Alexa

ছাত্রলীগের হামলা

উদ্ধার হয়নি সাংবাদিকের ক্যামেরা

উদ্ধার হয়নি সাংবাদিকের ক্যামেরা

স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিসেস লিমিটেড এর গ্রাহক হয়রানির প্রতিবেদন করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের হামলার শিকার হন সাংবাদিকরা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিসেস লিমিটেড-এর গ্রাহক হয়রানি ও প্রতারণার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির সময় সাংবাদিকের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ক্যামেরা এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পাঁচ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও হামলায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ও স্বপ্নতরীর কর্মকর্তাদের আটক করা হয়নি।

বুধবার (১৭) পৌনে ৩টায় বীরগঞ্জের স্লুইসগেট এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি ঘটে।

বীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাজিদুর রহমান অন্তু, রেজা, স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিসেস লিমিটেডের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শুভ সরকার ও অডিট অফিসার রাসেলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালান। এ সময় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলার জন্য সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারী।

এ ঘটনায় বার্তা২৪.কম এর রংপুর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ফরহাদুজ্জামান ফারুক, ডিবিসির রংপুর ব্যুরো চিফ নাজমুল ইসলাম নিশাত ও ক্যামেরা পারসন মহসীন আলী আহত হয়েছেন।

এদিকে হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনার পাঁচ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ প্রশাসন।

বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকিলা পারভীন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আমি বিষয়টি জানার পর ঘটনার খোঁজ খবর নিচ্ছি। ক্যামেরা উদ্ধারসহ হামলাকারীদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে।'

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম বলেন, 'বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। মামলা হলে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে।'

স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'হামলাকারীরা যে দলেরই হোক, তারা সন্ত্রাসী। এ ধরণের কর্মকাণ্ড দল সমর্থন করে না। তাদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

এ ঘটনায় দিনাজপুর প্রেসক্লাব, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, মানিক চন্দ্র বর্মণ নামে এক ব্যক্তি স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিসেস লিমিটেড এর ব্যানারে রংপুর বিভাগের চার জেলায় বিভিন্ন লোভনীয় প্যাকেজে টার্কি মুরগির খামারি প্রজেক্ট ব্যবসা চালু করেন। এতে বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় ১২০০ খামারি অর্ধশত কোটি টাকার প্যাকেজ গ্রহণ করেন। নির্দিষ্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্বপ্নতরী কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করে। এ ঘটনার প্রতিবেদন তৈরি করতে যান সাংবাদিকরা।

আপনার মতামত লিখুন :