Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

উদ্বোধনের ৪ মাসেও নেই খাল খননের অগ্রগতি

উদ্বোধনের ৪ মাসেও নেই খাল খননের অগ্রগতি
শ্যামাসুন্দরী খাল খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে জেলা প্রশাসক / ছবি: বার্তা২৪
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রংপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ শতবর্ষের ডেল্টাপ্ল্যান কার্যক্রমের আওতায় শ্যামাসুন্দরী খাল খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। দেখতে দেখতে চার মাস ১৭ দিন পার হলেও এখনো খাল খননে হয়নি কোনো অগ্রগতি।

বরং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাভ লোকসানের হিসাব কষে কাজটি করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এ কারণে রংপুর মহানগরীর পানি নিষ্কাশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই খালের খনন ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর বিসিক শিল্পনগরীর প্রান্ত চেকপোস্ট থেকে শ্যামাসুন্দরী খালের সাড়ে সাত কিলোমিটার খনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব। এরপর কাজ শুরু না করে নানা অজুহাত দিতে থাকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাবু এন্টারপ্রাইজ। পরে জামানতের ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করেছে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এখন আরও বড় প্রকল্প নিয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557759708633.jpg

কাজ না করার কারণ জানতে চাইলে বাবু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু সুলতান মো. সালাউদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘খালের দুই পাড়ের ওয়াকওয়ে এবং সুরক্ষা প্রাচীরের অধিকাংশ আরসিসি পিলারের উচ্চতা চার ফুটের মধ্যে। এখন খাল পাঁচ ফুট খনন করলে দুই পাড় ভেঙে যাবে। বিষয়টি জানালে পাউবো দায়িত্ব নিতে চায়নি। ফলে এর ক্ষতিপূরণ আমাকেই দিতে হতো। এ কারণে কাজটি করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি।’

রংপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শ্যামাসুন্দরী খালটির পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয় গত বছর। এক কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে খালটি সাড়ে সাত কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে আর কেউ অংশ না নেওয়ায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় বাবু এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু পরবর্তীতে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির লোকসানের অযুহাত দেখিয়ে কাজ করতে অপরাগতা দেখায়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557759794056.jpg

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে পূর্বের পরিকল্পনার চেয়ে একটু বড় পরিসরে খনন কাজ করার কথা ভাবছে পানি উন্নয়নন বোর্ড। সে ক্ষেত্রে আমরা অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরি করছি। বর্ষা মৌসুমের পরেই খাল খনন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দখলমুক্ত এবং শ্যামাসুন্দরীর সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শুরু করা হবে।’

এদিকে শুরুতে শ্যামাসুন্দরী খাল যে অবস্থায় আছে, সেভাবেই খনন করার কথা ছিল। কিন্তু এবার জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে মৌজা ম্যাপ ধরে খালের প্রকৃত প্রস্থ বের করা হচ্ছে। এবার খাল খননের পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধনের নানা বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডকে মৌজা ম্যাপ ধরে খালের প্রস্থ বের করতে বলা হয়েছে। নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য শ্যামাসুন্দরী খাল দখলমুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। এটি নিয়ে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557759825649.jpg

বর্তমানে রংপুর নগরীর বুক চিড়ে প্রবাহিত শ্যামাসুন্দরী খালটি বেদখল হয়ে দুই ধারে বড় বড় স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এ সকল স্থাপনার পয়ঃনিষ্কাশনের পাইপলাইন খালটিতে সংযোগ রয়েছে। খালটি দিন দিন সংকীর্ণ হতে থাকায় নর্দমায় পরিণত হয়েছে। ময়লা আবর্জনার স্তূপে বন্ধ হয়ে গেছে পানির প্রবাহ। দূষিত পানিতে মশার মাছি আর আবর্জনার ভাগাড় থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এ কারণে নগরবাসীকে নাকে রুমাল দিয়ে চলা ফেরা করতে হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

গাইবান্ধার বন্যার্তদের জন্য জরুরি শুকনো খাবার

গাইবান্ধার বন্যার্তদের জন্য জরুরি শুকনো খাবার
গাইবান্ধার উদ্দেশে যাত্রার পূর্বে ডেপুটি স্পিকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধা থেকে: 'আমার এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যা দুর্গত মানুষদের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত শুকনো খাবার। কারণ সকলের ঘরেই কমবেশি খাবার আছে, কিন্তু রান্না করে খাবার ব্যবস্থা করার উপায় নাই।'

নিজের নির্বাচনী এলাকা গাইবাান্ধায় যাওয়ার সময় আকাশ পথে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলছিলেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকালে তেঁজগাও বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বাশার থেকে হেলিকপ্টারে করে নিজ জেলার বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যান ডেপুটি স্পিকার।

তার সঙ্গে রয়েছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী, একেএম এনামুল হক শামীম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব মো. শাহ্ কামাল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

গাইবান্ধার বন্যার্ত মানুষদের জন্য জরুরি শুকনো খাবার

ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, 'গাইবান্ধায় এবারের বন্যা পরিস্থিতি ১৯৮৮ সালের বন্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। জেলা শহর সবসময় সুরক্ষিত থাকলেও এবার সেটাও নাই। কারণ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ এমনভাবে ভেঙে গেছে যে, পুরো এলাকাই বন্যায় প্লাবিত।'

তিনি আরও বলেন, 'আমার জেলায় দুর্গত মানুষদের ঘরে ঘরে খাবার আছে। তবে তারা খেতে পারছে না রান্না করার অভাবে। শুকনো খাবারটাই এই মুহূর্তে জরুরি প্রয়োজন। আমি নিজ উদ্যোগে বগুড়া থেকে চিড়া সংগ্রহ করেছি।’

সংসদের ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আমি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানকে অনুরোধ করেছি, জিআর নগদ অর্থের পরিবর্তে যদি শুকনো খাবার হিসেবে চিড়া কিনে দেওয়া হয় তাহলে বন্যার্তদের জন্যে কিছুটা হলেও উপকার হবে।'

এডিস মশা নিধনে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এডিস মশা নিধনে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
র‌্যালিতে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপটা বেশি। এই ডেঙ্গু রোগ বহনকারী এডিস মশা নিধনে সরকারের সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সামনে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সচেতনতা র‍্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563514435926.jpg

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগ বহনকারী এডিস মশা নিধনে আমাদের যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। ২০০০ সালের প্রথম দিক থেকেই এ রোগের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়। গেল বছরের আগ পর্যন্ত এটি নিয়ে আমরা তেমন একটা চিন্তিত ছিলাম না। কিন্তু এবার চিন্তার বিষয় আছে। আর তাই এই এডিস মশা নিধনে সরকারের যে সকল প্রচেষ্টা ছিল। সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টিতে কোথাও পানি জমে থাকলে এই মশা সহজে বিস্তার লাভ করে। আমাদের নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। নিজেদের আগে সচেতন হতে হবে। তাহলেই এই রোগ ও মশা থেকে আমরা মুক্তি পাব।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র