Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৫০ হাজার টন গম আমদানি করবে খাদ্য অধিদফতর

৫০ হাজার টন গম আমদানি করবে খাদ্য অধিদফতর
গম আমদানি করবে খাদ্য অধিদফতর/ ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কয়েক বছর ধরে দেশে গম উৎপাদনে ধারাবাহিক মন্দাভাব বজায় রয়েছে। এ কারণে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে আমদানিতে ঝুঁকেছে সরকার। উৎপাদন কমার বিপরীতে দেশের গম আমদানি খাতে ধারাবাহিক চাঙ্গাভাব দেখা যাচ্ছে।

এই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও ৫০ হাজার টন গম আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে খাদ্য অধিদফতর। আশা করা হচ্ছে, দুই মাসের মধ্যে আমদানি করা এসব গম দেশের বাজারে আসবে।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরকারি পর্যায়ে ৫০ হাজার টন গম আমদানির জন্য দরপত্রে অংশগ্রহণকারী চারটি কোম্পানির মধ্যে মের্সাস এগ্রো গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে।

কোম্পানিটি প্রতি টন গমের মূল্য দেবে ২৬৭ দশমিক ৯৮ মাকিন ডলার। এতে সরকারের খরচ হবে ১১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের দুই বন্দরে গম চলে আসবে । আগামীকাল (বুধবার ২৩ এপ্রিল) ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সভায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি উঠেছে।

গম উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৩২তম। তিন বছর ধরে দেশে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদনে ধারাবাহিক মন্দাভাব বজায় রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে ১৩ লাখ টন গমের উৎপাদন হয়েছিল। পরের বছর ৭৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১২ লাখ ৯০ হাজার টনে। ২০১৬ সালে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার টন গম উৎপাদন হয়, যা আগের বছরের তুলনায় তিন দশমিক ১০ শতাংশ কম।

২০১৭ সালে বন্যার কারণে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন আরও কমে দাঁড়ায় ১১ লাখ ১৫ হাজার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। চলতি বছর দেশে ১২ লাখ টন কম গম উৎপাদন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ।

এদিকে উৎপাদন কমায় দেশের গম আমদানিতে বজায় রয়েছে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। বিশ্বের বুকে খাদ্যপণ্যটির পঞ্চম শীর্ষ আমদানিকারক দেশ বাংলাদেশ। ২০১১ সালে সর্বশেষ গম আমদানি খাতে মন্দাভাব দেখা গিয়েছিল। সেই সময় দেশে সাকল্যে ২০ লাখ ৩৯ হাজার টন গম আমদানি হয়েছিল। টানা পাঁচ বছরের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশে ৫৫ লাখ ৫৬ হাজার টন গম আমদানি হয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি।

পরের বছর খাদ্যপণ্যটির আমদানি আরও ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪ লাখ টনে। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশে গম আমদানি বেড়েছে আট লাখ ৪৪ হাজার টন। বাংলাদেশে গম আমদানির এটাই সর্বোচ্চ পরিমাণ।

গত  বছর বাংলাদেশে গম আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৭০ হাজার টনে পৌঁছেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ। সেই হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশে খাদ্যপণ্যটির আমদানি বাড়তে পারে ছয় লাখ টন। বাংলাদেশে গম আমদানির ইতিহাসে এটাই হতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

আপনার মতামত লিখুন :

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক
রূপসা সেতুর টোল আদায় নিয়ে দুদকের অভিযান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

খুলনার রূপসা (খানজাহান আলী) সেতুর টোল আদায় নিয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এই অভিযান চালান।

অভিযানে ট্রাকের টোল আদায়ে অনিয়মের প্রমাণ পান তারা। এ ঘটনায় টোল আদায়কারী কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে দুদক।

দুদক খুলনার উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসান জানান, সেতু পারাপারের ক্ষেত্রে বড় ট্রাকের টোল (খাজনা) ২৭৫ টাকা। কিন্তু ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা ২৫০ টাকা নিয়ে মাঝারি ট্রাকের রশিদ কাটতো। মাঝারি ট্রাকের টোল ১৮০ টাকা। বাকি ৭০ টাকা তারা আত্মসাৎ করতো। এভাবে প্রতিদিন ২২০/২৫০টি ট্রাকের টোলের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতো আদায়কারীরা।

Rupsha Bridge

তিনি বলেন, প্রথমে আমরা সেতুর কাছে দাঁড়িয়ে ট্রাকের রশিদ যাচাই করেছি। কিন্তু কোনো ট্রাকচালকের কাছে রশিদ পাওয়া যায়নি। চালকরা বড় ট্রাকের জন্য কেউ ২৫০ টাকা, কেউ ২৪০ টাকা করে দিয়েছে বলে স্বীকার করেন। অথচ বড় ট্রাকের টোল ২৭৫ টাকা। টাকা কম দেওয়ার কারণে তাদের রশিদ দেওয়া হয় না বলে চালকরা জানান। পরে টোলঘরে অভিযান চালালে দেখা যায়- সেখানে ছোট ট্রাকের টোল কাটা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা চেক করে দেখা যায়- প্রতিটি বড় ট্রাকের টোল মাঝারি ট্রাক হিসেবে আদায় করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তা জানান, এই অনিয়মের সঙ্গে সবাই জড়িত। আটক করলে সবাইকে করতে হবে, সেতুতে গাড়ি পারাপার বন্ধ হয়ে যাবে। তাই কাউকে আটক করা হয়নি। তবে বিষয়টি লিখিতভাবে সড়ক বিভাগকে জানানো হয়েছে।

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
জাহালম

ভুল মামলার আসামি পাটকল শ্রমিক জাহালমের সাড়ে তিনবছর কারাভোগের ঘটনায় আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে দুদককে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ১১ জুলাই জাহালমের কারাভোগের ঘটনা তদন্ত করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক। ওই প্রতিবেদনে দুদক কর্মকর্তাদের গাফিলতি, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও অর্থআত্মসাতের ঘটনায় একটি চক্রের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।

মঙ্গলবার শুনানিতে আদালত বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের যারা ছিল তারা যাতে টাকা নিয়ে পালিয়ে না যায়। সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান, ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

পরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, জাহালমের ঘটনায় দুদকের আভ্যন্তরীন একটি তদন্ত হয়েছিল। দুদকের পরিচালক (আইন) আবুল হাসনাত মো. আব্দুল ওয়াদুদ তদন্ত করে একটা প্রতিবেদন দিয়েছেন। গত ১১ জুলাই রিপোর্টটি আমরা আদালতে দাখিল করেছি। তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে পড়েছি। আদালত বলেছেন, দুদকের একজন কর্মকর্তা এ ধরনের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন এটা খুবই সমর্থনযোগ্য।

তিনি বলেন, যেহেতু এটা দুদকের একটি আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন। কাজেই এ প্রতিবেদন দুদকের সচিবের কাছে গত ৩০ মে তদন্তকারি জমা দিয়েছেন। এখন এ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আদালত বলেছেন, যেহেতু কমিশনের কাছে উপস্থাপন হচ্ছে। আমরা দেখতে চাই কমিশন কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত জানতে আগামী ২১ আগস্ট এ মামলার পবরর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন যদি কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে সেটি ওই দিন আদালতকে জানাতে বলেছেন।

গত ২৭ জুন জাহালমের ঘটনায় দুদকের তদন্ত কমিটিকে ১১ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ১৩ মে জাহালমের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সম্পূরক অভিযোগপত্র এবং ব্যাংকের নথি দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

জাহালমের কারাবাসের বিষয়টি গত ২৮ জানুয়ারি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। দৈনিক প্রথম আলোতে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন তিনি।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২৬ মামলা থেকে জাহালমকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ আদেশের পর মুক্তি পায় তিন বছরের বেশি কারাবাস করা জাহালম। বিনা অপরাধে কারাভোগ করায় তাকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এ রুলের শুনানি চলছে হাইকোর্টে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র