Alexa

উচ্ছ্বাসের দিনে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী শূন্যতা

উচ্ছ্বাসের দিনে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী শূন্যতা

বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফলাফল দেখছে কয়েক অভিভাবক। ছবি: বার্তা২৪.কম

ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩০১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১১ শিক্ষার্থী। আর পাস করেছে ২৯৭ জন। তবে এর মধ্যে ওই বিদ্যালয়ে ফলাফল জানতে এসেছিল মাত্র ৮ জন।

ভালো ফলাফল প্রাপ্তির উচ্ছ্বাসমাখা এই দিনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের শূন্যতা বেশ অনুভব করছিলেন বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মো. আশরাফুল আলম।

বার্তা২৪.কমের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি ফিরে যান ১০ বছর আগের দিনটিতে। বিদ্যালয়ের সামনে খেলার মাঠটির দিকে তাকিয়ে স্মৃতিকাতরতায় যেন আচ্ছন্ন হলেন তিনি। এ সময় তিনি জানান, ১০ বছর আগেও এই মাঠে ফলাফলের দিনে শিক্ষার্থীদের আনন্দ উচ্ছ্বাসের কাঁপন ধরতো। মাইক হাতে শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করত।

বিষন্ন মন নিয়ে আবার পরমুহূর্তেই প্রযুক্তির জয়গান করলেন। বললেন, এক যুগ আগেও হাতে হাতে স্মার্টফোন ছিল না। ঘরে ঘরে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। কিন্তু ডিজিটালাইজেশনের উৎকর্ষতার যুক্তিতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই নিজেদের স্মার্টফোনে ফলাফল দেখতে পারছে। তবে প্রযুক্তির দাপট আবেগ-অনুভূতিকে খানিকটা ভোঁতা করে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

একযুগ আগেও মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিনগুলোতে স্কুলের আঙিনায় আনন্দের হাট বসত। শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা শিক্ষকদের সঙ্গে বয়স ভুলে একসঙ্গে আনন্দে মেতে উঠতেন। কিন্তু সেই দিন আর নেই। এখন স্কুলগুলোতে নীরব শূন্যতা। প্রযুক্তি বিপ্লবের সময়টিতে গুটিকয়েক শিক্ষার্থী ছাড়া আর কেউ বিদ্যালয়ের পথও মাড়ান না। ফলে চোখে পড়ে না ঘটা করে শুভেচ্ছা বিনিময়, মিষ্টিমুখের চিরায়ত দৃশ্যকাব্য কিংবা হাত উঁচিয়ে বিজয়ের ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে ক্যামেরাবন্দী হওয়ার দৃশ্যও।

এদিকে সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ের আঙিনায় যে কয়েকজন শিক্ষার্থীর দেখা মিলল তাদের একজন মার্জুকা আক্তার। স্মার্টফোনে রেজাল্ট দেখার পরেও বিদ্যালয়ে এসেছে সে। মূলত শিক্ষকদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করার জন্য এসেছে এ শিক্ষার্থী। নিজের সাফল্যের পেছনে পুরো কৃতিত্বই দিয়েছে শিক্ষকদের।

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শূন্যতার বিষয়টি শুধু শহরের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েই নয়, এমন দৃশ্য দেখা গেছে আরও অনেক বিদ্যালয়ে। এমনই একটি হলো ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। এ স্কুলটিতেও হাতেগোনা ৫-৬ জন শিক্ষার্থী এসেছিল।

এ স্কুলে ২৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২২ জন শিক্ষার্থী।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মোহছিনা খাতুন বলেন, ‘এখন অনেকেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফলাফল জেনে নিচ্ছে। তাই স্কুলে আসার প্রয়োজন হয় না। ঘরে বসেই ফল জানা যায়। প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কিছুটা কমেছে উচ্ছ্বাস-আনন্দ। তবে স্কুলে না এলেও ওদের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছে। ভালো মানুষ হয়ে ওরা যেন জীবন গড়তে পারে সেই কামনাই করি।’

আপনার মতামত লিখুন :