Alexa

রাজশাহীতে ছুটি ছাড়াই ১৩ মাস স্কুলে অনুপস্থিত শিক্ষিকা!

রাজশাহীতে ছুটি ছাড়াই ১৩ মাস স্কুলে অনুপস্থিত শিক্ষিকা!

ছবি: সংগৃহীত

২০১৬ সালের ১০ আগস্ট রাজশাহীর পবা উপজেলার কুলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন ওয়াছিমা আফরোজ বিউটি। যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় তার ছুটি। প্রথমে ৮ মাস চিকিৎসা বাবদ ছুটি নেন। পরে ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গিয়ে আর স্কুলে ফেরেননি ওই শিক্ষিকা।

টানা এক বছর ২ মাস ছুটি কাটানোর পর ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ নিকট দরখাস্ত দিয়ে ছুটি নেওয়ার প্রয়োজনবোধও করেননি। বিদেশে অবস্থান করা তার স্বামীর কাছে চলে গেছেন তিনি। তবে স্কুলে দীর্ঘদিন উপস্থিত না থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না জেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকরা।

তারা বলছেন, একজন সহকারী শিক্ষক টানা দুই বছর স্কুলে অনুপস্থিত। তার বেতন-ভাতাও চালু রয়েছে। অথচ শিক্ষক সংকটের কারণে স্কুলে নিয়মিত ক্লাস নিতে হিমশিম খাচ্ছেন অন্য শিক্ষকরা। বিষয়টি স্কুলের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি বারবার লিখিতভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জানালেও অজ্ঞাত করণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম রসুল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘উনি (ওয়াছিমা আফরোজ) যোগদানের পরই চিকিৎসা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেলেন। এরপর ছুটি শেষ হলেও তার স্কুলে দেখা মেলেনি। আমাদের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগও করেননি। আমরাই নিজ উদ্যোগী হয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার দেওয়া মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। বাধ্য হয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত দিয়ে এসেছি। মৌখিকভাবেও কয়েক দফা বলেছি। কোনো কাজ এখনো হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবশেষ রাজশাহী মহানগরীর উপশহরের ১নং সেক্টরের তার ভাড়া বাসায় গেলে বাড়ির মালিক জানান, শিক্ষিকা ওয়াছিমা বিদেশে তার স্বামীর কাছে বেড়াতে গেছেন। তবে কোন দেশে এবং তার যোগাযোগের কোনো নম্বর বাড়ির মালিক আমাদেরকে দিতে পারেনি। এ বিষয়টিও আমরা কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।’

জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ওই শিক্ষিকার অনুপস্থিতিরি বিষয়টি জানার পর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিয়ম অনুযায়ী আমি জেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। উনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।’

জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর তদন্ত করা হচ্ছে। তার দেওয়া ঠিকানা ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগের এবং খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :