাহিম আহমেদ হিরো (৪৬)। তিনি ছাড়াও রোববারের অভিযানে আটক হয়েছেন সংগঠনের আরও ৩ জঙ্গি। তারা হলেন—আব্দুল আজিজ (৫০), শফিকুল ইসলাম সুরুজ (৩৮), রশিদুল ইসলাম (২৮)।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566198890494.jpg

এমরানুল হাসান আরও জানান, স্বাভাবিক জঙ্গি সংগঠনের তুলনায় এদের অবকাঠামো বিন্যাস কিছুটা ভিন্ন। গ্রাম পর্যায়ে নায়ক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পদ ‘তারকা’ হিসেবে তারা চিহ্নিত করেছে। এদের অধিনায়ক, উপ-অধিনায়ক, অতিরিক্ত অধিনায়ক পদ রয়েছে। সংগঠনটি সশস্ত্র প্রশিক্ষণের ঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত চাকরিচ্যুত সদস্যদের যুক্ত করার চেষ্টা করে।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা বিজিবির চাকরিচ্যুত সদস্যদের দলের টানতে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা করেছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির ফলে তাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

২০০৪ সালে ৮ জন, সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা থেকে ৩ জন, ঢাকা থেকে ৪ জন, রংপুর থেকে ৩ জনসহ এ জঙ্গি সংগঠনের মোট ১৮ জন সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

অপারেশন থিয়েটারে গারো তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা!

অপারেশন থিয়েটারে গারো তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা!
আটককৃত হাসপাতাল মালিক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ময়মনসিংহ নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকায় পদ্মা জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অপরেশন থিয়েটারে গারো সম্প্রদায়ের এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) রাতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই তরুণী বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। হাসপাতালের ম্যানেজার সোহেল রানা আলম ও মালিক মজিবর রহমান বাবুলের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালটির মালিককে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সকালে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নার্স পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে রোববার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ গারো তরুণীকে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে এক তরুণীকে অপারেশন থিয়েটার দেখানোর কথা বলে দু’তলার একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ম্যানেজার সোহেল রানা আলম।

টের পেয়ে ওই সময় বাকি চার তরুণী সেখানে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরে বিষয়টি আপসে মীমাংসার চেষ্টা চালায় হাসপাতাল মালিক মজিবুর রহমান বাবুল। এরই মধ্যে পালিয়ে যায় ধর্ষণ চেষ্টাকারী সোহেল রানা আলম। অভিযোগ পাওয়ার পর রাতে ওই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে মালিক মজিবুর রহমান বাবুলকে আটক করে পুলিশ।

ওসি বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মূল আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করায় হাসপাতালের মালিককে আটক করা হয়েছে। মূল আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র