Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ব্যস্ত সময় পার করছেন স্যান্ডেল তৈরির কারিগররা

ব্যস্ত সময় পার করছেন স্যান্ডেল তৈরির কারিগররা
ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্যান্ডেল তৈরির কারিগররা, ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রংপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে চাহিদা বাড়ে স্যান্ডেলের। ঈদের বাকি আর ২২ দিন। এরই মধ্যে কাজের অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন রংপুরের স্যান্ডেল তৈরির কারিগররা। এ পর্যন্ত যেসব অর্ডার নিয়েছে সেগুলোই ডেলিভারি দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। রাতদিন নিরলস পরিশ্রম করছেন।

চাহিদা অনুযায়ী এসব কারিগররা তৈরি করছেন জোড়ায় জোড়ায় নানান মাপের স্যান্ডেল। সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ তাদের মূল ক্রেতা। ফলে এটা মাথায় রেখেই দাম নির্ধারণ করা হয়।

জানা গেছে, গতানুগতিক জুতা বা স্যান্ডেল তৈরির কারখানার চেয়ে একটু ভিন্ন এসব কারিগররা। রাবার কার্টিজ থেকে শুরু করে আঠা বসান, ফিনিশিং, প্রিন্টিং সবই হচ্ছে তাদের হাতের নিখুঁত ছোঁয়ায়। শুধু সাইড ফিনিশিংয়ের কাজটা করা হয় মেশিন দিয়ে। রংপুর নগরীর আট থেকে দশটি কারখানায় স্যান্ডেল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।

ব্যস্ত সময় পার করছেন স্যান্ডেল তৈরির কারিগররা

ঈদকে ঘিরে কারখানা মালিকদের দেড় থেকে চার লাখ টাকার ব্যবসা হবে বলেও জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৪ মে) রংপুর মহানগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়ের রিপোর্টার্স ক্লাব লেনের দুটি ছোট কারখানায় কারিগরদের অত্যন্ত ব্যস্ত দেখা গেছে।

আরএস সুজ-এর সত্ত্বাধিকারী তাপস দাস বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'এখন অর্ডার নেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন সাইজের স্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে। আমার এ খাতে এখন প্রতিদিন চারজন কারিগর কাজ করছে। তাদের প্রতিজনকে দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা করে মজুরি দেয়া হচ্ছে।'

ব্যস্ত সময় পার করছেন স্যান্ডেল তৈরির কারিগররা

তিনি আরও জানান, ঈদকে সামনে রেখে কয়েকশ ডজন স্যান্ডেল বিক্রির টার্গেট করেছে আরএস সুজ। প্রচণ্ড গরমে কারিগরদের শরীর থেকে ঘাম ঝরলে কাজ থেমে নেই। তবে মাথার ওপর ছোট ফ্যানই এ গরমের একমাত্র ভরসা।

কাজ করতে করতে জীবন দাস নামের এক কারিগর বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'কাজের চাপ অনেক, তাছাড়া টার্গেট আছে। আগামী ১৫ রমজানের মধ্যে আমরা ৬০০ জোড়া স্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষ করব। এসব স্যান্ডেল আমাদের নিজস্ব দোকানে খুচরা বিক্রি করা ছাড়াও আশপাশের ছোট ছোট দোকানেও দেয়া হবে। একারণে একটু ব্যস্ততা বেড়েছে।'

ব্যস্ত সময় পার করছেন স্যান্ডেল তৈরির কারিগররা

প্রত্যেক জোড়া স্যান্ডেল সাইজ ও মান অনুযায়ী ২৫০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হবে। এসব স্যান্ডেলের দাম কম হলেও বেশি দিন ব্যবহার করা যায় বলে জানালেন আরেক কারিগর।

হাবিব বুট হাউস-এর খাইরুল ইসলাম শুভ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, '১৫ রমজানের পর থেকে স্যান্ডেলের চাহিদা বেড়ে যাবে। তবে ঈদের আগের রাতে আমাদের বানানো স্যান্ডেল সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।'

আপনার মতামত লিখুন :

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক
রূপসা সেতুর টোল আদায় নিয়ে দুদকের অভিযান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

খুলনার রূপসা (খানজাহান আলী) সেতুর টোল আদায় নিয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এই অভিযান চালান।

অভিযানে ট্রাকের টোল আদায়ে অনিয়মের প্রমাণ পান তারা। এ ঘটনায় টোল আদায়কারী কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে দুদক।

দুদক খুলনার উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসান জানান, সেতু পারাপারের ক্ষেত্রে বড় ট্রাকের টোল (খাজনা) ২৭৫ টাকা। কিন্তু ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা ২৫০ টাকা নিয়ে মাঝারি ট্রাকের রশিদ কাটতো। মাঝারি ট্রাকের টোল ১৮০ টাকা। বাকি ৭০ টাকা তারা আত্মসাৎ করতো। এভাবে প্রতিদিন ২২০/২৫০টি ট্রাকের টোলের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতো আদায়কারীরা।

Rupsha Bridge

তিনি বলেন, প্রথমে আমরা সেতুর কাছে দাঁড়িয়ে ট্রাকের রশিদ যাচাই করেছি। কিন্তু কোনো ট্রাকচালকের কাছে রশিদ পাওয়া যায়নি। চালকরা বড় ট্রাকের জন্য কেউ ২৫০ টাকা, কেউ ২৪০ টাকা করে দিয়েছে বলে স্বীকার করেন। অথচ বড় ট্রাকের টোল ২৭৫ টাকা। টাকা কম দেওয়ার কারণে তাদের রশিদ দেওয়া হয় না বলে চালকরা জানান। পরে টোলঘরে অভিযান চালালে দেখা যায়- সেখানে ছোট ট্রাকের টোল কাটা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা চেক করে দেখা যায়- প্রতিটি বড় ট্রাকের টোল মাঝারি ট্রাক হিসেবে আদায় করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তা জানান, এই অনিয়মের সঙ্গে সবাই জড়িত। আটক করলে সবাইকে করতে হবে, সেতুতে গাড়ি পারাপার বন্ধ হয়ে যাবে। তাই কাউকে আটক করা হয়নি। তবে বিষয়টি লিখিতভাবে সড়ক বিভাগকে জানানো হয়েছে।

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
জাহালম

ভুল মামলার আসামি পাটকল শ্রমিক জাহালমের সাড়ে তিনবছর কারাভোগের ঘটনায় আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২১ আগস্টের মধ্যে দুদককে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ১১ জুলাই জাহালমের কারাভোগের ঘটনা তদন্ত করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক। ওই প্রতিবেদনে দুদক কর্মকর্তাদের গাফিলতি, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও অর্থআত্মসাতের ঘটনায় একটি চক্রের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।

মঙ্গলবার শুনানিতে আদালত বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের যারা ছিল তারা যাতে টাকা নিয়ে পালিয়ে না যায়। সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান, ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

পরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, জাহালমের ঘটনায় দুদকের আভ্যন্তরীন একটি তদন্ত হয়েছিল। দুদকের পরিচালক (আইন) আবুল হাসনাত মো. আব্দুল ওয়াদুদ তদন্ত করে একটা প্রতিবেদন দিয়েছেন। গত ১১ জুলাই রিপোর্টটি আমরা আদালতে দাখিল করেছি। তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে পড়েছি। আদালত বলেছেন, দুদকের একজন কর্মকর্তা এ ধরনের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন এটা খুবই সমর্থনযোগ্য।

তিনি বলেন, যেহেতু এটা দুদকের একটি আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন। কাজেই এ প্রতিবেদন দুদকের সচিবের কাছে গত ৩০ মে তদন্তকারি জমা দিয়েছেন। এখন এ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আদালত বলেছেন, যেহেতু কমিশনের কাছে উপস্থাপন হচ্ছে। আমরা দেখতে চাই কমিশন কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত জানতে আগামী ২১ আগস্ট এ মামলার পবরর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন যদি কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে সেটি ওই দিন আদালতকে জানাতে বলেছেন।

গত ২৭ জুন জাহালমের ঘটনায় দুদকের তদন্ত কমিটিকে ১১ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ১৩ মে জাহালমের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সম্পূরক অভিযোগপত্র এবং ব্যাংকের নথি দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

জাহালমের কারাবাসের বিষয়টি গত ২৮ জানুয়ারি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। দৈনিক প্রথম আলোতে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন তিনি।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২৬ মামলা থেকে জাহালমকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ আদেশের পর মুক্তি পায় তিন বছরের বেশি কারাবাস করা জাহালম। বিনা অপরাধে কারাভোগ করায় তাকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এ রুলের শুনানি চলছে হাইকোর্টে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র