Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রাজশাহীতে ধর্ষকের সাজা ‘কানটানা’, ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

রাজশাহীতে ধর্ষকের সাজা ‘কানটানা’, ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার
উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবককে মীমাংসা বৈঠকে ‘কানটানা’ সাজা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার মোস্তফা কামাল উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে যৌন হয়রানির মামলায় সহযোগী আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার (১৫ মে) রাতে নিজ বাড়ি থেকে বাগমারা থানা পুলিশ চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে গ্রেফতার করে।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বার্তা২৪.কম-কে জানান, গত ৩ মে উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়নের বারুইহাটি গ্রামে তৌহিদ আলী (২৫) নামে এক যুবক ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ভুক্তভোগীর পরিবার ও অভিযুক্ত ধর্ষককে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

সেখানে শাস্তি হিসেবে অভিযুক্ত তৌহিদের ‘কানটানা’ হয়। তবে এই মীমাংসা ও শাস্তি গ্রহণ করেনি ভুক্তভোগীর পরিবার। গত ৫ মে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর দাদা বাদী হয়ে বাগমারা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় সালিশি মীমাংসার বিষয়টিও উল্লেখ করে তাদেরও শাস্তি দাবি করা হয়।

ওসি বলেন, মামলার পরদিন ৬ মে মূল আসামি তৌহিদকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৬) রাতে ধর্ষণ চেষ্টাকারীকে সহায়তা করার অভিযোগে চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে গ্রেফতার করা হয়। মীমাংসা করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কোনো আর্থিক লেনদেন করেছেন, কিনা বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক
রূপসা সেতুর টোল আদায় নিয়ে দুদকের অভিযান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

খুলনার রূপসা (খানজাহান আলী) সেতুর টোল আদায় নিয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এই অভিযান চালান।

অভিযানে ট্রাকের টোল আদায়ে অনিয়মের প্রমাণ পান তারা। এ ঘটনায় টোল আদায়কারী কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে দুদক।

দুদক খুলনার উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসান জানান, সেতু পারাপারের ক্ষেত্রে বড় ট্রাকের টোল (খাজনা) ২৭৫ টাকা। কিন্তু ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা ২৫০ টাকা নিয়ে মাঝারি ট্রাকের রশিদ কাটতো। মাঝারি ট্রাকের টোল ১৮০ টাকা। বাকি ৭০ টাকা তারা আত্মসাৎ করতো। এভাবে প্রতিদিন ২২০/২৫০টি ট্রাকের টোলের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতো আদায়কারীরা।

Rupsha Bridge

তিনি বলেন, প্রথমে আমরা সেতুর কাছে দাঁড়িয়ে ট্রাকের রশিদ যাচাই করেছি। কিন্তু কোনো ট্রাকচালকের কাছে রশিদ পাওয়া যায়নি। চালকরা বড় ট্রাকের জন্য কেউ ২৫০ টাকা, কেউ ২৪০ টাকা করে দিয়েছে বলে স্বীকার করেন। অথচ বড় ট্রাকের টোল ২৭৫ টাকা। টাকা কম দেওয়ার কারণে তাদের রশিদ দেওয়া হয় না বলে চালকরা জানান। পরে টোলঘরে অভিযান চালালে দেখা যায়- সেখানে ছোট ট্রাকের টোল কাটা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা চেক করে দেখা যায়- প্রতিটি বড় ট্রাকের টোল মাঝারি ট্রাক হিসেবে আদায় করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তা জানান, এই অনিয়মের সঙ্গে সবাই জড়িত। আটক করলে সবাইকে করতে হবে, সেতুতে গাড়ি পারাপার বন্ধ হয়ে যাবে। তাই কাউকে আটক করা হয়নি। তবে বিষয়টি লিখিতভাবে সড়ক বিভাগকে জানানো হয়েছে।

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
জাহালম

ভুল মামলার আসামি পাটকল শ্রমিক জাহালমের সাড়ে তিনবছর কারাভোগের ঘটনায় আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে দুদককে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ১১ জুলাই জাহালমের কারাভোগের ঘটনা তদন্ত করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক। ওই প্রতিবেদনে দুদক কর্মকর্তাদের গাফিলতি, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও অর্থআত্মসাতের ঘটনায় একটি চক্রের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।

মঙ্গলবার শুনানিতে আদালত বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের যারা ছিল তারা যাতে টাকা নিয়ে পালিয়ে না যায়। সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান, ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

পরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, জাহালমের ঘটনায় দুদকের আভ্যন্তরীন একটি তদন্ত হয়েছিল। দুদকের পরিচালক (আইন) আবুল হাসনাত মো. আব্দুল ওয়াদুদ তদন্ত করে একটা প্রতিবেদন দিয়েছেন। গত ১১ জুলাই রিপোর্টটি আমরা আদালতে দাখিল করেছি। তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে পড়েছি। আদালত বলেছেন, দুদকের একজন কর্মকর্তা এ ধরনের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন এটা খুবই সমর্থনযোগ্য।

তিনি বলেন, যেহেতু এটা দুদকের একটি আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন। কাজেই এ প্রতিবেদন দুদকের সচিবের কাছে গত ৩০ মে তদন্তকারি জমা দিয়েছেন। এখন এ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আদালত বলেছেন, যেহেতু কমিশনের কাছে উপস্থাপন হচ্ছে। আমরা দেখতে চাই কমিশন কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত জানতে আগামী ২১ আগস্ট এ মামলার পবরর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন যদি কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে সেটি ওই দিন আদালতকে জানাতে বলেছেন।

গত ২৭ জুন জাহালমের ঘটনায় দুদকের তদন্ত কমিটিকে ১১ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ১৩ মে জাহালমের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সম্পূরক অভিযোগপত্র এবং ব্যাংকের নথি দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

জাহালমের কারাবাসের বিষয়টি গত ২৮ জানুয়ারি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। দৈনিক প্রথম আলোতে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন তিনি।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২৬ মামলা থেকে জাহালমকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ আদেশের পর মুক্তি পায় তিন বছরের বেশি কারাবাস করা জাহালম। বিনা অপরাধে কারাভোগ করায় তাকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এ রুলের শুনানি চলছে হাইকোর্টে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র