Alexa

দেড়শ টাকাই নরসুন্দর বাচ্চুর সংসারের ভরসা

দেড়শ টাকাই নরসুন্দর বাচ্চুর সংসারের ভরসা

অলস বসে আছেন নরসুন্দর বাচ্চু মিয়া/ ছবি: বার্তা২৪.কম

একটা চেয়ার, একটা টেবিল। সাথে এক টুকরা ভাঙা কাঁচ, চিরুণী, খুর-কাঁচি, সেভিং ক্রীম আর ব্রাশ। মাথার ওপরে বিশাল আকাশ। নিচে চেয়ারে বাঁধা একটা ছাতা। এসব নিয়েই জীবন যুদ্ধে লড়ছেন এক নরসুন্দর (নাপিত)। 

সত্তরের কাছাকাছি তার বয়স। এই বৃদ্ধ বয়সেও থেমে নেই। প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকেন, কখন কে এসে বলবে, কাটা যাবে? চুল কাটাবো, সেভ করাবো- এমন বাক্য শুনে অভ্যস্ত বুড়ো মানুষটি এখন বড়ই অসহায়।

বলছিলাম নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার নরসুন্দর বাচ্চু মিয়ার জীবন সংগ্রামের কথা। যার সংসার চলে প্রতিদিনের রোজগার করা একশ থেকে দেড়শ টাকার মধ্যে। জলঢাকার বঙ্গবন্ধু চত্বরই তার ঠিকানা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রাহকের জন্য চাতক পাখির মতো বসে থাকেন বঙ্গবন্ধু চত্বরে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/19/1555682615566.gif

আধুনিকতার কাছে খোলা আকাশের নিচে গড়া বাচ্চু মিয়ার ব্যবসা যেন বেমানান। তাই আগের মতো গ্রাহকের দেখাও পান না বাচ্চু। তারপরও সংসার চালাতে অপেক্ষার পর অপেক্ষা। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। 

বার্তা২৪.কম এর সাথে আলাপচারিতায় নরসুন্দর বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘আমার কোন জায়গা জমি নেই। অন্যের জমিতে থাকি। খুব কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু চত্বরে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পেশায় আছি। আগে জিনিসপত্রের দাম কম ছিল। কোনো রকমে হলেও সংসার চলছে। কিন্তু এখন সংসার চালানো মুশকিল। সারাদিনে একশ থেকে দেড়শ টাকা আয় রোজগার করি। কোনো কোনো দিন তাও হয় না।’

সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলে ছোট্ট চেয়ার-টেবিল রেখে ছোট্ট ব্যাগে করে খুর-কাঁচিসহ যন্ত্রপাতি নিয়ে বাড়ি যান তিনি। পরের দিন আবারো ব্যবসার পসরা সাজিয়ে বসেন বাচ্চু মিয়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/19/1555682638658.gif 

বার্তা২৪.কম এর সাথে যখন কথা বলছিলেন এই বৃদ্ধ, তখন ঘড়ির কাঁটায় বেলা ১১টা। বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘সকাল আটটার সময় দোকান খুলেছি। তিন ঘণ্টা পার হল, এখনো কোনো কাস্টমার নাই। বঙ্গবন্ধু চত্বর বানানোর সময় অনেকেই সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন। এমপি-চেয়ারম্যানসহ অনেক লোক আমার একটা ব্যবস্থা করে দিতে চাইলেও কেউই কথা রাখেননি।’

বাচ্চু মিয়ার পরিবারে ছয় মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তানসহ স্ত্রী রয়েছেন। মেয়েদের বিয়ে দিলেও ছেলেরা রয়েছেন বাড়িতে। সংসারের হাল ধরার মতো কেউ না থাকায় বয়সের ভারে ন্যুব্জ বাচ্চু মিয়াই এখন পরিবারের ভরসা। 

বার্তা২৪.কমের মাধ্যমে এই নরসুন্দর সমাজের বৃত্তবান মানুষের সহযোগিতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে বয়স্ক ভাতাসহ সরকারি সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন :