Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

উচ্চ বেতনের প্রলোভনে ইউরোপে নেয় দালাল চক্র

উচ্চ বেতনের প্রলোভনে ইউরোপে নেয় দালাল চক্র
ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

স্বল্প আয়ের মানুষদের অল্প খরচে উন্নত দেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করে আসছে মানব পাচারকারী চক্রের কয়েকটি এজেন্সি। যাদের এজেন্টরা প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে ঘুরে, উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে আট লাখ টাকায় ইউরোপে পাঠানোর নামে প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করছে।

অবৈধভাবে ইউরোপে প্রেরণকালে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় দালাল চক্রের গ্রেফতার তিন সদস্য সম্পর্কে শুক্রবার (১৭ মে) বর্ণনা দিতে গিয়ে এসব তথ্য দেন র‍্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, 'এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত তিন মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে উচ্চ বেতনে বিদেশে কর্মসংস্থানের লোভ দেখিয়ে, দীর্ঘদিন যাবত এ ধরনের অপরাধ করে আসছে। চক্রটি বিদেশি যোগসাজশে অবৈধভাবে ইউরোপে লোক পাঠানোর চেষ্টা করে আসছে।

এই মানব পাচারকারী চক্রটির বিদেশে ভ্রমণের জন্য আট লাখ টাকা করে নেয়। যার পাঁচ লাখ টাকা লিবিয়া গমনের পূর্বে এবং বাকি তিন লাখ টাকা লিবিয়া গমনের পর ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজনের নিকট থেকে নিচ্ছে।

র‍্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, 'বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পাঠানো মানব পাচারকারী এ ধরনের ৫/৬টি এজেন্সি রয়েছে। যার দুটি এজেন্সির তিন সদস্যকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।'

উচ্চ বেতনের প্রলোভনে অবৈধ রুটে ইউরোপে নেয় দালাল চক্র

তাদের বরাত দিয়ে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, 'গত (৯ মে) অবৈধভাবে ইউরোপে গমনকালে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়ায় উপকূলে নৌকাডুবিতে প্রায় ৮০/৯০ জন নিখোঁজ হয়। যার অধিকাংশ ছিল বাংলাদেশি ৩৯ জন। যার মধ্যে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই ৩৯ জন বাংলাদেশের মধ্যে, গ্রেফতার হওয়া দুই এজেন্সির তিন সদস্যের পাঠানো বাংলাদেশি ছিল।'

অন্যদিকে ইউরোপে মানব পাচারকারী চক্রের রুট সম্পর্কে র‍্যাব জানান, প্রথমে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়াতে পাঠানো হয়। এজন্য তারা তিনটি রুট ব্যবহার করে। সর্বপ্রথম বাসযোগে কলকাতা। কলকাতা বিমানবন্দর যোগে দিল্লিতে। দিল্লি থেকে শ্রীলঙ্কায় প্রেরণ করা হয়।

ভিকটিমরা শ্রীলঙ্কায় এজেন্টদের তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করেন। তারপর বিমানযোগে ইস্তাম্বুল তুরস্কের ট্রানজিট হয়ে ত্রিপলি লিবিয়া পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

র‍্যাব জানান, ভিকটিমরা ত্রিপলিতে পৌঁছানোর পর, সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি কথিত 'গুড লাক ভাই' সহ আরও কয়েকজন এজেন্ট তাদের গ্রহণ করে থাকে। ত্রিপলিতে আরও কয়েকদিন অবস্থানের পর ভিকটিমদের আত্মীয়-স্বজন হতে বাকি অর্থ আদায় করে সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রেরণ করা হয়।

আর এভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ পথে গমনকালে ভিকটিমরা ভূমধ্যসাগরের মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হয়।

এর আগে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে, মানব পাচারকারী চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, এনামুল হক তালুকদার, মোহাম্মদ আক্কাস মাতুব্বর, আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া।

আপনার মতামত লিখুন :

ঢাকায় কাঁচা মরিচের দাম চড়া

ঢাকায় কাঁচা মরিচের দাম চড়া
শুক্রবার কারওয়ান বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় ১৫০-১৬০ টাকা কেজি/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার প্রভাবে রাজধানী ঢাকার কাঁচা বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। আর অতিরিক্ত হারে বেড়েছে কাঁচা মারিচের দাম। কাঁচা মরিচ কিনতে এসে চরম বিপাকে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়।

ক্রেতারা বলছেন, কাঁচা মরিচের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, বন্যার কারণে ঢাকায় কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563531518103.gif

মহানগর প্রজেক্টের বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘কাঁচা মরিচের দাম প্রতিদিনই বেড়ে চলছে। এক দুই দিনের ব্যবধানে মরিচের দাম বেড়ে গেল।’

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের তরকারি বিক্রেতা সোলায়মান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘কাঁচা মরিচের সরবরাহ তুলনামূলক অনেক কম। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকলে দাম বেশি হবে স্বাভাবিক।’

খাদ্যে ভেজাল রোধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি

খাদ্যে ভেজাল রোধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

পাস্তুরিত ও খোলা দুধ এবং খাদ্যে ভেজালকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। এ বিষয়ে মৃত্যুদণ্ডের আইন কার্যকর করতে হবে। তাহলেই খাদ্যে ভেজাল দেওয়া বন্ধ হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবে এ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এমন মত দেন বক্তারা।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে ‘খাদ্যে ভেজাল, নকল ওষুধ প্রস্তুত ও আমাদের দায়’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে চ্যারিটি মানবকল্যাণ সোসাইটি অব বাংলাদেশ।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, 'সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে প্রফেসর আ ব ম ফারুক, তিনি যে ঝুঁকিটা নিলেন, এরপর এই পাস্তুরিত দুধের কারবারিরা বললো- এগুলো (গবেষণা) ঠিক না। পরে রিসার্চে দেখা গেলো- ১৮টি পণ্যের মধ্যে ১১টিতে অতিরিক্ত লেড পাওয়া গেছে। তাহলে কী হলো? ওই ভদ্রলোককে তো হুমকি দেওয়া হয়েছিল।’

‘বিএসটিআইয়ের যে কর্মকর্তা আ ব ম ফারুকের রিসার্চকে কটাক্ষ করেছিলেন তাকে শাস্তি দেওয়া উচিৎ। একই সাথে পাস্তুরিত দুধের কোম্পানিগুলো এবং যারা খাদ্যে টেক্সটাইলের রং ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ভেজালের জন্য মৃত্যুদণ্ডের আইন আছে, তাহলে সেটা কার্যকর করা হোক। আমি আরও একটু বাড়িয়ে বলব- সেই মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে দেওয়া হোক।'

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেন, বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিটিউট, বিসিএসআইআর, প্লাজমা প্লাস, ওয়াফেন রিসার্চ, পরমাণু শক্তি কমিশন ও আইসিডিডিআর’বি ল্যাবে পাস্তুরিত দুধ, খোলা দুধ ও গোখাদ্য পরীক্ষা করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সে পরীক্ষায় বিএসটিআই অনুমোদিত ১৪টি কোম্পানির মধ্যে ১১টি পাস্তুরিত দুধে সিসা পাওয়া গেছে। কোম্পানিগুলো হল- মিল্কভিটা, ডেইরি ফ্রেশ, ইগলু, ফার্মফ্রেশ, আফতাব মিল্ক, আল্ট্রা মিল্ক, আড়ং ডেইরি, প্রাণ মিল্ক, আয়রন, পিউরা ও সেইফ মিল্ক।

‘১৮ কোটি মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। খাদ্যে ভেজাল ও নকল ওষুধ প্রস্তুতিকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে।’

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সাজেদা হক বলেন, এক সময় এসিড মারা হতো, কিন্তু তখন কঠোরভাবে শাস্তি প্রয়োগ করায় তা নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। তেমনি খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। তবেই ভেজাল রোধ করা যাবে।

অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম নুরুদ্দিন খান, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র