Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

প্রাণ ফিরছে রংপুরের নদ-নদীতে

প্রাণ ফিরছে রংপুরের নদ-নদীতে
চলছে নদী খনন কাজ / ছবি: বার্তা২৪
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
রংপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বাস্তবায়ন হচ্ছে রংপুর জেলায় ডেল্টা প্ল্যানের তিনটি প্রকল্প। এর মাধ্যমে বুড়াইল, তিস্তা, আখিরা, চিতলি, কাফ্রিখাল ও শ্যামাসুন্দরীসহ সাতটি নদ-নদী ও খালের খনন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর সরকারি উদ্যোগে এসব নদী ও খালের খনন, তীর সংরক্ষণ, বাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে পুরোদমে। এতে করে দখল-দূষণে আধমরা নদ-নদীতে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে।

অথচ মাস দুয়েক আগেও সরেজমিনে পীরগাছা উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে চলা বুড়াইল নদীতে দেখা গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত। যেন সবুজের সমারোহ। বোঝার উপায় ছিল না এটি এক সময়ের খরস্রোতা বুড়াইল নদী। এখন বুড়াইলে আবাদি জমি নেই। নদীর বুকে কমছে বোরোর বিস্তৃতি। যৌবনে ভাটা পড়া এই নদীতে এখন আসতে শুরু করেছে পানি। প্রাণ ফিরছে নদীর বুকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/22/1555932595257.jpg

তবে নিয়ম মেনে নদী খননের কাজ চলছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন নদীপাড়ের মানুষজন। তারা বলছেন, সঠিক উপায়ে খনন কাজ হলে কৃষি অর্থনীতিতে নদী যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তেমনি নদী খননের উদ্দেশ্যও সফল হবে। অন্যথায় নদী খননে লাভের চেয়ে লোকসানের বোঝা ভারী হবে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া এলাকার তিস্তাপাড়ের বাবলু মিয়া, হোসেন আলী আর রহমত মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘নদীতে ড্রেজিং করে যা তোলা হচ্ছে, সবই তো নদীর পেটেই রাখা হচ্ছে। এতে ড্রেজিং করে কি লাভ হবে। কয়েক মাস পর নদীর মাটি-বালু নদীতেই গিয়ে আবার ভরাট হবে। তাছাড়া নদীর দু’পাড়ে যেভাবে ড্রেজিং করানোর কথা সেইভাবে কাজ তো হচ্ছে না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/22/1555932613495.jpg

একই অভিযোগ পীরগঞ্জের করতোয়া নদীপাড়ের মানুষদেরও। তারা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী কোথাও খনন কাজ হয়নি। তবে যেটুকো খনন কাজ হয়েছে, তা যেন আবারও দখল-দূষণে ভেস্তে না যায়।’

এদিকে স্থানীয় নদী রক্ষা আন্দোলনকারীরা বলছেন, বুড়াইলের মতো প্রাণ ফিরতে শুরু করা রংপুরের নদ-নদীগুলো জীব বৈচিত্র আর পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। নদী কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বাড়বে অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ।

তিস্তা বাঁচাও-নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম হক্কানী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘নদী কেন্দ্রিক অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। প্রয়োজনে দখলকারীদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। নদীগুলো বাঁচানো না গেলে এই অঞ্চলের জীব বৈচিত্র্য হুমকির মধ্যে পড়বে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/22/1555932711853.jpg

তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী খনন কাজ সম্পন্ন হলে নদীগুলো পরিশুদ্ধ হবে। মাছের খাবার তৈরি হবে। নদীর স্বাভাবিক চেহারা ফিরে আসবে। এতে করে নদীপাড়ের মানুষরাই উপকৃত হবে।’

অন্যদিকে নকশা অনুযায়ী স্বচ্ছভাবেই খনন কাজ চলছে বলে দাবি করেন বাংলাদেশ পাউবোর রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘যারা দখল করেছিলেন, তারাই এসব অভিযোগ তুলেছেন। আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করছি। শুধু তাই নয়, আইডব্লিউ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব ট্রান্সফোর্স কর্তৃক নদী খননে তোলা মাটিগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/22/1555932693660.jpg

উল্লেখ্য, রংপুর জেলায় তিনটি খাল ও চারটি নদীর ১৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ খনন কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৭ কোটি টাকা। এরমধ্যে রংপুর সদর ও গঙ্গাচড়ার তিস্তায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ ও ৪ কিলোমিটার খনন কাজ চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’
এখনো ত্রাণ না পাওয়ায় আক্ষেপ করেন এই বৃদ্ধ, ছবি: বার্তটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রাম থেকে: পানির স্রোতে অশান্ত হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। চারদিক পানি ছাপিয়ে পড়ায় প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। এই নদে ক্রমশ পানি বাড়ায় আশপাশের চর, দ্বীপচর ও নিম্নাঞ্চলসহ শহরতলী পানিতে থৈ থৈ করছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাটচর ও অষ্টমীরচরের চারদিক শুধু পানি আর পানি দেখা গেছে। পানিবন্দি এসব চরের মানুষরা গবাদি পশুপাখিসহ বাঁধের উঁচুতে আশ্রয় নিয়েছে। কোনোরকম ছোট ছোট ঝাপড়ি তুলে আবার কোথাও কোথাও প্লাস্টিক বা তাবুর নিচে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560885391.jpg

এদিকে, পুটিমারি বাঁধের উপর গত কয়েকদিন ধরে চড়া রোদ সহ্য করেছেন বানভাসি মানুষরা। তাদেরই একজন বৃদ্ধ আজাদ মিয়া। আক্ষেপ নিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এই বৃদ্ধ বলেন, ‘সাতদিন ধরি বাঁধের উপর ঘর বানবন্দি (বেঁধে) কোনোরকম পড়ি আছি। চেয়ারম্যান-মেম্বর কাইয়ো হামার (আমার) খবর নিলেও না। পাশ দিয়া কত নৌকা যাবার নাগছে (যেতে লাগছে), কাইয়ো (কেউ) একনা (একটু) ত্রাণ দিলে না।’

এই বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে অর্ধশত পরিবার। সঙ্গে আছে তাদের গবাদি পশুও। শুক্রবার বিকেলে নৌকায় করে রমনা পয়েন্ট ধরে চরে যাওয়ার পথে চোখ পড়ে এই বাঁধে থাকা মানুষদের দুর্ভোগের দৃশ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560935566.jpg

বাঁধের পাশ্ববর্তী সড়কের উপর প্লাস্টিকের নিচে ঘর করে আছে গোলাম হোসেন। তিনি জানান, আশপাশে দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শুকনো জায়গা খুঁজে না পেয়ে এখানে উঠেছেন। কিন্তু ত্রিপল না থাকায় মাথার ওপর আচ্ছাদন দিতে পারেননি। একদিন বৃষ্টিতেও ভিজেছেন।

বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে মল-মূত্র ত্যাগের জন্য তেমন ব্যবস্থা নেই। এতে করে রাতে অন্ধকার নামার অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। ডুবে যাওয়া পানির নিচে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন তারা। খাবার পানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563561018038.jpg

এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫০০ মেট্রিকটন চাল, সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ তাবু বিতরণ করা হয়েছে।

কাঁঠাল রফতানির চিন্তা আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

কাঁঠাল রফতানির চিন্তা আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বন্যার্তদের শুকনো খাবার বিতরণ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

এবছর সারাদেশে কাঁঠালের বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। তাই দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এ ফল বিদেশে রফতানির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন খাদ্যে শস্যে স্বয়ংসম্পন্ন। এ দেশে কেউ খাবার অভাবে মরবে না। আমরা শুধু কৃষিতে, খাদ্য শস্যে নয়, ফলমূলেও স্বয়ং সম্পন্ন হয়েছি।’

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে রংপুরের বন্যা কবলিত পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। ছাওলা ইউনিয়ন পরিষদ উপজেলা প্রায় ছয় শতাধিক বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ওষুধ ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময় কেউ না খেয়ে মারা যাবে না । প্রত্যেক মানুষকে সরকারিভাবে সাহায্য দেওয়া হবে । কোনো অভাবী, দরিদ্র, অসহায় মানুষ সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না।’

ত্রাণ বিতরণের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- পীরগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবার রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুল হক লিটন, ছাওলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম প্রমুখ।

ওই অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে পীরগাছা উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিন দিনব্যাপী ফলদ ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পরে উপজেলা পরিষদ হল রুমে মেলা উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র