Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

সড়কেই ইফতার করলেন রাজশাহীতে আন্দোলনরত পাটকল শ্রমিকরা

সড়কেই ইফতার করলেন রাজশাহীতে আন্দোলনরত পাটকল শ্রমিকরা
সড়কেই ইফতার করলেন রাজশাহীতে আন্দোলনরত পাটকল শ্রমিকরা / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

বকেয়া বেতন ভাতাসহ নয় দফা দাবিতে আন্দোলনরত রাজশাহী জুট মিলসের শ্রমিক-কর্মচারীরা সোমবার (১৩ মে) ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বসেই ইফতার সেরেছেন। কেউ কেউ সড়কের ওপরেই মাগরিবের নামাজও পড়েছেন।

জুট মিল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের পলিথিনের প্যাকেটে খিচুড়ি ও পানি সরবরাহ করা হয়। পরে মঙ্গলবার (১৪ মে) কর্মবিরতি, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে তারা ফিরে যান।

এর আগে সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জুট মিলসের প্রধান ফটক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক হয়ে কাটাখালি বাজার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। সেখানে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। সেখানেই তারা সমাবেশও করেন। ফলে সড়কে যান চলচাল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সড়কের দু’পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে বিকল্প পথে যানবাহন পারাপারের ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557757255744.jpg

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, গত জানুয়ারি মাস থেকে তাদের বেতনভাতা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। বকেয়া বেতন, মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন ও উৎসবভাতাসহ নয় দফা দাবিতে শ্রমিক-কর্মচারীরা এ আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

রাজশাহী জুট মিলস শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি জিল্লুর রহমান জানান, আগে তাদের বেতনভাতা ও মজুরি ছিল ৪ হাজার ১৫০ টাকা। বর্তমানে সর্বনিম্ন ৮ হাজার ৩০০ টাকা ঘোষণা হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে তারা নতুন বেতন স্কেলে কোনো বেতন মজুরি পান না। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা সংকটে পড়েছেন। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের সামনে কোনো পথ নেই।

কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘সন্ধ্যার আগে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছে পুলিশ। শ্রমিকরা ইফতার করার পর সড়ক ছেড়ে দিয়েছে। এখন মূল রাস্তা দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন :

সেফহোম থেকে নতুন জীবন পেল মায়া তারা লতারা

সেফহোম থেকে নতুন জীবন পেল মায়া তারা লতারা
চাকরিপ্রাপ্ত সেফহোমের বাকপ্রতিবন্ধীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মায়া, তারা, লতা, আসমা, সকলেই বাকপ্রতিবন্ধী। কেউ কথা বলতে পারেন না। এমনকি কেউ কেউ আবার কানেও শুনতে পান না। কথা বলেন ইশারায়। রাজশাহী সেফহোমে থাকা মায়া ও আসমার মত আরও ১০ জন মেয়েকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সেফহোমের ব্যবস্থাপক লাইজু রাজ্জাক।

ফলে সেফহোমের বন্দী জীবন ছেড়ে নতুন পৃথিবীতে পা রাখছেন তারা। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ওদের বিদায় উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেফহোম কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠান শুরুর পর আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অতিথিদের অনেকের চোখই ভিজে ওঠে।

বেসরকারি সংস্থা ‘ইউসেফ বাংলাদেশে’র পক্ষ থেকে এই মেয়েদের সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর তাদের মাধ্যমেই স্কয়ার গ্রুপের টেক্সটাইল ডিভিশনে এদের চাকরির বন্দোবস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে অবস্থিত।

অনুষ্ঠানে ইউসেফ’র প্রশিক্ষক রউফুল ইসলাম বলেন, তারা এই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন। প্রশিক্ষণ নেওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এরা হলেন- মায়া সুলতানা (১৮), আসমা খাতুন (২০), নাসরিন খাতুন (২৪), তারা (২৫), সালমা (২১), তানিয়া (২৫), আলোকি (২৪), লতা (২৬), জাহানারা (৩০) ও হাজেরা (১৮)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566518368316.jpg

তাদের বিদায় অনুষ্ঠানে সেফহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাক শোনালেন কীভাবে তাদের চাকরির জোগাড় হলো। তিনি একদিন ইউসেফ বাংলাদেশের রাজশাহী কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন ‘চাকরির মেলা’ শিরোনামে একটি নোটিশ ঝুলছে। সেখানে গিয়ে তিনি বিস্তারিতভাবে সব তথ্য জানতে পারেন।

পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার পর তারা মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করেন। উল্লেখ্য যে, এই চাকরির মেলায় প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ কোটা ছিল। পরবর্তিতে সেফহোমের ১৫ জন মেয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর নির্ধারিত সময়ে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্কয়ার গ্রুপ’র কর্মকর্তারা আসেন পরীক্ষা নিতে। সেফহোমেই পরীক্ষা নেওয়া হয় তাদের কাজের। সে পরীক্ষায় পাস করেন ১০ জন এবং পাস করার সাথে সাথেই তাদের দেওয়া হয় নিয়োগপত্র।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566518405236.jpg

প্রথম অবস্থায় তারা মাসে ছয় হাজার টাকা করে বেতন পাবেন। কাজে ভালো করলে পরের বছরই বেতন বেড়ে হবে ১২ হাজার। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা তারাই করবে। এজন্য মাসে বেতন থেকে ২ হাজার টাকা কাটা যাবে।

সেফহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক জানান, আগামী শনিবার তিনি এই মেয়েদের নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাবেন। নিজ হাতে তাদের ব্যাংক হিসাব নম্বর খুলে দিয়ে আসবেন। যাওয়ার আগেই তাদের জন্য নতুন জমা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যেকের জন্য একটা করে কম্বল, মশারি, এক জোড়া করে স্যান্ডেল ও একটি করে ব্যাগ কিনে দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাদের উদ্দেশ্যে সমাজসেবা অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক রাশেদুল কবীর বলেন, ‘তোমাদের হয়তো ঠিকমতো দেখাশোনা করতে পারিনি, তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও’।

রাজশাহীতে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা, গ্রেফতার ৩

রাজশাহীতে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা, গ্রেফতার ৩
অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত তিনজন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহীতে স্কুল থেকে ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে হামিদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে স্কুল ছুটির পর নিজ বাড়িতে ফেরার পথে আমচত্বর থেকে ওই ছাত্রীকে তুলে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে নগরীর নওদাপাড়ায় ফেলে রেখে যায় তারা।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- নগরীর আমচত্বর এলাকার ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী আতিকুর রহমান, সহযোগী শিমুল ও অটোরিকশা চালক ফয়সাল।

নগরীর শাহ মখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রায়শ আমচত্বর এলাকার দোকানে কাজ করা ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী আতিকুর ভুক্তভোগীকে বিরক্ত করতো। মাঝেমধ্যে প্রেমের প্রস্তাব দিতো।

বৃহস্পতিবারও সে প্রতিদিনের মতো দুপুর ২টার পর স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমচত্বর পৌঁছালে আতিকুর তার সহযোগি শিমুল ও অটোরিক্সা চালক ফয়সালের সহযোগীতায় জোরপূর্বক ভুক্তভোগীকে রাস্তা থেকে অটোতে তুলে নিয়ে চলে যায়।

ওসি আরও জানান, ওই ছাত্রী বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিষয়টি শাহমখদুম থানায় জানায়। মৌখিকভাবে জানানোর পর থেকেই পুলিশ তাকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। তবে সন্ধ্যার দিকে অপহরণকারী বখাটেরা ওই ছাত্রীকে আমচত্বর ফেলে রেখে চলে যায়। ছাত্রীর কাছ থেকে পরিচয় জেনে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের তিনজনকে আটক করে।

ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘রাতে ওই ছাত্রীর মা সাহেব জানবিবি বাদী হয়ে তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। মামলা গ্রেফতার দেখিয়ে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র