Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জঙ্গি আস্তানার কারও সাথেই সুসম্পর্ক ছিল না প্রতিবেশীদের

জঙ্গি আস্তানার কারও সাথেই সুসম্পর্ক ছিল না প্রতিবেশীদের
জঙ্গি আস্তানায় র‍্যাবের অভিযান দেখছে উৎসুক জনতা, ছবি: সুমন শেখ
মনি আচার্য্য
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় একটি টিন শেডের বাড়িতে অবস্থিত জঙ্গি আস্তানায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‍্যাব) অভিযানে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছেন। এদিকে, মধ্যরাতেই জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য বাড়িটির কেয়ারটেকার সোহাগ ও মসজিদের ইমামকে আটক করা হয়।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) রাত ৩ টা থেকে এ অভিযান পরিচালনা শুরু হয় বলে জানিয়েছেন র‍্যাব ডিজি বেনজীর আহমেদ। 

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, পহেলা এপ্রিল মোহাম্মদপুরের বসিলায় দু চালা একটি টিন শেডের বাসা ভাড়া নেয় নিহত দুই জঙ্গি। মালিক আব্দুল ওহাবের কাছে নিজেদের ভ্যান চালক পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নেয় দুই জঙ্গি। টিন শেডের এই বাসাটি দেখাশোনা করতেন মালিক ওহাব কর্তৃক নিয়োজিত কেয়ার টেকার সোহাগ। এছাড়াও সোহাগের সঙ্গে তার স্ত্রী মৌসুমি আর দুই ছেলে সেখানে বসবাস করতেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/29/1556530316525.jpg

তবে এই টিন শেডের এই জঙ্গি আস্তানাটির বিষয়ে তেমন কিছুই জানেন না প্রতিবেশীরা। প্রতিবেশীরা জানান, পহেলা এপ্রিল বাসা ভাড়া নেয় ঐ দুই জঙ্গি। ভাড়া নেওয়ার পর থেকে তাদের এলাকায় খুব একটা দেখা যেত না। এছাড়া কেয়ারটেকার সোহাগ ও তার স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশীদের তেমন সু-সম্পর্কও ছিল না।

জঙ্গি আস্তানাটির আশপাশে অবস্থিত বাসার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোহাগ দুই বছর ধরে তার পরিবার নিয়ে কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে একটি ইট ভাটায় কাজ করতেন সোহাগ। এরপর ওহাবের ডিশ ব্যবসায়ে চাকরি নেন সোহাগ। সেখানে মাসে মাসে বিল তোলার কাজ করতেন তিনি।

আরও জানা গেছে, সোহাগের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের তেমন ভালো সম্পর্ক ছিলনা। স্ত্রী মৌসুমি প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা করলে সোহাগ তাকে বকাঝকা করতেন। সোহাগ মাদকাসক্ত ছিল বলেও প্রতিবেশীদের থেকে জানা গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/29/1556530326967.jpg

জঙ্গি বাসার পশ্চিম পাশেই বসবাসরত মো.মিন্টু মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি সারা দিন বাড়ির বাহিরে থাকি। ওই বাসায় কি হতো তা আমরা জানতাম না। এছাড়া সোহাগের সঙ্গে আমাদের তেমন কোনো কথাবার্তা হতো না। তারা মানুষের সঙ্গে খুব বেশি মিশতো না।’

এ বিষয়ে সাথী নামে আরেক প্রতিবেশী বার্তা২৪.কমকে জানান, মাঝে মধ্যে ওই বাড়ির মধ্যে আমাদের গরু ছাগল চলে গেলে আনতে যেতাম। তখন ভেতরে গেলে ওই বাড়ির লোকজন আমাদের দেখে তেমন বেশি কথা বলতেন না।’

জঙ্গিদের আস্তানা প্রসঙ্গে আশপাশের প্রতিবেশীরা বলেন, ‘বাড়িটিতে দুই তিন মাসে আগেও চার পাঁচটি কক্ষ ছিল। কিন্তু গত এক মাস আগে হঠাৎ করে কক্ষগুলো ভেঙে একটি মসজিদ বানানো হয়। ১০-১৫ দিন আগে মসজিদটিতে একটি মাইক লাগানো হয়। নামাজ পড়াতে একজন ইমামকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।’

আরও পড়ুন: ভেতরে জীবিত কেউ নেই, অবিস্ফোরিত আইইডি ছড়িয়ে ছিটিয়ে

তারা আরও জানান, মসজিদ বানানোর পর আরও দুইটি কক্ষ ছিল বাসাটিতে। কক্ষ দুইটির সামনে ছোট করে বারান্দা ছিল। একটি কক্ষে বাড়ির কেয়ারটেকার সোহাগ থাকতেন। বাকি আরেকটি কক্ষে পহেলা এপ্রিল একজনকে মেস হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয় বলে তারা জেনেছেন। তবে ওই নতুন ভাড়াটিয়াকে প্রতিবেশীরা কোনো দিন দেখেনি বলেও জানান। কিন্তু মসজিদ হওয়ার পর বাড়িটিতে অপরিচিত লোকজন আসা যাওয়া করতেন বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে জঙ্গি আস্তানার বাসাটির প্রতিবেশী রহিমা বেগম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বাসাটিতে সোহাগ ও তার স্ত্রী মৌসুমি আর দুই ছেলেকে ছাড়া আমরা কাউকে কোনদিন দেখিনি। তবে সোহাগের স্ত্রী মৌসুমি আমাকে বলেছিল এই মাসের ১ তারিখ একজনকে একটি রুমে মেস হিসেবে ভাড়া দিয়েছে। তবে ওই লোককে আমরা কোনো দিন এই এক মাসে দেখেনি, তার কথাও শুনিনি।’

আরও পড়ুন: জঙ্গি আস্তানায় আগুন

তিনি আরও বলেন, ‘তবে সোহাগের চলাফেরা কিছুটা অন্যরকম ছিল। সে সারা দিন ঘুমাতেন আর সারারাত সজাগ থেকে বাড়ির আশপাশে হাঁটাচলা করতেন। তবে সে কি কারণে এমন করতেন তা জানি না।’

এদিকে, জঙ্গি আস্তানাটির বিষয়ে রহিমা বেগমের মেয়ে মাদরাসা শিক্ষার্থী মারিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এই বাসার মানুষের সঙ্গে কেউ বেশি মিশতেন না। তবে আগে জানতাম এখানে মেস ভাড়া দেয়া হয়েছে। কিন্তু মসজিদ হওয়ার পর সেখানে কেউ থাকেন তা জানতাম না। তবে কিছুদিন আগে জানতে পারি ওই খানে নাকি একজন অপরিচিত লোক ভাড়া উঠেছে। এর বেশি এই বাড়ির সম্পর্কে আমরা কিছুই জানিনা।’

আরও পড়ুন: কমপক্ষে দুই জঙ্গি নিহত: র‍্যাব ডিজি

আপনার মতামত লিখুন :

গাইবান্ধার বন্যার্তদের জন্য জরুরি শুকনো খাবার

গাইবান্ধার বন্যার্তদের জন্য জরুরি শুকনো খাবার
গাইবান্ধার উদ্দেশে যাত্রার পূর্বে ডেপুটি স্পিকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধা থেকে: 'আমার এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যা দুর্গত মানুষদের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত শুকনো খাবার। কারণ সকলের ঘরেই কমবেশি খাবার আছে, কিন্তু রান্না করে খাবার ব্যবস্থা করার উপায় নাই।'

নিজের নির্বাচনী এলাকা গাইবাান্ধায় যাওয়ার সময় আকাশ পথে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলছিলেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকালে তেঁজগাও বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বাশার থেকে হেলিকপ্টারে করে নিজ জেলার বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যান ডেপুটি স্পিকার।

তার সঙ্গে রয়েছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী, একেএম এনামুল হক শামীম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব মো. শাহ্ কামাল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

গাইবান্ধার বন্যার্ত মানুষদের জন্য জরুরি শুকনো খাবার

ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, 'গাইবান্ধার এবারের বন্যা পরিস্থিতি ১৯৮৮ সালের বন্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। জেলা শহর সবসময় সুরক্ষিত থাকলেও এবার সেটাও নাই। কারণ পারি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ এমনভাবে ভেঙে গেছে যার ফলে পুরো এলাকাটিই বন্যায় প্লাবিত।'

তিনি বলেন, 'আমার জেলায় দুর্গত মানুষদের ঘরে ঘরে খাবার আছে। তবে তারা খেতে পারছে না, রান্না করার অভাবে। শুকনো খাবারটাই এই মুহূর্তে জরুরি প্রয়োজন। আমি নিজ উদ্যোগে বগুড়া থেকে চিড়া সংগ্রহ করেছি।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানকে অনুরোধ করেছি, জিআর নগদ অর্থের পরিবর্তে ওই অর্থ দিয়ে যদি শুকনো খাবার হিসেবে চিড়া কিনে দেয়া হয় তাহলে বন্যার্তদের জন্যে কিছুটা হলেও উপকার হবে।'

এডিস মশা নিধনে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এডিস মশা নিধনে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
র‌্যালিতে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপটা বেশি। এই ডেঙ্গু রোগ বহনকারী এডিস মশা নিধনে সরকারের সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সামনে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সচেতনতা র‍্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563514435926.jpg

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগ বহনকারী এডিস মশা নিধনে আমাদের যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। ২০০০ সালের প্রথম দিক থেকেই এ রোগের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়। গেল বছরের আগ পর্যন্ত এটি নিয়ে আমরা তেমন একটা চিন্তিত ছিলাম না। কিন্তু এবার চিন্তার বিষয় আছে। আর তাই এই এডিস মশা নিধনে সরকারের যে সকল প্রচেষ্টা ছিল। সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টিতে কোথাও পানি জমে থাকলে এই মশা সহজে বিস্তার লাভ করে। আমাদের নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। নিজেদের আগে সচেতন হতে হবে। তাহলেই এই রোগ ও মশা থেকে আমরা মুক্তি পাব।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র