Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

৫০ হাজার টন গম আমদানি করবে খাদ্য অধিদফতর

৫০ হাজার টন গম আমদানি করবে খাদ্য অধিদফতর
গম আমদানি করবে খাদ্য অধিদফতর/ ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কয়েক বছর ধরে দেশে গম উৎপাদনে ধারাবাহিক মন্দাভাব বজায় রয়েছে। এ কারণে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে আমদানিতে ঝুঁকেছে সরকার। উৎপাদন কমার বিপরীতে দেশের গম আমদানি খাতে ধারাবাহিক চাঙ্গাভাব দেখা যাচ্ছে।

এই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও ৫০ হাজার টন গম আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে খাদ্য অধিদফতর। আশা করা হচ্ছে, দুই মাসের মধ্যে আমদানি করা এসব গম দেশের বাজারে আসবে।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরকারি পর্যায়ে ৫০ হাজার টন গম আমদানির জন্য দরপত্রে অংশগ্রহণকারী চারটি কোম্পানির মধ্যে মের্সাস এগ্রো গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে।

কোম্পানিটি প্রতি টন গমের মূল্য দেবে ২৬৭ দশমিক ৯৮ মাকিন ডলার। এতে সরকারের খরচ হবে ১১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের দুই বন্দরে গম চলে আসবে । আগামীকাল (বুধবার ২৩ এপ্রিল) ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সভায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি উঠেছে।

গম উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৩২তম। তিন বছর ধরে দেশে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদনে ধারাবাহিক মন্দাভাব বজায় রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে ১৩ লাখ টন গমের উৎপাদন হয়েছিল। পরের বছর ৭৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১২ লাখ ৯০ হাজার টনে। ২০১৬ সালে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার টন গম উৎপাদন হয়, যা আগের বছরের তুলনায় তিন দশমিক ১০ শতাংশ কম।

২০১৭ সালে বন্যার কারণে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন আরও কমে দাঁড়ায় ১১ লাখ ১৫ হাজার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। চলতি বছর দেশে ১২ লাখ টন কম গম উৎপাদন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ।

এদিকে উৎপাদন কমায় দেশের গম আমদানিতে বজায় রয়েছে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। বিশ্বের বুকে খাদ্যপণ্যটির পঞ্চম শীর্ষ আমদানিকারক দেশ বাংলাদেশ। ২০১১ সালে সর্বশেষ গম আমদানি খাতে মন্দাভাব দেখা গিয়েছিল। সেই সময় দেশে সাকল্যে ২০ লাখ ৩৯ হাজার টন গম আমদানি হয়েছিল। টানা পাঁচ বছরের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশে ৫৫ লাখ ৫৬ হাজার টন গম আমদানি হয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি।

পরের বছর খাদ্যপণ্যটির আমদানি আরও ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪ লাখ টনে। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশে গম আমদানি বেড়েছে আট লাখ ৪৪ হাজার টন। বাংলাদেশে গম আমদানির এটাই সর্বোচ্চ পরিমাণ।

গত  বছর বাংলাদেশে গম আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৭০ হাজার টনে পৌঁছেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ। সেই হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশে খাদ্যপণ্যটির আমদানি বাড়তে পারে ছয় লাখ টন। বাংলাদেশে গম আমদানির ইতিহাসে এটাই হতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

আপনার মতামত লিখুন :

টিকইল: দ্যা আলপনা ভিলেজ

টিকইল: দ্যা আলপনা ভিলেজ
নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের গ্রাম টিকইল, গ্রামের প্রতি বাড়ির দেয়ালে আলপনার ছাপ/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী, নাচোলের রাণী খ্যাত ইলা মিত্রের স্মৃতিবিজড়িত উত্তরাঞ্চলের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি উপজেলা নাচোল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম টিকইল।

হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামটিতে প্রায় ৮০টি হিন্দু পরিবার বাস করেন। তাদের সবাই বর্মন গোত্রীয়। এ গ্রামের সব বেশীর ভাগ বাড়িই মাটির তৈরি। আর এর প্রতিটি দেয়াল যেন এক একটি ক্যানভাস। বিভিন্ন পূজা পার্বণে হিন্দু মহিলারা বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে রঙ-বেরঙের আলপনা আঁকেন।

বিশেষ করে শারদীয় দুর্গোৎসবে এ গ্রামের হিন্দু বাড়িগুলো নানান রকম আলপনায় ভরে যায়। গ্রামটির নাম টিকইল হলেও পর্যটকদের কাছে এটি আলপনা গ্রাম হিসাবেই সমধিক পরিচিত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566711129396.jpg

গ্রামের মানুষ খুবই অতিথি পরায়ণ। হিন্দু বাড়ি হলেও সংস্কারের তেমন বালাই নেই। পর্যটক বাড়ির ভেতর যেতে চাইলে বাড়ির লোকদের বললেই তারা নিয়ে আলপনা দেখান।

টিকইল যাওয়ার পথে দেখা যায় অসংখ্য মাটির তৈরি বাড়ি। এসব বাড়ি দোতলাও হয়ে থাকে। যুগ যুগ ঘরে মাটির ঘরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে নাচোল উপজেলা। দৃষ্টিনন্দন এসব বাড়ির প্রতিবছরই যত্ন নিতে হয়।

হিন্দু বাড়ির প্রতিটি মহিলাই শিল্পী। আগে মাটির ঘরে আলপনা আঁকতে লাল মাটি, সাদা মাটি ভিজিয়ে সেখান থেকে রং নিয়ে আলপনা আঁকা হতো। কিন্তু এসব রং স্থায়ী হতো না। বর্তমানে চক পাওডার, আমের পুরাতন শাঁস চুর্ণ, বিভিন্ন রং, মানকচু, কলাগাছের কস দিয়ে রং স্থায়ী করা হয়। তবু বৃষ্টিতে এসব রং ধুয়ে যায়। তাই কোন কোন বাড়িতে সিনথেটিক রং ব্যবহার করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566711189385.jpg

হিন্দু মহিলারা যুগ যুগ ধরে তাদের মাটির ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে আলপনা আঁকেন। এতে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা নেই। বংশ পরম্পরায় তারা এ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

টিকইল গ্রামের আলপনা বাড়ির কর্তী দেখন বর্মন। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোরকে জানান, প্রতিদিন অনেক লোক আসেন এ গ্রাম দেখতে। শীতকালে তারা অনেক দিন রান্না বান্না পর্যন্ত করার সময় পান না। বাড়িতে পর্যটকের আনাগোনা লেগেই থাকে।

কবে থেকে এসব আলপনা আঁকা শুরু করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাড়িতে আলপনা আঁকা হিন্দু বাড়ির ঐতিহ্য। তবে আগে পুরো বাড়িতে আঁকা হতো না। তিনিই প্রথম তার বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পুরো বাড়িতে আলপনা আঁকেন। পরবর্তীতে গ্রামের অন্য হিন্দু পরিবারও তাদের বাড়িতে আলপনা আঁকা শুরু করেন।

 https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566711235775.jpg

আগে অল্প পরিসরে উঠান থেকে ঘরের বারান্দা পর্যন্ত দেয়ালে কিংবা বারান্দায় আলপনা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে ঘরের ভেতর ও বাইরের পুরো দেয়ালে আল্পনা আঁকা হয়। শুধু শোবার বা বৈঠক ঘর নয়. পূজার ঘর, রান্না ঘর, সীমানা প্রাচীর, বাথরুমের দেয়াল, গরুর গোহাইল কোন জায়গায় বাদ যায় না।

মাটির তৈরি এসব ক্যানভাসে প্রকৃতির রূপ তুলে ধরা হয়। তাছাড়া তাদের দেবদেবীর ছবিও দেয়ালে স্থান পায়। মনের মাধুরী মিশিয়ে তারা এ আলপনা আঁকেন।

মুখে মুখে আলপনা গ্রামের কথা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়া আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে এর খ্যাতি দেশ বিদেশেও ছড়িয়েছে। গ্রামটি দেখতে দূরদুরান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য পর্যটক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566711286891.jpg

কখন যাবেন:

শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় টিকইল সাজে নতুন সাজে। এ সময় প্রতিটি বাড়িতে নতুন আলপনা করা হয়। শুধু গ্রামটি দেখতে হলে এ সময় যাওয়া ভালো। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যেহেতু আমের জন্য বিখ্যাত সেহেতু আম পাকা শুরু হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়া উত্তম হবে। এতে একই সাথে আম, লিচু খাওয়া, আলপনা গ্রাম, সোনা মসজিদসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক স্থানগুলোও দেখা হয়ে যাবে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকার কল্যাণপুর থেকে অনেকগুলো পরিবহনের বেশ কয়েকটি প্রতি পনের মিনিট পরপর বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া বনলতা নামক একটি বিরতিহীন ট্রেনও দুপুর সোয়া একটায় ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সিএনজিতে টিকইল গ্রামে যাওয়া যায়। বাসে আমনুরা হয়ে ভেঙে ভেঙেও যাওয়া যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566711351174.jpg

কোথায় থাকবেন:

টিকইল কিংবা নেজামপুরে রাতে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই। আপনাকে দিনে দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফিরে আসতে হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভালো মানের বেশ কয়েকটি হোটেল আছে। বাজেট হোটেলও আছে অনেকগুলো।

কোথায় খাবেন:

টিকইল কিংবা নেজামপুরে তেমন ভালো কোন হোটেল নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সকালে নাস্তা করে দুপুরের জন্য হালকা খাবার সাথে নিতে পারেন। সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসে রাতের খাবার খেতে পারেন।

চিড়িয়াখানায় শৃঙ্খলা ফিরলেও ‘আইন’ না থাকায় নানা জটিলতা

চিড়িয়াখানায় শৃঙ্খলা ফিরলেও ‘আইন’ না থাকায় নানা জটিলতা
জাতীয় চিড়িয়াখানা/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

আগের তুলনায় অনেকটা শৃঙ্খলায় ফিরেছে জাতীয় চিড়িয়াখানা। এক বছর আগেও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত থাকা চিড়িয়াখানা এখন অনেকটাই শৃঙ্খল। সুন্দর পরিবেশ আর খাঁচায় বন্দি প্রাণি নিয়ে এক প্রাণবন্ত বিনোদন কেন্দ্র। তবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ জনবল কম থাকায় রোগে আক্রান্ত প্রাণিদের চিকিৎসায় হিশশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। এছাড়া চিড়িয়াখানা আইন না থাকায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াজার (ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব জু এন্ড অ্যাকুরিয়ামস) সদস্য হতে পারছে না চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ, ফলে বিদেশ থেকে প্রাণি আনাসহ মুখোমুখি হতে হচ্ছে নানা জটিলতার।

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, শুরুর দিকে চিড়িয়াখানার অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির কারণে ওয়াজার সদস্য হতে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু পরে সে সমস্যা কাটিয়ে সদস্য পদের জন্য আবেদন করা হলেও চিড়িয়াখানা অ্যাক্ট না থাকায় সদস্য পদ দেওয়া হয়নি। শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে চিড়িয়াখানা অ্যাক্ট করার। এ কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো এই সংস্থার সদস্য। আর সংস্থার সদস্য না হওয়ায় বৈধপথে পশু-পাখি আনতেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সদস্যপদ না পাওয়ায় সংস্থাটি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে না ঢাকা চিড়িয়াখানার কোন কর্মকর্তাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566707816410.jpg

আর চিড়িয়াখানায় আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়া প্রাণিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। যেগুলো খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে সেগুলোকে অভ্যন্তরীণ হাসপাতালে রাখা হয়। কিন্তু অন্যান্য দেশে 'নো পেইন' ইনজেকশন দিয়ে বার্ধক্যগ্রস্ত প্রাণিদের মেরে ফেলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে চিড়িয়াখানা অ্যাক্ট না থাকায় এ ধরনের কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে শেষ পর্যন্ত আবদ্ধ খাঁচায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয় প্রাণিদের।

ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত এ চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১৩৭ প্রজাতির ২ হাজার ৭৮৪টি প্রাণি রয়েছে। এরমধ্যে ১৯ প্রজাতির ৩৫৮টি বৃহৎপ্রাণি (তৃণভোজী), ১১ প্রজাতির ৩৫টি মাংসাশী, ১৫ প্রজাতির ১৬৭টি ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণি, ৫৭ প্রজাতির ১ হাজার ১১৯টি পাখি, ৯ প্রজাতির ৬২টি সরিসৃপ প্রাণি ও ২৬ প্রজাতির ৯৭১টি মাছ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, চিড়িয়াখানার প্রাণি ও পাখির জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকটাই অপ্রতুল। পাঁচজন প্রশিক্ষিত ডাক্তার দিয়ে চলছে চিড়িয়াখানার চিকিৎসার কাজ। তবে নেই দক্ষ স্টাফ। চিড়িয়াখানার ভেটেনারি হাসপাতালটি একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল। উপজেলা পর্যায়ের পশুর হাসপাতালে যেসব চিকিৎসা দেওয়া হয়, সেখানে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এখানে প্রাণিদের চিকিৎসা পদ্ধতি কিছুটা জটিল। অনেক পশুকেই পাইপ দিয়ে ইনজেকশন দেওয়া হয়। ফলে এ বিষয়ে দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু চিড়িয়াখানার ভেটেনারি হাসপাতালে থাকা একজন অভিজ্ঞ কম্পাউন্ডার অবসরে যাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566707842303.jpg

চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা গেছে, ১৯৭৪ সালে পুরনো আদলে সাজানো চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের চলাচলের রাস্তা এখন অনেকটাই পরিচ্ছন্ন। প্রায় সব প্রাণির খাঁচার বাইরে নির্দেশিকা বোর্ড রয়েছে। নির্দেশিকা বোর্ডে ওই প্রাণি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর বাইরে হকারদের দৌরাত্ম্য কমলেও ভেতরে হকারদের সরব উপস্থিতি রয়েছে।

চিড়িয়াখানার পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. মো: নূরুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, চিড়িয়াখানার পরিবেশ আমরা দিন দিন ভালো করার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে খাঁচাগুলো মেরামত করা হয়েছে। সড়ক যেটা সমস্যা ছিল সেটা পিচ ঢালাই করা হয়েছে, বাকি কাজও আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করব। চিড়িয়াখানা এখন আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। আধুনিকায়ন হয়ে গেলে এর অনেক পরিবর্তন আসবে।

এদিকে চিড়িয়াখানায় বর্তমানে দশটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাবার সরবরাহ করছে। বিভিন্ন ঠিকাদারদের কাছ থেকে খাবার বুঝে নেওয়ার জন্য আট সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। তারা খাবার পরীক্ষা নীরিক্ষা করে, ওজন নিশ্চিত হয়ে তা সংগ্রহ করকরে থাকেন। কোন গরু জবাই করে প্রাণিদের খাদ্যের যোগান দেওয়ার আগে সেই গরুটি খাদ্যের উপযুক্ত কিনা সেটিও পরীক্ষা করে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566707907738.jpg

এ বিষয়ে প্রাণি পুষ্টি শাখার কর্মকর্তা সঞ্জিব কুমার বিশ্বাস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা প্রতিদিন ৪০টি আইটেমের খাবার সরবরাহ করি।এ জন্য আমাদের একটি কমিটি আছে, তারা খাদ্যের মান যাচাই করে তা সরবরাহ করেন। মাংসাশী প্রাণিদের রোববার ছাড়া প্রতিদিন গরুর মাংস দেওয়া হয়। শুধু রোববার প্রাণিদের হান্টিং ক্যাপাসিটি রাখার জন্য বয়লার মুরগি দেওয়া হয়।

চিড়িয়াখানায় আগত অনেক দর্শনার্থীর অভিযোগ, দিনে দিনে প্রাণিগুলো রুগ্ন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাঘ ও সিংহের অবস্থা খুবই নাজুক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566707976925.jpg

এ বিষয়ে চিড়িয়াখানার তথ্য কর্মকর্তা ডা: মো: ওয়ালিউর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, অনেকেই বলে বাঘ-সিংহ রুগ্ন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে আমাদের বাঘ সিংহ লাইফস্টাইল সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। আমাদের বাঘ-সিংহ কৃত্রিম অবস্থায় ১৫ বছর বাঁচে। এখানে যে বাঘ-সিংহ ছিল বা আছে তার কয়েকটির আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়া মানেই তারা খাওয়া দাওয়া কম করবে, মুভমেন্ট কম হবে। তাদের স্বাস্থ্য খারাপের দিকে যাবে। বর্তমানে আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়া বাঘ রয়েছে দুইটি আর সিংহ রয়েছে তিনটি।

তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন প্রাণি ভিন্ন ভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। আমাদের চিড়িয়াখানার ভেটেনারি সেকশন থেকে তাদের চিকিৎসা দিয়ে থাকি। তবে দক্ষ জনবল প্রয়োজনীয় সংখ্যক না থাকলেও কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো রয়েছে। পাঁচজন অভিজ্ঞ ডাক্তার এখানে রয়েছেন। দক্ষ স্টাফের অপ্রতুলতা আছে। আমাদের এটি বিশেষায়িত হাসপাতাল। এখানে যারা কাজ করবে তাদের দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। সেজন্য আমাদের দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। আমরা ওয়াজার সদস্য পদের জন্য আবেদন করেছিলাম, চিড়িয়াখানা আইন না থাকায় তারা আমাদের সদস্য পদ দেয়নি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র