Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রাজশাহীতে ছুটি ছাড়াই ১৩ মাস স্কুলে অনুপস্থিত শিক্ষিকা!

রাজশাহীতে ছুটি ছাড়াই ১৩ মাস স্কুলে অনুপস্থিত শিক্ষিকা!
ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

২০১৬ সালের ১০ আগস্ট রাজশাহীর পবা উপজেলার কুলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন ওয়াছিমা আফরোজ বিউটি। যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় তার ছুটি। প্রথমে ৮ মাস চিকিৎসা বাবদ ছুটি নেন। পরে ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গিয়ে আর স্কুলে ফেরেননি ওই শিক্ষিকা।

টানা এক বছর ২ মাস ছুটি কাটানোর পর ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ নিকট দরখাস্ত দিয়ে ছুটি নেওয়ার প্রয়োজনবোধও করেননি। বিদেশে অবস্থান করা তার স্বামীর কাছে চলে গেছেন তিনি। তবে স্কুলে দীর্ঘদিন উপস্থিত না থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না জেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকরা।

তারা বলছেন, একজন সহকারী শিক্ষক টানা দুই বছর স্কুলে অনুপস্থিত। তার বেতন-ভাতাও চালু রয়েছে। অথচ শিক্ষক সংকটের কারণে স্কুলে নিয়মিত ক্লাস নিতে হিমশিম খাচ্ছেন অন্য শিক্ষকরা। বিষয়টি স্কুলের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি বারবার লিখিতভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জানালেও অজ্ঞাত করণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম রসুল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘উনি (ওয়াছিমা আফরোজ) যোগদানের পরই চিকিৎসা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেলেন। এরপর ছুটি শেষ হলেও তার স্কুলে দেখা মেলেনি। আমাদের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগও করেননি। আমরাই নিজ উদ্যোগী হয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার দেওয়া মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। বাধ্য হয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত দিয়ে এসেছি। মৌখিকভাবেও কয়েক দফা বলেছি। কোনো কাজ এখনো হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবশেষ রাজশাহী মহানগরীর উপশহরের ১নং সেক্টরের তার ভাড়া বাসায় গেলে বাড়ির মালিক জানান, শিক্ষিকা ওয়াছিমা বিদেশে তার স্বামীর কাছে বেড়াতে গেছেন। তবে কোন দেশে এবং তার যোগাযোগের কোনো নম্বর বাড়ির মালিক আমাদেরকে দিতে পারেনি। এ বিষয়টিও আমরা কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।’

জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ওই শিক্ষিকার অনুপস্থিতিরি বিষয়টি জানার পর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিয়ম অনুযায়ী আমি জেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। উনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।’

জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর তদন্ত করা হচ্ছে। তার দেওয়া ঠিকানা ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগের এবং খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের কবরের পাশে জায়গা চাইলেন রওশন

এরশাদের কবরের পাশে জায়গা চাইলেন রওশন
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও রওশন এরশাদ

রংপুরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফনের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। একই সঙ্গে রংপুরের পল্লী নিবাসে স্বামী এরশাদের কবরের পাশে নিজের কবরের জন্য জায়গাও চেয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এক বিবৃতি এ ইচ্ছের কথা জানান সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ।

এরশাদের দাফন প্রশ্নে রংপুরবাসীর আবেগকে সম্মান জানিয়ে তিনি রংপুরে দাফনের অনুমতি দেন। তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে ফোনে কথা বলে তার সম্মতির কথা জানান।

বিবৃতিতে রওশন বলেন, তার মৃত্যুতে আপনারা যে অভাবনীয় শ্রদ্ধা সম্মান ও সহানুভুতি প্রকাশ করেছেন। তার জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। প্রিয় দেশবাসী, বিশেষত তার প্রাণপ্রিয় রংপুবাসীর আবেগ ও ভালোবাসায় সম্মানার্থে তাকে রংপুরের মাটিতে সমাধিস্থ করার বিষয়ে আমি,ও আমার পরিবার সম্মতি প্রদান করছি। সেই সঙ্গে পল্লী নিবাসে এরশাদের কবরের পাশে নিজের জন্য জায়গা চাইছি।

 

খুলনায় গণধর্ষণের পর বাবাসহ হত্যা, ৫ আসামির ফাঁসি

খুলনায় গণধর্ষণের পর বাবাসহ হত্যা, ৫ আসামির ফাঁসি
এক্সিম ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা ও তার বৃদ্ধ বাবা, ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষনের পর তার বাবা ইলিয়াছ আলীকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ৫ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে খুলনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৩নং ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ মহিদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে এ মামলাটি পরিচালনা করছেন স্পেশাল পিপি এড. ফরিদ আহমেদ। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার জন্য ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পক্ষে এড. কাজী সাব্বির আহমেদ, এড. মোমিনুল ইসলাম, এড. তসলিমা খাতুন, এড. কুদরত ই খুদা।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, খুলনা নগরীর লবণচরা থানাধীন বুড়ো মৌলভীর দরগা রোডের বাসিন্দা শেখ আব্দুল জলিলের ছেলে সাইফুল ইসলাম পিটিল (৩০), তার ভাই মো. শরিফুল (২৭), মো. আবুল কালামের ছেলে মো. লিটন (২৮), অহিদুল ইসলামের ছেলে আবু সাইদ (২৫) ও মৃত সেকেন্দারের ছেলে মো. আজিজুর রহমান পলাশ (২৬)। এদের মধ্যে শরিফুল ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563268750618.JPG
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টফোর.কম

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২২ জন ও গণধর্ষনের মামলায় ২৮ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা রয়েছে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৩নং ট্রাইব্যুনালে মামলাটির যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) শুরু হয়। মামলার তদন্ত চলাকালে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৫ জনের মধ্যে ৪ জন গ্রেফতার হয়।

এছাড়াও গ্রেফতার করা হয় পিটিলের স্ত্রী আসমা খাতুন, নোয়াব আলি গাজী ও আসলাম মিস্ত্রি নামের একজন সন্দেহভাজনকে। তাদের মধ্যে লিটন ও সাঈদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে আসে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে বলে, ‘ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন অফিসে আসা-যাওয়ার পথে আসামিরা কু-প্রস্তাবসহ নানাভাবে যৌন হয়রানি করতেন। এর প্রতিবাদ করায় ঘটনার দিন রাতে বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে ৫ আসামি। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পারভীনের বাবাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পাশের রুমে থাকা পারভীনকে ৫ জন মিলে গণধর্ষণের পর হত্যা করে সেফটি ট্যাংকির মধ্যে বাবা ও মেয়ের মরদেহ ফেলে দেয়। পরে ঘরে লুটতরাজ চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563268830192.JPG
আসামিদের কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা যায়, কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে উত্যক্ত করতেন এলাকার কয়েকজন বখাটে সন্ত্রাসী। তাদের উত্যক্তের প্রতিবাদের কারণে ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষনসহ হত্যা ও তার পিতা ইলিয়াস চৌধুরীকেসহ হত্যা করা হয়। নগরীর লবণচরা থানাধিন ব্যুরো মৌলভীর দরগা এলাকার ৩নং গলির ঢাকাইয়া হাউজ এ.পি ভিলা নামের বাড়িতে ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নৃশংস এ খুনের ঘটনা ঘটে। বাবা- ও মেয়েকে হত্যার পর বাড়ির ভেতরে সেফটি ট্যাংকির মধ্যে লাশ ফেলে দেয় খুনিরা। পরে তারা ওই ঘরের টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় লবনচরা থানায় পারভীন সুলতানার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব বাদী হয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর হত্যা মামলা দায়ের করেন। পারভীন সুলতানাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে ২২ সেপ্টেম্বর আরও মামলা দায়ের হয়। ২০১৬ সালের ৯ মে হত্যাকাণ্ডের ও একই বছরের ২৪ মার্চ গনধর্ষণের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মোঃ কাজী বাবুল ওই ৫ জনকে অভিযুক্ত করে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র