Alexa

'তুমি বাঁচার চেষ্টা কর' বলে সাগরে তলিয়ে গেলেন ছোট ভাই

'তুমি বাঁচার চেষ্টা কর' বলে সাগরে তলিয়ে গেলেন ছোট ভাই

নিহত মারুফ, ছবি: সংগৃহীত

‘ভাই আমারে বাঁচানো যাইতনায়, আমার পুরা শরীর আস্তে আস্তে ঠান্ডায় অবশ ওই যার (যাচ্ছে)। আমারে ছাড়ি দেও, আমি আর পারছিনা। তুমি বাঁচার চেষ্টা কর’ বলে বড় ভাই মাছুমের হাত ছাড়িয়ে সাগরে তলিয়ে যান মারুফ।

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিহত মারুফ ও তার বড় ভাই মাছুম একসাথেই ছিলেন। দুজন সাগর পথে দালালের মাধ্যমে ইতালি পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছিলেন।

নৌকাডুবিতে বেঁচে যাওয়া বড় ভাই মারুফের মৃত্যুর খবরটি এভাবেই দেন পরিবারের সদস্যদের। ছোট ভাই তলিয়ে যাওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তের স্মৃতি স্মরণ করে টেলিফোনে কাঁদছেন মৃত্যুকে খুব কাছে থেকে দেখা মাছুম।

আরও পড়ুন: ইউরোপ যাওয়ার পথে সাগরে ডুবে সিলেটের ৬ যুবকের মৃত্যু

বড়ভাই মাছুম আহমদ জানান, মারুফকে বাঁচাতে তিনি দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা সাগরে সাঁতার কেটেছেন। তারপরও ভাইকে বাঁচাতে পারেননি মাছুম। এক পর্যায়ে মারুফ বলেছিল ভাই তুমি আমার হাত ছেড়ে দাও, আমার শরীর অবশ হয়ে পড়েছে, এরপর মারুফ নিজেই হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সাগরে তলিয়ে যান।

তিনমাস আগে গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কদুপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর দুই ছেলে কামরান আহমেদ মারুফ (২০) ও মাছুম আহমদ (২৫) অবৈধভাবে সমুদ্র পথে ইতালি যাওয়ার জন্য আরব আমিরাত (ডুবাই) থেকে লিবিয়ায় যান।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় লিবিয়া থেকে নৌকা পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের লক্ষ্যে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে ওই নৌকা যাত্রা করে। বড় নৌকা থেকে ছোট নৌকায় স্থানান্তরের সময় নৌকাটি ডুবে যায়।

শুক্রবার (১০ মে) সকালে এ সময় কামরান আহমদ মারুফ মারা যান। তার ভাই মাছুম আহমদ (২৫) ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। নৌকাডুবিতে নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সিলেটের ৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আপনার মতামত লিখুন :