Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

‘ঈদযাত্রায় উত্তরের যাত্রীদের ভোগান্তি কম হবে’

‘ঈদযাত্রায় উত্তরের যাত্রীদের ভোগান্তি কম হবে’
ছবি: বার্তা২৪.কম
রেজা-উদ্-দৌলাহ প্রধান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের বাসে ঈদযাত্রার অপর নাম ভোগান্তি। গত কয়েক বছরে সড়ক পথে ঈদযাত্রায় গন্তব্যে পৌঁছুতে প্রায় সময়ই নাভি:শ্বাস উঠে যায় যাত্রীদের।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফোর লেনে রূপান্তরের কাজ, প্রায় ২০টি ছোট বড় পুল, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ কাজের কারণে গত কয়েক বছর ধরেই এই মহাসড়কে ঈদযাত্রা অনেকটা বিভীষিকার মত। ফোর লেনের কাজ এখনো পুরোটা শেষ হয়নি শুধুমাত্র কয়েকটা পুল ব্রিজ উদ্বোধন করে যানবাহন চলাচল করা শুরু হয়েছে। এ বছর ঈদযাত্রায় তাই যাত্রীদের ভোগান্তি তুলনামূলক কম হবে বলে আশাবাদ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের।

শুক্রবার (১০ মে) রাতে গাইবান্ধা যাব বলে রাত সোয়া ১০টায় কল্যাণপুরের এস আর ট্রাভেলসের কাউন্টারে যাই। কাউন্টার ভর্তি যাত্রী তখন বাসের জন্য অপেক্ষা করছে। কেউ কেউ কাউন্টারের বাইরে ফুটপাতেও বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। কাউন্টারের টিকেট বিক্রেতাদের অনেকে যাত্রীদের নিয়ে ব্যস্ত, কারো মনোযোগ মোবাইলে। তবে কাউন্টারের পরিবেশ এখনো ঈদ মৌসুমের মত নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/11/1557515564249.jpg

যে বাস আগে পাব সেটাতেই গাইবান্ধা যাওয়ার ইচ্ছে আমার। কাউন্টারে থাকা টিকেট বিক্রেতার কাছে টিকেট চাইলাম। বিক্রেতার উত্তর গাইবান্ধার শেষ গাড়ি রাত সাড়ে ১১ টায়। ভাড়া ৪৫০ টাকা (নন এসি)। সাড়ে ১১ বাজতে তখনও সোয়া এক ঘণ্টা বাকী।

পাশেই শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার। তাই সেখানে খোঁজ নিতে চলে গেলাম। শ্যামলী পরিবহনের টিকেট বিক্রেতার কাছে বাসের কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, সাড়ে ১০টায় তাদের একটা বাস আছে। ভাড়া ৪০০ টাকা (নন এসি)। আমি সে টিকেট কেটে নিলাম।

টিকেট বিক্রেতার নাম মোহাম্মদ মিলন। মধ্য বয়স্ক। চোখে মোটা ফ্রেমের পুরানো চশমা। তার কছে রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলাম। কিছুটা হাসিমুখেই তিনি উত্তর দিলেন, 'আগের চেয়ে ভালো, ঢাকা টাঙ্গাইল রোড বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত বেশ ক্লিয়ার। এবারের ঈদে ভোগান্তি কম হতে পারে।'

তবে মিলনের কথা শেষ না হতেই পাশে থাকা অপর টিকেট বিক্রেতা কথা টেনে নিয়ে বলেন, কম হলেও ততটা কমবে না, কারণ এখনো ঢাকা-কালিয়াকৈর রোডে অনেক ব্রিজের কাজ শেষ হয়নি। আবার সিরাজগঞ্জ থেকে রংপুর পর্যন্ত ফোর লেনের কাজ শুরু হবে। তখন আবার একই অবস্থা হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/11/1557515582973.jpg

তার কথায় সায় দেন মিলন। এবার তিনি বলেন, 'আসলে উন্নয়ন কাজ শুরু হলে সাময়িক অসুবিধা হবেই। উন্নয়ন হতে সময় লাগে। কোন কোন দেশে ৫০ বছর ১০০ বছর লেগে যায় সমস্ত উন্নয়ন কাজ শেষ হতে। আমাদের দেশে গেল ৫/৭ বছরে বড় বড় উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে।'

তাকে জিজ্ঞেস করলাম ঈদের টিকেট কবে বিক্রি শুরু হবে? তিনি জানান, '১৫ রোজা থেকে ঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রি হতে পারে। এখনো নিশ্চিত নয়। তবে আগে ভাগেই যাওয়া ভালো।'

এদিকে সরেজমিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে দেখা যায়, ফোর লেনের কাজ অর্ধসম্পন্ন। কোথাও কোথাও রাস্তা খানা খন্দে ভরা, কোথাও পিচ উঠে গিয়ে মাটি বেরিয়ে আছে। আর প্রায় জায়গাতেই মহাসড়কের বাম পাশ যতটা নিচু ঠিক ততটাই অমসৃণ, যা গাড়ি চলাচলের অনোপযুক্ত। এছাড়া এখনো মহাসড়কে কয়েকটা ব্রিজে শুধু লোহার রড় গাঁথানো আছে কিন্তু ঢালাই দেয়া নেই। দীর্ঘদিন ধরে এগুলো এভাবেই অঝে। আসন্ন ঈদের আগেই এগুলা ঠিক হবে না বলেই বিশ্বাস স্থানীয়দের।

আপনার মতামত লিখুন :

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক
রূপসা সেতুর টোল আদায় নিয়ে দুদকের অভিযান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

খুলনার রূপসা (খানজাহান আলী) সেতুর টোল আদায় নিয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এই অভিযান চালান।

অভিযানে ট্রাকের টোল আদায়ে অনিয়মের প্রমাণ পান তারা। এ ঘটনায় টোল আদায়কারী কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে দুদক।

দুদক খুলনার উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসান জানান, সেতু পারাপারের ক্ষেত্রে বড় ট্রাকের টোল (খাজনা) ২৭৫ টাকা। কিন্তু ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা ২৫০ টাকা নিয়ে মাঝারি ট্রাকের রশিদ কাটতো। মাঝারি ট্রাকের টোল ১৮০ টাকা। বাকি ৭০ টাকা তারা আত্মসাৎ করতো। এভাবে প্রতিদিন ২২০/২৫০টি ট্রাকের টোলের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতো আদায়কারীরা।

Rupsha Bridge

তিনি বলেন, প্রথমে আমরা সেতুর কাছে দাঁড়িয়ে ট্রাকের রশিদ যাচাই করেছি। কিন্তু কোনো ট্রাকচালকের কাছে রশিদ পাওয়া যায়নি। চালকরা বড় ট্রাকের জন্য কেউ ২৫০ টাকা, কেউ ২৪০ টাকা করে দিয়েছে বলে স্বীকার করেন। অথচ বড় ট্রাকের টোল ২৭৫ টাকা। টাকা কম দেওয়ার কারণে তাদের রশিদ দেওয়া হয় না বলে চালকরা জানান। পরে টোলঘরে অভিযান চালালে দেখা যায়- সেখানে ছোট ট্রাকের টোল কাটা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা চেক করে দেখা যায়- প্রতিটি বড় ট্রাকের টোল মাঝারি ট্রাক হিসেবে আদায় করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তা জানান, এই অনিয়মের সঙ্গে সবাই জড়িত। আটক করলে সবাইকে করতে হবে, সেতুতে গাড়ি পারাপার বন্ধ হয়ে যাবে। তাই কাউকে আটক করা হয়নি। তবে বিষয়টি লিখিতভাবে সড়ক বিভাগকে জানানো হয়েছে।

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
জাহালম

ভুল মামলার আসামি পাটকল শ্রমিক জাহালমের সাড়ে তিনবছর কারাভোগের ঘটনায় আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে দুদককে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ১১ জুলাই জাহালমের কারাভোগের ঘটনা তদন্ত করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক। ওই প্রতিবেদনে দুদক কর্মকর্তাদের গাফিলতি, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও অর্থআত্মসাতের ঘটনায় একটি চক্রের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।

মঙ্গলবার শুনানিতে আদালত বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের যারা ছিল তারা যাতে টাকা নিয়ে পালিয়ে না যায়। সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান, ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

পরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, জাহালমের ঘটনায় দুদকের আভ্যন্তরীন একটি তদন্ত হয়েছিল। দুদকের পরিচালক (আইন) আবুল হাসনাত মো. আব্দুল ওয়াদুদ তদন্ত করে একটা প্রতিবেদন দিয়েছেন। গত ১১ জুলাই রিপোর্টটি আমরা আদালতে দাখিল করেছি। তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে পড়েছি। আদালত বলেছেন, দুদকের একজন কর্মকর্তা এ ধরনের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন এটা খুবই সমর্থনযোগ্য।

তিনি বলেন, যেহেতু এটা দুদকের একটি আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন। কাজেই এ প্রতিবেদন দুদকের সচিবের কাছে গত ৩০ মে তদন্তকারি জমা দিয়েছেন। এখন এ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আদালত বলেছেন, যেহেতু কমিশনের কাছে উপস্থাপন হচ্ছে। আমরা দেখতে চাই কমিশন কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত জানতে আগামী ২১ আগস্ট এ মামলার পবরর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন যদি কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে সেটি ওই দিন আদালতকে জানাতে বলেছেন।

গত ২৭ জুন জাহালমের ঘটনায় দুদকের তদন্ত কমিটিকে ১১ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ১৩ মে জাহালমের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সম্পূরক অভিযোগপত্র এবং ব্যাংকের নথি দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

জাহালমের কারাবাসের বিষয়টি গত ২৮ জানুয়ারি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। দৈনিক প্রথম আলোতে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন তিনি।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২৬ মামলা থেকে জাহালমকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ আদেশের পর মুক্তি পায় তিন বছরের বেশি কারাবাস করা জাহালম। বিনা অপরাধে কারাভোগ করায় তাকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এ রুলের শুনানি চলছে হাইকোর্টে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র