Alexa

নুসরাতের বাড়িতে যাওয়া বিএনপির আলগা সোহাগ: তথ্যমন্ত্রী

নুসরাতের বাড়িতে যাওয়া বিএনপির আলগা সোহাগ: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, ছবি: বার্তা২৪

ঢাকা: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেকেই রাজনীতি করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, “ওই ঘটনার পর বিএনপি নেতারা নুসরাতের বাড়িতে গেছেন। আমাদের এলাকায় একটা কথা চালু আছে; মনের মধ্যে সোহাগ নাই, কিন্তু বাইরে সোহাগ দেখায়। এটাকে বলে আলগা সোহাগ। বিএনপি নেতাদের নুসরাতের বাড়িতে যাওয়া আলগা সোহাগ।”

হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপিই তো মানুষের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে। পাঁচশরও বেশি মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। হাজার মানুষকে আগুনে ঝলসে দিয়েছে। যারা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে, যারা আগুনে পুড়িয়ে জীবন্ত মানুষকে হত্যা করার সংস্কৃতি চালু করেছে, তাদের এই ঘটনা নিয়ে মায়াকান্না করার কোনো অধিকার আছে বলে আমি মনে করি না। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও মর্মান্তিক। যেটি পুরো দেশকে, পুরো সমাজকে নাড়া দিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি যাতে তাদের হয়। সে লক্ষ্যে সরকারি সংস্থাগুলো কাজ করছে এবং সরকারি সংস্থার কারো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নুসরাত হত্যাকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের করা মন্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন যে কথাগুলো বলেছেন, এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে রাজনীতিকরণ করার চেষ্টা এবং সবকিছুকে রাজনীতি টেনে আনার চেষ্টা এটা সঠিক না। আমি মনে করি, সব দলমত নির্বিশেষে এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন এবং কেউ কারো আশ্রয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এটি নিয়ে রাজনীতি করার কোনো কারণ আমি খুঁজে পাই না। সব কিছুর মধ্যে রাজনীতিকে টেনে আনা, এটা সঠিক না। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িতদের সবাই দুর্বৃত্ত। তারা যে দলেরই হোক, আর যে ঘরানারই হোক, কিংবা যে গোষ্ঠীরই হোক, তারা সবাই দুর্বৃত্ত। এই দুবৃত্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। যেটির জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, সরকার কাজ করছে, যাতে করে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৩ এপ্রিল) ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়ায় নুসরাতের বাড়িতে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় নুসরাতের মা-বাবা ও আত্মীয় স্বজনদের সমবেদনা জানান তারা। বিএনপির ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাববুবুর রহমান, সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ, কেন্দ্রীয় নেত্রী রেহানা আক্তার প্রমুখ।

সেসময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার চেয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমনপীড়নে বেশি ব্যস্ত রয়েছে। নুসরাত হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :