Alexa

বৈশাখী ছুটি কাটাতে গুরুত্বহীন রাবি শিক্ষার্থীর ভিসেরা রিপোর্ট!

বৈশাখী ছুটি কাটাতে গুরুত্বহীন রাবি শিক্ষার্থীর ভিসেরা রিপোর্ট!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি: বার্তা২৪

রাজশাহী থেকে: অজানা বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে ১২ দিন আগে। স্পর্শকাতর এই মৃত্যুতে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনায় ফরেনসিক প্রতিবেদন বা ভিসেরা রির্পোটের কাজে এখনও হাত দেয়নি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ফরেনসিক ল্যাবের চিকিৎসকরা।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ওই শিক্ষার্থীদের বাসা (মেস) ও দায়ের হওয়া মামলার সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে দেখা যায়, এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ, সিআইডি, ডিবির গোয়েন্দারা কাজ করছে। তবে সুরতহাল রিপোর্টের বাইরে পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফরেনসিক ল্যাব থেকে কোনো তথ্য পায়নি।

এ ব্যাপারে রামেকের সাবেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. এনামুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসতে একটু সময় লাগে। তার আগে ভিসেরা রিপোর্ট আমরা দিয়ে থাকি। ভিসেরা রিপোর্ট ছাড়াও লাশের ময়নাতদন্ত করার সময় বেশ কিছু সিনডোম দেখে আমরা ফরেনসিক ডাক্তাররা ধারণা করতে পারি, যা শতভাগ ঠিক হয়। ঘটনাটির ক্ষেত্রে দ্রুত ভিসেরা রিপোর্টের কাজ করা উচিৎ ছিল।

রামেকের সাবেক এই ফরেনসিক বিভাগের প্রধানের সঙ্গে একমত পোষণ করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ।

বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা আমরা যত দ্রুত সম্ভব ভিসেরা রিপোর্ট দিয়ে থাকি। সাধারণত এক মাসের মধ্যে এ রিপোর্ট প্রদান করা হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে আমরা গুরুত্বসহকারে দ্রুত দিয়ে থাকি।

সোহেল মাহমুদ বলেন, ভিসেরা রিপোর্ট ছাড়াও প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় মৃত্যুর কারণ অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া যায়। সেটা চাইলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা দিতে পারেন। আবার এটাও ঠিক, কোনো চিকিৎসক যদি মনে করেন নিশ্চিত না হয়ে নেবেন না; সেটা তিনি করতে পারেন।

রাবির দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ বা ভিসেরা রিপোর্ট কবে নাগাদ পাওয়া যাবে জানতে চাইলে রামেকের ফরেনসিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. রায়হান আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, এখনো ভিসেরা রিপোর্টের কাজে হাত দেওয়া হয়নি। কবে নাগাদ দেওয়া হবে সেটি জানিয়ে দেওয়া হবে। তাছাড়া এ রিপোর্ট ছাড়া মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছুই বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, মাঝে উৎসবের কারণে কর্মদিবস বন্ধ ছিল। তাই দেরি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে কর্মদিবসে মেডিকেলের তৃতীয় তলায় ফরেনসিক ফ্লোরে যোগাযোগ করতে হবে।

উল্লেখ্য, রোববার (৭ এপ্রিল) বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে রাবির আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহতাসিম রাফিদ ও অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের তুর্য রায় মারা যান।

আরও পড়ুন: কী মাদকে প্রাণ গেল রাবির সেই দুই শিক্ষার্থীর?

আপনার মতামত লিখুন :