Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘স্বপ্নতরীতে’ নিঃস্ব উত্তরাঞ্চলের হাজারো খামারি

‘স্বপ্নতরীতে’ নিঃস্ব উত্তরাঞ্চলের হাজারো খামারি
স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিসেস লিমিটেড, ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
রংপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার খামারি খালিদ মাহমুদ। টার্কি মুরগির আদর্শ খামারি প্যাকেজে একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেন ১৭ লাখ টাকা। তার মতো এই উপজেলার অন্তত ৩০ জন বিভিন্ন প্যাকেজে কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। 

চুক্তি অনুযায়ী বিনিয়োগকারীর শুধু খামার থাকলেই চলবে। বাকি সব দায়িত্ব নেবে প্রতিষ্ঠানটি। মুরগির দেখাশুনা থেকে খাবার সরবরাহ এবং কোনো কারণে মুরগি মারা গেলেও ক্ষতি হবে না খামারির। বরং ৯০ দিন পর শর্ত অনুযায়ী খামারিদের কাছ থেকে মুরগি ফেরত নিয়ে মূলধন ও লভ্যাংশ বুঝিয়ে দেয়ার কথা। 

তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মূলধন কিংবা লভ্যাংশ কোনো টাকাই পাননি খামারিরা। বিভিন্ন অজুহাতে বিনিয়োগের টাকা না দিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এতে করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর গ্রামের সহজ সরল খামারিরা এখন নিঃস্ব। খালিদ মাহামুদের মতো রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলার  হাজারের অধিক খামারি বিভিন্ন প্যাকেজের ফাঁদে পড়ে দিশেহারা।

অভিনব প্রতারণার এই অভিযোগ উঠেছে স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিসেস লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ডেসটিনির আদলে ব্যবসার ফাঁদে ফেলে খামারিদের কাছ থেকে অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। 

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে স্লুইসগেট রোড সংলগ্ন স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিসেস লিমিটেড গত এক বছরে বিভিন্ন প্যাকেজে অন্তত এক হাজার দুইশ খামারিকে বিনিয়োগ করাতে সফল হয়েছেন। এখন চুক্তি অনুযায়ী প্যাকেজের মেয়াদ পার হওয়ার পর খামারিদের টাকা না দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন স্বপ্নতরীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানিক চন্দ্র বর্মন ও মহাব্যবস্থাপক শরিফুল আলম। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/21/1555827337041.jpg

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উত্তরের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ দিয়ে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারী সংগ্রহ করে থাকেন। লোভনীয় ছয়টি প্যাকেজে এই প্রতিষ্ঠানটিতে অংসখ্য মানুষ বিনিয়োগ করেন। চুক্তি অনুযায়ী বিনিয়োগকারী স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিসেস লিমিটেডের কাছে টার্কি মুরগি কিনবে আবার নির্দিষ্ট ৯০ দিন পর তাদের কাছেই মুরগি বিক্রি করবে খামারিরা। 

স্বপ্নতরীর টার্কি মুরগির প্রথম প্যাকেজে ২৪ হাজার ৮০০ টাকা বিনিয়োগে ৯০ দিন পর বিক্রয় মূল্য হবে ৩৩ হাজার ৩০০ টাকা। দ্বিতীয়টিতে ৯৯ হাজার ২০০ টাকা বিনিয়োগে বিক্রয় মূল্য ১ লাখ ৩৩ হাজার ২০০ টাকা, তৃতীয় প্যাকেজে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ টাকা বিনিয়োগে বিক্রয় মূল্য ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ টাকা। চতুর্থ প্যাকেজে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ টাকা বিনিয়োগে বিক্রয় মূল্য ৭ লাখ ৯৯ হাজার ২০০ টাকা, পঞ্চম প্যাকেজে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ২০০ টাকা বিনিয়োগে ১৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা  এবং ষষ্ঠ প্যাকেজটিতে ১৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে ৯০ দিন পর লভ্যাংশসহ ফেরত পাবে ১৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। প্রতিটি প্যাকেজেই আলাদা করে খাবার ও বিদ্যুৎ বিলের টাকা জমা দিতে হবে খামারিদের। তবে মুরগির খাবার ও দেখাশুনার জন্য স্বপ্নতরী থেকেই প্রত্যেক উপজেলায় রয়েছে একজন করে মাঠ পরিদর্শক। 

ডেসটিনির আদলে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানিক চন্দ্র বর্মণ। যিনি এক সময় ডেসটিনির পিএসডি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলন। তাঁর চতুর্মূখী প্রলোভন আর ব্যবসার পরিকল্পনা সহজেই আকৃষ্ট করেছে রংপুর বিভাগের সাধারণ খামারিদের। 

দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সহস্রাধিক খামারি টার্কি মুরগির প্রজেক্টে অর্ধশত কোটির মতো বিনিয়োগ করেছে। তাদের সবার স্বপ্ন ছিলো স্বপ্নতরীর হাত ধরে স্বাবলম্বী হবেন। কিন্তু এখন এই বিনিয়োগে তৈরি হয়েছে খামারিদের নিঃস্ব হওয়ার পথ 

জানা গেছে,  ৮ সদস্যের নির্বাহী কমিটি দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। যার চেয়ারম্যান মানিক চন্দ্র বর্মন নিজেই। আর বাকিদের মধ্যে মানিক চন্দ্রের স্ত্রীসহ তার নিকটতম আত্মীয় স্বজনরা রয়েছেন। যারা মানিক চন্দ্রের স্বপ্নতরীর কারবার সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে দাবি করছেন। 

স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিসেস লিমিটেড এর উপদেষ্টা মানিক চন্দ্র বর্মণের স্ত্রী মিনতি রাণী সাহা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা কাউকে হয়রানি করছি না। কিছু সমস্যার কারণে টাকা দিতে দেরি হচ্ছে। চুক্তির মেয়াদ পার হয়েছে সত্য। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি।’

এদিকে বিনিয়োগকারী খামারিদের অভিযোগ চুক্তির মেয়ার উত্তীর্ণ হবার পর থেকে দেখা দিচ্ছেন না প্রতিষ্ঠান প্রধান। আর অন্য দায়িত্বশীল ব্যাক্তিরাও বলছেন তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। এতে করে চরম হতাশা ও দুঃশ্চিন্তায় দিন কাটছে নিরুপায় খামারিদের। 

ডোমার উপজেলার জয়নাল আবেদীন, সালিম জাবির ও আল-আমিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা অনেক আশা নিয়ে স্বপ্নতরীতে বিনিয়োগ করেছিলাম। ভেবেছিলাম বেকারত্ব ঘুচিয়ে পরিবারকে নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকব। কিন্তু স্বপ্নতরীর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে আজ আমরা নিঃস্ব। চুক্তি অনুযায়ী টাকা দিলাম, মুরগি নিলাম, ফের মুরগি ফেরত দিলাম। কিন্তু এখন বিনিয়োগকৃত টাকা বা লভ্যাংশ কোনটাই পাচ্ছি না। আমরা অনেকবার মানিক চন্দ্র বর্মণের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ফিরে এসেছি।’

খুব অল্প সময়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া মানিক চন্দ্র বর্মণের এমন প্রতারণার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কিছুই জানেন না বলে দাবি করলেও ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা বলছেন, স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিসেস লিমিটেড সকলকে ম্যানেজ করেই শত শত কৃষক ও খামারির কষ্টার্জিত বিনিয়োগের টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/21/1555827360011.jpg

স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিসেস লিমিটেড এর হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শুভ সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা কারো  সঙ্গে প্রতারণা করব না। যারা বিনিয়োগ করেছে, সবাই টাকা ফেরত পাবে। আমাদের জিএম শরিফুল আলম মোটা অংকের টাকা ও গাড়ি নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। এছাড়াও বেশ কিছু সমস্যার কারণে খামারিদের টাকা দিতে বিলম্ব হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিলা পারভীন জানান, ‘স্বপ্নতরীতে হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, এমন কেউ অভিযোগ করেনি। আমরা অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমার কাছে অনেকেই মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যদি স্বপ্নতরীর ব্যাপারে কোনো ধরণের গ্রাহক হয়রানি বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনার চেষ্টা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসময় তিনি বলেন, আমি যতদূর জানি ওই প্রতিষ্ঠানটির মালিক কোনো অনুমতি ছাড়াই মাইক্রোকেডিট ব্যবসা ও স্বপ্নতরী মেধা ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ নামে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন।    

এ ব্যাপারে স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিসেস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানিক চন্দ্র বর্ম্মণের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।  

 

আপনার মতামত লিখুন :

রাজশাহী চিড়িয়াখানায় বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে শিশু খেলনা!

রাজশাহী চিড়িয়াখানায় বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে শিশু খেলনা!
ভেঙেচুরে বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে রাজশাহী চিড়িয়াখানার শিশু খেলনাগুলো, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহী নগরীর কাজীহাটা এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম দু’দিন আগে পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে তানিয়া আক্তার রিক্তাকে নিয়ে ঘুরতে যান নগরীর প্রধান বিনোদন কেন্দ্র শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান উদ্যান ও চিড়িয়াখানায়। সেখানে শিশুদের জন্য থাকা স্লাইডারে ওঠার বায়না ধরেন শিশু রিক্তা। স্লাইডারে উঠে স্লাইড করতেই উরু কেটে রক্ত ঝরতে শুরু করে শিশুটির। দেখা যায়- স্লাইডারের ভেতরে ভেঙে ধারালো হয়ে ওঠা অংশে লেগে কেটে রক্তাক্ত হয়েছে ওই শিশু।

মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) সকালে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে এমন দুর্ঘটনার কথা জানান ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আশরাফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, 'আমার বাচ্চাকে নিয়ে একজন চিকিৎসকের কাছে যাই। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওই চিকিৎসক জানান- স্লাইডারের ভাঙা অংশে মরিচা ধরে যাওয়ায় এতে কারো হাত-পা বা শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে ইনফেকশন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।'

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের উন্মুক্ত বিনোদন এবং মানসিক শক্তি বাড়ানোর তাগিদ নিয়ে নির্মাণ করা উদ্যানের খেলনাগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। রাইডগুলো তার সক্ষমতা হারিয়েছে এবং নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে খেলনা তৈরির জন্য তা ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনটির কাঠামোও নেই।

রাজশাহী চিড়িয়াখানায় বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে শিশু খেলনা!

অনেক খেলনা ভেঙে যাওয়ার কারণে আলাদা জায়গায় সরিয়ে রাখা হয়েছে। ভেঙেচুরে একাকার অবস্থা হাইড্রোলিক গাড়িটিও। জাম্পিং রোলারটিও পুরোটাই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ভেঙে গেছে সকল স্লাইড। কোনোটির স্লাইডারে চড়ার রাস্তার নেই প্ল্যানসিট। এমনকি সিঁড়িও ভাঙা।

জানা যায়, শিশুদের বিনোদনের জন্য ২০১৩ সালে কেনা হয় এক কোটি পাঁচ লাখ টাকার পাঁচ সেট রাইড। এগুলোতে ফ্রি খেলার সুযোগ পেত শিশুরা। পাঁচ বছর ব্যবধানে অযত্ন-অবহেলায় সবগুলো খেলনা নষ্ট হয়ে গেছে। বিনামূল্যে বিনোদনের কোনো সুযোগ না থাকায় সেই সব ভাঙা খেলনাগুলোতেই খেলে বেড়াচ্ছে শিশুরা। শিশুদের ফ্রি রাইডগুলোগুলো ভেঙে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনাও।

অভিভাবকদের দাবি- দীর্ঘদিন থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব খেলনাগুলো পড়ে আছে। ফলে এখানে খেলতে গেলে শিশুদের শরীর কেটে গেলে মারাত্মক জখম হয়।

রাজশাহী বেতারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান তার নাতিকে নিয়ে এসেছেন। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'খেলতে গিয়ে সে রাইড থেকে পড়ে গিয়েছিল। ব্যথা পেয়েছে। এখানে স্লিপারসহ বেশিরভাগ রাইডই নষ্ট। আমি মনে করি- এটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার'।

রাজশাহী চিড়িয়াখানায় বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে শিশু খেলনা!

রাজশাহীর মোহনপুর থেকে ছেলে ও মেয়ে নিয়ে ঘুরতে আসা রুনা লায়লা বলেন, 'এখানে তো খেলার কিছুই নেই। সব ভাঙা। খেলনাগুলো ভালো থাকলে আরও ভালোভাবে বাচ্চারা খেলতে পারত। মজাও পেত। এখন খেলনা ভাঙার কারণে বাচ্চারা খেলতেও পারছে না মজাও পাচ্ছেন না।'

চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি আমি লক্ষ করছি। বিষয়টি প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারপরও অতিদ্রুত এটি সংস্কার করার জন্য আবারও তাদেরকে জানানো হবে।' তারা এটি সংস্কার করবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তবে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরহাদ হোসেন বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, 'এসব রাইড ফাঁকাস্থানে রাখার জন্যই নষ্ট হয়েছে। অনেকটা ব্যবহারের জন্যও নষ্ট হয়েছে।' তবে এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে অব্যহতি করেছেন বলেও জানান।

রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, 'খুব শিগগিরই এগুলো মেরামত করা হবে। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নতুন রাইড বসানো হবে।'

প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে জেন্ডার সংবেদনশীল শিক্ষা

প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে জেন্ডার সংবেদনশীল শিক্ষা
শিক্ষক প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৈশোর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার শীর্ষক অলোচনা

শিক্ষার্থীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চত করার জন্য জেন্ডার সংবেদনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলেছেন, পাঠ্যপুস্তকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অধ্যায় থাকলেও তা পাড়ানো হয় না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাব ও শিক্ষার্থীদের সচেনতার অভাব রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘শিক্ষক প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৈশোর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল অলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ইউনিটি ফর বডি রাইটস (ইউবিআর) বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ও আরএইচআরএন প্ল্যাটফরম আয়োজিত এ আলোচনায় মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন ইউবিআর অ্যালায়েন্সের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শারমীন ফাহাত উবায়েদ।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের (বিএনপিএস) নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মাহমুদুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদফতরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদফতরের পরিচালক আবদুল মান্নান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান, বাংলাদেশ মাদ্রাসা টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ড. গোলাম আযম আজাদ, আরএইচস্টেপ’র নির্বাহী পরিচালক কাজী সুরাইয়া সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দা তাহমিনা আকতার, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কানিজ সৈয়দা বিনতে সাবাহ, ইউএনএফপি’র ড. মোহাম্মদ মনির হোসেন, বিএনপিএস’র নাসরিন বেগম প্রমুখ।

সভায় সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে অতিরিক্ত সচিব ড. মাহমুদুল হক বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখার জন্য প্রত্যেকটি স্কুলে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলোতে ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা ওয়াশরুম তৈরি করা হচ্ছে। স্কুলের নতুন ভবনে এটা থাকা বাধ্যতামূলক।

তিনি আরও বলেন, স্কুলে ওয়াশরুম থাকলেও সেটা পরিষ্কার থাকে না। এ জন্য প্রত্যেক বৃহস্পতিবার স্কুলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সচেনতামূলক নানান কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জেন্ডার দৃষ্টিকোন থেকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যকে না দেখলে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব। এ জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেকটি স্কুলে কাউন্সিলর নিয়োগ দিতে হবে। ইতোমধ্যে সরকার এসংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

এছাড়া পাঠ্যপুস্তকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ইস্যুকে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়াও বিতর্ক, খেলাধুলা এবং সাংস্কুতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সচেতনতার কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজের কুসংস্কারের কথা তুলে ধরে ড. গোলাম আযম আজাদ বলেন, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত অধ্যায়গুলো শিক্ষকরা পড়ান না। আবারো কোন কোন প্রতিষ্ঠানে এই অধ্যায়গুলো স্টাপলার করে রাখা হয়। যাতে শিক্ষার্থীরা পড়তে না পারে। এই জড়তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

সভায় নারীনেত্রী রোকেয়া কবীর বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ধর্ম নিরপেক্ষতা মূল্যবোধ ও জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে সকল নাগরিকের জন্য জেন্ডার সংবেদনশীল জীবন দক্ষতা ও বিজ্ঞানমুখী কারিগরি শিক্ষা বাস্তবায়ন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বর্তমার সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।

সভায় মূল প্রবন্ধে বলা হয়, মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পাঠ্যসূচিতে প্রজনন স্বাস্থ্য ও জীবন দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা বিএড কোর্সসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য ও জ্ঞান লাভ করেন। যার ভিত্তিতে তারা এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ পরিবর্তনে সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারেন। এ অবস্থায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র