Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ভেষজ চিকিৎসার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ভেষজ  চিকিৎসার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দেশজ চিকিৎসা সেবার গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'আমাদের দেশে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা হয়, ইউনানি চিকিৎসা হয়, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা হয় এগুলোরও কিন্তু গুরুত্ব আছে। আপনারা জানেন, সারা বিশ্বব্যাপী ভেষজ জিনিসের একটা ভীষণরকম চাহিদা। কাজেই আমরা এ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছি, গবেষণা করছি যাতে চিকিৎসা পদ্ধতিটা আরও উন্নত হয়। সেদিকে আমরা লক্ষ্য দেব।'

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ ও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকলের সুস্থতা নিশ্চিতকল্পে ‘স্বাস্থ্যসেবা অধিকার-শেখ হাসিনার অঙ্গীকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ’ পালিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার সুফল জনগণ ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে। চিকিৎসা সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমি যখন দ্বিতীয়বার সরকারে আসি তখন দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল মাত্র ৬৬ বছর। আমাদের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দেশের মানুষের গড় আয়ু আজকে ৭২ বছরে উন্নীত হয়েছে।'

'তবে এখানে একটা বিষয়, আমি যখন হিসেব নিলাম তখন দেখলাম ছেলেদের গড় আয়ু একটু কম, মেয়েদের বেশি। মেয়েরা আবার একটু বেশি বাঁচে। বোধহয় মেয়েরা একটু কষ্ট সহিষ্ণু সেজন্য বোধহয় একটু বেশি বাঁচে। এজন্য আমি ছেলেদের বলব, আপনারা আমাদের নিজেদের সম্পর্কে একটু সচেতন হন, নিজেরা ভালো থাকার চেষ্টা করেন, যাতে বেশি বাঁচতে পারেন' বলেও পরামর্শ দেন সরকার প্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, 'সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে শুধু সরকার একা নয়, সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই আমরা মানুষের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে পারব। বেসরকারি খাতে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলার জন্য এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে আমরা বিশেষ সুযোগ দিচ্ছি। শিশুদের ইনকিউবেটর মেশিন আনার বিষয়ে ট্যাক্স ফ্রি করে দিয়েছি।'

তিনি বলেন, 'দেশে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন, পর্যাপ্ত সংখ্যক জনবল নিয়োগ, পরিবার পরিকল্পনা, নার্সিং সেবার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যখাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, আইন ও নীতিমালা প্রণয়নসহ স্বাস্থ্যখাতে আমাদের সরকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে। ফলে সমাজের সকল স্তরের জনগণের প্রয়োজনীয় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভোগান্তি বহুলাংশে লাঘব হয়েছে।'

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম মেয়াদের সরকারের সময়কার কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, 'আমি যখন প্রথমবার সরকারে এলাম তখন স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করলাম। সেটা ভালো চলছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য পাঁচ বছর পর সেটা বন্ধ করে দিল।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'গ্রাম পর্যায়ে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতি ৬ হাজার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত নির্মিত প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম চালু হয়েছে। প্রায় ১৪ হাজার প্রশিক্ষিত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।'

কমিউনিটি ক্লিনিকে ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ পর্যন্ত ৮৫ কোটিরও বেশি পরিদর্শনের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন। স্বাস্থ্যখাতে সরকারের এ উদ্যোগ সারাবিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।'

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়নের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় জিপ গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন
পুরনো ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়দানকারী প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এই মামলা করার ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিঞ্ঝুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার অফিসে কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। বর্তমানে এখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ট্রাম্পের সহায়তা চান।

আরও পড়ুন: সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

লাইভে ব্যারিস্টার সুমন বলেছেন, ‘আগামী রোববার (২১ জুলাই) আদালত খোলার সাথে সাথে আমি এই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করব। যেখানে খোদ মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশ হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণের দেশ। সেখানে একজন মহিলা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যে অপচেষ্টা চালিয়েছেন তা অবশ্যই রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। তার বিরুদ্ধে তাই আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563565323305.jpg

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, ‘যেখানে বাংলাদেশে আমরা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকছি, সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগের ব্যাপারে আমরা বসে থাকতে পারি না। তার ব্যাপারে মামলা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।’

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কাছে উদ্ভট অভিযোগ, শাহরিয়ার আলমের নিন্দা

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে অপরকে শ্রদ্ধা করে।

অন্যদিকে, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় একাধিকবার ভরা হাউসে পৃথিবীর সব দেশের এবং বাংলাদেশ ও বাইরের দেশের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। যেখানে শ্রদ্ধেয় রানা দাশ গুপ্তার মতো মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পকে দেওয়া প্রিয়া সাহার অভিযোগের মতো কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন কাউকে করতে দেখিনি।’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’
এখনো ত্রাণ না পাওয়ায় আক্ষেপ করেন এই বৃদ্ধ, ছবি: বার্তটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রাম থেকে: পানির স্রোতে অশান্ত হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। চারদিক পানি ছাপিয়ে পড়ায় প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। এই নদে ক্রমশ পানি বাড়ায় আশপাশের চর, দ্বীপচর ও নিম্নাঞ্চলসহ শহরতলী পানিতে থৈ থৈ করছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাটচর ও অষ্টমীরচরের চারদিক শুধু পানি আর পানি দেখা গেছে। পানিবন্দি এসব চরের মানুষরা গবাদি পশুপাখিসহ বাঁধের উঁচুতে আশ্রয় নিয়েছে। কোনোরকম ছোট ছোট ঝাপড়ি তুলে আবার কোথাও কোথাও প্লাস্টিক বা তাবুর নিচে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560885391.jpg

এদিকে, পুটিমারি বাঁধের উপর গত কয়েকদিন ধরে চড়া রোদ সহ্য করেছেন বানভাসি মানুষরা। তাদেরই একজন বৃদ্ধ আজাদ মিয়া। আক্ষেপ নিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এই বৃদ্ধ বলেন, ‘সাতদিন ধরি বাঁধের উপর ঘর বানবন্দি (বেঁধে) কোনোরকম পড়ি আছি। চেয়ারম্যান-মেম্বর কাইয়ো হামার (আমার) খবর নিলেও না। পাশ দিয়া কত নৌকা যাবার নাগছে (যেতে লাগছে), কাইয়ো (কেউ) একনা (একটু) ত্রাণ দিলে না।’

এই বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে অর্ধশত পরিবার। সঙ্গে আছে তাদের গবাদি পশুও। শুক্রবার বিকেলে নৌকায় করে রমনা পয়েন্ট ধরে চরে যাওয়ার পথে চোখ পড়ে এই বাঁধে থাকা মানুষদের দুর্ভোগের দৃশ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560935566.jpg

বাঁধের পাশ্ববর্তী সড়কের উপর প্লাস্টিকের নিচে ঘর করে আছে গোলাম হোসেন। তিনি জানান, আশপাশে দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শুকনো জায়গা খুঁজে না পেয়ে এখানে উঠেছেন। কিন্তু ত্রিপল না থাকায় মাথার ওপর আচ্ছাদন দিতে পারেননি। একদিন বৃষ্টিতেও ভিজেছেন।

বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে মল-মূত্র ত্যাগের জন্য তেমন ব্যবস্থা নেই। এতে করে রাতে অন্ধকার নামার অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। ডুবে যাওয়া পানির নিচে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন তারা। খাবার পানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563561018038.jpg

এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫০০ মেট্রিকটন চাল, সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ তাবু বিতরণ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র