Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

নুসরাতের বাড়িতে যাওয়া বিএনপির আলগা সোহাগ: তথ্যমন্ত্রী

নুসরাতের বাড়িতে যাওয়া বিএনপির আলগা সোহাগ: তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, ছবি: বার্তা২৪
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেকেই রাজনীতি করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, “ওই ঘটনার পর বিএনপি নেতারা নুসরাতের বাড়িতে গেছেন। আমাদের এলাকায় একটা কথা চালু আছে; মনের মধ্যে সোহাগ নাই, কিন্তু বাইরে সোহাগ দেখায়। এটাকে বলে আলগা সোহাগ। বিএনপি নেতাদের নুসরাতের বাড়িতে যাওয়া আলগা সোহাগ।”

হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপিই তো মানুষের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে। পাঁচশরও বেশি মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। হাজার মানুষকে আগুনে ঝলসে দিয়েছে। যারা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে, যারা আগুনে পুড়িয়ে জীবন্ত মানুষকে হত্যা করার সংস্কৃতি চালু করেছে, তাদের এই ঘটনা নিয়ে মায়াকান্না করার কোনো অধিকার আছে বলে আমি মনে করি না। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও মর্মান্তিক। যেটি পুরো দেশকে, পুরো সমাজকে নাড়া দিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি যাতে তাদের হয়। সে লক্ষ্যে সরকারি সংস্থাগুলো কাজ করছে এবং সরকারি সংস্থার কারো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নুসরাত হত্যাকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের করা মন্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন যে কথাগুলো বলেছেন, এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে রাজনীতিকরণ করার চেষ্টা এবং সবকিছুকে রাজনীতি টেনে আনার চেষ্টা এটা সঠিক না। আমি মনে করি, সব দলমত নির্বিশেষে এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন এবং কেউ কারো আশ্রয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এটি নিয়ে রাজনীতি করার কোনো কারণ আমি খুঁজে পাই না। সব কিছুর মধ্যে রাজনীতিকে টেনে আনা, এটা সঠিক না। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িতদের সবাই দুর্বৃত্ত। তারা যে দলেরই হোক, আর যে ঘরানারই হোক, কিংবা যে গোষ্ঠীরই হোক, তারা সবাই দুর্বৃত্ত। এই দুবৃত্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। যেটির জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, সরকার কাজ করছে, যাতে করে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৩ এপ্রিল) ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়ায় নুসরাতের বাড়িতে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় নুসরাতের মা-বাবা ও আত্মীয় স্বজনদের সমবেদনা জানান তারা। বিএনপির ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাববুবুর রহমান, সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ, কেন্দ্রীয় নেত্রী রেহানা আক্তার প্রমুখ।

সেসময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার চেয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমনপীড়নে বেশি ব্যস্ত রয়েছে। নুসরাত হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহীসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটের শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত হবার ৩ ঘণ্টা পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এদিকে লাইনচ্যুত হওয়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে আটকা পরেছে উত্তরাঞ্চল থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ও ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস। এ দুটি ট্রেনের যাত্রীরা খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরেজমিনে রাত সাড়ে ১০টায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, স্টেশনে ছোট-বড় ব্যাগ-বস্তাভর্তি মালামাল নিয়ে বসে আছেন যাত্রীরা। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে, কেউ কেউ স্টেশনে ব্যাগের উপরে ঘুমিয়ে পড়েছেন। যাত্রীরা ট্রেনে খুলনা থেকে ঢাকা বা সৈয়দপুরে যাবার বিকল্প উপায় খুঁজছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154647440.jpg

ঢাকাগামী যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী লোকমান হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, মাওয়া আর আরিচা ঘাটে গাড়িতে অনেক যানজট হয়, তাই ট্রেনে যাবার জন্য টিকিট কেটেছিলাম। সোমবার ঢাকায় আমার কাজে যোগ দেবার দিন। এখন তো মহাবিপদে পড়েছি।

সৈয়দপুরের চিলাহাটি সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী রাসেল ইসলাম বলেন, ট্রেনে যাবো বলে সেই সন্ধ্যা থেকে বসে আছি। বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ট্রেন ছাড়া সৈয়দপুরে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। কখন ট্রেন আসবে স্টেশনের কেউই বলতে পারছেনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154680725.jpg

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের টিটি মোহাম্মদ ইলিয়াস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সন্ধ্যায় রাজশাহী থেকে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন খুলনার দিকে আসছিলো। পথিমধ্যে ট্রেনটি কোটচাঁদপুর স্টেশনের ইউপি গেটে পৌঁছালে দুটি বগি ও আটটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্তও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এছাড়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে সৈয়দপুরের চিলাহাটি থেকে আসা রূপসা ও ঢাকা থেকে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস পরবর্তী স্টেশনে অপেক্ষা করছে।  সৈয়দপুর ও ঢাকাগামী দু’টি ট্রেনই খুলনা স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবার কথা থাকলেও যেতে পারেনি। খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রীদের টিকিট ফেরত দেয়া হচ্ছে। যাত্রীরা চাইলেই তাদের টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা নিতে পারছেন।

কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাওসার জানান, ঘটনার পর থেকে খুলনার সঙ্গে রাজশাহী, ঢাকাসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এখনও উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি। কখন সময় উদ্ধার কাজ শুরু হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!
খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ফায়ারিংয়ের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি পার্শ্ববর্তী এক এএসপির বাসার সিলিং ফ্যানে আঘাত করেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে খুলনার ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে এ ঘটনা ঘটে। খুলনার পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) থেকে গুলিটি আসে। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিটি এএসপির বাসার রান্না ঘরের জানালায় ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে।

খুলনা জেলা পুলিশের এএসপি আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বার্তাটোয়েন্টিফোর. কম কে বলেন বলেন, 'খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে আমার বাসার দূরত্ব এক কিলোমিটার। দুপুরের দিকে বিকট শব্দে একটি গুলি আমার বাসার রান্না ঘরের জানালায় মাথার ঠিক ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে। তখন ডাইনিংয়ে আমার দুই সন্তান ছিল। গুলির শব্দে বাসার সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমি বাসায় ছুটে যাই। এরপর খানজাহান আলী থানা পুলিশ বাসায় এসে গুলিটি জব্দ করে নিয়ে যায়।'

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরীর খানজাহান আলী থানা সংলগ্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ফায়ারিং রেঞ্জে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ফায়ারিং ট্রেনিং ছিল। ওই ট্রেনিং থেকেই রাইফেলের গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে আঘাত হানে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র