Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

খুলনার পাড়া-মহল্লায় রোহিঙ্গা ছেলেধরা গুজব

খুলনার পাড়া-মহল্লায় রোহিঙ্গা ছেলেধরা গুজব
খুলনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরে গণপিটুনি দিচ্ছেন স্থানীয়রা/ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

 

খুলনার শহর ও গ্রামাঞ্চলে ছেলেধরা রোহিঙ্গা আতংক বিরাজ করছে। অপরিচিত নারী-পুরুষ গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পরেছে এমন গুজব ধীরে ধীরে ভয়াবহতায় রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিনই নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরা রোহিঙ্গা সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রতিবন্ধী, অন্য অঞ্চলের ভিক্ষুক, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরে গণপিটুনি দিচ্ছেন স্থানীয়রা। গণপিটুনিতে খুলনায় নিহত হওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে গুজব ছড়াচ্ছে, আবার অনেকে সতর্কতামূলক পোস্ট দিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১১ মে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ছেলেধরা রোহিঙ্গা সন্দেহে গণপিটুনিতে অজ্ঞাত (৫৫) এক বৃদ্ধ নিহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় ২ জনকে আটক করে। পুলিশ ২৫০ জনের নামে মামলা করে।

ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিপ্লব বার্তা২৪.কমকে বলেন, একজন পাগল বৃদ্ধ ডুমুরিয়া মাগুরখালীর রাস্তায় ঘোরার সময় তাকে ছেলেধরা রোহিঙ্গা সন্দেহ করে এলাকাবাসী। স্থানীয়রা পাগল বৃদ্ধকে অনেক প্রশ্ন করলে বৃদ্ধ কোনো উত্তর দিতে পারেনি। পাগল উত্তর দেবে কি করে? তারপর এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দেয়। গণপিটুনিতে বৃদ্ধ নিহত হয়। নিহত বৃদ্ধের কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র গুজবের কারণে গণপিটুনিতে পাগল বৃদ্ধ মারা যায়। অনুসন্ধানে তাকে মানসিক পাগল হিসেবে পাওয়া যায়।

গত মঙ্গলবার (১৪ মে) খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় ফুলতলা থেকে আসা ভিক্ষুক মা ও মেয়েকে এলাকাবাসী রোহিঙ্গা ছেলেধরা সন্দেহে ধরে থানায় সোপর্দ করে। দিঘলিয়া থানা থেকে ফুলতলায় যোগাযোগ করে তাদের রোহিঙ্গা না হওয়ার সত্যতা পাওয়া যায়।

একই দিনে নগরীর যোগীপোলের ভাঙা, বৌ-বাজার ও মীরেরডাঙা এলাকা থেকে ৩ জনকে রোহিঙ্গা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপার্দ করেন এলাকাবাসী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/16/1558008339920.jpg

খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম বার্তা২৪. কম‘কে বলেন, স্থানীয়রা রোহিঙ্গা সন্দেহে ৩ জনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। খোঁজ নিয়ে আমরা দেখেছি তারা কেউ রোহিঙ্গা না। অন্য অঞ্চল থেকে পাগল আর ভিক্ষুক এলেই লোকজন রোহিঙ্গা ভেবে আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন। গুজবের কারণে সবাই রোহিঙ্গা আতঙ্কে ভুগছেন।

গত (১৫ মে) রূপসা থেকে একজন, খালিশপুর থেকে একজন, নগরীর সোনাডাঙ্গা কাঁচাবাজার থেকে একজন, নিউ মার্কেটের সামনে থেকে একজন ও সোনাডাঙ্গা থেকে ১ জনকে রোহিঙ্গা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপার্দ করেছে এলাকাবাসী।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমতাজুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, রোহিঙ্গা ছেলেধরা সন্দেহে ৩ পাগলকে ধরে এনেছে লোকজন। অপরিচিত কাউকে দেখলেই তাদের রোহিঙ্গা ভাবছেন স্থানীয়রা। রোহিঙ্গা গুজবের সাথে যুক্ত হয়েছে ছেলেধরা আতঙ্ক।

এ বিষয়ে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ বার্তা২৪. কম’কে বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই খুলনাঞ্চলে রোহিঙ্গা ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে পরেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কিছু লোকজন গুজব ছড়াচ্ছে। এ গুজবের কারণে ডুমুরিয়ায় এক পাগল বৃদ্ধ গণপিটুনিতে নিহত  হয়েছে। এ ঘটনায় দু'যুবক হাজতে আছে।

তিনি  আরো বলেন, সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে এলাকাবাসী যেনো তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। গণপিটুনির দিয়ে যেনো কেউ আইন হাতে না তুলে নেয়। গুজব ছড়ালে বা আইন হাতে তুলে নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত একসপ্তাহ ধরে খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরা রোহিঙ্গা গুজব ছড়িয়ে পরেছে। খুলনার ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, কয়রা, রূপসা, ফুলতলা, দাকোপ, বটিয়াঘাটাসহ নগরের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় গুজব রটায় সবাই আতঙ্কিত হচ্ছেন। তবে এতে আতঙ্কিত না হয়ে গুজব না ছড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন :

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে
বক্তব্য রাখছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সরকার বিভিন্নভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই ব্যর্থ বলতে চাই না। শেখ হাসিনার সরকার বিভিন্নভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের জন্য আমাদের ৩৪ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। যখন কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ ছিল না, পরিস্থিতি পরিবর্তিত, খুনিরা যখন বিভিন্নভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত দেশে, রাজনীতিতে, অর্থে এবং দেশের বাইরে, তাদের বিচার করে দাম্ভিকতা চূর্ণ করা শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দ্বিতীয় প্রজন্ম যাতে তৈরি হতে না পারে সে জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একমাত্র বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সত্ত্বা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করে সফল হয়েছেন। শোক দিবসে শুধু গতানুগতিকভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিষয়ে কথা না বলে আদর্শিক জায়গায় কর্মী প্রস্তুত করা দরকার, যেন আরেকটি পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের মতো ঘটনা দৃঢ়তার সঙ্গে, সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করা যায়।’

রোববার (২৫ আগস্ট) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আইন সমিতি আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশটি প্রতিষ্ঠিত। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বাঙালির উৎসের আর অস্তিত্বের বেদীমূলে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে দেশের একজন লোকও যেন বাদ না থাকে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করতে হলে, নাগরিক হিসেবে নিজেকে ভাবতে হলে সবাইকে সেখানে আত্মসমর্পণ করতে হবে, যেখানে বাঙালির সমস্ত অস্তিত্বের উৎস প্রাঞ্জল হয়ে আমাদের মাঝে রয়েছে। সেই অস্তিত্বের উৎস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আদর্শিক জায়গা কখনো খুন করা যায় না, তাই বঙ্গবন্ধুকে কখনো খুন করা যায় না।’

মুখ্য আলোচক বলেন, ‘শোক দিবসের প্রত্যয়কে দৃঢ়তার সঙ্গে ধারণ করতে হবে মনে, স্নায়ুতে, বিশ্বাসে, স্বপ্নে, জাগরণে সর্বত্র। যে ব্যক্তি তার অস্তিত্বের কথা জানে না, ইতিহাস জানে না, শেকড়ের কথা জানে না, সে ব্যক্তি স্বাভাবিক অবস্থায় নাগরিক হিসেবে তার মৌলিক অধিকার দাবি করতে পারা উচিত নয়।’

শোক দিবসকে সামনে রেখে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, যেখানে বঙ্গবন্ধু মিশে আছে, আছে অসাম্প্রদায়িকতা, আছে হাজার বছরের বাঙালির গৌরবময় অধ্যায়, সেসব শিক্ষায় কর্মীদের শিক্ষিত করার জন্য ছাত্র নেতৃবৃন্দের প্রতি মন্ত্রী আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘পৃথিবীতে আর কোনো নেতা নেই, যিনি একসঙ্গে স্বাধীনতার কথা চিন্তা করেছেন, সারা জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং সেটা বাস্তবায়ন করেছেন। বঙ্গবন্ধু সেটাই করেছেন।’

‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের একটা অংশের বিচার হয়েছে। কিন্তু যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করিয়েছেন তাদের শাস্তি হয়নি। এবার তাদের বিচার করতে হবে। জিয়াউর রহমানের কী ভূমিকা ছিল এবং অন্যান্যদের কী ভূমিকা ছিল, সেটা বের করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরাই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার কথা বলে গেছেন,’ যোগ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির বন্ধু নয়, বিশ্ববন্ধু। জাতসংঘে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি শোষিতের পক্ষে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্বনেতা। তাই আজ শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার পথে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। বঙ্গবন্ধুকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি। এই আগস্টে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে রক্ষা করা। আমরা আজ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির গণতন্ত্র চাই, যেখানে সরকারে ও বিরোধী দলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি মূল্যবোধ বাস্তবায়িত হবে এমন বাংলাদেশ আমরা চাই।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হক, বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম আমিন উদ্দিন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আইন সমিতির জাতীয় শোক দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার।

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের দিনপঞ্জিকা গুরুত্বপূর্ণ দলিল

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের দিনপঞ্জিকা গুরুত্বপূর্ণ দলিল
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন বিশ্লেষণ করে তার আদর্শ থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন অকুতোভয়, অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি। বঙ্গবন্ধু আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে গেছেন। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন করা।’

রোববার (২৫ আগস্ট) জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি ঢাকা আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস-২০১৯ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারসহ সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন- সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির প্রধান সমন্বয়ক অ্যাড. মোল্লা মো. আবু কাওছার।

স্পিকার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রতিটি দিন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- তিনি মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। তার সংগ্রামী জীবনের দিনপঞ্জিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল।’

স্পিকার আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের অধিকার আদায়ে দীর্ঘ ২৩ বছর আপসহীন থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধু সবসময় পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারিতে ছিলেন। পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের পরতে পরতেই মিশে আছে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য ত্যাগ।’

তিনি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য আজীবন আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। জনগণের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপসহীন। তিনি অসীম সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে বাঙালি জাতিকে উপহার দিয়েছেন স্বাধীনতা এবং সংবিধান।’

স্পিকার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। বিশ্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সকল সূচকে উন্নয়নের রোলমডেল।’ এ সময় জাতির জনকের আদর্শকে ধারণ করে তারই স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ায় আত্মনিয়োগ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য বাবু মুকুল বোস এবং নার্গিস রহমান এমপি বক্তব্য দেন।

পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র