Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

চট্টগ্রামে বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ

চট্টগ্রামে বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ
চট্টগ্রামে আটক কিশোর গ্যাংদের একাংশ, ছবি: বার্তা২৪.কম
আবদুস সাত্তার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
চট্টগ্রাম


  • Font increase
  • Font Decrease

নগরীতে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ। সম্প্রতি সময়ে চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এ কিশোর গ্যাং। হত্যাকাণ্ড ছাড়াও মাদকদ্রব্য সেবন এবং বিক্রিতে জড়িয়ে যাচ্ছে গ্যাংস্টারদের কেউ কেউ। কিশোর গ্যাংস্টারদের অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা।

জানা গেছে, নগরীতে বেশ কিছু অপরাধের নেপথ্যে রয়েছে সম্প্রতি গজিয়ে ওঠা বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং। এসব গ্যাংয়ের প্রতিটিতে সদস্য থাকে ২০ থেকে ৩০ জন। প্রত্যেক সদস্যের পরিচিত গ্যাংস্টার হিসেবে। এসব গ্যাংস্টাররা প্রত্যেকেই ধনীর সন্তান ও নামি-দামি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। শুধু স্কুল-কলেজ নয় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও জড়িত এসব গ্যাংদের সঙ্গে। আবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের। তবে এবার রাজনৈতিক বড় ভাইদের খোঁজছে পুলিশ।

শুক্রবার (১০ মে) নগরীর পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর ফিলখানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ছুরিকাঘাতে খুন হন মোস্তাক আহমেদ (৩৫)। ছেলের সঙ্গে বখাটে কিশোরদের ঝগড়া মিটাতে গেলে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ ঘটনায় জড়িত ছিলো ১০/১৫ জনের একদল কিশোর। যাদের বয়স ১৮ বছরের কম।

মঙ্গলবার (১৪ মে) নগরী ডবলমুরিং থানার হাজিপাড়ায় রিক্সা চালক রাজু আহমেদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয় ১০/১২ জনের কিশোর গ্যাং। তাদের বড় ভাই ছগির হোসেন জেল থেকে নির্দেশ দেন মফিজ নামের একজনকে খুন করার জন্য। কিন্তু টার্গেট মিস করে কিশোররা রাজুকে খুন করে। এ কিশোররা মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। এদের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের সবার বয়স ১৮ বছরের মধ্যে।

অন্যদিকে ১৪ এপ্রিল ইয়াবা সেবনের টাকা না পেয়ে বাবা রঞ্জন বড়ুয়াকে ছুরিকাঘাতে খুন করে ছেলে রবিন বড়ুয়া। কোতোয়ালী থানার কাজির দেউড়ীর ব্যাটারী গলিতে এ ঘটনা ঘটে। বাবাকে হত্যাকারী রবিনও কিশোর বয়সের।

কিশোর গ্যাংদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র, ছবি: বার্তা২৪.কম
কিশোর গ্যাংদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র, ছবি: বার্তা২৪.কম

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম বার্তা২৪.কমকে বলেন, গ্যাংস্টারদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া রাজনৈতিক বড় ভাইয়েরা ছাড় পাবে না। যেকোনো অপরাধ সংঘঠিত হলে গ্যাংস্টারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক বড় ভাইদেরও গ্রেফতার করার জন্য ওসিদের নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি বলেন, আশংঙ্কজনকহারে বেড়ে গেছে কিশোর অপরাধ। এগুলো দমানোর জন্য রাত ৮টার পর বাইরে আড্ডায় পেলে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্যও পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গ্যাংস্টাররা নিজেদের মধ্যে গায়ে পড়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। সামান্য ঝগড়া থেকে শুরু হয় মারামারি। আর এসবে মজা খুঁজে পায় বখে যাওয়া কিশোররা। আগাম সংবাদের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রড, চাপাতি ও অস্ত্র নিয়ে জমায়েত হয় তারা। টার্গেট সামনে আসা মাত্র কৌশলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বখে যাওয়া এসব কিশোর-কিশোরীর বাবা-মা অনেকক্ষেত্রেই অসহায়। মানসম্মানের ভয়ে তারা বিষয়টি নিয়ে থানা-পুলিশ পর্যন্ত যেতে চান না।

কিশোর গ্যাংস্টারদের অভিভাবকরা সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী। অনেকে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক। তারা নিজেদের সন্তানদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। ফলে ১৪ বছর থেকে শুরু করে ১৮-২০ বছরের মধ্যেই তার হয়ে ওঠে বেপরোয়া। এসব সন্তানরা মা-বাবার স্নেহ-মমতার অভাবেও বিপথগামী হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

মিন্নির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবি মহিলা পরিষদের

মিন্নির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবি মহিলা পরিষদের
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একই সঙ্গে এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানমের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মামলায় তারই স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দ্রুত গতিতে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে রিমান্ডে নেওয়া হলো। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এসপির বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, মিন্নি জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গিয়েছে।

মিন্নি একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তী প্রশ্নের উত্তর দেননি। তাই এ বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ তদন্তসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিযুক্ত মিন্নির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে, বহু গুরুতর অপরাধ, শত খুনের আসামিদের পাশে আইনজীবীরা দাঁড়ান। নারী নির্যাতন না শুধু হত্যাকারীদের পাশেও দাঁড়ান।

তারা বলেন, মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী আসামিরাও লিগ্যাল প্রটেকশন পাওয়ার অধিকার আছে। সুতরাং ইচ্ছা বা অনিচ্ছায়, চাপ বা অন্য কারণে যা কিছু হোক বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, আইনানুগ, স্বচ্ছ তদন্ত হবে এবং আসামিরও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি দাবি করে।

সিলেটে ডাবল খুন মামলায় ১ আসামির ফাঁসি

সিলেটে ডাবল খুন মামলায় ১ আসামির ফাঁসি
আদালত চত্বরে ডাবল খুন মামলার আসামিরা/ ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে দ্বৈত (ডাবল) খুনের মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কামরুল ইসলাম গোলাপগঞ্জ উপজেলার মেহেরপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে।

একই মামলার আসামি রানু মিয়াকে তিন বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। তিনি মেহেরপুর গ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে। মামলার অন্য দুই আসামি মনোয়ারা বেগম ও আয়েশা আক্তারকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

সিলেটের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকালে সিলেট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আমিনুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গোলাপগঞ্জের মেহেরপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামিরা হামলা চালিয়ে রুবেল আহমেদ ও ফারুক মিয়াকে জখম করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুবেল ও ফারুক মারা যান।

ঘটনার দুই দিন পর নিহতদের বোন নাজিরা বেগম চারজনকে আসামি করে গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র