Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রংপুরে কৃষক হতাশায়, ধান চাল সংগ্রহ শুরু

রংপুরে কৃষক হতাশায়, ধান চাল সংগ্রহ শুরু
বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় হতাশায় রংপুরের কৃষক, ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রংপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

ধানের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ না করায় হতাশায় রংপুরের কৃষকরা। এ পরিস্থিতি থেকে কৃষকদের বাঁচাতে সরকারি কোনো উদ্যোগ ছাড়াই রংপুরে শুরু হয়েছে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান কার্যক্রম।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ২৫ এপ্রিল থেকে সারাদেশে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও রংপুরে ১৮দিন পর এই কার্যক্রম হলো।

মঙ্গলবার (১৪ মে) বেলা ২টায় রংপুর সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে এই সংগ্রহ অভিযান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরিক) জাকির হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রংপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রইচ উদ্দিন সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল, জেলা মিল মালিক সমিতির সভাপতি হাসান আলী মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, সদর উপজেলা চাউলকল মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলতাফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম বাবু প্রমুখ।

 https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/14/1557846715022.jpg

এবার রংপুরে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান দেরিতে শুরু হলেও বিপাকে পড়েছেন খাদ্য বিভাগ। শুধুমাত্র চাল সংগ্রহের মধ্যে এই অভিযানের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছে। কৃষকদের তালিকা হাতে না পাওয়ায় ধান সংগ্রহ শুরু করা হচ্ছে না বলে জানান সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আরেফীন।

তিনি বার্তা২৪.কমকে জানান, ‘সরকার নির্ধারিত দরেই রংপুর সদরে চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষকদের তালিকা পাওয়ার পর ধানও সংগ্রহ করা হবে। এবার ৩৬ টাকা দরে সদর উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৬৮৪ মেট্রিক টন চাল, ৩৫ টাকা কেজি দরে ১৯১ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ২৬ টাকা কেজি ৪৮০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে।’

অন্যদিকে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রইচ উদ্দিন সরকার জানান, ‘এবার রংপুর জেলার কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, পীরগাছা ও রংপুর সদর উপজেলায় ২৫ হাজার ১৯০ মেট্রিক টন চাল ও ৩ হাজার ৯৯৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। এছাড়াও আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে ৭২৬ মেট্রিক টন। সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যে জেলা খাদ্য বিভাগ ৮৯৪ জন ডিলারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/14/1557847775069.jpg

রইচ উদ্দিন সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রংপুর সদর উপজেলায় ধান সংগ্রহ করা হবে ৪৮০ মেট্রিক টন ও ৪ হাজার ৬৮৪ মেট্রিক টন চাল। বদরগঞ্জ উপজেলায় ৫২৩ মেট্রিক টন ধান ও ২ হাজার  ১৩৫ মেট্রিক টন চাল, মিঠাপুকুর উপজেলায় ১ হাজার ৩৮ মেট্রিক টন ধান, ৫ হাজার ১৮৫ মেট্রিক টন চাল।

পীরগঞ্জ উপজেলায় ৬৯১ মেট্রিক টন ধান ও ৫ হাজার ৩৯১ মেট্রিক টন চাল, তারাগঞ্জ উপজেলায় ২৪৫ মেট্রিক টন ধান ও ২ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া গঙ্গাচড়া থেকে ৩৪৩ মেট্রিক টন ধান ও ১ হাজার ২৯৪ মেট্রিক টন চাল, কাউনিয়ায় ২৩৩ মেট্রিক টন ধান ও ১ হাজার ৪ মেট্রিক টন চাল এবং পীরগাছা উপজেলা হতে ৪ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন ধান ও ২ হাজার ২১৮ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে।’

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর রংপুর বিভাগে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ লাখ ৮৮ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন। এরমধ্যে ৩০-৩৫ ভাগ ধান ইতোমধ্যে কর্তন করা হয়েছে। ধানের বাজারমূল্য কম হওয়ায় এবার মূলধন হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন কৃষক।

আপনার মতামত লিখুন :

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ থেকে প্রিয়া সাহা বহিষ্কার

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ থেকে প্রিয়া সাহা বহিষ্কার
প্রিয়া সাহা, ছবি: সংগৃহীত

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুলাই) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের স্থায়ী কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, পরিষদের শৃঙ্খলা বিরোধী কাজের জন্য প্রিয়া সাহাকে সাময়িকভাবে সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। এটি অনতিবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

গত ১৮ জুলাই ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় স্বাধীনতা অগ্রগতির দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় প্রিয়া সাহা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিযোগ করে বলেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি এবং সেখানে ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এরইমধ্যে উধাও হয়ে গেছে হয়েছে। এখনও এক কোটি ৮০ লাখ আছে। যার মধ্যে ১৭ লাখ শিশু এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করে। আমাদেরকে সাহায্য করুন। আমি আমার ঘর হারিয়েছি, জমি হারিয়েছি। ইতোমধ্যেই আমার বাড়ি-ঘর দখল করেছে। জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা সরকার থেকে এর কোনো বিচার পাই নাই। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই। আমরা বাংলাদেশ ছাড়তে চাই না। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। 

বন্যা দুর্গতদের ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে ৬ মাস 

বন্যা দুর্গতদের ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে ৬ মাস 
গাইবান্ধায় বন্যা কবলিতদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধা থেকে ফিরে: গাইবান্ধা জেলার চারভাগের তিন ভাগ জুড়েই দুর্গম চরাঞ্চল আর নিচু এলাকা। এবারের বন্যায় নদী কেন্দ্রিক এ জেলায় প্রায় এক লাখ পরিবারের সাড়ে তিন লাখ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব মানুষের বছরে চার মাস চলে যায় শুধু উঠে দাঁড়াতেই। কিন্তু এবার ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে কমপক্ষে ছয় মাস।

প্রতিবছরই এ জেলার মানুষ বন্যা আর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। যুদ্ধ করতে হয় ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে বেঁচে থাকার জন্য। এবারও বন্যা ও নদী ভাঙন দেখেছে গাইবান্ধাবাসী। কিন্তু এমন ভয়াবহতার কথা ভাবেনি। এবারের বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ গত ত্রিশ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে।

উজানের ঢল আর বন্যার পানির তোড়জোড়ে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। বিলীন হয়েছে ঘরবাড়ি। মারা গেছে গবাদি পশু। পানির নিচে নষ্ট হয়েছে ১১ হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমি। পুকুর ডুবে ভেসে গেছে মাছও। ভেঙে গেছে কাঁচা-পাকা রাস্তা, কালভার্টসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিরক্ষা বাঁধ। বন্যার পানি দুর্গম চরাঞ্চল উপচে ঢুকেছে শহরের বুকে। যেন চারিদিকে শুধু পানি আর পানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563808053285.jpg

এখন বন্যার পানি কমতে শুরু হলেও, কমছে না পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ। অশান্ত ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, যমুনা, করতোয়া আর তিস্তায় ধীর গতিতে বিপদসীমার নিচের দিকে যাচ্ছে বন্যার পানি। এখন ঘরে ফেরার অপেক্ষায় বানভাসি মানুষরা। নতুন করে ঘুরে দাড়াতে প্রতিবছর যেখানে সময় লেগেছে তিন থেকে চার মাস, এবার সেখানে ছয়মাসের হিসেব গুণতে হবে বন্যা দুর্গতদের।

জেলার সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৫১ ইউনিয়ন এবারের বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখ ৪ হাজার পরিবারের প্রায় ৪ লাখ মানুষ। এগারো হাজার হেক্টর আবাদি জমির বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির তোড়ে ভেঙে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে ৫১৭ কিলোমিটার কাঁচা ও পাকা রাস্তা। সাড়ে ৫৭ কিলোমিটার বাঁধের সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮ টি কালভার্ট।

এতো ক্ষতির মধ্যে সাধারণ মানুষের বাঁচার জন্য ফসলি জমি আর মাথা গোঁজাবার ঠাঁই টুকু ঠিকঠাক করতেই কেটে যাবে কয়েক মাস। তারপরও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা নদী বেষ্টিত গাইবান্ধার ক্ষতিগ্রস্ত বন্যার্তরা। তা নিয়েও চলছে হিসেব-নিকেষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563808094331.jpg

এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সোলায়মান মিয়া। ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালি ইউনিয়নের আনন্দবাজারে তার সাথে কথা হয়। বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে তিনি জানান, ‘বন্যায় ভেসে গেছে তার ঘরবাড়ি। পানিতে ডুবে মারা গেছে দুটি ছাগল ও একটি গরু। সব সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃশ্ব। এখন কোমর পানিতে ডুবে আছে প্রায় ১০ বিঘা আবাদি জমি।’

সোলায়মান জানান, ‘পানি কমলে সে বাড়ি ফিরবে। আগেও এমন ভাঙন আর বন্যা দেখেছে। প্রতিবছর বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করে ঘুরে দাড়াতে তিন চার সময় লাগে। কিন্তু এবার ছয় মাসেও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে কিনা সন্দেহ। অনেক ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষতি পুষিয়ে উঠা হঠাৎ করে সম্ভব নয়।’

এই কৃষকের মত গাইবান্ধার হাজারো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের সবার আহাজারি আর হাহাকারে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। রবি মৌসুমে এসব জমিতে ফসল উৎপাদন করতে না পারলে পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসার ভয়ে আতঙ্কে উঠছেন তারা।

এদিকে গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বন্যা পরবর্তী সময়ে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এবারের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে কৃষকদের একটু বেশি সময় লাগতে পারে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র