Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

রাজশাহীর আম উঠেনি, লিচুর দখলে বাজার

রাজশাহীর আম উঠেনি, লিচুর দখলে বাজার
আমের রাজ্য খ্যাত রাজশাহীতে আম এখনো বাজারে না উঠলেও বাজার লিচু ব্যবসায়ীদের দখলে/ ছবি: বার্তা২৪.কম
হাসান আদিব
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

মধুমাস জৈষ্ঠ্যের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৬ মে)। চারিদিকে নানা ফলের সমাহার। বাজারে জমে উঠছে ফলের বিকিকিনি। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে এই মাসে শুরু হয় ‘ফল উৎসব’। মধুমাস শেষেও চলে এই উৎসবের রেশ।

রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় আম। জৈষ্ঠ্য মাস শুরুর আগেই আম ব্যবসায়ীরা বাজার দখলে নেন। তবে গেল তিন বছর ধরে প্রশাসন আম পাড়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। চাইলেও কেউ বেঁধে দেওয়া সময়ের আগে আম বাজারে আনতে পারছেন না। ফলে মধুমাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজশাহীর বাজারে উঠছে আম।

চলতি বছরও সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় এখনও বাজারে তেমন আম চোখে পড়েনি। কেউ কেউ সাতক্ষীরার গোপালভোগ বলে কিছু আম বিক্রি করছেন। যা খেতে টক। বুধবার (১৫ মে) থেকে রাজশাহীর দেশি জাতের ‘গুটি’ আম পাড়া শুরু হলেও এখনো তা পাকিয়ে বাজারে আনতে পারেনি চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/16/1558004998670.jpg

তবে মধুমাসের শুরুতেই বাজার দখলে নিয়েছে লিচু ব্যবসায়ীরা। রাজশাহীতে আবাদকৃত বারি-১ লিচু এখন শহরের অলি-গলিতেও বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গেলেই চোখে পড়ছে লিচু বিক্রেতাদের দাম হাঁকা ও ক্রেতাদের দর কষাকষির দৃশ্য।

বিক্রেতারা বলছেন, বৈশাখ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে লিচু পাড়া শুরু হয়েছে। তবে প্রথম দিকে বিক্রি হওয়া লিচু অনেকটা অপরিপক্ক ছিল। রমজানে ভালো দামের আশায় অনেকে লিচু পেড়েছিল। তা ক্রেতা টানতে পারেনি।

গত দুই থেকে তিন দিন ধরে পুরোদমে লিচু পাড়া শুরু হয়েছে। এখন লোভনীয় এই ফলটি বেশ পরিপক্কও হয়েছে। তবুও বাজারে আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ চাষি, ইজারাদার ও বিক্রেতাদের।

রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট, আরডিএ মার্কেটের সামনে, সোনাদিঘী মোড়, নিউমার্কেট, শিরোইল বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন চত্বর, বিনোদপুর, কোর্টবাজার, হড়গ্রাম, রেলগেট, লক্ষ্মীপুর মোড়সহ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিক্রি হচ্ছে লিচু।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি একশ লিচুর দাম হাঁকা হচ্ছে ২২০ থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত। তবে ভালো রঙ এবং সাইজে বড় লিচু পেতে প্রতি শতে ৩৫০ টাকা গুণতে হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/16/1558005129618.jpg

কাদিরগঞ্জ এলাকার লিচু ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে গত দুই দিন ধরে লিচু নিয়ে বসছেন। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘বাজারে অন্যরা যে লিচু বেঁচছে, তার চেয়ে আমার লিচু বেশ বড়। আমি ৩০০ টাকার নিচে বিক্রি করছি না।’

সোনাদিঘী মোড়ে ভ্যানে লিচু বিক্রি করা মাজেদুর রহমান বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়ার কারণে লিচু কিছুটা ছোট হয়েছে। দেশি জাতের লিচু হালকা টক থাকে। কিন্তু এবার একটু বেশিই। রোজা রেখে কেউ টক লিচু খেতে চাইছেন না। ফলে লিজের টাকা তোলা কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।’

রবিউল ইসলাম নামে একজন ক্রেতা বলেন, ‘আমার বাড়ি নোয়াখালি। রাজশাহীতে বিশেষ কাজে এসেছিলাম। বিকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা দেব। বাড়ি থেকে মেয়ে রাজশাহীর লিচু নিয়ে যেতে বলেছে। সোনাদিঘীর মোড় থেকে ২২৫ টাকা দরে দুইশ লিচু কিনেছি।’

আয়েশা সিদ্দিকা নামে আরেক ক্রেতা বলেন, ‘চাকরির সুবাদে ছয় বছর রাজশাহীতে আছি। লিচুর সময়ে প্রতিদিন অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে অন্তত একশ লিচু কিনেই ফেরা হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/16/1558005108210.jpg

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন বলেন, ‘বাজারে এখন যে লিচু পাওয়া যাচ্ছে, সেটা বারি-১ জাতের লিচু। আগামী ২০ মে এর পর থেকে যদি এই লিচু পাড়া হতো, তবে টক লাগতো না।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে বোম্বে লিচু বলে পরিচিত উন্নত জাতের লিচু উঠবে। যদি এর মাঝে একবার বৃষ্টি হয়, তবে ঐ লিচু খেতে খুবই সুস্বাদু হবে।’

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ দফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক জানান, চলতি বছর রাজশাহীতে ৪৯০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। জেলার বাঘা উপজেলার পদ্মার চর, মোহনপুর, চারঘাট, পুঠিয়ায় বেশি লিচু চাষ করা হয়। তবে কেউ কেউ বসতবাড়িতেও অল্প সংখ্যক লিচু গাছ লাগিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ ক্রমেই লিচু চাষে ঝুঁকছে।

আপনার মতামত লিখুন :

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে
বক্তব্য রাখছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সরকার বিভিন্নভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই ব্যর্থ বলতে চাই না। শেখ হাসিনার সরকার বিভিন্নভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের জন্য আমাদের ৩৪ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। যখন কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ ছিল না, পরিস্থিতি পরিবর্তিত, খুনিরা যখন বিভিন্নভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত দেশে, রাজনীতিতে, অর্থে এবং দেশের বাইরে, তাদের বিচার করে দাম্ভিকতা চূর্ণ করা শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দ্বিতীয় প্রজন্ম যাতে তৈরি হতে না পারে সে জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একমাত্র বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সত্ত্বা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করে সফল হয়েছেন। শোক দিবসে শুধু গতানুগতিকভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিষয়ে কথা না বলে আদর্শিক জায়গায় কর্মী প্রস্তুত করা দরকার, যেন আরেকটি পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের মতো ঘটনা দৃঢ়তার সঙ্গে, সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করা যায়।’

রোববার (২৫ আগস্ট) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আইন সমিতি আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশটি প্রতিষ্ঠিত। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বাঙালির উৎসের আর অস্তিত্বের বেদীমূলে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে দেশের একজন লোকও যেন বাদ না থাকে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করতে হলে, নাগরিক হিসেবে নিজেকে ভাবতে হলে সবাইকে সেখানে আত্মসমর্পণ করতে হবে, যেখানে বাঙালির সমস্ত অস্তিত্বের উৎস প্রাঞ্জল হয়ে আমাদের মাঝে রয়েছে। সেই অস্তিত্বের উৎস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আদর্শিক জায়গা কখনো খুন করা যায় না, তাই বঙ্গবন্ধুকে কখনো খুন করা যায় না।’

মুখ্য আলোচক বলেন, ‘শোক দিবসের প্রত্যয়কে দৃঢ়তার সঙ্গে ধারণ করতে হবে মনে, স্নায়ুতে, বিশ্বাসে, স্বপ্নে, জাগরণে সর্বত্র। যে ব্যক্তি তার অস্তিত্বের কথা জানে না, ইতিহাস জানে না, শেকড়ের কথা জানে না, সে ব্যক্তি স্বাভাবিক অবস্থায় নাগরিক হিসেবে তার মৌলিক অধিকার দাবি করতে পারা উচিত নয়।’

শোক দিবসকে সামনে রেখে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, যেখানে বঙ্গবন্ধু মিশে আছে, আছে অসাম্প্রদায়িকতা, আছে হাজার বছরের বাঙালির গৌরবময় অধ্যায়, সেসব শিক্ষায় কর্মীদের শিক্ষিত করার জন্য ছাত্র নেতৃবৃন্দের প্রতি মন্ত্রী আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘পৃথিবীতে আর কোনো নেতা নেই, যিনি একসঙ্গে স্বাধীনতার কথা চিন্তা করেছেন, সারা জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং সেটা বাস্তবায়ন করেছেন। বঙ্গবন্ধু সেটাই করেছেন।’

‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের একটা অংশের বিচার হয়েছে। কিন্তু যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করিয়েছেন তাদের শাস্তি হয়নি। এবার তাদের বিচার করতে হবে। জিয়াউর রহমানের কী ভূমিকা ছিল এবং অন্যান্যদের কী ভূমিকা ছিল, সেটা বের করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরাই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার কথা বলে গেছেন,’ যোগ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির বন্ধু নয়, বিশ্ববন্ধু। জাতসংঘে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি শোষিতের পক্ষে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্বনেতা। তাই আজ শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার পথে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। বঙ্গবন্ধুকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি। এই আগস্টে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে রক্ষা করা। আমরা আজ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির গণতন্ত্র চাই, যেখানে সরকারে ও বিরোধী দলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি মূল্যবোধ বাস্তবায়িত হবে এমন বাংলাদেশ আমরা চাই।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হক, বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম আমিন উদ্দিন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আইন সমিতির জাতীয় শোক দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার।

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের দিনপঞ্জিকা গুরুত্বপূর্ণ দলিল

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের দিনপঞ্জিকা গুরুত্বপূর্ণ দলিল
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন বিশ্লেষণ করে তার আদর্শ থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন অকুতোভয়, অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি। বঙ্গবন্ধু আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে গেছেন। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন করা।’

রোববার (২৫ আগস্ট) জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি ঢাকা আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস-২০১৯ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারসহ সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন- সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির প্রধান সমন্বয়ক অ্যাড. মোল্লা মো. আবু কাওছার।

স্পিকার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রতিটি দিন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- তিনি মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। তার সংগ্রামী জীবনের দিনপঞ্জিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল।’

স্পিকার আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের অধিকার আদায়ে দীর্ঘ ২৩ বছর আপসহীন থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধু সবসময় পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারিতে ছিলেন। পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের পরতে পরতেই মিশে আছে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য ত্যাগ।’

তিনি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য আজীবন আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। জনগণের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপসহীন। তিনি অসীম সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে বাঙালি জাতিকে উপহার দিয়েছেন স্বাধীনতা এবং সংবিধান।’

স্পিকার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। বিশ্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সকল সূচকে উন্নয়নের রোলমডেল।’ এ সময় জাতির জনকের আদর্শকে ধারণ করে তারই স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ায় আত্মনিয়োগ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য বাবু মুকুল বোস এবং নার্গিস রহমান এমপি বক্তব্য দেন।

পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র