Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বগি সংকট নিয়ে চলছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ৯০ ট্রেন

বগি সংকট নিয়ে চলছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ৯০ ট্রেন
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন, ছবি: বার্তা২৪.কম
হাসান আদিব
স্টাফ করেসপন্ডেট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অধীনে বর্তমানে ৪০টি আন্তঃনগর ও ৫০টি লোকাল ট্রেন চলাচল করছে। ট্রেনগুলো ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন রুটে চলাচল করে।

এছাড়া পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসসহ অর্ধশত লোকাল ট্রেনেও রয়েছে বগি স্বল্পতা। ফলে ঈদ যাত্রায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে রুটের ট্রেনে চলাচল করা মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হবে।

আর ‘ঈদ স্পেশাল’ নামে ১৫ দিনের জন্য ট্রেনগুলোতে ‘লক্কড়-ঝক্কড়’ বগি সংযুক্ত করা হচ্ছে। যাতে রঙের প্রলেপ দিয়ে অল্প সময়ের জন্য চকচকে করছে কর্তৃপক্ষ। এতে পশ্চিমাঞ্চল রেলরুটে ট্রেনের গতি কমবে। যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ার শঙ্কা যাত্রীদের।

তবে রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রণালয় ট্রেনগুলোর বগি সংকট নিরসনে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫০টি অত্যাধুনিক বগি আনা হয়েছে। আরও কিছু বগি আনার প্রক্রিয়া চলছে। যা ট্রেনগুলোতে যুক্ত হলে প্রায় ২০ শতাংশ আসন বাড়বে। ভোগান্তি কমবে যাত্রীদের। কিন্তু সেটা ঈদ-উল-ফিতরের আগে সম্ভব নয় বলে জানান তারা।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকা, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, ঈশ্বরদী, নাটোর, চাঁপা্ইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, বগুড়া, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, চীলাহাটি, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন স্থানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ৯০টি ট্রেন যাতায়াত করছে। সবগুলো ট্রেনেই কমপক্ষে ৩টি থেকে ৬টি বগি সংকট।

রাজশাহী-ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে চলাচল করা আন্তঃনগর ট্রেন সিল্কসিটি, পদ্মা ও ধুমকেতূ এক্সপ্রেস নামের তিনটি ট্রেনই ১৫টি বগি নিয়ে চলাচল করছে। অথচ ট্রেন তিনটির ১৮টি বগি নিয়ে চলাচল করার সক্ষমতা রয়েছে।

১৮টি বগি টানার সক্ষমতা থাকলেও ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ চলছে ১২টি নিয়ে। দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রেলরুট ঢাকা-ঈশ্বরদী-খুলনা রুটে আন্তঃনগর চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ এই রুটের দু’টি ট্রেনই ৬টি করে বগি কম নিয়ে যাতায়াত করছে।

সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনও চলছে ১৬টির স্থলে ১২টি বগি নিয়ে। আর রাজশাহী-ঈশ্বরদী-খুলনাগামী কপোতাক্ষ, সাগরদাড়ি, মধুমতি এক্সপ্রেসেও ৪টি থেকে ৬টি করে বগি কম রয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এক্সপ্রেস, মহানন্দা, তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনেও রয়েছে বগি স্বল্পতা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557901824742.jpg

জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আবদুল্লাহ আল-মামুন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ট্রেনে বগি সংকট রয়েছে, তা উপচে পড়া ভিড় দেখলেই তো বোঝা যায়। এটা নিয়ে আমরা কথা বললে চাপে পড়তে হয়। সংকট সমাধানের জন্য নতুন কোট আমদানি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিছু বগি পৌঁছেছে, সেগুলো বিভিন্ন ট্রেনে যুক্ত করা হচ্ছে। পরিকল্পনামাফিক অন্য বগিগুলো আনা হলে সংকট অনেকটা কমে যাবে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খোন্দকার শহিদুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, গেল কয়েক বছর রেলওয়েতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। রেল যাত্রায় মানুষের ভোগান্তি ক্রমে কমছে। ফলে যাত্রীরা এখন ট্রেন ভ্রমণে ঝুঁকছে। প্রধানমন্ত্রীও রেলখাতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সংকট কমিয়ে ভোগান্তি সহনীয় মাত্রায় আনতে।

তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া থেকে বেশ কিছু কোচ আমদানি করা হয়েছে। আরও কোচ আনার প্রক্রিয়া চলমান। সেগুলোও অতিদ্রুত পৌঁছাবে দেশে। আপনার খোঁজ নিলে জানবেন- পশ্চিমাঞ্চল রেলরুটের লাইন দীর্ঘদিন পর মেরামত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। লাইন মেরামতের কাজ শেষ হলে এবং নতুন বগি ট্রেনে যুক্ত হলে স্বাচ্ছন্দে ট্রেন ভ্রমণ করতে পারবেন যাত্রীরা।’ আসন্ন ঈদেও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে তৎপর রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

আপনার মতামত লিখুন :

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক
রূপসা সেতুর টোল আদায় নিয়ে দুদকের অভিযান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

খুলনার রূপসা (খানজাহান আলী) সেতুর টোল আদায় নিয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এই অভিযান চালান।

অভিযানে ট্রাকের টোল আদায়ে অনিয়মের প্রমাণ পান তারা। এ ঘটনায় টোল আদায়কারী কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে দুদক।

দুদক খুলনার উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসান জানান, সেতু পারাপারের ক্ষেত্রে বড় ট্রাকের টোল (খাজনা) ২৭৫ টাকা। কিন্তু ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা ২৫০ টাকা নিয়ে মাঝারি ট্রাকের রশিদ কাটতো। মাঝারি ট্রাকের টোল ১৮০ টাকা। বাকি ৭০ টাকা তারা আত্মসাৎ করতো। এভাবে প্রতিদিন ২২০/২৫০টি ট্রাকের টোলের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতো আদায়কারীরা।

Rupsha Bridge

তিনি বলেন, প্রথমে আমরা সেতুর কাছে দাঁড়িয়ে ট্রাকের রশিদ যাচাই করেছি। কিন্তু কোনো ট্রাকচালকের কাছে রশিদ পাওয়া যায়নি। চালকরা বড় ট্রাকের জন্য কেউ ২৫০ টাকা, কেউ ২৪০ টাকা করে দিয়েছে বলে স্বীকার করেন। অথচ বড় ট্রাকের টোল ২৭৫ টাকা। টাকা কম দেওয়ার কারণে তাদের রশিদ দেওয়া হয় না বলে চালকরা জানান। পরে টোলঘরে অভিযান চালালে দেখা যায়- সেখানে ছোট ট্রাকের টোল কাটা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা চেক করে দেখা যায়- প্রতিটি বড় ট্রাকের টোল মাঝারি ট্রাক হিসেবে আদায় করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তা জানান, এই অনিয়মের সঙ্গে সবাই জড়িত। আটক করলে সবাইকে করতে হবে, সেতুতে গাড়ি পারাপার বন্ধ হয়ে যাবে। তাই কাউকে আটক করা হয়নি। তবে বিষয়টি লিখিতভাবে সড়ক বিভাগকে জানানো হয়েছে।

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
জাহালম

ভুল মামলার আসামি পাটকল শ্রমিক জাহালমের সাড়ে তিনবছর কারাভোগের ঘটনায় আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে দুদককে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ১১ জুলাই জাহালমের কারাভোগের ঘটনা তদন্ত করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক। ওই প্রতিবেদনে দুদক কর্মকর্তাদের গাফিলতি, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও অর্থআত্মসাতের ঘটনায় একটি চক্রের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।

মঙ্গলবার শুনানিতে আদালত বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের যারা ছিল তারা যাতে টাকা নিয়ে পালিয়ে না যায়। সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান, ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

পরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, জাহালমের ঘটনায় দুদকের আভ্যন্তরীন একটি তদন্ত হয়েছিল। দুদকের পরিচালক (আইন) আবুল হাসনাত মো. আব্দুল ওয়াদুদ তদন্ত করে একটা প্রতিবেদন দিয়েছেন। গত ১১ জুলাই রিপোর্টটি আমরা আদালতে দাখিল করেছি। তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে পড়েছি। আদালত বলেছেন, দুদকের একজন কর্মকর্তা এ ধরনের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন এটা খুবই সমর্থনযোগ্য।

তিনি বলেন, যেহেতু এটা দুদকের একটি আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন। কাজেই এ প্রতিবেদন দুদকের সচিবের কাছে গত ৩০ মে তদন্তকারি জমা দিয়েছেন। এখন এ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আদালত বলেছেন, যেহেতু কমিশনের কাছে উপস্থাপন হচ্ছে। আমরা দেখতে চাই কমিশন কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত জানতে আগামী ২১ আগস্ট এ মামলার পবরর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন যদি কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে সেটি ওই দিন আদালতকে জানাতে বলেছেন।

গত ২৭ জুন জাহালমের ঘটনায় দুদকের তদন্ত কমিটিকে ১১ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ১৩ মে জাহালমের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সম্পূরক অভিযোগপত্র এবং ব্যাংকের নথি দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

জাহালমের কারাবাসের বিষয়টি গত ২৮ জানুয়ারি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। দৈনিক প্রথম আলোতে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন তিনি।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২৬ মামলা থেকে জাহালমকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ আদেশের পর মুক্তি পায় তিন বছরের বেশি কারাবাস করা জাহালম। বিনা অপরাধে কারাভোগ করায় তাকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এ রুলের শুনানি চলছে হাইকোর্টে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র