Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বংশালের গোলাম মোস্তফা সড়ক এখন ময়লার ভাগাড়

বংশালের গোলাম মোস্তফা সড়ক এখন ময়লার ভাগাড়
নাকে হাত রেখে ময়লার স্তূপের সামনে দিয়ে যাচ্ছেন এলাকাবাসী / ছবি: বার্তা২৪
তৌফিকুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর বংশালে গোলাম মোস্তফা লেন এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দু’ধারে ড্রেনের এবং মানুষের ফেলা অবর্জনার স্তূপ জমে আছে। দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। মশার প্রকোপও তুলনামূলক বেড়েছে। এতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, পুরান ঢাকার এ এলাকায় গত দেড়মাস ধরে ড্রেন ও সড়কের সংস্কার চলছে। এছাড়া পাঁচ দিন পর পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লা নিতে আসেন। এ কারণে গোলাম মোস্তফা লেনের সড়কজুড়ে ময়লার স্তূপ জমে আছে। ফলে নাক বন্ধ করেই সকলকে হাঁটা-চলা করতে হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ করেও এর কোনো সমাধান হয়নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/19/1555693663041.jpg

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, গোলাম মোস্তফা লেনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কতৃক ড্রেন ও সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। তবে এদিন কাজ করতে কোনো সিটি করপোরেশনের কর্মীকে দেখা যায়নি। সড়কের দু’ধারে বিভিন্ন স্থানে ড্রেনের ময়লার স্তূপ দেখা গেছে। এছাড়া এলাকাবাসীর দৈনন্দিন ফেলে দেওয়া ময়লারও স্তূপ রয়েছে। যেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকায়। এর মধ্য দিয়েই সবাইকে নাকে হাত রেখে চলাফেরা করতে হচ্ছে।

এলাকার মৌলভীবাজার সমিতির জয়েন্ট সেক্রেটারি সৈয়দ মাসুদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমাদের মহল্লায় গত দেড় মাস যাবত সিটি করপোরেশন কাজ করছে। তাদের কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। দ্রুত কাজ না করার ফলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ময়লার গাড়িগুলো আসতে পারছে না। তার কারণে ময়লা জমে থাকে দীর্ঘদিন আর সেখান থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/19/1555693688625.jpg

গোলাম মোস্তফা লেনের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বার্তা২৪.কমকে, ‘আমি দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত এই এলাকায় বাস করছি। আগে তো কখনো এমন অবস্থা দেখিনি, হঠাৎ এ অবস্থায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়ে গেছে এই মহল্লা। আশেপাশে চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। ঘরে থাকলেও গন্ধ আসে। দুর্গন্ধের ফলে মসজিদে নামাজ পড়া মানুষের সংখ্যা কমে গেছে।’

নবী স্টোরের মালিক সাগর অভিযোগ করে বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঠিকমতো আসে না। চার-পাঁচ দিন পর একবার এসে ময়লা নিয়ে যায়। জমে থাকা ময়লার গন্ধে ব্যবসা করা দুরহ হয়ে পড়েছে। বেচাবিক্রি নেই বললেই চলে। কাস্টমার আসে না। কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান হয়নি। এই অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।’

এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী আরিফা আক্তার রাফি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘যখন বৃষ্টি হয় তখন ময়লা পানির সঙ্গে মিশে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিষাক্ত পোকামাকড় আমাদের ঘরে ঢুকতে থাকে তখন আমাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে নিয়ে যেতে সমস্যা হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/19/1555693714722.jpg

তিনি আরও বলেন, ‘ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। যদিও কখনো সিটি করপোরেশনের কর্মীরা ড্রেন পরিষ্কার করে, তাহলে দীর্ঘদিন রাস্তায় ময়লা জমিয়ে রাখে। এছাড়া বাসাবাড়ির ময়লা নিয়মিত সংগ্রহ করা হয় না। এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান মেলেনি।’

এলাকার বাসিন্দা মহানগর যুবলীগের সহ-সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ আলমগীর বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত আমাদের এলাকায় কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হতো না। কারণ, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত প্রতিনিধি পলাতক আছেন। তার নামে একাধিক মামলা থাকায় তিনি এলাকাতে আসেন না। দেরি হলেও সিটি করপোরেশন কাজ শুরু করেছে, তবে কাজের ধীর গতির কারণে আমাদের এলাকায় একটু দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/19/1555693809430.jpg

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ওই এলাকার জনগণের দুর্ভোগের বিষয়ে আমার জানা নাই। আপনার মাধ্যমে জানলাম। ময়লার কারণে ওই এলাকায় জনগণের দুর্ভোগ যেন না হয়, তার ব্যবস্থা নিব।’

এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের কাছে আমি অনুরোধ করব। যেখানেই দুর্ভোগ দেখবেন। আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে অভিযোগ জানালে আমরা ব্যবস্থা নিব।’

আপনার মতামত লিখুন :

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’
এখনো ত্রাণ না পাওয়ায় আক্ষেপ করেন এই বৃদ্ধ, ছবি: বার্তটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রাম থেকে: পানির স্রোতে অশান্ত হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। চারদিক পানি ছাপিয়ে পড়ায় প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। এই নদে ক্রমশ পানি বাড়ায় আশপাশের চর, দ্বীপচর ও নিম্নাঞ্চলসহ শহরতলী পানিতে থৈ থৈ করছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাটচর ও অষ্টমীরচরের চারদিক শুধু পানি আর পানি দেখা গেছে। পানিবন্দি এসব চরের মানুষরা গবাদি পশুপাখিসহ বাঁধের উঁচুতে আশ্রয় নিয়েছে। কোনোরকম ছোট ছোট ঝাপড়ি তুলে আবার কোথাও কোথাও প্লাস্টিক বা তাবুর নিচে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560885391.jpg

এদিকে, পুটিমারি বাঁধের উপর গত কয়েকদিন ধরে চড়া রোদ সহ্য করেছেন বানভাসি মানুষরা। তাদেরই একজন বৃদ্ধ আজাদ মিয়া। আক্ষেপ নিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এই বৃদ্ধ বলেন, ‘সাতদিন ধরি বাঁধের উপর ঘর বানবন্দি (বেঁধে) কোনোরকম পড়ি আছি। চেয়ারম্যান-মেম্বর কাইয়ো হামার (আমার) খবর নিলেও না। পাশ দিয়া কত নৌকা যাবার নাগছে (যেতে লাগছে), কাইয়ো (কেউ) একনা (একটু) ত্রাণ দিলে না।’

এই বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে অর্ধশত পরিবার। সঙ্গে আছে তাদের গবাদি পশুও। শুক্রবার বিকেলে নৌকায় করে রমনা পয়েন্ট ধরে চরে যাওয়ার পথে চোখ পড়ে এই বাঁধে থাকা মানুষদের দুর্ভোগের দৃশ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560935566.jpg

বাঁধের পাশ্ববর্তী সড়কের উপর প্লাস্টিকের নিচে ঘর করে আছে গোলাম হোসেন। তিনি জানান, আশপাশে দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শুকনো জায়গা খুঁজে না পেয়ে এখানে উঠেছেন। কিন্তু ত্রিপল না থাকায় মাথার ওপর আচ্ছাদন দিতে পারেননি। একদিন বৃষ্টিতেও ভিজেছেন।

বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে মল-মূত্র ত্যাগের জন্য তেমন ব্যবস্থা নেই। এতে করে রাতে অন্ধকার নামার অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। ডুবে যাওয়া পানির নিচে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন তারা। খাবার পানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563561018038.jpg

এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫০০ মেট্রিকটন চাল, সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ তাবু বিতরণ করা হয়েছে।

কাঁঠাল রফতানির চিন্তা আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

কাঁঠাল রফতানির চিন্তা আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বন্যার্তদের শুকনো খাবার বিতরণ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

এবছর সারাদেশে কাঁঠালের বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। তাই দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এ ফল বিদেশে রফতানির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন খাদ্যে শস্যে স্বয়ংসম্পন্ন। এ দেশে কেউ খাবার অভাবে মরবে না। আমরা শুধু কৃষিতে, খাদ্য শস্যে নয়, ফলমূলেও স্বয়ং সম্পন্ন হয়েছি।’

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে রংপুরের বন্যা কবলিত পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। ছাওলা ইউনিয়ন পরিষদ উপজেলা প্রায় ছয় শতাধিক বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ওষুধ ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময় কেউ না খেয়ে মারা যাবে না । প্রত্যেক মানুষকে সরকারিভাবে সাহায্য দেওয়া হবে । কোনো অভাবী, দরিদ্র, অসহায় মানুষ সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না।’

ত্রাণ বিতরণের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- পীরগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবার রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুল হক লিটন, ছাওলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম প্রমুখ।

ওই অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে পীরগাছা উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিন দিনব্যাপী ফলদ ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পরে উপজেলা পরিষদ হল রুমে মেলা উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র