Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

‘আমার নামডা তো নিলাইন না’

‘আমার নামডা তো নিলাইন না’
ছবি: বার্তা২৪.কম
উবায়দুল হক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ময়মনসিংহ
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মসজিদ-মাদরাসার সামনের পথগুলো দখলে নিয়েছে ভিক্ষুকরা। হাঁটার জো নেই। দাঁড়াবার জায়গা নেই। সর্বত্রই ভিক্ষুকে ঠাসা। এসব ভিক্ষুকের জটলায় নারী, পুরুষ বা শিশু-কিশোর বলে কোনো কথা নেই। সবাই একদিনের ভিক্ষুক। কেউ পেশাদার, আবার কেউ মৌসুমী।

থালা-বাটি সামনে নিয়ে মানুষজন দেখলেই টাকা চাচ্ছেন। রোজগারের আশায় আগলে ধরছেন পথ। আর প্রত্যেকে খুশি মনেই হাত খুলে দান করছেন।

এদিকে ভিক্ষুকের জটলার কারণে যানজট লেগে যায় ময়মনসিংহ নগরী’র গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে। কিন্তু বছরের এই একটি দিনের জন্যই এসব ভিক্ষুকের অপেক্ষা। ফলে নিরাশ করছেন না কেউই।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, ঘটা করে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচিতে তবে কী ফল মিলেছে? ভিক্ষার হাত হবে কর্মের- এই মন্ত্র এখনো পৌঁছেনি এসব ভিক্ষুকদের কাছে। উল্টো প্রতিটি শবে বরাতেই ভিক্ষুকের সংখ্যাই যেন বাড়ছে।

আর কোনো সংবাদকর্মী এদিন ভিক্ষুকদের উপস্থিতি কাভারেজে গেলে তাদেরও ঘিরে ধরছেন ভিক্ষুকরা। সংবাদকর্মীর প্যাডের পাতায় নিজেদের নাম তুলতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। তাদের বিশ্বাস খাতায় নাম উঠলেই দান-অনুদান মিলবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/22/1555875728326.jpg

রোববার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর নগরীর চরপাড়া, ভাটিকাশর, গুলকিবাড়ি, সানকিপাড়া, জিরো পয়েন্টের বুড়া পীরের মাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

‘আমার নামডা তো নিলাইন না’ এই প্রতিবেদককে উদ্দেশ্য করে জাহানারা (৫০) নামে এক ভিক্ষুকের হাঁক ডাক। তিনি থাকেন জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার ছনকান্দা গ্রামে। সরকার ভিক্ষুকদের রিকশা, ভ্যান, নগদ টাকা দিচ্ছে। আপনি পাননি এমন প্রশ্নে জাহানারার চোখ ছানাবড়া।

‘৭ বছর ধইরা ভিক্ষা করি। কেউ তো কোনোদিন আইলো না। কোনো সাহায্যও পাইলাম না। শখেতো আর রাস্তাত নামছি না। পেট তো চালাইতে অইবো। দুই পোলারে তো মানুষ করতে অইবো। তাগরে তো আর ভিক্ষুক বানাইবাম না।’ ফ্যালফ্যাল চোখে অসহায় জাহানারার এই উক্তিই বলে দিচ্ছে ময়মনসিংহে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

ময়মনসিংহে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। ২০১০ সালের দিকে ময়মনসিংহ থেকেই এই কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়েছিল। শুরুতে ৩৭ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করতে রিকশা, ভ্যানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি তুলে দেওয়া হয়েছিল।

এরপর এই কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়ার পর আবারো ভিক্ষুকদের দিকে নজর দেয় সরকার। ঘটা করে গত বছর ফুলপুরে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। ওই সময় ২৫ জন ভিক্ষুককে রিকশা, সেলাই মেশিন, চায়ের দোকান ও ঝাল মুড়ির ভ্যান দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু মাত্র কয়েক মাস যেতেই কী হলো? ফুলপুর থেকেও কয়েকশ ভিক্ষুক নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে থালা-বাটি নিয়ে বসে গেছেন। এ উপজেলা থেকেই আসা একজন সাংবাদিক পরিচয় দিতে আঁচল দিয়ে মুখ ঢাকলেন। ওই নারী বলেন, ‘সরকার আমরার দিকে চাইয়াও দেহে নাই। দেখলে কী আর ভিক্কা করতাম।’

জেলার ত্রিশাল উপজেলা থেকে আসা রাশিদা (৪৫) দলবল নিয়ে ভিক্ষা করছেন নগরীর বুড়া পীরের মাজার সংলগ্ন এলাকায়। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন কোলের সন্তানকেও। রাশিদা জানান, অভাবের সংসারে টিকে থাকতে ভিক্ষাই তার পেশা। প্রায় ৫ বছর যাবৎ এ পেশাতে আছেন তিনি।

নগরীতে ভিক্ষুকদের আধিক্যে সমালোচনা করছেন অনেকেই। নগরীর ভাটিকাশর এলাকার ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কাজের কাজ তো কিছুই হলো না। শুনলাম ময়মনসিংহ থেকেই ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়েছিল। এদের কারণে আমাদের জেলার মান-সম্মান হানি হচ্ছে। এদিকে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি দেওয়া উচিত।’

ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচি সম্পর্কে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা জেলার ১৩ উপজেলায় ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করার উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে ৭ হাজার ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়েছে। প্রতি মাসে তাদের নগদ টাকাও দেয়া হচ্ছে। আজ (শবে বরাত) যারা ভিক্ষা করছে তাদের বেশিরভাগই মৌসুমী ভিক্ষুক।’

আপনার মতামত লিখুন :

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’
এখনো ত্রাণ না পাওয়ায় আক্ষেপ করেন এই বৃদ্ধ, ছবি: বার্তটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রাম থেকে: পানির স্রোতে অশান্ত হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। চারদিক পানি ছাপিয়ে পড়ায় প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। এই নদে ক্রমশ পানি বাড়ায় আশপাশের চর, দ্বীপচর ও নিম্নাঞ্চলসহ শহরতলী পানিতে থৈ থৈ করছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাটচর ও অষ্টমীরচরের চারদিক শুধু পানি আর পানি দেখা গেছে। পানিবন্দি এসব চরের মানুষরা গবাদি পশুপাখিসহ বাঁধের উঁচুতে আশ্রয় নিয়েছে। কোনোরকম ছোট ছোট ঝাপড়ি তুলে আবার কোথাও কোথাও প্লাস্টিক বা তাবুর নিচে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560885391.jpg

এদিকে, পুটিমারি বাঁধের উপর গত কয়েকদিন ধরে চড়া রোদ সহ্য করেছেন বানভাসি মানুষরা। তাদেরই একজন বৃদ্ধ আজাদ মিয়া। আক্ষেপ নিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এই বৃদ্ধ বলেন, ‘সাতদিন ধরি বাঁধের উপর ঘর বানবন্দি (বেঁধে) কোনোরকম পড়ি আছি। চেয়ারম্যান-মেম্বর কাইয়ো হামার (আমার) খবর নিলেও না। পাশ দিয়া কত নৌকা যাবার নাগছে (যেতে লাগছে), কাইয়ো (কেউ) একনা (একটু) ত্রাণ দিলে না।’

এই বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে অর্ধশত পরিবার। সঙ্গে আছে তাদের গবাদি পশুও। শুক্রবার বিকেলে নৌকায় করে রমনা পয়েন্ট ধরে চরে যাওয়ার পথে চোখ পড়ে এই বাঁধে থাকা মানুষদের দুর্ভোগের দৃশ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560935566.jpg

বাঁধের পাশ্ববর্তী সড়কের উপর প্লাস্টিকের নিচে ঘর করে আছে গোলাম হোসেন। তিনি জানান, আশপাশে দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শুকনো জায়গা খুঁজে না পেয়ে এখানে উঠেছেন। কিন্তু ত্রিপল না থাকায় মাথার ওপর আচ্ছাদন দিতে পারেননি। একদিন বৃষ্টিতেও ভিজেছেন।

বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে মল-মূত্র ত্যাগের জন্য তেমন ব্যবস্থা নেই। এতে করে রাতে অন্ধকার নামার অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। ডুবে যাওয়া পানির নিচে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন তারা। খাবার পানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563561018038.jpg

এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫০০ মেট্রিকটন চাল, সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ তাবু বিতরণ করা হয়েছে।

কাঁঠাল রফতানির চিন্তা আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

কাঁঠাল রফতানির চিন্তা আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বন্যার্তদের শুকনো খাবার বিতরণ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

এবছর সারাদেশে কাঁঠালের বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। তাই দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এ ফল বিদেশে রফতানির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন খাদ্যে শস্যে স্বয়ংসম্পন্ন। এ দেশে কেউ খাবার অভাবে মরবে না। আমরা শুধু কৃষিতে, খাদ্য শস্যে নয়, ফলমূলেও স্বয়ং সম্পন্ন হয়েছি।’

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে রংপুরের বন্যা কবলিত পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। ছাওলা ইউনিয়ন পরিষদ উপজেলা প্রায় ছয় শতাধিক বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ওষুধ ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময় কেউ না খেয়ে মারা যাবে না । প্রত্যেক মানুষকে সরকারিভাবে সাহায্য দেওয়া হবে । কোনো অভাবী, দরিদ্র, অসহায় মানুষ সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না।’

ত্রাণ বিতরণের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- পীরগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবার রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুল হক লিটন, ছাওলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম প্রমুখ।

ওই অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে পীরগাছা উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিন দিনব্যাপী ফলদ ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পরে উপজেলা পরিষদ হল রুমে মেলা উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র