Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

উচ্ছ্বাসের দিনে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী শূন্যতা

উচ্ছ্বাসের দিনে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী শূন্যতা
বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফলাফল দেখছে কয়েক অভিভাবক। ছবি: বার্তা২৪.কম
উবায়দুল হক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ময়মনসিংহ


  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩০১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১১ শিক্ষার্থী। আর পাস করেছে ২৯৭ জন। তবে এর মধ্যে ওই বিদ্যালয়ে ফলাফল জানতে এসেছিল মাত্র ৮ জন।

ভালো ফলাফল প্রাপ্তির উচ্ছ্বাসমাখা এই দিনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের শূন্যতা বেশ অনুভব করছিলেন বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মো. আশরাফুল আলম।

বার্তা২৪.কমের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি ফিরে যান ১০ বছর আগের দিনটিতে। বিদ্যালয়ের সামনে খেলার মাঠটির দিকে তাকিয়ে স্মৃতিকাতরতায় যেন আচ্ছন্ন হলেন তিনি। এ সময় তিনি জানান, ১০ বছর আগেও এই মাঠে ফলাফলের দিনে শিক্ষার্থীদের আনন্দ উচ্ছ্বাসের কাঁপন ধরতো। মাইক হাতে শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করত।

বিষন্ন মন নিয়ে আবার পরমুহূর্তেই প্রযুক্তির জয়গান করলেন। বললেন, এক যুগ আগেও হাতে হাতে স্মার্টফোন ছিল না। ঘরে ঘরে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। কিন্তু ডিজিটালাইজেশনের উৎকর্ষতার যুক্তিতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই নিজেদের স্মার্টফোনে ফলাফল দেখতে পারছে। তবে প্রযুক্তির দাপট আবেগ-অনুভূতিকে খানিকটা ভোঁতা করে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

একযুগ আগেও মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিনগুলোতে স্কুলের আঙিনায় আনন্দের হাট বসত। শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা শিক্ষকদের সঙ্গে বয়স ভুলে একসঙ্গে আনন্দে মেতে উঠতেন। কিন্তু সেই দিন আর নেই। এখন স্কুলগুলোতে নীরব শূন্যতা। প্রযুক্তি বিপ্লবের সময়টিতে গুটিকয়েক শিক্ষার্থী ছাড়া আর কেউ বিদ্যালয়ের পথও মাড়ান না। ফলে চোখে পড়ে না ঘটা করে শুভেচ্ছা বিনিময়, মিষ্টিমুখের চিরায়ত দৃশ্যকাব্য কিংবা হাত উঁচিয়ে বিজয়ের ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে ক্যামেরাবন্দী হওয়ার দৃশ্যও।

এদিকে সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ের আঙিনায় যে কয়েকজন শিক্ষার্থীর দেখা মিলল তাদের একজন মার্জুকা আক্তার। স্মার্টফোনে রেজাল্ট দেখার পরেও বিদ্যালয়ে এসেছে সে। মূলত শিক্ষকদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করার জন্য এসেছে এ শিক্ষার্থী। নিজের সাফল্যের পেছনে পুরো কৃতিত্বই দিয়েছে শিক্ষকদের।

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শূন্যতার বিষয়টি শুধু শহরের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েই নয়, এমন দৃশ্য দেখা গেছে আরও অনেক বিদ্যালয়ে। এমনই একটি হলো ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। এ স্কুলটিতেও হাতেগোনা ৫-৬ জন শিক্ষার্থী এসেছিল।

এ স্কুলে ২৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২২ জন শিক্ষার্থী।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মোহছিনা খাতুন বলেন, ‘এখন অনেকেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফলাফল জেনে নিচ্ছে। তাই স্কুলে আসার প্রয়োজন হয় না। ঘরে বসেই ফল জানা যায়। প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কিছুটা কমেছে উচ্ছ্বাস-আনন্দ। তবে স্কুলে না এলেও ওদের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছে। ভালো মানুষ হয়ে ওরা যেন জীবন গড়তে পারে সেই কামনাই করি।’

আপনার মতামত লিখুন :

গাইবান্ধার বন্যার্তদের জন্য জরুরি শুকনো খাবার

গাইবান্ধার বন্যার্তদের জন্য জরুরি শুকনো খাবার
গাইবান্ধার উদ্দেশে যাত্রার পূর্বে ডেপুটি স্পিকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধা থেকে: 'আমার এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যা দুর্গত মানুষদের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত শুকনো খাবার। কারণ সকলের ঘরেই কমবেশি খাবার আছে, কিন্তু রান্না করে খাবার ব্যবস্থা করার উপায় নাই।'

নিজের নির্বাচনী এলাকা গাইবাান্ধায় যাওয়ার সময় আকাশ পথে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলছিলেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকালে তেঁজগাও বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বাশার থেকে হেলিকপ্টারে করে নিজ জেলার বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যান ডেপুটি স্পিকার।

তার সঙ্গে রয়েছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী, একেএম এনামুল হক শামীম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব মো. শাহ্ কামাল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

গাইবান্ধার বন্যার্ত মানুষদের জন্য জরুরি শুকনো খাবার

ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, 'গাইবান্ধায় এবারের বন্যা পরিস্থিতি ১৯৮৮ সালের বন্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। জেলা শহর সবসময় সুরক্ষিত থাকলেও এবার সেটাও নাই। কারণ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ এমনভাবে ভেঙে গেছে যে, পুরো এলাকাই বন্যায় প্লাবিত।'

তিনি আরও বলেন, 'আমার জেলায় দুর্গত মানুষদের ঘরে ঘরে খাবার আছে। তবে তারা খেতে পারছে না রান্না করার অভাবে। শুকনো খাবারটাই এই মুহূর্তে জরুরি প্রয়োজন। আমি নিজ উদ্যোগে বগুড়া থেকে চিড়া সংগ্রহ করেছি।’

সংসদের ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আমি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানকে অনুরোধ করেছি, জিআর নগদ অর্থের পরিবর্তে যদি শুকনো খাবার হিসেবে চিড়া কিনে দেওয়া হয় তাহলে বন্যার্তদের জন্যে কিছুটা হলেও উপকার হবে।'

এডিস মশা নিধনে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এডিস মশা নিধনে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
র‌্যালিতে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপটা বেশি। এই ডেঙ্গু রোগ বহনকারী এডিস মশা নিধনে সরকারের সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সামনে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সচেতনতা র‍্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563514435926.jpg

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগ বহনকারী এডিস মশা নিধনে আমাদের যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। ২০০০ সালের প্রথম দিক থেকেই এ রোগের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়। গেল বছরের আগ পর্যন্ত এটি নিয়ে আমরা তেমন একটা চিন্তিত ছিলাম না। কিন্তু এবার চিন্তার বিষয় আছে। আর তাই এই এডিস মশা নিধনে সরকারের যে সকল প্রচেষ্টা ছিল। সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টিতে কোথাও পানি জমে থাকলে এই মশা সহজে বিস্তার লাভ করে। আমাদের নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। নিজেদের আগে সচেতন হতে হবে। তাহলেই এই রোগ ও মশা থেকে আমরা মুক্তি পাব।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র