Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

ছিনতাইকারী পুলিশকে গণপিটুনি, ছেড়ে দিলেন ওসি

ছিনতাইকারী পুলিশকে গণপিটুনি, ছেড়ে দিলেন ওসি
সেন্ট্রাল ডেস্ক ২


  • Font increase
  • Font Decrease
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় আবদুর রব শেখ নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পুলিশের এক সদস্য ২০ হাজার টাকা ছিনতাই করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনতা ছিনতাইয়ের সময় শাহনেওয়াজ নামের পুলিশের ওই কনস্টেবলকে হাতেনাতে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। মঙ্গলবার রাত সোয়া নয়টার দিকে উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়কের যুগীখালী সেতুর পাশে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ শাহনেওয়াজকে ছেড়ে দিয়েছে। শাহনেওয়াজ পিরোজপুর জেলা পুলিশ লাইনে কনস্টেবল পদে কর্মরত। তাঁর বাড়ি খুলনার লবণচরা এলাকার। প্রায় চার মাস আগেও উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় পুলিশ সদস্য শাহনেওয়াজ ধরা পড়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাছ ব্যবসায়ী আবদুর রব শেখ বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার লখপুর গ্রামের আলী আকবর শেখের ছেলে। ছিনতাইয়ের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গতকাল রাত সোয়া নয়টার দিকে আবদুর রব কাটাখালী এলাকা থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে এসে দুই ব্যক্তি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁর পথরোধ করে। পরে তাঁর কাছে মাদকদ্রব্য আছে দাবি করে দেহ তল্লাশি করে। কিন্তু মাদকদ্রব্য না পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি তাঁর কাছে থাকা ১৯ হাজারের বেশি টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় আবদুর রব ছিনতাইকারী বলে চিৎকার করলে স্থানীয় বস্তির অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ ছুটে গিয়ে একজনকে আটক করে পিটুনি দেয়। মোটরসাইকেল নিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর সহযোগী টাকা নিয়ে দ্রুত খুলনার রূপসার দিকে পালিয়ে যায়। পরে আটক ব্যক্তিকে কাটাখালী হাইওয়ে থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। কাটাখালী হাইওয়ে পুলিশ তাঁকে ফকিরহাট থানায় হস্তান্তর করে। কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল শেখ বলেন, গতকাল রাতে ছিনতাই করার সময় স্থানীয় লোকজনের হাতে পিটুনির শিকার শাহনেওয়াজ নামের এক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁকে ফকিরহাট থানার এসআই স্বপনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাহিদ শেখ বলেন, ‘আপনি যা জানতে চেয়েছেন, তার সবই ঠিক আছে। ওটা ভুল বোঝাবুঝি। স্থানীয় ফকিরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী ইয়াছিনসহ অন্য সাংবাদিকেরা উপস্থিত থেকে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন। মাছ ব্যবসায়ী আবদুর রবের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে আর লেখালেখি করার কী আছে। এ ছাড়া বিষয়টি মানবিক, তাই আমি শাহনেওয়াজকে ছেড়ে দিয়েছি।’ ফকিরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী ইয়াছিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি কোনো মীমাংসায় ছিলাম না। খবর পেয়ে থানায় গিয়েছি। সেখানে গিয়ে শুনি, আবদুর রব নামের যে মাছ ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই হয়েছে, তিনি কোনো অভিযোগ করেননি। এ কারণে থানার ওসি সাহেব পুলিশ সদস্য শাহনেওয়াজকে ছেড়ে দিয়েছেন। এর বেশি কিছু জানা নেই।’ বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় বলেন, শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :

রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও স্ত্রীকে যৌন হয়রানি, গ্রেফতার ৩

রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও স্ত্রীকে যৌন হয়রানি, গ্রেফতার ৩
গ্রেফতারকৃত তিন যুবক, ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী্কে যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ করায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সহকারী অধ্যাপক রাশিদুল ইসলামের উপর হামলা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর সোনাদিঘী মোড় থেকে তাদের আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা।

পরে তাদের মহানগর পুলিশের পশ্চিম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আমির জাফরের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখানেই দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আটককৃতদের। পরে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। তাদের মধ্যে একজন জাতীয় দৌঁড়বিদও রয়েছেন।

এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘তিনজনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আমাদের থানায় সোপর্দ করেছেন।’

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার মোল্লাপাড়া এলাকার মুসতাকের ছেলে বকুল আহমেদ (১৯), রাজপাড়া থানার আলিরমোড় এলাকার দুলালের ছেলে শাহানুর হোসেন খোকন (১৯) ও নগরীর বোয়ালিয়া থানার কাদিরগঞ্জ এলাকার শহিদুলের ছেলে রিপন মন্ডল (১৮)

জানা যায়, গত ১০ আগস্ট রুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম (প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বর্ণপদক প্রাপ্ত) তার স্ত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় একদল বখাটের হামলার শিকার হন। ঘটনার পর ওই শিক্ষক ফেসবুকে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেন। যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের আশ্বাসে গত ১৬ আগস্ট শিক্ষক রাশিদুলের স্ত্রী এ ঘটনায় থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জন যুবককে আসামি করা হয়। পুলিশ গুরুত্বসহকারে মামলাটি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন, রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে কিশোরীকে অপহরণ

অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে কিশোরীকে অপহরণ
রাজশাহীর দুর্গাপুরে কিশোরী অপহরণ, ছবি প্রতীকী

রাজশাহীর দুর্গাপুরে অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে এক কিশোরীকে অপহরণ করেছে একদল বখাটে। মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বখাটেদের বাধা দেওয়ায় কিশোরীর মাকেও মারধর করা হয়। ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়ির স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থও লুট করে নিয়ে যায় বখাটে দল।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কয়ামাজমপুর গ্রামের মন্ডলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত কিশোরী কয়ামাজমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। কিশোরীর পরিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের।

পরিবার সূত্র জানায়, গত এক বছর ধরে টুটুল নামে স্থানীয় এক যুবক উত্যক্ত করে আসছিল। বখাটেদের হাত থেকে রেহাই পেতে কিশোরীর বিয়ে ঠিক করে পরিবার। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর তার বিয়ের দিন ঠিক করা হয়।

অপহৃত কিশোরীর বাবা তার স্ত্রী ও বৃদ্ধা মায়ের বরাত দিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, ঘটনার সময় বাড়িতে তার স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা ছিলেন। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে দু'টি মোটরসাইকেলযোগে ৪/৫ জন যুবক তার বাড়িতে আসেন । প্রথমে তারা অস্ত্রের মুখে কিশোরীর মা ও দাদিকে জিম্মি করে। পরে তার ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে। পরে মেয়েকে নিয়ে যেতে উদ্যত হলে তার স্ত্রী চিৎকার দিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তার স্ত্রীকে মারপিট করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

কিশোরীর বাবা বলেন, 'যারা বাড়িতে এসেছিল, তাদের একজনের হাতে পিস্তল ও একজনের হাতে ধারালো অস্ত্র (চাকু) ছিল। বাড়ির বাইরে পাহারায় ছিল আরও ২ থেকে ৩ জন।'

কিশোরীর বাবা জানান, প্রায় এক বছর ধরে কায়ামাজমপুর গ্রামের ফেরদৌস আলীর ছেলে টুটুল তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে কয়েকবার তার বাবাকে অভিযোগও করা হয়। তাতে কোন কাজ হয়নি। টুটুলের বাবা ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ফলে ভয়ে তিনি পুলিশকে অভিযোগও করতে যাননি। বাধ্য হয়ে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলেন। এক সপ্তাহ আগে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার আশীর্বাদ হয়েছে।

জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খুরশিদা বানু কনা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। মেয়েটিকে উদ্ধারে পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে নেমেছে।’

তিনি আরও বলেন, 'আমরা আশেপাশের সকল থানায়ও বার্তা পাঠিয়েছি। সবার আগে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা।' পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন, রাজশাহীতে দিনে নারী-শিশু নির্যাতনের ১২ মামলা

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র