Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

‘কাউকে বিন্দুমাত্র নিপীড়ন করা যাবে না’

‘কাউকে বিন্দুমাত্র নিপীড়ন করা যাবে না’
কর্মশালায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামী / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট চট্টগ্রাম বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ন্যায়, সমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সরকারের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য কারও প্রতি বিন্দুমাত্র অন্যায়, শোষণ ও নিপীড়ন না করার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামী। একই সঙ্গে দেশের আদালতগুলোর মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে গ্রাম আদালতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম সর্কিট হাউসে জেন্ডার ও গ্রাম আদালত বিষয়ক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সচেতনামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়রকরণ ২য় পর্যায়ের প্রকল্প উপলক্ষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সহায়তা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি। অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিনিধি অংশ নেন।

কর্মশালায় অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের আদালতগুলোতে দিন দিন মামলার জট বাড়ছে। দেশের গ্রামাঞ্চলে অনেক ঘটনাই গ্রাম সালিশের মাধ্যমে সমাধান করা যায়। কিন্তু ঘটনাগুলো নিষ্পত্তির জন্য বছরের পর পর বছর আদালতে ঘুরতে হয়। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি আদালগুলোতে মামলার কমিয়ে আনতে নির্দেশ দিয়েছেন। মোড়লিপনা কমিয়ে এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে কেউ অন্যায়, শোষিত আর নিপীড়নের শিকার না হয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী করতে হবে। অনেকে মনে করেন জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে মেয়েরা ভূমিকা রাখতে পারে না। চেয়ারম্যান সবকিছু না। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অথচ গ্রামীণ অর্থনীতির জুড়ি বোর্ডের মেয়েরা ভূমিকা রাখতে পারে। জেন্ডার সমতা ও পক্ষপাতিত্ব পরিহার করে গ্রাম আদালতকে কার্যকারী করতে হবে। কোনো বন্ডে বা কাগজে স্বাক্ষর রেখে আদালত চালানো যাবে না।’

সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসিডিজি) বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার ২০৪১ সালের উন্নত রাষ্ট্রের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। দেশজ উৎপাদন, প্রবৃদ্ধি এবং সঞ্চয় বৃদ্ধি করলে এই লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালে পূরণ করা সম্ভব হবে।’

কর্মশালায় দ্বিতীয় পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে গ্রাম আদালতের বিভিন্ন প্রার্থীদের সেবা ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত)মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, পটিয়া রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দিন খান বক্তব্য দেন।

আপনার মতামত লিখুন :

নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পেলেই আইনগত ব্যবস্থা

নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পেলেই আইনগত ব্যবস্থা
ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের খোঁজখবর নিতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মেয়র সাঈদ খোকন।

ঢাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, 'নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে এডিস মশার প্রজনন স্থল অন্যান্য জায়গার তুলনায় অনেক বেশি। তাই যেসব নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমে থাকার ফলে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে সেসব ভবনের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে'।

সোমবার( ২২ জুলাই) দুপুর ১২ টার দিকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের খোঁজখবর নিতে এসে এসব কথা বলেন ডিএসসিসি মেয়র।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563782288014.jpg

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, 'নির্মাণাধীন ভবন মালিক এবং কর্তৃপক্ষকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে, যাতে কাজ চলার সময় কোনভাবেই ভবনে পানি না জমে এবং এডিস মশার লার্ভা বংশ বিস্তার করতে না পারে। আমরা চিহ্নিত করছি যেসব ভবন মালিকরা নগর কর্তৃপক্ষের এ কার্যক্রমে সাড়া দিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে প্রয়োজনীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে নগর কর্তৃপক্ষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে। আজ থেকে এসব মোবাইল কোর্ট চলবে যতদিন পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়'।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563782302675.jpg

মেয়র আরও বলেন, 'আমাদের ৫৭ টি ওয়ার্ডের প্রতিটি বাসায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা যাচ্ছেন।যে বাসায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে তা ধ্বংস করে পরিষ্কার করে দিয়ে আসছেন এবং ভবিষ্যতের এডিস মশার লার্ভা যেন জন্মাতে না পারে সে জন্য বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে'।

মেয়র বলেন, ’আমাদের টার্গেট আছে ১৫ দিনের মধ্যে ২৫ হাজার বাসা এডিস মশার লার্ভা মুক্ত করব। আমাদের ৬৮ টি মেডিকেল টিম পাড়া-মহল্লায় কাজ করছে। ইতিমধ্যে ২৫ হাজারের ঊর্ধ্বে ডেঙ্গু রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। যাদের অবস্থা বেশি খারাপ তাদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে'।

১৫ বছরে ২০০টি অফিসে চুরি করে চক্রটি

১৫ বছরে ২০০টি অফিসে চুরি করে চক্রটি
চুরি চক্রের আটককৃত সদস্যরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চক্রের দুই মূলহোতা মো. মফিজুর রহমান ও মমিনুল ইসলাম রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোর বিভিন্ন করপোরেট অফিসে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ করত। পরে চক্রের বাকি সদস্যরা একত্রিত হয়ে সুকৌশলে অফিসের লক খুলে দুর্ধর্ষ চুরি করত। এভাবে চক্রটি দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০০টি চুরি করে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (২১ জুলাই) রাজধানীর বংশাল থেকে এই চক্রের মূলহোতা মো. মফিজুর রহমান ও মমিনুল ইসলামসহ এ চক্রের পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার বাকি তিনজন হলেন- মো. বদরুল হক, মো. জামাল উদ্দিন ও মো. রাহাদ সরকার। এছাড়া গ্রেফতাকৃতদের কাছ থেকে পাঁচটি ল্যাপটপ, দুটি প্রাইভেট কার, তালা ভাঙার একটি সেলাইরেঞ্জ, দুটি স্ক্রু ড্রাইভার, একটি হেক্স ব্লেড, একটি প্লাস ও নগদ এক লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

১৫ বছরে ২০০টি অফিসে চুরি করে চক্রটি

সোমবার (২২ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম।

মো. মাহবুব আলম বলেন, 'গত ২/৩ বছর ধরে এই চক্রের দুই মূলহোতার মধ্যে মো. মফিজুর রহমান একজন উবার চালক ও মো. মমিনুল ইসলাম আন্তঃনগর সোনার বাংলা ট্রেনের এটেনডেন্স। এই দুইজন রাজধানীর উত্তরা, ধানমন্ডি, কলাবাগান ও রমনা এলাকার বড় বড় করপোরেট অফিসের খোঁজ নিত। পরে নানা কৌশলে তারা এসব করপোরেট অফিসের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করত। তথ্য সংগ্রহ শেষ হয়ে গেলে চক্রের বাকি তিন সদস্যদের একত্রিত করে চুরির পরিকল্পনা করত।'

১৫ বছরে ২০০টি অফিসে চুরি করে চক্রটি

তিনি বলেন, 'প্রথমে মফিজুরের উবারের গাড়ি করে চক্রটির সদস্যরা রাতের বেলায় চুরি করার জন্য নির্দিষ্ট অফিসের নিচে যেত। গাড়ি থেকে চার জন নেমে অফিসের ভেতর প্রবেশ করত আর উবার চালক মফিজুর নিচে অপেক্ষা করত। অফিসের গেইটে মো. মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রথমে নানা কৌশলে ডিজিটাল লক খোলা হত। পরে অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে প্রথমে সার্ভার বক্স ভেঙে হার্ডডিসক নষ্ট করে ফেলত তারা। যাতে করে সিসিটিভি ফুটেজ অফিস মালিকরা না পান। পরে ভেতরে নানা কৌশলে অবলম্বন করে মোটা অংকের টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে আসত। চুরির শেষ পর্যায়ে সকল মালামাল উবারের গাড়িতে উঠিয়ে নিজেদের গোপন জায়গায় নিয়ে আসত।'

তিনি আরও বলেন, 'এ চক্রটি ১৫ বছর যাবৎ দেশের বিভিন্ন এলাকার করপোরেট অফিসসহ নানা অফিসে প্রায় ২০০টির মতো চুরি সংঘটিত করেছে। এভাবে তারা কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন করপোরেট অফিস থেকে চুরি করেছে এখন পর্যন্ত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আমাদের কাছে এসব তথ্য স্বীকার করেছে। তাদের আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরই সঙ্গে তদের বিরুদ্ধে অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র