Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রাজশাহীতে প্রাণ-তীর-ড্যানিশসহ নিষিদ্ধ ৫২ পণ্যের ছড়াছড়ি

রাজশাহীতে প্রাণ-তীর-ড্যানিশসহ নিষিদ্ধ ৫২ পণ্যের ছড়াছড়ি
আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ পণ্যের কয়েকটি, ছবি: সংগৃহীত
হাসান আদিব
স্টাফ করেসপন্ডেট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

হাইকোর্ট কর্তৃক 'নিষিদ্ধ' ঘোষিত ৫২ ভেজাল পণ্যের ছড়াছড়ি রাজশাহীর দোকানগুলোতে। গত ১২ মে বাজার থেকে ১০ দিনের মধ্যে এসব পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখনো দোকানগুলোতে মজুদ রয়েছে, চলছে বিক্রিও।

বুধবার (১৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টা। রাজশাহীর সাহেব বাজার ১নং গদির মোশাররফ হোসেনের দোকানে কেনাকাটা করতে এসেছেন সাগরপাড়া এলাকার মিলি বেগম। তিনি প্রাণের হলুদের গুঁড়া, কারি পাউডার, লাচ্ছা সেমাই, রূপচাঁদার সরিষার তেল ও মোল্লা সল্টের লবণ কিনে ব্যাগে ভরে রেখেছেন।

ভেজাল পণ্য

নিম্নমান ও ভেজাল হওয়ায় এসব পণ্য নিষিদ্ধ, তবুও কিনছেন কেন? এমন প্রশ্নে মিলি বেগম যেন আকাশ থেকে পড়েছেন! তিনি জানেনই না এসব পণ্য আদালত থেকে নিষিদ্ধ। সামনে দাঁড়ানো দোকান মালিক মোশাররফ হোসেনও দাবি করলেন, তিনি জানেন না কোন কোন পণ্য নিষিদ্ধ। ফলে আদালতের নির্দেশনার পরও দোকান থেকে সেগুলো সরানো হয়নি।

শুধু নগরীর সাহেব বাজারে নয়, নিউমার্কেট, লক্ষ্মীপুর, কোর্ট কাঁচাবাজার, বিনোদপুর, কাজলা, হড়গ্রাম বাজার ঘুরেও দেখা গেছে ভেজাল পণ্যের ছড়াছড়ি। অধিকাংশ ক্রেতা পণ্যগুলো সম্পর্কে জানেন না। অনেক বিক্রেতারও দাবি- তারা পণ্য নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি শুনেছেন, তবে সেটা কোন কোন পণ্য তা জানেন না। আবার অনেকে জানলেও লোকসানের ভয়ে ক্রেতাদের ধোঁকা দিয়ে নিম্নমানের নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি করছেন।

প্রাণ-তীর-ড্যানিশসহ রাজশাহীর বাজারে নিষিদ্ধ ৫২ পণ্যের ছড়াছড়ি

নগরীর বড় বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ভেজাল ও নিম্নমান হওয়ায় আদালতে নিষিদ্ধ ৫২টি পণ্য দেদারছে বিক্রি করছেন দোকানিরা। প্রকাশ্যেই পণ্যগুলো দোকানে সাজিয়ে রেখেছেন।

পণ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ড্যানিশের হলুদের গুঁড়া, প্রাণের হলুদের গুঁড়া, তানভির ফুডের ফ্রেশের হলুদের গুঁড়া, এসিআইয়ের ধনিয়ার গুঁড়া, প্রাণের কারি পাউডার, ড্যানিশের কারি পাউডার, সিটি ওয়েলের তীর সরিষার তেল, গ্রিন ব্লিচিংয়ের জিবি সরিষার তেল, শবনমের পুষ্টি সরিষার তেল, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েলের রূপচাঁদা সরিষার তেল, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই ও মোল্লা সল্টের আয়োডিনযুক্ত লবণ।

প্রাণ-তীর-ড্যানিশসহ রাজশাহীর বাজারে নিষিদ্ধ ৫২ পণ্যের ছড়াছড়ি

নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকা থেকে সাহেব বাজারে কেনাকাটা করতে আসা তাশফিয়া আক্তার বলেন, 'এগুলো দীর্ঘদিন ধরে কিনছি। এখন শুনছি, পণ্যগুলো ভেজাল। তাহলে কিনব কোনটা? নামিদামি কোম্পানির পণ্য যদি ভেজাল হয়, তবে নাম না জানা কোম্পানির পণ্য কিনে কী ভালো মনে খাওয়া যাবে?'

শফিকুল ইসলাম নামে আরেক ক্রেতা বলেন, ভেজাল হওয়ায় পণ্য নিষিদ্ধের বিষয়টি জেনেছি। তবে দোকানে আসলে কেনার সময় ভুলে যেতে হচ্ছে। আমি গতকালও রূপচাঁদার সরিষার তেল কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম। বাড়ি থেকে বলল, এটা ভেজালের কারণে নিষিদ্ধ। পরে সেটা বাদ দিয়ে স্থানীয় ব্রান্ডের একটি সরিষার তেল কিনে নিয়ে গেছি।'

ভেজাল পণ্য

রাজশাহীর বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পত্র-পত্রিকা ও টিভিতে তারা দেখেছেন, ৫২টি পণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেগুলো আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাজার থেকে সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে কোন কোম্পানির, কি কি পণ্য তা পরিষ্কার করে কিছু জানেন না। সরকার বা কোম্পানির পক্ষ থেকেও তাদেরকে কিছু জানানো হয়নি। তাই তারা বিক্রি বন্ধও করেননি।

নগরীর ‘শাহ আলম অ্যান্ড সন্স’ এর মালিক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘৫২টি পণ্য আদালত বাতিল করছেন, তা আমরা শুনেছি। তবে পরিষ্কার কোনো নির্দেশনা আমরা এখনও পাইনি। তাই কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।’

প্রাণ-তীর-ড্যানিশসহ রাজশাহীর বাজারে নিষিদ্ধ ৫২ পণ্যের ছড়াছড়ি

পিএনপি টেডার্সের মালিক বিদ্যা প্রসাদ বলেন, 'বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তবে নামিদামি কোম্পানির পণ্য যে ভেজাল, তা আমাদের অবাক করেছে। বুঝে উঠতে পারছি না, এগুলো বাতিল হবে নাকি আবার সবাই বেচতে পারবে। যদি কদিন বাদে সব ঠিকঠাক হয়ে যায়, তবে আমার কেনা পণ্য সরিয়ে ফেললে আমিই লোকসানে পড়ব। তাই এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।'

নগরীর হড়গ্রামের শামীম ভ্যারাইটি স্টোরের মালিক সাজেদুর রহমান বলেন, ‘কতকিছুই তো নিষিদ্ধ হয়, পরে আবার ঠিক হয়ে যায়। এবারও তাই হবে। টাকা দিয়ে কোম্পানির কাছ থেকে পণ্য কিনেছি। ফেলে দিলে তো আমারই লস (ক্ষতি)। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়!’

বিনোদপুর বাজারের রহমান সন্স মালিক আব্দুর রহমান বলেন, 'যে ৫২টি পণ্য আদালত নিষিদ্ধ করেছে, রাজশাহীর বাজারে তার ২০/২২টি চলে। অন্যগুলো বাজারে নেই বললেই চলে। কেউ কিনতেও চাই না। মূলত প্রাণ, রূপচাঁদা, এসিআই, পুষ্টি, ফ্রেস ও ড্যানিশের পণ্যগুলো বাজারে চলত। সেগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। আমি দ্রুত সেগুলো সরিয়ে নেব।' আদালতের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদও জানান তিনি।

প্রাণ-তীর-ড্যানিশসহ রাজশাহীর বাজারে নিষিদ্ধ ৫২ পণ্যের ছড়াছড়ি

জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন বাজারে দিনভর অভিযান পরিচালনা করছে। জরিমানা করছে, সকলকে সতর্ক করছে। গণমাধ্যমেও বিষয়টি ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। সবাই বিষয়টি এরই মধ্যে অবগত হয়েছেন বলেই আমার বিশ্বাস। তবুও কেউ কেউ যদি দাবি করে থাকে, তারা এখনও জানেন না। তবে বিষয়টি অবগত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রশাসন চেষ্টা করে যাচ্ছে, এখানে যারা ক্রেতা সেই সাধারণ মানুষকে সচেতন এবং বিক্রেতাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। একজন নাগরিক হিসেবে ন্যূনতম দায়িত্বশীল হলে ভেজাল ও নিম্নমানের এসব পণ্য কেউ বিক্রি করবে না বলে আমার বিশ্বাস।'

আপনার মতামত লিখুন :

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক
রূপসা সেতুর টোল আদায় নিয়ে দুদকের অভিযান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

খুলনার রূপসা (খানজাহান আলী) সেতুর টোল আদায় নিয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এই অভিযান চালান।

অভিযানে ট্রাকের টোল আদায়ে অনিয়মের প্রমাণ পান তারা। এ ঘটনায় টোল আদায়কারী কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে দুদক।

দুদক খুলনার উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসান জানান, সেতু পারাপারের ক্ষেত্রে বড় ট্রাকের টোল (খাজনা) ২৭৫ টাকা। কিন্তু ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা ২৫০ টাকা নিয়ে মাঝারি ট্রাকের রশিদ কাটতো। মাঝারি ট্রাকের টোল ১৮০ টাকা। বাকি ৭০ টাকা তারা আত্মসাৎ করতো। এভাবে প্রতিদিন ২২০/২৫০টি ট্রাকের টোলের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতো আদায়কারীরা।

Rupsha Bridge

তিনি বলেন, প্রথমে আমরা সেতুর কাছে দাঁড়িয়ে ট্রাকের রশিদ যাচাই করেছি। কিন্তু কোনো ট্রাকচালকের কাছে রশিদ পাওয়া যায়নি। চালকরা বড় ট্রাকের জন্য কেউ ২৫০ টাকা, কেউ ২৪০ টাকা করে দিয়েছে বলে স্বীকার করেন। অথচ বড় ট্রাকের টোল ২৭৫ টাকা। টাকা কম দেওয়ার কারণে তাদের রশিদ দেওয়া হয় না বলে চালকরা জানান। পরে টোলঘরে অভিযান চালালে দেখা যায়- সেখানে ছোট ট্রাকের টোল কাটা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা চেক করে দেখা যায়- প্রতিটি বড় ট্রাকের টোল মাঝারি ট্রাক হিসেবে আদায় করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তা জানান, এই অনিয়মের সঙ্গে সবাই জড়িত। আটক করলে সবাইকে করতে হবে, সেতুতে গাড়ি পারাপার বন্ধ হয়ে যাবে। তাই কাউকে আটক করা হয়নি। তবে বিষয়টি লিখিতভাবে সড়ক বিভাগকে জানানো হয়েছে।

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
জাহালম

ভুল মামলার আসামি পাটকল শ্রমিক জাহালমের সাড়ে তিনবছর কারাভোগের ঘটনায় আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে দুদককে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ১১ জুলাই জাহালমের কারাভোগের ঘটনা তদন্ত করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক। ওই প্রতিবেদনে দুদক কর্মকর্তাদের গাফিলতি, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও অর্থআত্মসাতের ঘটনায় একটি চক্রের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।

মঙ্গলবার শুনানিতে আদালত বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের যারা ছিল তারা যাতে টাকা নিয়ে পালিয়ে না যায়। সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান, ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

পরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, জাহালমের ঘটনায় দুদকের আভ্যন্তরীন একটি তদন্ত হয়েছিল। দুদকের পরিচালক (আইন) আবুল হাসনাত মো. আব্দুল ওয়াদুদ তদন্ত করে একটা প্রতিবেদন দিয়েছেন। গত ১১ জুলাই রিপোর্টটি আমরা আদালতে দাখিল করেছি। তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে পড়েছি। আদালত বলেছেন, দুদকের একজন কর্মকর্তা এ ধরনের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন এটা খুবই সমর্থনযোগ্য।

তিনি বলেন, যেহেতু এটা দুদকের একটি আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন। কাজেই এ প্রতিবেদন দুদকের সচিবের কাছে গত ৩০ মে তদন্তকারি জমা দিয়েছেন। এখন এ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আদালত বলেছেন, যেহেতু কমিশনের কাছে উপস্থাপন হচ্ছে। আমরা দেখতে চাই কমিশন কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত জানতে আগামী ২১ আগস্ট এ মামলার পবরর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন যদি কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে সেটি ওই দিন আদালতকে জানাতে বলেছেন।

গত ২৭ জুন জাহালমের ঘটনায় দুদকের তদন্ত কমিটিকে ১১ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ১৩ মে জাহালমের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সম্পূরক অভিযোগপত্র এবং ব্যাংকের নথি দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

জাহালমের কারাবাসের বিষয়টি গত ২৮ জানুয়ারি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। দৈনিক প্রথম আলোতে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন তিনি।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২৬ মামলা থেকে জাহালমকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ আদেশের পর মুক্তি পায় তিন বছরের বেশি কারাবাস করা জাহালম। বিনা অপরাধে কারাভোগ করায় তাকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এ রুলের শুনানি চলছে হাইকোর্টে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র