Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

নুসরাত হত্যায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড়

নুসরাত হত্যায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড়
মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার বিচার দাবিতে সারাদেশে মানববন্ধন, ছবি: বার্তা২৪
সেন্ট্রাল ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার বিচার চাইছে সারাদেশের মানুষ। তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সংগঠন ও সচেতন নাগরিক।

স্যোশাল মিডিয়ায় বইছে প্রতিবাদের ঝড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুসরাত হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছে লাখো মানুষ। এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন পালিত হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, ফেনী সমিতিসহ নানা সগঠন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/13/1555155229298.jpg
প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে মানববন্ধনে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘কোনো অপরাধের বিচার না হওয়াই নুসরাত হত্যাকাণ্ডের কারণ। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এদেশে সারাবছরই ধর্ষণের উৎসব চলে। অপরাধী জানে এদেশে কোনো অপরাধেরই বিচার হয় না।’ 

বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) সামনে মানববন্ধন করে দেশের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতের সকল শিল্পী-কলাকুশলীরা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, নায়ক আলমগীর, রিয়াজ, আলীরাজ, রোকেয়া প্রাচী, নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, গীতিকার কবীর রকুলসহ আরও অনেকে। মানববন্ধনে নুসরাত হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত কালো ব্যাজ ধারণ করে থাকার ঘোষণা দেন তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/13/1555155267521.jpg

শাহবাগে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করে গাইনি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন (ওজিএসবি) এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। এতে বক্তব্য রাখেন স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী, প্রফেসর ডা. কহিনুর এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিএম জিলানী শুভ।

এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বাম ছাত্র সংগঠন, ছাত্রলীগ, সাংস্কৃতিক সংগঠন, নারী অধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন এনজিওর পাশাপাশি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এ দাবিতে রাস্তায় মানববন্ধন করেছেন। এ হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পালিতে হয়েছে মানববন্ধন। দেশের প্রায় প্রতিটি বিভাগীয় শহর, জেলা শহরে মানববন্ধন পালিত হয়েছে।

মানববন্ধনে বেশিরভাগ মানুষের একটাই দাবি, 'নুসরাত হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’।

একই দাবিতে বেনাপোল শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সংবাদকর্মী, শিক্ষার্থী ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন। এসময় বক্তারা, নুসরাত হত্যায় অভিযুক্ত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। তার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের সঙ্গে রংপুর যাচ্ছেন যারা

এরশাদের সঙ্গে রংপুর যাচ্ছেন যারা
চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ। ফাইল ছবি

রংপুর থেকে: আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বাদ জোহর রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টার যোগে এরশাদের মরদেহ রংপুরে আনা হবে।

এরশাদের মরদেহের সঙ্গে রংপুরে আসবেন দলের শীর্ষ নেতারা। কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এরশাদ স্যারের রংপুরের জানাজায় তার মরদেহের সঙ্গে যাচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, স্যারের ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সাল চিশতি, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টুসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য।’

জানাজা শেষে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে ঢাকা বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে। তবে জাতীয় পার্টির উত্তরাঞ্চলের নেতারা ইতোমধ্যে এরশাদের দাফন রংপুরে করার ঘোষণা দিয়ে কবর খনন করেছেন। দাফন নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এরশাদ মারা যান।

রংপুরেই এরশাদের দাফন চান সাবেক স্ত্রী বিদিশা

রংপুরেই এরশাদের দাফন চান সাবেক স্ত্রী বিদিশা
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক, ছবি: সংগৃহীত

রংপুরবাসীর মতো সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন রংপুরেই চান তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, 'আমিও তাই চাই, লাখ লাখ নেতাকর্মীদের মতো রংপুরের মাটি যেন হয় এরশাদের শেষ ঠিকানা। সহধর্মিণী থাকতে বহুবার পল্লী নিবাসের বারান্দায় ছেলে এরিককে কোলে বসিয়ে উনি আমাকে বলেছিলেন, তুমি আমার ছোট, দেখ আমার মৃত্যু ও যেন আমার ছেলের কাছে থেকে দূরে না রাখে। আমার কবর আমি এই পল্লী নিবাসে চাই। রংপুরের মানুষের ভালোবাসা প্রতিদান আমি দিতে পারিনি আজও। রংপুরের মানুষ আমার কবরে এসে দোয়া করবে এটাই আমার চাওয়া। প্রতিবার এই কথাটি বলতেন তিনি এরিকের দিকে তাকিয়ে, ভিজে চোখে।'

এর আগে রোববার ১৪ জুলাই রোববার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর আজমির শরিফে থাকা বিদিশা এরশাদ ফেসবুকে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দেন। সেখানে বিদিশা এরশাদ লিখেছেন, 'এ জন্মে আর দেখা হলো না। আমিও আজমির শরিফ আসলাম, আর তুমিও চলে গেলে। এত কষ্ট পাওয়ার থেকে মনে হয় এই ভালো ছিল। আবার দেখা হবে হয়তো অন্য এক দুনিয়াতে, যেখানে থাকবে না কোনো রাজনীতি।'

সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা আজ সকালে আজমির শরিফ থেকে দেশে ফিরেন। তিনি সকালে এরশাদের মরদেহ দেখতে এবং ছেলে এরিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রেসিডেন্ট পার্কে গিয়ে বাধার মুখে বাসার গেট থেকে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ করেছেন।

উল্লেখ্য, রোববার (১৪ জুলাই) সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের মৃত্যুর পর তার মরদেহ দাফন জটিলতা তৈরি হয়। ঢাকার নেতারা চাইছেন এরশাদের দাফন হোক সেনা কবরস্থানে। বিপরীতে রংপুরের নেতাকর্মীরা চাইছেন, রংপুরেই হোক এরশাদের শেষ সমাধি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র